প্রতিদ্বন্দ্বী: রাজনৈতিক পেক্ষাপট তছনছ করে দেওয়া এক জীবন্ত দলিল

0
242

লিখেছেন । রণবীর পাঁজা

প্রতিদ্বন্দ্বী
 The Adversary
ফিল্মমেকার, স্ক্রিনরাইটার, মিউজিক । সত্যজিৎ রায়
উৎস-উপন্যাস । প্রতিদ্বন্দ্বী/ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রডিউসার । অসীম দত্ত; নেপাল দত্ত
সিনেমাটোগ্রাফার । পূর্ণেন্দু বসু; সৌমেন্দু রায়
এডিটর । দুলাল দত্ত
কাস্ট [ক্যারেকটার] । ধৃতিমান চট্রোপ্যাধায় [সিদ্ধার্থ]; কৃষ্ণা বসু [সুতপা]; ইন্দিরা দেবী [সরোজিনী]; কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় [শিবেন]; জয়শ্রী রায়/কবীর [কেয়া]
রানিংটাইম । ১১০ মিনিট
ভাষা । বাংলা
দেশ । ভারত
রিলিজ । ২৭ অক্টোবর ১৯৭০


৬০-এর দশকের শেষ দিকে শুরু হওয়া জলপাইগুড়ির নকশালবাড়ির আঞ্চলের সেই কৃষক ও মেহনতি মানুষের আন্দোলন– যা ভবিষ্যতের ভারতবর্ষে রাজনৈতিক ইতিহাসে তুমুল আলোড়ন ফেলে এবং ভারতবর্ষের আপামর জনসাধারণ যার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, ৭০-এর দশক যাকে বিশ্ব ইতিহাসে মুক্তির দশক বলে অভিহিত করা হয়। ভিয়েতনাম ও বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশে গণঅভ্যুত্থান, সঙ্গে যোগ্য দোসর হিসেবে র‍্যাডিক্যাল ছাত্রসমাজ মানবমুক্তি ও নব্য ইতিহাস রচনার পাশাপাশি নতুন ভোরের সন্ধানে এক প্রকার বিনা ভ্রূক্ষেপেই আত্মবিসর্জন দিয়েছিল– এই জগতব্যাপি জটিল পরিস্থিতির তুলনায় বিন্দুমাত্র আলাদা ছিল না কলকাতা শহর। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে শিল্প তৈরি করা, কোনোভাবেই প্রোপাগান্ডার শিকার না হওয়া, মহান চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট কলকাতা ট্রিলজির অসামান্য অবদান– প্রতিদ্বন্দ্বী

সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একই নামেরই উপন্যাস থেকে অ্যাডাপটেশন ফিল্মটি মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে, যখন সমগ্র ভারতেই নকশাল আন্দোলন প্রায় তার শিখরের পর্যায়ে। মূলত ফিল্মটি শুরু হয় কিছু নেগেটিভ শটের মাধ্যমে, যাতে এটুকু বুঝতে পারা যায় এমন– কেউ একজন পরিবারের মারা গেছে এবং পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।

যখন প্রিয় মানুষের মৃত্যু ঘটে, তখন মনে হয় যেন সমগ্র পৃথিবীতে কেমন একটা থমথমে ভাব বিরাজ করছে, ঠিক পায়ের তলা থেকে আচমকা জমি সরে গেলে যে অনুভূতি উপলব্ধি করি, ঠিক তেমন, যেন পুরো ব্যপারটাই একটি সিনেমা– যা ক্রমাগত আমাদের ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে, আমরা যেন এক নাম না জানা ভয়ানক ইল্যুশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।


শিল্পের
প্রথম শর্তই
হলো মানুষ ও তাদের
জীবনযাত্রার সঙ্গে একাত্মবোধ

নেগেটিভ শটগুলোর মাধ্যমে ডিরেক্টর নিজেই সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চেয়েছেন, কারণ এটুকু অস্বীকার করার জায়গা নেই যে, শিল্পের প্রথম শর্তই হলো মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে একাত্মবোধ।

এরপর আমরা বারেবার দেখতে পাই, তরুণ বেকার যুবক এক প্রকার বাধ্য হয়েই চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘোরে; কারণ পূর্বোক্ত মৃত ব্যক্তি আসলে তারই বাবা: বাবার অকাল প্রয়াণে সমস্ত গুরুদায়িত্ব তার মাথায় এসে পড়েছে। বাসে করে যুবক ইন্টারভিউ দিতে যায়, ভিড় বাসে ফুটে ওঠে আসল ভারতবর্ষের, তথা সমগ্র তৃতীয়বিশ্বের সামগ্রিক চিত্র, যেখানে গরু-ছাগলের মতো কাতারে কাতারে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে যাচ্ছে অথবা ছেলেটির মতো ইন্টারভিউ দিতে যায়।

সত্যজিৎ রায় ইতালিয়ান নিও-রিয়ালিজম দেখে প্রচণ্ডভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন– যেখানে বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থান থেকে নিষ্ঠুর বাস্তবতার কঠোর চলচ্চিত্রায়নের মাধ্যমে– ঠিক তেমনি সত্যজিৎ এখানেও বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন ক্যামেরা নামক দৃশ্যমান এক তুলির মোচড়ে। আবার এটাও বলে রাখা দরকার, প্রতিদ্বন্দ্বীকে আমরা সম্পূর্ণই নিও-রিয়ালিজম বলতে পারি না; কারণ এখানে যেমনি মিল আছে, ঠিক উলট ভাবে বহু বৈসাদৃশ্যও রয়েছে।

নিও-রিয়ালিজম সর্বদাই ইতিহাসের প্রতি উদাসীন, বলা ভালো– নিউট্রাল; কিন্তু এখানে পূর্বের তাদের [ক্যারেকটার] জীবনে ঘটে থাকা ঘটনা বারেবারেই পর্দার সামনে উন্মোচিত হয়। এরপরেই আমাদের সামনে আসে সেই বিখ্যাত সিন, যেখানে প্রশ্ন করা হয়– ‘শেষ দশকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা কী?’


‘কোটি
কোটি ডলার
খরচা করে বিজ্ঞানের
বিজয়রথ অবশ্যই প্রশংসনীয়,
কিন্তু সেটি কখনোই মানুষের
স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের
সমকক্ষ হতে
পারে
না’

উত্তরে যখনই আসে ভিয়েতনামের বিপ্লব, পাল্টা প্রশ্ন করে প্রশ্নকারীরা– ‘কেন চাঁদে পৌঁছানো না?’ এবং তাকে কমিউনিস্ট বলে অভিহিত করে। প্রত্যুত্তরে প্রটাগনিস্ট, ‘কোটি কোটি ডলার খরচা করে বিজ্ঞানের বিজয়রথ অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু সেটি কখনোই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের সমকক্ষ হতে পারে না’…! আন্দাজ করাই যায়, চাকরি তার জোটে না।

বিধ্বস্ত বেকার যুবক রাস্তা পেরোয়। একরাশ হতাশা তাকে গ্রাস করে। সেই মুহূর্তেই তার সামনে দিয়ে এক মডার্ন মেয়ে হেঁটে চলে, যার উদ্ধত বুক দেখে মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে ডাক্তারি পড়ার সময় ফিমেল ব্রেস্ট নিয়ে শিক্ষকের গভীর বিশ্লেষণ। তারপর ক্যামেরা কিছুক্ষণের জন্য ক্লান্ত পথিকের মতো দাঁড়িয়ে পড়ে।

যুবক একমনে দেখতে থাকে মহিলার উদ্ধত বুকের দাম্ভিক পদচারণ, যার মধ্যে মডার্ন কবি সমর সেনের, ‘একটি বেকার যুবক’ বারেবার চোখের সামনে এসে উপস্থিত হয়, যেখানে বেকার যুবকটির ঘুম ভাঙে পাড়ার মোড়ে বেশ্যাদের কোলাহলে, সারাদিন চাকরির খোঁজে ঘোরে, একের পর এক সিগারেট খায় আর দিনের শেষে প্রেমের ঈশ্বরের কাছে কাতর কণ্ঠে পার্থনা করে– হে প্রেমের দেবতা, এই নিসর্গ জীবনে প্রেম দাও। কেন সে প্রেমের স্বর্গসুখ থেকে অবাঞ্ছিত?

রোজকেরে ক্লান্তিকর জীবনে নেই সামান্যতম আশার আলো, একটিমাত্র পিদিমের আলো আছে– যদি একটি চাকরি সে কোনোভাবেই জোটাতে পারে, তাহলেই একমাত্র তার মুক্তি ঘটবে এই অমানবিক জীবন থেকে। এক দৃশ্যে ভাই প্রশ্ন করে ফেললে বিব্রতবোধ করে, এক প্রকার নিরুত্তর। ভাই তাকে আরও জানায়, চাকরি পেলে সেও একটি ব্রুক্যাট ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করবে; কিন্তু সে ভাবে, তার ভাই একেবারেই মুক্তির অমোঘ নেশায় বুঁদ হয়ে একটি দিকই দেখছে, অন্য কোনো দিক তার সামনে আসছে না।

কিন্তু চারিধারের হতাশায় ক্রমবর্ধিত হারে জাঁকিয়ে বসে, তখন পুনরায় সে ফিরে আসে– সহস্রাধিক বছর ধরে মানুষকে যা মুক্তির আলো দেখিয়ে চলেছে– বিপ্লব। চে গ্যেভারার বইটা হাতে নিয়ে যুবকটির মনে পড়ে, নিজের তিনটি মেডিক্যালের বই বিক্রি করে সে এই দুর্লভ বইটি কেনে, হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে-মনে শিহরণ জাগে, আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব চে’র প্রতিকৃতি নিতে থাকে।

বাড়ির লোকের মুখে বোনের নামে কুকীর্তি, কখনো বসের বউয়ের শাসানি শুনে ফেটে পড়ে ক্ষোভে, ছুটে যায় বোনের বসের কাছে, মনে হয় বন্দুক নিয়ে এবড়ো-খেবড়ো করে দেবে বুক; কিন্তু দ্বন্দ্ব শুরু হয় অন্তরের মাঝে, যা তাকে আঁতকে দেয় প্রতিহিংসা মেটানোর অফুরন্ত চাহিদার প্রলোভন হতে, এমনকি বসের মুখে তার জন্য চাকরির প্রস্তাব শুনে নির্লিপ্তভাবে ঘুরে ফেরে।

মানুষ বিভিন্ন বৈপ্লবিক মহাজাগতিক সময়ে একইভাবে ভাবতে পারে না। হয়তো একটি বিরাট জনসংখ্যা ভাবছে, কিন্তু তাতেও একটা জনগোষ্ঠী রয়ে যায়– যারা আলাদাভাবেও ভেবেছে দুনিয়াকে, কিংবা দেখেছে ঘটনাটিকে আলাদাভাবে। অমর শিল্পকলা সেটিরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে আমরা দেখতে পাই– সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ কীভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বারবার ব্যর্থ যুবক বিরক্ত নিজেই বাতলায় সলিউশন: নিজের সত্ত্বাকে চেপে রেখে একটু সমঝে চললেই যে চাকরি নিশ্চিত– বুঝতে পারে। আবার আমরা দেখতে পাই, একদিকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে নিজের বাড়ি ত্যাগ করে কঠিন আত্মত্যাগ করছে, বিপ্লবী জীবনযাপনের ব্রত নিয়েছে; ঠিক তারই সম্পূর্ণই বিপরীতে কিছু ছাত্রছাত্রী অবশ্যই বুর্জোয়া বাড়ীর সন্তান, সারাদিন মানুষের থেকে চাঁদা তোলার তার কষ্টার্জিত আয় স্বরূপ, কৌটোর টাকা থেকে নিজের ভাগ সরিয়ে নিচ্ছে অলক্ষেই।

এটুকুই বোঝা যায়, একদিকে যেমন বিশালসংখ্যক ছাত্রছাত্রী নিজেদের অনিশ্চিত জীবনযাপনের মাধ্যমে কঠিন আত্মত্যাগে নিমজ্জিত, ঠিক তেমনি অন্যদিকে কিছু সুবিধেবাদীও ছিল, যারা ক্রমাগতই প্রশ্ন করে– আজকের ছেলেমেয়েরা প্রচণ্ড হারে কেন বিষণ্ণতায় ভুগছে? কেউ-বা ভাবছে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আসলে পড়াশোনা করার জায়গা; রাজনীতির জন্য অনেক নাকি জীবন পড়ে আছে। আখেরে একটু গভীরে ঢুকলে সহজেই বোঝা যায়, যারা এ রকম প্রশ্নটি করছে, প্রতেকেই উচ্চবিত্ত বুর্জোয়া কিংবা সংশোধনপন্থী; তাদের অন্তত এই আন্দোলন থেকে পাবার কিছুই নেই; উল্টে হারানোর প্রতিটা বিন্দু বর্তমান।

আজকের দিনেও ভারত কিংবা বৃহত্তর অর্থে বিশ্ব পেক্ষাপটে যদি আমরা একনিষ্ঠে লক্ষ্য করি, তাহলে সহজেই বুঝব, এ রকম ঘটনা যুগে যুগেই বর্তমান, যে কোনো স্বপ্রণোদিত আন্দোলনকে বাচাল করতে শাসক শ্রেণি ও তার দোসর সুবিধেবাদীরা আখ্যায় ভিন্ন অর্থে, যাতে আন্দোলনরত কিংবা সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছায়– আসলে এগুলো ভণ্ডামি। বলতে এতটুকুও সঙ্কোচ হয় না, আসলে এ রূপ শ্রেণি আন্দোলনে এলেও শুধুই নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত থাকে…।

গল্পের একাংশে আমরা দেখি, ফিল্মের মূল চরিত্র কালক্রমে এসে উপস্থিত হয় এক নার্সের বাড়ি, যে বেশ্যাবৃত্তি করছে; বুঝতে সামান্য অসুবিধে হবার কথা না, পয়সাই এই ধনতন্ত্রের মাপকাঠি– যা মানুষকে প্যাঁকের অভ্যন্তরেও নামতে বাধ্য করে। স্বপ্নে মূল চরিত্রটি দেখে, তার নকশালি ভাই পুলিশের সারি সারি বন্দুকের সামনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে; অন্যদিকে তার বোন স্বল্প পোশাকে মডেলিং করছে, আবার তার প্রেমিকা সময়ের কঠোর পরিহাসে নার্স হয়ে বেশ্যাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েছে।


ইল্যুশন তাকে আস্তে
আস্তে ক্ষত-বিক্ষত
করতে থাকে

একাধারে সে যেমন তার ভাইয়ের কঠিন ভবিষ্যতের জন্য চিন্তিত, নিজের মধ্যবিত্তিয় মানসিকতার পরিচয় বেরিয়ে আসে বোনকে স্বল্প পোশাকে মডেলিং করতে দেখে, আবার অন্যধারে নিজের ভবিষ্যতের জন্য হা-হুতাশ জাগে। এত ইল্যুশন তাকে আস্তে আস্তে ক্ষত-বিক্ষত করতে থাকে।

‘থিংকারস’ ও ‘ডুয়ারস’– এমন একটি দ্বন্দ্ব, যার কোনো শেষ নেই; সবসময় এক পক্ষ অপর পক্ষকে এই ট্যাগ দিয়ে সম্বোধন করে অলীক সুখ পায়; কিন্তু শুধু চিন্তা-ভাবনা করলেই হয় না, তার বাস্তবায়ন দরকার। আবার, বাস্তবায়নের আগে গভীর অধ্যয়ন ও সদুরপ্রসারি চিন্তা-ভাবনা না থাকলে সেটি অচিরেই ভেঙে পড়ে।

শেষ ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে শেষে তাদের প্রতি ইন্টারভিউ বোর্ডের আধিকারিকদের ব্যবহার– সামাজিক বঞ্চনা, কঠিন নিরস বাস্তব, বন্ধুদের ঠাট্টা, এ রূপ পরিস্থিতিতে নিজের মধ্যে সে সর্বহারা মানুষকে দেখে– শত শত ছেলেমেয়ে আসলেই মানুষরূপী কঙ্কাল; এখানে উপস্থিত হবার অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে তাদের।

সে এবার আগ্নেয়গিরির লাভার উদগীরণের মতো ফেটে পড়ে এবং লণ্ডভণ্ড করে দেয়; এবং সে যে শুধুই থিঙ্কার না, কাজও করতে পারে– তারই উত্তর দিয়ে নিস্তব্ধেই চলে যায়।

মৃত্যু দিয়ে শুরু, মৃত্যু দিয়েই পরিসমাপ্তি। আমরা স্বভাবতই দেখি মৃত্যু আসলে জীবনের শেষতম কাঠি। কিন্তু এখানে মৃত্যু এক অমোঘ বাতাসের বাতাবরন আনে, যে গ্রাম সে ঘৃণা করত, সভ্যতার ঠাট্টা হিসেবে চিহ্নিত করত, শেষে তাকে সে জায়গাতেই আসতে হয়।

আশ্চর্যের বিষয়, যে পাখিকে ছোটবেলা থেকে খুঁজেই চলেছে, আজকে এই বহু মাইল দূর, কোলাহলব্যাপী জীবনযাত্রা থেকে দূরে সেই বাঁশির করুণ সুরের ন্যায় পাখির ডাক তার কানে আসে। হয়তো সে তার ভালোবাসা পুনরায় ফিরে পেয়েছে কিংবা তার মধ্যে মুছে যাওয়া চে’কে করছে উপলব্ধি।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
কবি; সাহিত্য ও চলচ্চিত্র প্রেমিক । শিক্ষার্থী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ।। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

মন্তব্য লিখুন