লকডাউনের ডায়েরি-৪: পেদ্রো আলমোদোভার

97
পেদ্রো আলমোদোভার

মূল: পেদ্রো আলমোদোভার
স্প্যানিশ থেকে ইংরেজি: মার দিয়েস্ত্রো-দোপিদো
ইংরেজি থেকে বাংলা: রুদ্র আরিফ

অনুবাদকের নোট:
পেদ্রো আলমোদোভার। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯–। স্প্যানিশ মাস্টার ফিল্মমেকার। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের দিনগুলোতে রয়েছেন আইসোলেশনে। ফিল্ম : ‘পেপি, লুসি, বম’, ‘ল্যাবিরিন্থ অব প্যাশন’, ‘ডার্ক হেবিটস’, ‘হোয়াট হেভ আই ডান টু ডিজার্ভ দিস?’, ‘মেটাডর’, ‘ল অব ডিজায়ার’, ‘উইমেন অন দ্য ভার্জ অব অ্যা নার্ভাস ব্রেকডাউন’, ‘টাই মি আপ! টাই মি ডাউন!’, ‘হাই হিলস’, ‘কিকা’, ‘দ্য ফ্লাওয়ার অব মাই সিক্রেট’, ‘লিভ ফ্লেশ’, ‘অল অ্যাবাউট মাই মাদার’, ‘টক টু হার’, ‘ব্যাড এডুকেশন’, ‘ভলভার’, ‘ব্রোকেন এমব্রেসেস’, ‘দ্য স্কিন আই লাভ ইন’, ‘আ’ম সো এক্সাইটেড’, ‘জুলিয়েতা’ ও ‘পেইন অ্যান্ড গ্লোরি’। অস্কারজয়ী এই ফিল্মমেকার করোনাভাইরাসের দিনলিপি লিখছেন স্প্যানিশ ভাষায়। সেগুলো ইংরেজি অনুবাদে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ‘সাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ ফিল্ম ম্যাগাজিনে। তারই বাংলা অনুবাদ, এখানে, কয়েক কিস্তিতে…

আগের কিস্তি পড়তে ক্লিক করুন: প্রথম কিস্তি । দ্বিতীয় কিস্তিতৃতীয় কিস্তি


পেদ্রো আলমোদোভার
ম্যাডোনা পেদ্রো আলমোদোভার; ১৯৯০ সালে, মাদ্রিদে

আমাদের দুজনের বাইরে, লাস্যময়ী লা পোলাকার [স্প্যানিশ ড্যান্সার] দিকে একটু-আধটু তাকানোর কথা বাদ দিলে, ম্যাডোনা আর কারও দিকেই মনোযোগ দেননি। পুরো আয়োজন শুট করে রাখার জন্য তার টিমের একজন সদস্যের কাছে একটি তুখোড় মানের ক্যামেরা ছিল। শুট করার কারণ হিসেবে ম্যাডোনা আমাকে জানালেন, এ নাকি স্রেফ ‘স্মৃতিচিহ্ন রাখার উদ্দেশ্যে’। ব্যাপারটি আজব লাগল; কিন্তু একজন ভদ্র নিমন্ত্রণকর্তার নিশ্চয়ই কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা চলে না!

আন্তোনিওর প্রতি ম্যাডোনার ব্যাপক কৌতুহল ছিল। তাই ম্যাডোনার দোভাষী হয়ে তার প্রশ্নগুলো আন্তোনিওর কাছে পৌঁছে দিলাম আমি। ওই সময়ে আন্তোনিও ছিলেন ক্যারিয়ারের তুঙ্গে। টাই মি আপ! টাই মি ডাউন! সিনেমাটি সদ্যই যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছে, এবং সমালোচক ও হলিউড (এবং ম্যাডোনাও) প্রেমে পড়ে গেছেন এই অভিনেতার; কিন্তু সেই মুহূর্তে, ১৯৯০ সালের সেই রাতে তিনি একটি শব্দও ইংরেজি বলতে পারতেন না।

টাই মি আপ! টাই মি ডাউন!। অ্যাকটর: আন্তোনিও বান্দেরাস। ফিল্মমেকার: পেদ্রো আলমোদোভার

এ কথা বলার কারণ, এর এক বছর পর ইন বেড উইথ ম্যাডোনার [ওরফে, ম্যাডোনা: ট্রুথ অর ডেয়ার; আলেক কেসিসিয়ান, মার্ক আলদো মিচেলি; ১৯৯৯] প্রিমিয়ার হয়; প্যালেসে আমার পার্টিতে সেটির একটি বড় অংশের শুটিং হয়েছে। আন্তোনিওর হ্যারেজমেন্ট এটির অন্যতম প্রধান স্টোরিলাইন; মাত্র একটি বাক্যেই আনা লেজাকে ম্যাডোনা যেভাবে বধ করেছিলেন, নিশ্চিতভাবেই তিনি [ম্যাডোনা] সেটি এডিট করে নিয়েছেন।

নৈশভোজের শেষে আমাদের টেবিলের কাছাকাছি চলে আসার দুঃসাহস দেখালেন আনা; আর ডিভাইন ব্লন্ড ম্যাডোনাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে বললেন, ‘আচ্ছা, তার মানে আমার স্বামীকে আপনার পছন্দ হয়েছে; তাতে অবশ্য আমি অবাক হইনি। সব নারীই তাকে পছন্দ করে; তাতে আমি কিছু মনে করি না। কেননা, আমি একজন খুবই আধুনিক মানুষ।’

জবাবে ম্যাডোনা বলেছিলেন, ‘দূর হয়ে যাও!’


বিষয়
বাছাইয়ের
ক্ষেত্রে স্মৃতি
সবসময়ই উদ্ভট
ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়

পুরো ব্যাপারটিকে হয়তো বাজে লাগছে; এটি যেন আমরা যে আইসোলেশনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি, তা নিয়ে লেখার চেয়ে বরং প্যাটি দিফুসার [পেদ্রোসৃষ্ট কাল্পনিক চরিত্র] লেখা কোনো দিনপঞ্জির মতো। তবে বিষয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্মৃতি সবসময়ই উদ্ভট ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আমার এই কথাগুলোকে কারও কাছে অহেতুক লাগলে কিছু মনে করব না: কথাগুলো হয়তো অন্যভাবে বলা যেত (আমি ম্যাডোনার ও তার টিমের শুটিং করছি; এইসব বিষয় নিয়ে একটি সিনেমা বানাচ্ছি– যেটি এক সময় সারা দুনিয়াতে দেখানো হবে)। তাহলে আমি হয়তো এমনতর মামলা-মকদ্দমার মধ্যে পড়ে যাব, যেটি থেকে বের হওয়া আমার পক্ষে মুশকিল।

আমাদের প্রতি ম্যাডোনার আচরণ ছিল– যেন আমরা একেকটা বেকুব; সে গল্প আরেকদিন বলা যাবে। আমাদের ছবি ব্যবহার করার অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেননি তিনি; এমনকি আমার কণ্ঠস্বর আরেকজনকে দিয়ে ডাব করিয়ে নিয়েছেন; কেননা, আমার ইংরেজি তেমন ভালো না।

আমার গল্পেই বরং ফেরা যাক। সেই নৈশভোজের এক পর্যায়ে ম্যাডোনা বললেন, ‘আন্তোনিওকে জিজ্ঞেস করুন তো, নারীদের মারধর করতে সে পছন্দ করে কি না।’ [খোদার কসম, এমন কথাই বলেছিলেন তিনি।] কথাটি ভাষান্তর করে আন্তোনিওকে শোনালাম। তিনি কিছু বললেন না; শুধু বিড়বিড় করলেন; তার চেহারা দেখে মনে হলো, যেন বলতে চাচ্ছেন, ‘আমি একজন স্প্যানিশ ভদ্রলোক। কোনো নারী আমাকে যা করবে বলতে, তা-ই করব।’

ম্যাডোনাআন্তোনিও বান্দেরাস; পেদ্রোর সেই পার্টিতে

আমার কাছে এ ছিল অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গি ভরা এক নিশ্চুপ অবস্থান। কিন্তু ম্যাডোনার আরও অনেক জিজ্ঞাসা ছিল। আমাকে আবারও বললেন, ‘ওকে জিজ্ঞেস করুন, নারীদের আঘাত করতে পছন্দ করে কি না।’ আমি আবারও ভাষান্তর করলাম। ‘আঘাত করা’ [‘টু হিট’] ও ‘নারীদের’ [‘উইমেন’] শব্দ দুটোর সঙ্গে সেই ১৯৯০ সালে ইতোমধ্যেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিলাম। আন্তোনিও একই অঙ্গভঙ্গি করলেন, যার অর্থ– ‘না’, তবে নারীরা তেমনটাই চাইলে ভিন্ন কথা।

আমি সেটাই জানালাম। কেননা, সবচেয়ে বড় কথা, সেটিই ছিল সেই রাতের সবচেয়ে সত্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় মুহূর্ত। তবু সেই মুহূর্তটিকে (নিজের সিনেমায়) যুক্ত করার যোগ্য মনে করেননি ম্যাডোনা। অথচ সেটি থাকলে পরবর্তীকালে [বর্তমানে] চলমান এই মহামারির দুনিয়ায় বোঝা যেত, সেই নৈশ্যভোজের বাস্তব চেহারা আসলে কেমন ছিল।

এ বছরের [২০০০] ১১ জানুয়ারি একই দিনে লস অ্যাঞ্জেলেসের দুটি জায়গায় যাওয়ার দরকার পড়েছিল আমার। প্রায় একইসময়ে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠান দুটি; যেখানে ‘সেরা বিদেশি চলচ্চিত্র’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে পেইন অ্যান্ড গ্লোরি। আমি একটি কালো গিভেন্সি স্যুট, সঙ্গে একই রঙের একটি পার্কিন্স কলারের জাম্পার পরেছিলাম।

প্রথম অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল ‘এএআরপি’ [আগের নাম, ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব রিটায়ার্ড পারসনস’]– যারা ৫০ ও ততোর্ধ্ব বয়সী লোকেদের অধিকার নিয়ে কাজ করে। বয়স্কদের জন্য নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার মতো এমন কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পেনে নেই।

‘এএআরপি’র নিজস্ব মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার রয়েছে। অনুষ্ঠানটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়। পুরস্কারের নাম, ‘গ্রাউনআপস মুভিজ অ্যাওয়ার্ডস’। তারা সত্যিকার অর্থেই সিনেমার বর্ষসেরা কাজগুলো হাইলাইট করে– এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না।

পেদ্রো আলমোদোভার রেনে জেলওয়েগার; ‘এএআরপি’র অনুষ্ঠানে

এ বছর সমগ্র ক্যারিয়ারের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন (আমেরিকান অভিনেত্রী) অ্যানেট বেনিং। দ্য আইরিশম্যান পেয়েছে সেরা ‘সেরা সিনেমা’ এবং (মার্টিন) স্করসেজি পেয়েছেন ‘সেরা ফিল্মমেকারে’র পুরস্কার। জুডির [রুপার্ট গুল্ড] জন্য রেনে জেলওয়েগার এবং আনকাট জেমস-এর [জস সেফডাই, বেনি সেফডাই] জন্য অ্যাডাম স্যান্ডলার (সেরা অভিনেত্রী ও অভিনেতার) পুরস্কার পেয়েছেন।

আমার টেবিলেই বসেছিলেন স্যান্ডলার। ভীষণ ভদ্রলোক। অস্কারে আন্তোনিওর নমিনেশন পাওয়া তাকে কতটা জ্বালাতন করছে, তিনি সে কথা তোলেননি; কেননা, আনকাট জেমস-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তার নিজের, কিংবা অন্তত রবার্ট ডি নিরোর নমিনেশন পাওয়ার কথা, সেখানে কী করে আন্তোনিও পেলেন!

ওখানে ম্যারিজ স্টোরির চমৎকার স্ক্রিপ্টের জন্য নোয়া বামবাখও পুরস্কৃত হয়েছেন। (নোয়া ও তার স্ত্রী গ্রেটা গারউইগের সঙ্গে আমার ভীষণ ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে; যখনই নিউইয়র্কে আসব, তাদের সঙ্গে দেখা করব– কথা দিয়েছি।) আর পেইন অ্যান্ড গ্লোরি জিতেছে সেরা বিদেশি চলচ্চিত্রের পুরস্কার।

পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়ার আগে অ্যানেট বেনিং আমার টেবিলে এসে আমাকে সম্ভাষণ জানিয়েছেন: স্বামী ওয়ারেন বেটির পাশে উজ্জ্বল লাগছিল তাকে; ৮৩ বছর বয়সী ওয়ারেনকেও লাগছিল উজ্জ্বল। পরস্পরকে অভিবাদন জানালাম আমরা। অ্যানেট আমাকে বললেন, লুসিয়া বার্লিনের অ্যা ম্যানুয়াল ফর ক্লিনিং উইমেন গল্পটির স্বত্ব কেনার চেষ্টা করেছিলেন তিনি; তাকে বলা হয়েছে, এটির স্বত্ব আমার।


লুসিয়া
বার্লিনের
গল্পগুলোর
যেকোনো একটা
পড়লেই মনে হবে,
সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে

বইটি নিয়ে আমরা কথা বললাম। আপনাদেরও বলব, সম্ভব হয়ে এই কোয়ারেন্টিনে পড়ে ফেলুন। লুসিয়া বার্লিনের গল্পগুলোর যেকোনো একটা পড়লেই মনে হবে, সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। অ্যানেটকে বললাম, চরিত্রটি যেহেতু বুড়ো, তাই এরজন্য তিনি নিশ্চিতভাবেই আদর্শ অপশন হতে পারেন। এমন কথা আমরা বলতেই পারি, কেননা, সেখানকার যত পুরস্কার বিজয়ী আমরা, প্রত্যেকেই ইতোমধ্যে ৫০ বছর বয়স পেরিয়ে এসেছি।

বিজয়ী হিসেবে আমার নামই সবার আগে ঘোষণা করা হলো। কেননা, আয়োজকরা জানতেন, আমাকে আরেকটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যেতে হবে– ‘লস অ্যাঞ্জেলেস ক্রিটিক’স অ্যাওয়ার্ড’– যেটির অতিথিরা ইতোমধ্যেই (তুলনামূলক কম ফরমাল) ওই অনুষ্ঠানের ককটেল পার্টিতে গলা ভেজানো শুরু করে দিয়েছেন।

পুরস্কার গ্রহণের বক্তৃতায় আমি ওয়ারেনের নাম নিয়েছি– অলৌকিক ব্যাপার হলো, (তার প্রতি) আমার আমার যৌন জাগরণের কথা তাকে বলিনি। তবে খুশিমনেই বলে দিয়েছি, আমার একটি সিনেমায় অবশেষে পেয়েছি তাকে (পেইন অ্যান্ড গ্লোরিতে অভিনেতা আসিয়ের এৎজেন্দিয়ার মনোলগে ন্যাটালি উড ও বেডির ইমেজটি মনে করে দেখুন)।

পেইন অ্যান্ড গ্লোরি। অ্যাকটর: আন্তোনিও বান্দেরাস। ফিল্মমেকার: পেদ্রো আলমোদোভার

একই পোশাকে এবং একই হাসিমুখ নিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে পৌঁছলাম, যেখানে সমালোচকরা তাদের গুরুতর রকমের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড উদযাপন করছিলেন, এবং এ বছর ঘিরে দিচ্ছিলেন বয়ান। এখানে সেরা সিনেমা প্যারাসাইট [বং জুন-হো]; সেরা অভিনেতা আন্তোনিও বান্দেরাস এবং সেরা আন্তর্জাতিক সিনেমা পেইন অ্যান্ড গ্লোরি

আসল কথায় ফিরি। ১৭ দিনের একেবারেই বন্দিদশা কাটিয়ে অবশেষে প্রথমবারের মতো বাসা থেকে বেরিয়েছিলাম আমি। যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটির সংবেদন খোয়াতে চাইনি; আর কারণটিও ছিল খাঁটি: বাসার পাশের একটা রাস্তার কোণার দোকান থেকে খাবার কেনার জন্য।

সে ছিল এক আজব অনুভূতি; তবে ভীষণ শান্তিপূর্ণ, ভীষণ মন ছুঁয়ে যাওয়া নীরবতা ও শূন্যতারও। কতজন মারা গেল কিংবা আক্রান্ত হলো– এসব নিয়ে সেই মুহূর্তে একদমই ভাবছিলাম না। মাদ্রিদের একটি অভূতপূর্ব ইমেজের উপস্থিতি অনুভব করছিলাম; একইসঙ্গে সেটি এমনই এক অতুলনীয় পরিস্থিতি– যার বর্ণনা কী করে দেওয়া সম্ভব, আমি এখনো জানি না।


যদি
বাস্তবতার
মুখোমুখি দাঁড়ানো
থামিয়ে দিই, তাহলে মরেই যাব

ভিকটিমদের নিয়ে আমার বরং না ভাবাই ভালো (কথাটা ঠিক বললাম না, নিজ সামর্থ উজার করে দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা আমি করি)। হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা– এ কথা সবাই জানি; সংখ্যাটি ভুলে যাওয়ার জন্যই প্রতিদিন মনোযোগ দিয়ে লিখে রাখি; সামনে চোখ রেখে পলায়নবৃত্তির এ এক তরিকা। যদি বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানো থামিয়ে দিই, তাহলে মরেই যাব– মনে হয় আমার। সেটা আমি চাই না।


পরের কিস্তি আসছে...
Print Friendly, PDF & Email
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক; ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ক্রিস্তফ কিয়েস্লোফস্কি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার চান্তাল আকেরমান ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]