‘তারকারা শিল্পের ক্যানসার’, সাক্ষাৎকারে হোদোরোস্কি

253
আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি

সাক্ষাৎকার: মার্গারেট বার্টন-ফুমো
অনুবাদ: রুদ্র আরিফ

মার্গারেট বার্টন-ফুমো :: টুইটার আপনার কাছে এক্সপ্রেশনের নতুন ফর্ম?

আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। শৈল্পিক। কারণ আমি নিজেকে নিয়ে কথা বলি না। এক্সপ্রেশন সীমাবদ্ধ। আমাদের সময়ে এটা [টুইটার] হাইকুতে পরিণত হয়েছে। আইডিয়া বিনিময়ের কাজে আমি একে ব্যবহার করি– রাজনৈতিক, দর্শনগত আইডিয়া। এটা আমার জন্য কাজের বলেই মনে হয়। আমি প্রশ্নের উত্তর দিই। পরামর্শ দিই। ব্যাপারটা এ রকমই। যখন (টুইটার ব্যবহার) শুরু করেছিলাম, লোকে হাসত। কেননা, তারা বলত, এ একেবারেই ফালতু কান্ড: লোকে কী খায়, কী করে– (টুইটারে) এইসব লেখে। এটি রাজনীতিবিদ, তারকা, খেলোয়াড়দের কাছে কবিতা লেখার কিংবা দর্শন বানানোর একটি হাতিয়ার। তারা আমাকে পাগল বলত। আমি বলতাম, না, না! এটি একটি আর্ট। আমি একে শিল্পে পরিণত করব। আমি তা করেছি।

মার্গারেট :: একবার এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, সিনেমাই সবচেয়ে উচ্চমানের শিল্প।

হোদোরোস্কি :: আমি এ কথা মনে করি। তবে সিনেমা আসলে টুইটারের মতোই। আপনি কীভাবে ব্যবহার করছেন, সেটাই কথা। সিনেমা একটি অনেক বড় ইন্ডাস্ট্রি। (এখানে) সবাই টাকা কামাতে চায়। এ কাজ করে তারা টাকার জন্য। আপনি যখন টাকার জন্য কিছু করবেন, সেটি আর শিল্প হবে না, ইন্ডাস্ট্রি হয়ে যাবে। এ বেশ মজার ব্যাপার, আমোদের ব্যাপার। কিন্তু আপনি হেরোইন সেবন করলেন, ফূর্তি করলেন, মারা গেলেন। সিনেমা ব্যবসা নিয়ে ফূর্তি করলেন, ফূর্তি আপনার হলো ঠিকই, কিন্তু জেনে রাখুন, আপনি একটা নির্বোধ। এটি গর্দভদের দুনিয়া।


আমেরিকানদের
কাছে ডলারই
ঈশ্বর

ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টে সেই লোকই বড় দার্শনিক, যে নিজের সিনেমার মাধ্যমে কাউকে লাথি মারতে পারে কিংবা যার কাছে রিভলভার আছে। সে-ই নায়ক। আমি মনে করি, এটি একটি আর্ট, যদি না এটি কমার্সিয়াল আর্ট হয়ে ওঠে। আমেরিকায় এ ব্যাপারটা বোঝা খুবই কঠিন। কেননা, আমেরিকানদের কাছে ডলারই ঈশ্বর। তাই আমি যখন এমন কথা বলি, তারা আমার কথা বুঝতে পারে না। তবু আমি বলি।

মার্গারেট :: সিনেমা বানানোর সময় সিনেমাটির ওপর নিজের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকার দরকার পড়েই আপনার?

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। হলিউডের কোনো ফিল্মমেকারেরই (তার নিজের সিনেমার ওপর) নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তারা আসলে কূটনৈতিক লোক। তারা আসলে কোম্পানি। তাদের একটা বাথরুম লাগলে কোম্পানিটিই বাথরুম বানিয়ে দেয়। তারকাদের নিয়োগ দেন ফিল্মমেকার। তারকাদের আমি শিল্পের ক্যানসার বলে মনে করি। একদিন বিনাশ তাদের হবেই। সিনেমা-হলের মালিকেরাও ক্যানসার। কেননা, তারা তাদের ব্যবসার সুবিধামতো দুনিয়া গড়ে নিতে চায়। সেটি টিকে থাকে এক আমুদে ফ্যানটাসির মতো, কিন্তু সেখানে সিনেমার শিল্প খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল।

এল তোপো। ফিল্মমেকার: আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি

মার্গারেট :: সহসাই আমাদের আর কোনো সিনেমা-হলের দরকার পড়বে না।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ, আমি এগুলো চাই না। সিনেমা-হলের ব্যাপারে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমার কাছে প্রজেক্ট রয়েছে দুটি। এরমধ্যে একটি এমন একজনের সঙ্গে– যিনি টাকা কামাতে চান, যিনি কিছু টাকা ঢালছেন; কিন্তু কাজটা আমি সেভাবেই করব, যেভাবে করেছি এল তোপোর বেলায়। অন্যটি নিজেই প্রডিউস করব।

মার্গারেট :: দ্বিতীয় প্রজেক্টটি সম্পর্কে আরেকটু বলবেন?


৩০
বছর
ধরে টাকা
জমিয়েছি। সেই
টাকা খোয়ানোর জন্যই
সিনেমাটি
বানাব

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। আগামী বছর [২০১৩], নিজের টাকায় কাজটা করব। এ জন্য ৩০ বছর ধরে টাকা জমিয়েছি। সেই টাকা খোয়ানোর জন্যই সিনেমাটি বানাব। ওই টাকা খোয়াতে চাই আমি! এই সিনেমা বানাচ্ছি টাকা কামানোর জন্য নয়, খোয়ানোর জন্য। আমি এটা ফ্রিতে দেখাব। দ্য ড্যান্স অব রিয়েলিটি নামে একটি বই লিখেছি। এর প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুট করব, যখন শিশু ছিলাম– সেই সময়ের। এটাই আমি মূলত করতে চাই। তাছাড়া আরেকটি বই থেকে আরেকটি অধ্যায় নিয়ে কাজ করব। এ কাজটা করবই। এটা করব টাকা খোয়ানোর জন্য।

মার্গারেট :: ভালো! আশা করছি, এ কাজে প্রচুর টাকা খোয়াবেন আপনি।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ!

মার্গারেট :: চলুন একটা ক্রনোলজির কাছে ফেরা যাক। আপনার জন্ম চিলিতে, তারপর পঞ্চাশের দশকে প্যারিসে চলে আসেন।

হোদোরোস্কি :: ১৯৫৩ সালে। আমি প্যারিস এসেছিলাম তিনটি কারণে। আমার তখন ২৩ বছর বয়স। মার্সেল মার্সুর সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কারণ, মূকাভিনয় আমার খুব প্রিয় ছিল। সরবোনে দার্শনিকদের সঙ্গে পড়তে চেয়েছিলাম। অঁদ্রে ব্রেতোঁর সুররিয়ালিস্ট মুভমেন্টে যোগ দিতে চেয়েছিলাম। এই হলো তিনটা কারণ।

মার্সেলের সঙ্গে বহু বছর কাজ করেছি। তাকে প্যান্টোমাইম লিখে দিয়েছি। আমার লেখা সেরা প্যান্টোমাইমটিকে আমি দ্য কেজ বলে ডাকি। এরপর দুই বছর কাটিয়েছি ব্রেতোঁর সঙ্গে, সুররিয়ালিস্ট গ্রুপটির শেষ মুহূর্তগুলোর সময়কালে। সরবোনে দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তখন সেটাই করেছি, যেটা করতে চেয়েছিলাম। নিজের নিজস্ব জীবন বানানোর পথচলা শুরু করেছিলাম।

মার্গারেট :: নিজের প্রথম শর্ট ফিল্ম দ্য টাই [La Cravate] বানানোর পথে কী আপনাকে ঠেলে দিয়েছিল?

হোদোরোস্কি :: বাস্তবে আমি আসলে কোনো সিনেমা বানাতে চাইনি, বরং একটি প্যান্টোমাইমকে ক্যামেরাবন্দি করতে চেয়েছিলাম। তাই প্যান্টোমাইমের শুট করেছিলাম। সেটিই ছিল আইডিয়া। খুবই কম টাকায়। এমনকি কোনো টাকাই ছিল না আমার। আমি ওটা আমার নিজের রুমে বানিয়েছি।

মার্গারেট :: আপনি তা বেশ স্বাচ্ছন্দে এবং এমন এক ধরনের টেকনিকের সাহায্যে বানিয়েছেন বলে মনে হয়, যেটি ছিল ওই সময়ের জন্য খুবই ইনোভেটিভ। এটা কি আপনার কাছে সহজাতভাবে ধরা দিয়েছিল?


স্কুল হলো সেইসব লোকের
জন্য– যারা বাণিজ্য
করতে চায়,
যারা
হলিউডে
গিয়ে সে ধরনের
সিনেমা বানাতে চায়

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। শিল্প নিয়ে গবেষণা করতে কখনোই চাইনি। আমি মনেও করি না, আপনি যদি শিল্পী হয়ে থাকেন, তাহলে শিল্প নিয়ে পড়াশোনা করার আপনার আদৌ দরকার আছে। স্কুলে যাওয়াটা এমনকি বিপজ্জনকও হতে পারে। যা করতে চান, আপনাকে স্রেফ সেটা করে ফেলতে হবে। স্কুল হলো সেইসব লোকের জন্য– যারা বাণিজ্য করতে চায়, যারা হলিউডে গিয়ে সে ধরনের সিনেমা বানাতে চায়। বুঝলেন? ইন্ডাস্ট্রি কী? সিনেমার ইন্ডাস্ট্রি বিশ্রি জিনিস। আমি বরং সিনেমার আর্ট নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করব। আর্ট নিয়ে, তাই না?

মার্গারেট :: আমি নিজে স্কুলে অনেক বেশি সময় কাটিয়েছি।

হোদোরোস্কি :: এটা ভালো কিছু না। দেখুন, আপনি স্কুলে অনেকগুলো বছর ব্যয় করেছেন, যখন কিছু করতে গিয়েছেন, আর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তখন সেইসব পড়াশোনার সবই গেছেন ভুলে। আপনি ডিপ্লোমা করেছেন। তারপর আপনার শেখার দরকার পড়েছে।

মার্গারেট :: মেক্সিকোতে আপনার পাড়ি জমানোর ব্যাপারে শুনতেও আমি আগ্রহী। আমি লিওনোরা ক্যারিংটনের একজন অনুরাগী। মেক্সিকোতে থিয়েট্রিক্যাল প্রোডাকশনে আপনি তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ! আমি একটা বই লিখেছি, কী যেন নাম! দ্য মাস্টার অ্যান্ড দ্য ম্যাজিশিয়ানস [El maestro y las magas]। লিওনোরার কাছ থেকে যা কিছু শিখেছি, সেইসব বিষয় নিয়ে লিখেছি বইটা। তার সঙ্গে আমি পেনেলোপে নামে একটি নাটক বানিয়েছিলাম। বাস্তবে সেটা আমার জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, তাকে বলেছিলাম, যেন তিনি আমাকে ট্যারোট শেখান। এরপর তিনি আমাকে একটা ট্যারোট রিডিং দিয়ে বললেন, ‘তুমি কী দেখতে পাচ্ছো?’ আমি যা দেখতে পাচ্ছিলাম, সেটি তিনি নির্ভুলভাবে বলে দিয়েছিলেন।

লোকে আমাকে বলে, ‘বলুন তো, ট্যারোট জিনিসটা কী?’ দেখুন, আপনি যা দেখেন, সেটাই ট্যারোট। এটা একটা আয়না। আপনি এর দিকে তাকালে নিজের রূপটা দেখতে পাবেন। তারপর আমি (ট্যারোট) শিখেছিলাম। তার সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্ব ছিল। আমি তার অনুরাগী। তিনি একজন সুররিয়ালিস্টিক ফ্যান্টাসিস্ট। একজন প্রকৃত পরাবাস্তববাদী ব্যক্তি।

মার্গারেট :: আপনার ফান্দো অ্যান্ড লিস [Fando y Lis], এল তোপোদ্য হলি মাউন্টেন সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার রাফায়েল কোরকিদির সঙ্গে আপনার কর্ম-সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলবেন? আমি পড়েছি, তাকে তার ক্যামেরাওয়ার্ক ‘অবজেক্টিভ’ ও ‘ক্লিনিক্যাল’ করার নির্দেশনা আপনিই দিয়েছিলেন। সেটির ছাপ আপনার সিনেমাগুলোতে দারুণভাবে পড়েছে।

ফান্দো অ্যান্ড লিস। ফিল্মমেকার: আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি

হোদোরোস্কি :: সম্পূর্ণ আলোর নিচে রহস্য দেখানো। রাত দেখাতে চাই না আমি। ছায়া দেখাতে চাই না। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক করেছিলাম। শুরুতে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। আমি যখন (১৯৬৮ সালে) ফান্দো অ্যান্ড লিস বানাই, নিজেকে তার সঙ্গে একটা রশি দিয়ে বেঁধে নিয়েছিলাম। তার সঙ্গে কাজ করেছিলাম। এল তোপোতেও তিনি ছিলেন দুর্দান্ত; কিন্তু সেই সিনেমার শুটিংয়ের এক পর্যায়ে আমার সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে শুরু করলেন। কারণ তিনি ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলেন। দ্য হলি মাউন্টেন-এর সময় তাকে একদমই সহ্য করতে পারছিলাম না। দিনে তিনটা শট নিতেন তিনি। দুর্দান্ত এক ফটোগ্রাফার ছিলেন; তবে ফিল্মমেকার হিসেবে ছিলেন ফালতু।

মার্গারেট :: আপনার সিনেমাগুলোতে সেই সময়কাল থেকে, বিশেষত এল তোপোদ্য হলি মাউন্টেন-এ ক্যামেরা মুভমেন্ট ভীষণ রিজার্ভড। সিনেমাটোগ্রাফি প্রশান্ত ঠিকই, তবে সবকিছু একদম ক্যামেরার সামনে ঘটে, সবগুলো ইমেজই ভীষণ স্পন্দনশীল।

হোদোরোস্কি :: শুটিংয়ের কিছু নীতি-নৈতিকতা রয়েছে আমার। [ক্লোজআপের মাইম ফ্রেমিং দেখিয়ে বললেন–] এ রকম নয়। কেননা, এটা টেলিভিশনের জিনিস। আপনার কাছে যদি ক্যামেরাটা ‘এখানে’ থাকে, আমি এখানে একটা অবজেক্ট বসিয়ে দিই (সাবজেক্ট ও ক্যামেরার মাঝখানে)। এটা কি কোনো নান্দনিক প্রয়াস? কখনোই না। শুধু আপনি থাকবেন (ফ্রেমে)। কোনো শ্যাডো না। ন্যাচারাল। ব্যাপারটা এমনই। আমার কাছে প্রতিটি মুভমেন্টেরই তাৎপর্য রয়েছে, ক্যামেরাটির একটি নৈতিক তাৎপর্য সহকারে। বুঝলেন? একটি নৈতিক তাৎপর্য। সাবজেক্টিভ ক্যামেরার বালাই নেই। আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি, যা দেখি– তা-ই দেখাচ্ছি; ব্যাপারটা এ রকমই।

মার্গারেট :: ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট যখন নিজেই কথা বলতে শুরু করে, ক্যামেরা তখন অবজেক্টিভ রয়ে যায়।

হোদোরোস্কি :: এখানে যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, নিউজ ক্যামেরা সেটি সেটির পক্ষে যা সম্ভব– সেই পয়েন্ট অব ভিউ থেকে শুট করে; আর তার ফল সব সময়ই ভালো। কেননা, দুর্ঘটনা তো ভয়ংকর জিনিস! আমি বলি, একটা দুর্ঘটনাকে বানিয়ে তোলা যাক। তারপর ‘এই’ জায়গা থেকে শুট করলে দারুণ হবে। ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিনেমার ছাত্র, আজকের দিনের তরুণ কেউ সিনেমা বানাতে এসে ভাবতে শুরু করে, ক্যামেরা কীভাবে মুভ করাবে; কারণ, (সিনেমায়) তার বলার কিছুই নেই। অন্য সিনেমাগুলোতে যা দেখি, তাদের দুনিয়া বলতে একমাত্র সেটিই রয়েছে। তারা ‘পুষ্ট’ নয়; পূর্ণ নয়।

মার্গারেট :: এটা একাডেমিক পন্থা।

হোদোরোস্কি :: আমার কাছে, সিনেমা বানানোর পন্থাটি হলো দুর্ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণ করা। কনটেন্ট। কী পন্থায় শুট করছেন, আপনি সেটা ভাববেন না। আরেকটি ব্যাপার হলো, আমি ক্যামেরা মুভ করাই না, অভিনেতাদের মুভ করাই। শুধু কিছু দেখানোর খাতিরে কখনোই ক্যামেরা মুভমেন্ট করি না। (আমার কাছে) ক্যামেরার অস্তিত্ব নেই।

মার্গারেট :: চটকদার ক্যামেরাওয়ার্কের ঘাটতি আপনার সিনেমাগুলোকে আজকের দিনে এসে একেবারেই সেকেলে হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করেছে, অন্তত একটা আচারনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ থেকে।

হোদোরোস্কি :: এগুলো [আমার সিনেমাগুলো] এখনো সতেজ! ৩০-৪০ বছর পরও টিকে থাকবে, এমন প্রত্যাশা আমার কোনোদিনই ছিল না।

মার্গারেট :: এল তোপোর আন্ডারগ্রাউন্ড সাফল্যের পর বহু শিল্পী ও ফিল্মমেকারই আপনাকে খুঁজেছেন। এর একটি বিখ্যাত উদারহণ হতে পারে, দ্য লাস্ট মুভির [১৯৭১] এডিটিংয়ের জন্য আপনার কাছে ডেনিস হোপারের সাহায্য চাওয়া।


বাড়তি
তাৎপর্য,
বাড়তি কিছু
আপনার কাজকে
আত্মাহীন করে দেবে

হোদোরোস্কি :: দ্য লাস্ট মুভি এডিট করতে গিয়েছিলাম আমি। করেছিও। কিন্তু কিছুকাল পর আমাদের দুজনের মধ্যে কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে। এ জন্য আমার অনুতাপ হয়। কেননা, ভীষণ দারুণ কাজ করেছিলাম আমি। কিন্তু তার ছিল চারটা মেশিন আর তাতে চারজন লোক কাজ করছিলেন। একটা সিনেমার এডিটের জন্য এ বেশ বাড়তি লোকই। আমি মাত্র একটা মেশিন ও একজন মানুষকে দিয়ে কাজ সারি। তিন দিনে পুরোটা সিনেমা এডিট করে ফেলি। বাড়তি তাৎপর্য, বাড়তি কিছু আপনার কাজকে আত্মাহীন করে দেবে। অনেক বেশি টেকনিক্যাল। অনেক বেশি টাকা-পয়সা। অথচ সেখানে কোনো আত্মা নেই।

মার্গারেট :: …এবং আপনার [ফিল্মমেকারের] কম নিয়ন্ত্রণ।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ।

মার্গারেট :: ফিল্মমেকার হিসেবে আপনার সেন্স অব হিউমার খুব কম সমালোচকই ধরতে পারেন। আপনার সিনেমাগুলো যথেষ্ট ফানি, ফলে সেগুলোকে আরেকটু সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত! ষাটের ও সত্তরের দশকের যেসব সিনেমায় মরমি ও নিগূঢ় বিষয় তুলে ধরা হতো, সেগুলোর বেশিরভাগই বাড়াবাড়ি রকমের ভন্ডামিপূর্ণ। সেগুলোর ভরাডুবি ঘটে গেছে, সেগুলো একটি হিপি ব্যগ্রতার মধ্যে হারিয়ে গেছে।

হোদোরোস্কি :: ঠিক, ঠিক! হিচকক যখন কোনো সিনেমা বানান, তখন ভাবেন, ‘আমি এটা এজন্যই বানাব, যেন লোকে ভয় পায়। দর্শকের আবেগকে আমি পরিচালিত করব।’ আর সিনেমাটি তাতেই সুস্থতা হারায়। আপনি একটি কমেডি বানাতে পারেন, ট্রাজেডি বানাতে পারেন… আপনার একটা স্টাইল আছে। কিন্তু জীবনের তো কোনো স্টাইল নেই। জীবন কমিক হতে পারে, যৌন-আবেদনময়ী হতে পারে, একইসঙ্গে সবকিছুই হতে পারে।

ফলে আমি একটি সিনেমা বানাব ঠিকই, কিন্তু (সেটি দেখে) আপনার নিজের ভেতর কী অনুভূতি আপনাকে জাগিয়ে তুলতেই হবে, তা আমি বলে দেবো না। আপনার যা অনুভূতি হবে, আপনি সেটাই অনুভব করবেন। তারপর এমন কারও দেখা পাবেন, যে কি না (সিনেমাটি দেখে) রেগে যাবে খুব, আরেকজন ভালোবাসবে, আরেকজন কাঁদবে, আরেকজন হেসে ওঠবে– একই জিনিস দেখে।

মার্গারেট :: সেন্স অব হিউমার থাকাটা সত্যিকার অর্থেই উদার চিত্তের ব্যাপার।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ।

মার্গারেট :: নিজেকে কখনো অস্বাভাবিকত্বের, আজব ধরনের বলে মনে হয়েছে আপনার?

হোদোরোস্কি :: না, না, না; আমি পুরোদস্তুর স্বাভাবিক মানুষ! হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ; তবে স্বাভাবিকত্ব মানে বাকি সবার মতো হওয়া নয় কিন্তু। ভিন্নতর হওয়াটাই স্বাভাবিকত্ব। প্রতিটি মানুষই একেকজন আলাদা মানুষ। একদিন আপনাকে নিজের ভিন্নতা সম্পর্কে অবগত হতেই হবে। আপনি অন্যদের মতো নন– এটা জানতেই হবে। এটাই স্বাভাবিকত্ব।

মার্গারেট :: দশকের পরিক্রমায় আপনার দর্শকরা পাল্টে যাচ্ছে, বিশেষত ২০০৭ সালে যখন অবশেষে আপনার সিনেমাগুলো ডিভিডিতে মুক্তি পেতে থাকল।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। নিজের দর্শকদের নিয়ে আমার একটা গল্প আছে। আমি তখন তুরস্কে। যেখানেই যাই, সেখানেই দেখি সিনেমা দেখার জন্য তরুণদের ভীড়। অধিকাংশই, ৮০ থেকে ৯০ ভাগ দর্শকই তরুণ। তারা আমার সিনেমা দেখছেন। আমি তাই বেশ খুশি।

মার্গারেট :: টাস্কদ্য রেইনবো থিফ-এর পুনরুজ্জীবনের প্রতি আপনার কোনো আগ্রহ আছে? এগুলোর ভিএইজএস কিংবা ডিভিডি ভার্সন এখনো হয়নি।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ, টাস্ক সিনেমাটির কাজ যখন শেষ করি, এর প্রডিউসার ছিলেন একটা চোর। তিনি জানালেন, তার সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমি সিনেমাটি বানিয়েছি মাত্র প্রথম এডিটে, অথচ এটিতে আরও আধা ঘণ্টার দৃশ্য থাকা উচিত ছিল। সিনেমাটি আমি কোনোদিনই (সম্পূর্ণ) এডিট করতে পারিনি। এর যে চেহারা দাঁড়িয়েছে, সেটা আমার ভালো লাগেনি। আমার যা ভালো লাগেনি, যেসব যদি ফেলে দিতে পারি, তাহলে এটা বাচ্চাদের জন্য খুবই দারুণ একটা সিনেমা হয়ে উঠবে। কিন্তু আমি তা পারব না।

দ্য রেইনবো থিফ। ফিল্মমেকার: আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি

দ্য রেইনবো থিফ নিয়ে সেই লোকের সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছিল, যিনি এর স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন [স্ক্রিনরাইটার বের্তা ডমিঙ্গেজ], যে স্ক্রিপ্ট আমার সিনেমাটিকে এবং তার স্বামী অ্যালেক্স স্যালকাইন্ডকে প্রেরণা জুগিয়েছিল। ওই ভদ্রলোক ‘সুপারম্যান’ ধরনের সিনেমা প্রডিউস করেছিলেন। ওই ভদ্রমহিলা একটি অ্যাকশন ফিল্ম চেয়েছিলেন, তিনি একটি ইনটেলেকচুয়াল ফিল্ম চেয়েছিলেন, তারপর যখন আমি সিনেমাটি বানালাম, তিনি এটি নিয়ে নিলেন এবং প্রতিটি অ্যাকশন দৃশ্য ও প্রতিটি ইনটেলেকচুয়াল দৃশ্য ফেলে দিলেন।

এখন অপেক্ষায় রয়েছি, কেউ আমাকে আমার ভার্সনটি দেখাবে। হয়তো কোনো একদিন তারা আমার ভার্সনটি খুঁজে পাবে, আর বলবে– এটি একটি ভালো সিনেমা।

মার্গারেট :: কিন্তু এখন সেগুলো পুনঃমুক্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই?

হোদোরোস্কি :: জানি না। হয়তো। কেননা, এখন আমার সিনেমা বিক্রি হচ্ছে এবং আমি এক ধরনের ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছি। আশা করছি, তারা এমনটা করবেন। তবে যখন শুটিংয়ে ছিলাম, তখন জানতে চেয়েছিলাম– কোনো বড় সিনেমা আসলে কীভাবে বানায়। ফটোগ্রাফারের সঙ্গে বিরাট বহরের স্টাফ ছিল। আমি ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে শিখতে চেয়েছিলাম, বুঝলেন? আর সেটা ছিল আমার জন্য ভয়ংকর ব্যাপার।

মার্গারেট :: …আর, আপনি এখন সেটা জানেন।

হোদোরোস্কি :: …আমি এখন জানি, এমন চেষ্টা আর কোনোদিনও করব না! তবে যা-ই চাই, সেটার জন্য বারবার, বারবার লড়ে গেছি। প্রতিটি দিনই সত্যিকারের লড়াই বেঁধেছিল। তারপর আমি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর দিয়ে জানালাম– কোনো সহিংসতা নয়। কোনো সহিংসতা নয়– ব্যাপারটা কী যে খেপাটে! কোনো সহিংসতা নয়– এমন কিছু দিয়ে আপনার পক্ষে কোনোকিছু কীভাবে বানানো সম্ভব? জীবন তো আছে। আপনি জানালার বাইরে তাকালেই সহিংসতার দেখা পাবেন।

তা ছাড়া, এটা শতভাগ আমার সিনেমা ছিল না। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। তবে সেখানে এমন কিছু রয়েছে, যে কারণে সিনেমাটি আমার পছন্দ। সিনেমাটি আপনার দেখা উচিত। অত খারাপ নয়।

মার্গারেট :: ফ্র্যাঙ্ক হারবার্টের ডুন-এর যে ভার্সন আপনি বানাতে চেয়েছিলেন বড় পর্দার জন্য, সেটা কখনোই বানাতে পারেননি। আপনি কি ওই প্রজেক্টের আদৌ কোনো ফুটেজের শুট কখনো করেছিলেন?

হোদোরোস্কি :: না। তবে সবগুলো ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তারা একটা ডকুমেন্টারি বানাচ্ছে। আমি স্ক্রিপ্টটার জন্য ৩ হাজার ড্রয়িং করেছিলাম। ডকুমেন্টারিটিতে সবগুলো দেখা যাবে।

মার্গারেট :: আপনার সিনেমাগুলোর জনপ্রিয়তা সেগুলোর সেই সক্ষমতায় পাল্টে গেছে, যেটাকে আমরা ‘হোম ভিডিও’ সার্কিট হিসেবে ডাকি। দীর্ঘদিন ধরেই দ্য হলি মাউন্টেন একটি রিমোট বুটলেগে পড়ে ছিল, তবে ‘এল তোপো’ নিয়ে গুঞ্জরণ চালু ছিল সব সময়ই। এখন তো হলি ব্লাড [Santa Sangre] ও চমৎকার এক ডিভিডিতে পাওয়া যায়। এই তিন সিনেমার পাশাপাশি আপনার প্রথম সিনেমা ফান্দো অ্যান্ড লিস-এর নতুন নতুন অনুরাগী তৈরি হয়েছে।

হোদোরোস্কি :: এখানে, এই নিউইয়র্কে আমি আমার সিনেমাগুলোর রিমাস্টার নিজেই করেছি। এই প্রথমবারের মতো যেমন চেয়েছিলাম, তেমন রূপে পেয়েছি সিনেমাগুলোকে। অতীতে আমাকে এমন প্রচুর ঝামেলা পোহাতে হয়েছে, যেগুলোর সমাধান করে উঠতে পারছিলাম না; তবে এই রিমাস্টারাইজেশনের মাধ্যমে কালার নিয়ে সব ধরনের সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছি ঠিক নিজের মনের মতো। এই নতুন ভার্সন করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।

দ্য হলি মাউন্টেন। ফিল্মমেকার: আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি

এল তোপো পুরনো হয়নি। হলি ব্লাড হয়েছে, কারণ এটি ফোকলোরধর্মী। দ্য হলি মাউন্টেনও। এগুলো এখন সেকেলে হয়ে গেছে। কারণ, আমি কখনোই চলতি প্রথা অনুসরণ করি না। (দ্য হলি মাউন্টেন) সিনেমাটি সেকেলে হয়ে গেছে, তাই না? সেকেলে।

মার্গারেট :: হ্যাঁ; তবে এখনকার দর্শকও দ্য হলি মাউন্টেন পছন্দ করে।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। তবে, তবে এ জিনিস আমি আপনাদের জন্য উদ্ভাবন করেছি; এই জুতো জোড়া উদ্ভাবন করেছি ‘এ রকম’ করে [একটা লার্জ ব্লকের মাইম করে দেখালেন]। এই জুতো এখন সব মানুষই পরতে পারবে।

মার্গারেট :: প্ল্যাটফর্ম শু?

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। লোকটা নিজের মাথায় এটা পরতে পারবে…

মার্গারেট :: …মোহাক [চুলের কাটবিশেষ]?

হোদোরোস্কি :: সুস্থ-স্বাভাবিক দিনে আমি এমনটা প্রচুর করেছি।

মার্গারেট :: আমার ধারণা, আশির দশকে আপনি প্যারিসে আপনার সাপ্তাহিক সাইকোম্যাজিক লেকচার শুরু করেছিলেন।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ।

মার্গারেট :: এখনো করেন?

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। যখন সময় পাই, প্রতি বুধবার আমার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ১০০ মিটার দূরের একটি ক্যাফেতে চলে যাই। আগে আসা প্রথম ২০ জন লোককে বিনামূল্যে পরামর্শ দিই। আমি ট্যারোটের কোনো অধ্যাপক নই; এ কাজ করতে স্রেফ পছন্দ করি। প্রচারণা কিংবা এ ধরনের কিছু করি না। লোকে এমনিতেই আসে। দেড়শ-দুইশো লোক আসে; তবে আমি শুধু ২৫ জনের (ভাগ্যই) পড়তে পারি। লটারির মাধ্যমে ২৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়। প্যারিসে থাকলে প্রতি বুধবারই (ট্যারোট কার্ড) পড়ি।

মার্গারেট :: সাইকোম্যাজিক সম্পর্কে কিছু বলুন।

হোদোরোস্কি :: আমি কনসালটেশন করি। আপনি যদি সাইকোঅ্যানালাইসিস করান, আর এর ফলে বুঝতে পারেন, নিজের বাবার প্রেমে পড়ে গেছেন, তার সঙ্গে সহবাস করতে চান, এটা আপনার সমস্যা। তাহলে সাইকোঅ্যানালাইসিস বলবে, আপনি ইলেকট্রা কমপ্লেক্সে ভুগছেন। আপনি বলবেন, ‘হ্যাঁ; কিন্তু এখন আমার করণীয় কী?’ সাইকোঅ্যানালাসিসের মাধ্যমে তো নিজের সমস্যাটা জানলেন, কিন্তু কী করবেন আপনি? পরমানন্দ লাভ? শিল্প নির্মাণ? এর কোনো সমাধান নেই।

সাইকোম্যাজিক আপনাকে এমন একটি সমাধান দেবে, যার মাধ্যমে নিজের কামনাকে একটি রূপকধর্মী পন্থায় উপলব্ধি করতে পারবেন। নিজের বাবার সঙ্গে সহবাস করতে পারবেন, নিজের গর্ভে বাবার সন্তান ধারণ করতে পারবেন, তবে এর সবটাই স্বপ্নের ভেতর। আপনি সেটা করুন। নিজেকে বিচার করার দরকার নেই। কাউকে খুন করতে চান? ঠিক আছে। খুন করুন তাকে, তবে রূপকভাবে।

হলি ব্লাড। ফিল্মমেকার: আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি

মার্গারেট :: আপনি অবজেক্ট ব্যবহার করেন, তাই না?

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। তারা আমার কাছে অসম্ভব সব জিনিসপত্র চায়। যেমন ধরুন, একদিন এক নারী বললেন, ‘আমি আমার স্বামীর সঙ্গে থাকি। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা না করেই প্রচুর পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম করতে চাই। বলুন তো কী করব?’ কোনো প্রতারণা না করেই প্রচুর পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম? তাকে সমাধান দিলাম। তিনি সেটা মানলেন। তিনি বেশ খুশি। তার স্বামীই সেই প্রচুর পুরষের ছদ্মবেশ। আপনার কাছে একটা সমাধান আছে। লোকে সাইকোম্যাজিকের অনুবাদ করার চেষ্টা করেছে; এটি এখন ইংরেজিতে পাওয়া যায়। (দ্য স্পিরিচুয়াল জার্নি অব আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি নামে।) ইংরেজিতে এখন আমার তিনটা বই। দ্য ওয়ে অব দ্য ট্যারোট-এও সব ধরনের ট্যারোটের ব্যাখ্যা দিয়েছি। দারুণ বই। আমার কল্পনাশক্তি দারুণ। অবিশ্বাস্য রকমের কল্পনাশক্তির অধিকারী আমি।

মার্গারেট :: লেখক হিসেবে আপনি প্রচুর লিখেছেন।

হোদোরোস্কি :: হ্যাঁ। টুইটারে প্রতিদিন ৫০টা করে পোস্ট দিই। একেকটা একেক রকমের। ইতোমধ্যেই ২০ হাজার টুইট করেছি।

মার্গারেট :: একটা ওয়েবসাইটও আছে। আপনি সেটার সঙ্গে যুক্ত?

হোদোরোস্কি :: না। কাজটা অন্য কেউ করেছে। আমার ধারণা, এটা এবিকেসিও’র কাজ। ফেসবুকেও অ্যাকাউন্ট আছে আমার; তবে ফেসবুক আমার জন্য নয়। আমার অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠেছে প্লানো ক্রিয়েটিভো ব্লগটি। আমি সহযোগিতা করি। প্রতিদিনই। ব্লগটা আরেকজনের ঠিকই, তবে সাইকোম্যাজিক নিয়ে আমার কাজ থেকেই অনুপ্রাণিত। গত বছর ৫০-৬০ লাখ লোক ওই ব্লগ ভিজিট করেছে।

মার্গারেট বার্টন-ফুমো :: আর কোনো বিষয়ে কথা বলতে চান?

আলেহান্দ্রো হোদোরোস্কি :: না। আপনার ইমোশনাল লাইফ কেমন চলছে?


সূত্র: ফিল্ম কমেন্ট; ৯ জানুয়ারি ২০১২
Print Friendly, PDF & Email