‘ফরেস্ট গাম্প’: বিস্তৃত জীবনের সুরেলা সংগীত

2
278
ফরেস্ট গাম্প

লিখেছেন । নাফিস সাদিক

ফরেস্ট গাম্প
Forrest Gump
ফিল্মমেকার । রবার্ট জেমিকস
স্ক্রিনরাইটার । এরিক রোথ
উৎস- গ্রন্থ । ফরেস্ট গাম্প [উপন্যাস]/ উইন্সটন গ্রুম
প্রডিউসার । ওয়েন্ডি ফিনারম্যান, স্টিভ টিশ, স্টিভ স্টার্কি
সিনেমাটোগ্রাফার । ডন বারজেস
মিউজিক । অ্যালেন সিলভেস্ট্রি
এডিটর । আর্থার স্মিদ
কাস্ট [ক্যারেকটার] । টম হ্যাঙ্কস [ফরেস্ট গাম্প]; রবিন রাইট [জেনি কুরান]; গ্যারি সিনিস [লেফটেন্যান্ট ড্যান]; মাইকেলটি উইলিয়ামসন [বেনজামিন বুফোর্ড ‘ব্বাবা]; স্যালি ফিল্ড [মিসেস গাম্প]
রানিংটাইম । ১৪২ মিনিট
ভাষা । ইংরেজি
দেশ । যুক্তরাষ্ট্র
রিলিজ । ১৯৯৪

ফরেস্ট গাম্প

কোনো চলচ্চিত্র ভালোলাগার পিছনে সুনির্দিষ্ট কোনো ফর্মুলা কি কাজ করে? সম্ভবত না; অনেক কারণেই একটি চলচ্চিত্র ভালো লেগে যেতে পারে। তবে একটি সাধারণ কারণ হলো, চলচ্চিত্রের মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। শুধু চলচ্চিত্র নয়, শিল্প- সাহিত্যের যে কোনো ধারার জন্যই এটা সত্য। মানুষ গল্পের মাঝে, চলচ্চিত্রের মাঝে অনবরত নিজেকে অনুসন্ধান করে চলে। তার অতি আপন গল্পটি, তার একান্ত নিজস্ব গল্পটি অন্য কেউ বলল কি না, তা খুঁজে পেতে চায়।

ফরেস্ট গাম্প আমার অতি আপন একটি চলচ্চিত্র হয়ে ওঠার পেছনে কাজ করেছে এই ‘নিজেকে খুঁজে পাওয়া’র ফর্মুলা। আমার বয়স তখন আরও অনেক কম ছিল: এসএসসি পরীক্ষার পর অখণ্ড অবসর কাটাচ্ছি। এমনই এক সময় প্রথম ফরেস্ট গাম্প দেখি। ফরেস্ট গাম্পের সাধারণত্বে আমি আবিষ্কার করি নিজেকে। একটা অদ্ভূত সুখানুভূতি এবং আচ্ছন্নভাব আমাকে কয়েকদিন জাপটে ধরে রাখে। এরপর আরও অনেকবার দেখি; অদ্ভুত হলেও সত্য যে, সেই মুগ্ধতার রেশ আমার এখনো কাটেনি।

ফরেস্ট গাম্প যে গভীরতমবোধ নিয়ে মহত্তম কোনো চলচ্চিত্র, এমন কোনো প্রমাণ বা প্রচারণার দিকে যাওয়া এই লেখার উদ্দেশ্য না। এটাকে ঠিক রিভিউও বলা যাবে না; কারণ কাটাছেঁড়া করে চলচ্চিত্রটির কোনো গোপন রহস্যের আবিষ্কার, কিংবা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ- তত্ত্বও এখানে অনুপস্থিত। এটা বরং অন্য রকম একটা গল্প। একজন সাধারণ দর্শকের একটি চলচ্চিত্রকে আপন করে পাওয়ার গল্প।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের দর্শক মানেই তিনি যে ফরেস্ট গাম্প দেখেছেন, এটা ধরে নেওয়া যায়। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি সর্বকালের জনপ্রিয়তম চলচ্চিত্রগুলোর একটি। কাজেই ঢালাওভাবে প্লট বর্ণনা করা থেকে এ লেখায় বিরত থাকছি। তারচেয়ে বরং এর দৃশ্যগুলোর দেখার সময়ের টুকরো টুকরো অনুভূতিগুলো ধরার এখানে চেষ্টা করি।

এই পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই খুব সাধারণ, তবে চলচ্চিত্রে এই সাধারণ মানুষদের গল্প বলার থেকে অসাধারণদের গল্প বলাতেই ঝোঁক বেশি থাকে। ফরেস্ট গাম্প-এর গল্পটা এই প্রবণতা থেকে একটু ব্যতিক্রমী। এটা অসাধারণ বা সাধারণ নয়, বরং সাধারণেরও নিম্ন স্তরের একজন ছেলের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। সে অসাধারণ হয়ে ওঠে তার প্রচেষ্টা এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে। এবং দিনশেষে সে সাধারণই রয়ে যায়।

এটা একইসঙ্গে শৈশবের গল্প, কৈশোরের গল্প, যৌবনের গল্প এবং পরিণত বয়সের গল্প। মানুষের বিস্তৃত জীবনকে এখানে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে একটি সুদীর্ঘ চিত্রে। যে ছেলের গল্প বলা হয়েছে, তার জন্ম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে। সে মেরুদণ্ডের বিশেষ সমস্যার কারণে ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, কাজেই পায়ে একটা ব্রেস লাগানোর প্রয়োজন হয়েছে। বুদ্ধিমত্তার দিক থেকেও সে সাধারণদের ধারে-কাছে নেই। তার আইকিউ লেভেল অনেকটা নিচে। এ ধরনের শিশুর জীবন পৃথিবীতে খুব বেশি সুখকর হয় না। পৃথিবীর মানুষ তাদেরকে পুনঃপুন স্মরণ করিয়ে দিতে থাকে তাদের অসম্পূর্ণতার কথা।

ফরেস্ট গাম্প

ফরেস্ট গাম্প-এর গল্পটা অন্যরকম এ কারণে যে, এটা যেমনটা ঘটে, তার গল্প না। বরং যেমনটা হওয়া উচিত বা যতটুকু ঘটা সম্ভব, তার গল্প। কাজেই সন্তানের সব অসম্পূর্ণতা মেনে নিয়ে আমাদের নায়ক ফরেস্টের মা তার ওপর বিশ্বাস না হারিয়ে তাকে ক্ষণে ক্ষণে বলতে থাকে, “Don’t ever let anybody tell you they’re better than you, Forrest. If God intended everybody to be the same, he’d have given us all braces on our legs.”


সে
বিশ্বাস
রেখেছে জীবনে, সে
বিশ্বাস রেখেছে মানুষে

এই পৃথিবী যখন অতি বুদ্ধিমান, অতি স্মার্ট এবং অতি চালাক মানুষদের জন্যই সহজ, এবং তাদের স্তুতিতেই আকাশ-বাতাস মুখরিত, তখন ফরেস্ট গাম্প আমাদের শুনিয়েছে সাধারণের জয়গান, সারল্যের জয়গান, জীবনের জয়গান। ফরেস্টের ছিল শুধু সততা আর নিষ্ঠা; এর বাইরে তার আর কিছুই ছিল না। সে বিশ্বাস রেখেছে জীবনে, সে বিশ্বাস রেখেছে মানুষে।

জীবন যে অনিশ্চয়তায় ভরা একটা চকলেট বক্সের মতো, তা জানিয়ে তার মা যখন বলেছে, “Life is like a box of chocolates, you never know what you’re gonna get.”– সে বিশ্বাস করেছে এবং সেই অনিশ্চিত জীবনে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে ভালো কিছু করার। বুদ্ধিমত্তার বাইরে সে বিশ্বাস রেখেছে কাজে। এজন্য কেউ যখন তাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘Are you a stupid, or something?’– সে উত্তর দিয়েছে, ‘A stupid is as a stupid does.’

এই স্বল্পবুদ্ধির ছেলেটি অতি সামান্য বা সাধারণ হয়েও সময়ের সঙ্গে কীভাবে অসাধারণ হয়ে ওঠে, সেই কাল্পনিক গল্পটি বলেছে ফরেস্ট গাম্প। কলেজ জীবনে সে হয়ে ওঠে সুদক্ষ ফুটবল [রাগবি] প্লেয়ার, আর্মিতে যেয়ে সে ভিয়েতনামের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, পিংপং [টেবিল টেনিস] খেলোয়াড় হিসেবে সে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেয়, শ্রিম্প বোট ক্যাপ্টেন থেকে সে হয়ে ওঠে মিলিওনিয়ার, পুরো আমেরিকাজুড়ে সর্বোচ্চ সময় একটানা দৌড়ে সে রেকর্ড করে। ‘অল আমেরিকা ফুটবল টিম’ ও ‘অল আমেরিকা পিংপং টিমে’র সদস্য হিসেবে সে দু’বার হোয়াইট হাউসে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে। ভিয়েতনামের যুদ্ধে বীরত্বের স্মারক হিসেবে সে পায় ‘কংগ্রেসনাল মেডেল অব অনার’।

পৃথিবীজুড়ে যখন অবিশ্বাস, আশঙ্কা এবং দ্বিধাই রাজত্ব করছে, তখন ফরেস্ট গাম্প বলেছে মানুষের গল্প, বন্ধুত্বের গল্প এবং সততার গল্প। মানুষের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছে ফরেস্ট। ভিয়েতনামের যুদ্ধে বন্ধু ব্বাবাকে হারিয়েও তার স্বপ্নের সে হারাতে দেয়নি। সে বিশ্বাস করেছে, ‘A promise is a promise.’ আর্মির সার্ভিস শেষ হলে সে শ্রিম্প বোট কিনে বেরিয়ে পড়েছে সমুদ্রে।


প্রচলিত
তত্ত্বের বাইরে
সে একজন স্বতন্ত্র
মানুষে পরিণত হয়েছে

সত্যি বলতে, এ চলচ্চিত্রে ফরেস্ট গাম্পের নিজস্ব কোনো ভাবনা বা চিন্তাশক্তির পরিচয় আমরা পাই না; সে সব সময় চলেছে অন্যের বুদ্ধিতে। নিজের মা ও বন্ধুদের প্রতিটা কথা সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছে। মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখার এই শক্তিই তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনেক দূরে এবং প্রচলিত তত্ত্বের বাইরে সে একজন স্বতন্ত্র মানুষে পরিণত হয়েছে।

যে মেয়েটিকে সে ভালবেসেছে, মেয়েটি তার থেকে দূরে থাকতে চাইলেও সে কখনো তাকে বিস্মৃত হয়নি। ভিয়েতনামে যাওয়ার আগে জেনি যখন তাকে বলেছে, “Just, if you’re ever in trouble, don’t try to be brave. You just run, okay? Just run away.” ফরেস্ট গাম্প দৌড়েছে, তবে দৌড়ানোর সময় স্বার্থপরের মতো সে সবাইকে ফেলে চলে যায়নি। বন্ধু ব্বাবাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সে যুদ্ধক্ষেত্রে বারবার ছুটে গেছে, জীবনের মায়া উপেক্ষা করে আহতযোদ্ধাদের ঘাড়ে করে সে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছে।

হ্যাঁ, পৃথিবীর প্রচলিত সংজ্ঞায়নে হয়তো ফরেস্ট গাম্প স্টুপিড বা নির্বোধ। তবু এই নির্বোধ মানুষটিই সময় থেকে সময়ে আমাদের আপন থেকে আপনতর হয়ে উঠতে থাকে এই চলচ্চিত্রে।

শুধু একটি মানুষের গল্পের বাইরে ফরেস্ট গাম্প একটি সময়ের গল্প, এটা আমেরিকার একান্ত নিজস্ব গল্প– যে গল্প গ্রিনবো, অ্যালবামা থেকে শুরু হয়ে বিস্তৃত হয়েছে পুরো আমেরিকাজুড়ে।

চল্লিশের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত আমেরিকার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো অত্যন্ত সুচারুভাবে প্রবিষ্ট হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। এসেছে এলভিস প্রিসলি, জন লেনন, জোয়ান বায়েজ। সত্তরের দশকে ‘হিপি’ বা ‘বিট’ জেনারেশনের উদ্ভব এবং তাদের যাপনের চিত্রও আছে এখানে। ১৯৭৪-এর হারিকেন [ঘুর্ণিঝড়] কারমেন, ভিয়েতনামের যুদ্ধ, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ বিদ্বেষ, আমেরিকান সাধারণ জনগণের যুদ্ধবিরোধী প্রচারণা– কিছুই বাদ পড়েনি। এমনকি আমেরিকান প্রসিডেন্টরা জন এফ কেনেডি, লিন্ডন বি জনসন, রিচার্ড নিক্সনও এসে গেছেন এই চলচ্চিত্রের দৃশ্যে।

ফরেস্ট গাম্প চলচ্চিত্রের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এখানে কোনো ভিলেন নেই, কোনো নেতিবাচক চরিত্র নেই। আগেই যেটা বলেছিলাম, এটা যেমনটা ঘটে তার গল্প না, বরং যেমনটা হওয়া উচিত– তার গল্প। এখানে সে আপন করে পেয়েছে চারজন মানুষকে– ফরেস্টের মা মিসেস গাম্প, প্রেমিকা জেনি, বন্ধু বেনজামিন বুফোর্ড ‘ব্বাবা’ এবং লেফটেন্যান্ট ড্যান।

মিসেস গাম্প এখানে চিত্রিত হয়েছেন একজন অতি নিরীহ, সন্তানবৎসল মায়ের চরিত্রে, যিনি সন্তানকে লো আইকিউ সত্ত্বেও সাধারণ স্কুলে ভর্তির করানোর জন্য স্কুলের প্রিন্সিপালকে দেহদানে দ্বিধা করেন না।

আর্মিতে গিয়ে ফরেস্ট বন্ধু হিসেবে পেয়েছে দু’জনকে– কৃষ্ণাঙ্গ সহযোদ্ধা ‘ব্বাবা’ এবং প্লাটুন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ড্যান টেলর। ভিয়েতনামের যুদ্ধে তাদের একজন প্রাণ হারিয়েছে এবং অন্যজন দুই পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। বন্ধু হিসেবে সে যাদের পেয়েছে, তাদেরকে হৃদয়ে লালন করেছে আজীবন। তাই ব্বাবার মৃত্যুতেও তার চিংড়ি ধরার স্বপ্নকে সে মরতে দেয়নি। অন্যদিকে, প্লাটুন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ড্যান টেলর– যে মানুষকে সে প্রথম দেখাতেই পছন্দ করেছে, তার হতাশাক্লান্ত জীবনেও আলো ফিরিয়েছে। নির্দিষ্ট না, বরং পৃথিবীর যে কোনো মানুষই যে অন্য কারও জীবনে আলো দেখাতে পারে, তার নিদর্শন হয়েছে ফরেস্ট গাম্প

এই ‘অতি কাল্পনিক’ বা ‘অতি ভালো’ চরিত্রগুলোর বাইরে একটি ব্যতিক্রমী বা বৈচিত্র্যময় চরিত্র– জেনি। একেবারে শৈশবেই ফরেস্টের সব অস্বাভাবিকত্বকে মেনে নিয়ে সে তাকে বন্ধু হিসেবে বরণ করে নিয়েছিল। ফরেস্টও তাকে ভালোবেসেছে প্রাণভরে। কিন্তু পরিণত বয়সে সে ফরেস্টকে ছেড়ে ক্রমাগত দূরে সরে যেতে চেয়েছে। যে চলচ্চিত্রে সব কিছুই এত স্বাভাবিকভাবে, এত সহজে হয়েছে, সেখানে জেনিকে পেতে ফরেস্টকে কেন এত কষ্ট পেতে হলো, সেটা বুঝতে আমাদের জেনি চরিত্রটিকে আরেকটু ভেঙে দেখতে হবে।


অসুস্থ
শৈশবের
এই ভয়াবহ
যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে
বেড়িয়েছে আজীবন

মাতৃহীন জেনি শৈশবে তার পিতার যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আশ্রয় পরিবর্তন করে নিজের দাদির কাছে যেয়েও সে শান্তি পায়নি। অসুস্থ শৈশবের এই ভয়াবহ যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে আজীবন; কখনো স্থির হতে দেয়নি। সে বেছে নিয়েছে বোহেমিয়ান জীবন– নগ্ন হয়ে বারে গান গাওয়া, হিপিদের সঙ্গে মিশে অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ড্রাগ অ্যাডিকশন এবং যথেচ্ছ যৌনাচারে শান্তি খুঁজে পেতে চেয়েছে।

কিন্তু সে ভালোবেসেছে ফরেস্টকে। তাই বলে নিজের অনিয়ন্ত্রিত জীবনের সঙ্গে তাকে কখনো জড়াতে চায়নি। নিজেকে ফরেস্টের ভালোবাসার যোগ্য ভাবতে না পেরে সে বলেছে, ‘Forrest, you stay away from me, okay? You just stay away from me, please.’

জীবনে স্থির হতে চাওয়ার প্রথম পর্যায়ে সে আবার ফরেস্টের কাছেই ফিরে এসেছে। ফরেস্ট যখন বলে, “Why don’t you love me, Jenny? I’m not a smart man, but I know what love is.” এমন কিছু দৃশ্যে জেনির প্রতি দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত হয়ে ওঠে। তবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা জেনির মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারলে এই বিরক্তি বা রাগ আর থাকে না। ফরেস্টকে ভালোবেসে তার সন্তান ধারণ করেই সে দূরে চলে গেছে। রেস্টুরেন্টে কাজ করে সন্তানকে বড় করতে করতে যখন নিজের অসুস্থতা ধরা পড়েছে, সে সন্তানকে তুলে দিয়েছে তার পিতার হাতে।

এসব কারণেই অন্য সবাইকে দূরে ঠেলে এই চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি বাস্তব এবং জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্র হয়ে উঠেছে জেনি।

ফরেস্ট গাম্প চলচ্চিত্রের গল্প বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গিটার কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। একটি বাস স্টপে বসে সে আপন মনে তার ফেলে আসা জীবনের স্মৃতিচারণ শুরু করে। তার গল্প অনেকেই শুনতে চায় না; কেউ আবার শুনতে শুনতে চলে যায়। কেউ বিশ্বাস নিয়ে শোনে; কেউ আবার বিশ্বাস করতে চায় না। শ্রোতা পরিবর্তন হতে থাকে; ফরেস্ট আপন মনে বলতে থাকে তার বহমান জীবনের বিস্তৃত গল্প।

এই চলচ্চিত্রে অনেকগুলো দৃশ্য আছে, যেগুলো দেখার সময় তীব্র আনন্দ এবং সৌন্দর্যের যুগপৎ অনুভবে আমার চোখ বুজে আসে। গভীর কোনো বোধ এসে ছুঁয়ে যায় সমস্ত প্রাণমন। সেই অনেকগুলো দৃশ্যের মধ্যে এখন চারটির কথা বলার চেষ্টা করি।

‘রান, ফরেস্ট! রান!’

জন্মের পর থেকে মেরুদণ্ডের বিশেষ এক সমস্যার কারণে ফরেস্ট ঠিকমতো হাঁটতে পারত না। এজন্য পায়ে ব্রেস লাগানো হয় তার। হাঁটুর কাছে পা না ভাঙতে পেরে সটান হয়ে হাঁটতে হতো তাকে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন কিছু দুষ্ট ছেলে তার বুদ্ধিহীনতা এবং অসম্পূর্ণতার শাস্তিস্বরূপ তাকে ঢিল ছুঁড়ে তাকে আহত করা শুরু করে। সঙ্গে থাকা ছোট্ট জেনি তাকে আকুল হয়ে বলে, ‘Run, Forrest! Run!’

ফরেস্ট প্রাণপণে দৌড়াতে চেষ্টা করে। তার পায়ের ব্রেসের ধাতব অংশ এবং চামড়ার টুকরো রাস্তায় খুলে খুলে পড়তে থাকে। ফরেস্ট দৌড়াতে থাকে। সে আবিষ্কার করে, সে বাতাসের গতিতে দৌড়াতে পারে। ফরেস্টের প্রতিবন্ধকতা পরিণত হয় তার শক্তিতে এবং এখান থেকেই সে আবিষ্কার করতে শুরু করে নিজেকে।

চলচ্চিত্রের ১৬ মিনিটের মাথায় ঘটা এই দৃশ্য দর্শকের মধ্যেও এক ধরনের শক্তির সঞ্চার করে। তারা অনুভব করে, যা দেখছি তা নতুন কিছু। এমন কোন কিছু আগে কোন চলচ্চিত্রে আমরা দেখিনি। প্রতিবন্ধকতাও যে শক্তিতে পরিণত হতে পারে, এমন একটি মিরাকল বা অদৃশ্য শক্তিতে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় আমাদের।

ফরেস্ট গাম্প

ডিয়ার গড, মেক মি আ বার্ড

একটু আগেই বলেছিলাম জেনির ভয়ংকর শৈশবের কথা, যে শৈশব তাকে সারাজীবন স্থির হতে দেয়নি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিয়েছে অবিরত। ফরেস্টের দৌড়াতে সক্ষম হওয়ার একটু পরেই ঘটা এই দৃশ্য জেনির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার গল্প।

জেনিকে খুঁজতে ছোট্ট ফরেস্ট তার বাড়িতে এসেছে। জেনি তাকে বলছে, শব্দ না করতে, কারণ তার বাবা ঘুমোচ্ছে। একটু পরেই মদ্যপ বাবা যখন চিৎকার করে তার কন্যাকে ডাকা শুরু করে, ফরেস্টকে নিয়ে জেনি পালাতে শুরু করে ফসলের মাঠে। জেনি ফরেস্টকে বলে তার সঙ্গে প্রার্থনা করতে।

দুটি ছোট্ট শিশু বড় বড় ফসলের গাছের আড়ালে হাঁটুমড়ে বসে ঈশ্বরকে ডাকে। জেনি বলতে থাকে, ‘Dear God, make me a bird, so that I can fly far… far, far away from here.’


এই
চলচ্চিত্রে
পুরোটা সময়
ধরে জেনি উড়ালই
দিতে চেয়েছে এবং শেষে
মৃত্যুই হয়তো তাকে সেই
প্রার্থনার কাছে পৌঁছে
দিয়েছে

সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বড়ই রহস্যময়; তিনি আছেন কি নেই, তা বোঝার সক্ষমতা শিশু দুটির হয়নি। তবু এই বিপদে তারা তার ওপরেই বিশ্বাস রেখেছে। স্বপ্ন দেখেছে পাখি হওয়ার; জীবনের সব দুঃখ- কষ্টকে দূরে ঠেলে সুদূরে উড়াল দেওয়ার। এই চলচ্চিত্রে পুরোটা সময় ধরে জেনি উড়ালই দিতে চেয়েছে এবং শেষে মৃত্যুই হয়তো তাকে সেই প্রার্থনার কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

এই দৃশ্যটি দেখার সময় জেনির মতো দর্শকের মধ্যেও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়ে ওঠে। মনে হয়, এই পৃথিবীর সব বেদনা ছুঁড়ে ফেলে যদি পাখি হয়ে উড়ে যেতে পারতাম!

যুদ্ধশেষে আবার দেখা

ভিয়েতনামের যুদ্ধ থেকে ফরেস্ট ফিরে এসেছে আমেরিকায়। বীরত্বের জন্য পেয়েছে ‘কংগ্রেসনাল মেডেল অব অনার।’ একই দিনে যুদ্ধবিরোধীরা ভিয়েতনামের যুদ্ধের বিরোধিতা করে শহরে একটা শান্তি সমাবেশ ডেকেছে। ফরেস্টকে সেই স্টেজে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে বলা হলো। কাকতালীয়ভাবে বক্তব্য শুরুর মুহূর্তে মাইকের কানেকশন কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য আর কেউ শুনতে পায় না। কানেকশন আবার ফিরে আসতে আসতে তার বক্তব্য শেষ হয়ে যায়।

মঞ্চে থাকা উপস্থাপক ফরেস্টের নাম চিৎকার করে জানান সমাবেত সবাইকে। সেই সময়ে হাজার হাজার মানুষের মধ্য থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে আসে, ‘ফরেস্ট! ফরেস্ট!’ কণ্ঠটা জেনির। ফরেস্ট স্টেজ থেকে লাফিয়ে নেমে এগিয়ে যেতে থাকে, জেনিও আসতে থাকে। একটি সৌধের সামনের পানিতে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে। চারপাশের হাজার হাজার উল্লসিত মানুষ আনন্দে চিৎকার দিয়ে ওঠে।

যুদ্ধফেরত প্রেমিকের প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরার এই দৃশ্য যেন জীবনেরই জয়গান, যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভালোবাসার জয়গান। চারপাশের হাজারও উল্লসিত চিৎকার সেই জয়গানকে প্রতিধ্বনিত করে দিগন্ত থেকে দিগন্তে। ফরেস্টের জন্য এটা তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক মুহূর্ত। এই দৃশ্য দর্শকের হৃদয় না ছুঁয়ে কি যেতে পারে?

“ইট’স টাইম ফর অ্যা শো ডাউন! ইউ অ্যান্ড মি!”

লেফটেন্যান্ট ড্যান টেলরের বিশ্বাস ছিল, পঙ্গু অবস্থায় বেঁচে থাকার চেয়ে ভিয়েতনামের যুদ্ধে মৃত্যুই ছিল তার জন্য সম্মানজনক। সেই নিয়তি থেকে ফরেস্ট তাকে বঞ্চিত করায় তার খেদের সীমা ছিল না। ফরেস্ট যখন শ্রিম্প বোট ক্যাপ্টেন হিসেবে যাত্রা করে, লেফটেন্যান্ট ড্যান তবু তার ফার্স্ট মেট হিসেবে বোটে এসে যোগ দেয়।

ঘুর্ণিঝড় কারমেনের ভয়াবহ রাতে যখন নৌকা ডুবি-ডুবি করছে, তখন সে উন্মত্ত হয়ে পড়ন। নৌকার শীর্ষে উঠে ঈশ্বরকে দেখা দেওয়ার আহ্বান করে চিৎকার করতে থাকে, “You’ll never sink this boat. Come on! It’s time for a showdown! You and me! I’m right here! Come and get me!”

ঈশ্বর আর আসেন না! ঘুর্ণিঝড় কারমেনে উপকূল আর সব শ্রিম্প বোট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলেও ফরেস্টদের শ্রিম্প বোটের কিছু হয় না।

যাদের হারানোর কিছু নেই, তেমন মানুষেরা কীভাবে ও কত সহজে ঈশ্বরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এই দৃশ্যে লেফটেন্যান্ট ড্যানের এই চ্যালেঞ্জের মাঝে একটি বিরল সৌন্দর্য আছে বলেই আমার অনুভব হয়।


এই
দৌড়
বিশ্বশান্তি,
পরিবেশ বা
নারী অধিকারের
জন্য নয়; এ দৌড়
একান্ত তার নিজের জন্য

এই দৃশ্য চারটির বাইরেও অজস্র মুহূর্ত আছে, আলাদা অনুভবের কথা আছে– যা আমাকে ছুঁয়ে গেছে। যেমন, ফরেস্টকে ফেলে জেনি যখন হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, বেদনাহত ফরেস্ট দৌড়ানোর তাগিদ অনুভব করে। এই দৌড় বিশ্বশান্তি, পরিবেশ বা নারী অধিকারের জন্য নয়; এ দৌড় একান্ত তার নিজের জন্য। তিন বছর দুই মাস চৌদ্দ দিন এবং ষোল ঘণ্টা একটানা দৌড়ানোর পর সে তার এই দৌড়ের কারণ খুঁজে পায় মৃত মায়ের একটি কথায়, ‘You got to put the past behind you before you can move on.’

এই দৌড় তাকে অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে; শুধু তাকে নয়, অন্যদেরও পথ দেখিয়েছে। এ দৃশ্য দেখার সময় সব ছেড়ে একটি লম্বা দৌড়ে পৃথিবীর পথে বের হয়ে যেতে আমাদেরও ইচ্ছে হয়।

আবার, ফরেস্ট যখন তার ছেলেটিকে প্রথমবারের মতো দেখার অনুভূতি এভাবে জেনিকে ব্যক্ত করে, “He’s the most beautiful thing I’ve ever seen.”– সেই মুহূর্তও অনন্য। জীবনের এই অন্তরতম অনুভূতিগুলো কীভাবে যে এই চলচ্চিত্রের ফ্রেমে ফ্রেমে ধরা পড়ল, তা অন্তত আমার কাছে রীতিমতো বিস্ময় বটে!

ফরেস্ট গাম্প

কিছু অনুভূতি থাকে, ভালোলাগা থাকে, যেগুলোকে ঠিক লিখে প্রকাশ করা যায় না। এতটুকু লেখার পর সেই জিনিসই আমার মনে হচ্ছে। ফরেস্ট গাম্প-এ জীবন ও সৌন্দর্যের যে তীব্র বোধ আমাকে আচ্ছন্ন করে, তা যখন লিখে প্রকাশ করতে চাইলাম, দুরূহ হয়ে পড়ল। তবে একটা কথা বিশেষভাবে বিশ্বাস করি, ‘What comes from the heart touches the heart.’ কাজেই এলোমেলো প্রকাশ সত্ত্বেও আমার এই অনুভবটুকু অন্যকে স্পর্শ করতে পারে, সেই প্রেরণায় এতদূর লিখে ফেললাম।

এর চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক ও এডিটিং নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। ফরেস্ট গাম্পের বিস্তৃত জীবনের সঙ্গে সবকিছু যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এই গতিময় গল্পটি দেখার সময় ১৪২ মিনিটে কীভাবে যে কেটে যায়, তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। ১৯৯৪ সালে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের আসরে ফরেস্ট গাম্প সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং সেরা সম্পাদনার পুরস্কার লাভ করে। সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান টম হ্যাঙ্কস। এর বাইরেও গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা এবং স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডের আসরেও অজস্র পুরস্কারে সম্মানিত হয় ফরেস্ট গাম্প

টম হ্যাঙ্কসের অনন্যসাধারণ অভিনয় ফরেস্ট গাম্পকে একটি বাস্তব চরিত্রের মতোই বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। সর্বকালের অন্যতম একটি অনুপ্রেরণাদায়ক চলচ্চিত্র হিসেবে মানুষ এটিকে মনে রেখেছে। ফরেস্ট গাম্প আমাদেরকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে পৃথিবীকে দেখতে শিখিয়েছে, শর্তহীনভাবে ভালবাসতে শিখিয়েছে সব কিছু, জটিল হিসেব নিকেশের বাইরে খুলে দিয়েছে বিস্তৃত জীবনের দ্বার। সততা এবং সারল্যের চর্চা মানুষকে কোথায় পৌঁছে দিতে পারে– সেই দিগন্তকে ছোঁয়ার স্বপ্ন জাগিয়েছে। এজন্যই বছরের পর বছর চলে গেছে, তবুও এই চলচ্চিত্রটির আবেদন ফুরোয় নি।

এটা সত্যি যে, ফরেস্ট গাম্পদের হয়তো বাস্তবে পাওয়া যায় না। একজন মানুষের পক্ষে এত কিছু করে ফেলাটাও অসম্ভব ঠেকে। তবু এই অসম্ভব গল্প দেখার সময় আমাদের চোখের পাতায় যে স্বপ্নের সঞ্চার ঘটে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ইচ্ছে করে এই অবিশ্বাস্য গল্পটি বিশ্বাস করতে। দর্শক মাত্রই এক অন্য রকম একাত্মতা অনুভব করে ফরেস্ট গাম্পের সঙ্গে।

সাধারণ হয়েও অসাধারণ কিছু করার মন্ত্র সে শিখিয়ে দিয়েছে এবং তার সেই শিক্ষা সততা ও একনিষ্ঠতার। তাই মনে হতে থাকে– আমরাও পারব, এই পৃথিবীর অতি সাধারণদের একজন হয়েও অসাধারণ কিছু করতে পারব।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সাহিত্য, চিত্রকলা ও চলচ্চিত্র অনুরাগী। শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।। বাংলাদেশ

2 মন্তব্যগুলো

  1. ১।এটা এমন একটা চলচ্চিত্র যা প্রতি বছর আমি একবার হলেও দেখি। আপনি প্রায় সব কথা এই সিনেমার একদম গুছিয়ে দারুণ ভাবে বলেছে, এমন কি জরুরী ডায়ালগ গুলো ও লিখে দিয়েছেন। এজন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। যারা দেখেন নি তাঁরা সিনেমাটা দেখতে পারেন। আশা করি ভালো লাগবে।
    ২। ফরেস্ট গাম্প জীবনে চলার এক দর্শনের কথা বলে। কাজ করে যাও, বিশ্বাস করো মানুষকে , নিজের ভেতরের কথাটাই বলো। সব পথ সহজ। সততা আর কথা রাখার কথা বলে ফরেস্ট গাম্প। সম্ভবতঃ টম হ্যাঙ্কস এর অভিনয়ে এটাই আমার সব থেকে প্রিয় চলচ্চিত্র। জরুরী লেখা। ধন্যবাদ, এই লেখাটা ছাপানোর জন্য। কমপক্ষে ১০ বার এর উপর দেখেছি । আবার দেখতে ইচ্ছে করছে।

  2. ধন্যবাদ, আসিফামি রহমান সৈকত।

    ‘ফরেস্ট গাম্প’ চলচ্চিত্রটি যে আমার মতো আপনারও এত আপন তা জেনে খুব ভালো লাগছে।

মন্তব্য লিখুন