গল্প হলেও সত্যি: গুপ্ত রেভলুশন?

0
108
গল্প হলেও সত্যি

লিখেছেন । শুভম সরকার

গল্প হলেও সত্যি

গল্প হলেও সত্যি
ফিল্মমেকার, স্ক্রিনরাইটার, মিউজিক । তপন সিংহ
সিনেমাটোগ্রাফার । বিমল মুখোপাধ্যায়
এডিটর । সুবোধ রায়
কাস্ট [ক্যারেকটার] । ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় [ছোট খোকা]), রবি ঘোষ [ধনঞ্জয়], যোগেশ চট্টোপাধ্যায় [কর্তা], ভারতী দেবী [সেজ বউ], ছায়া দেবী [বড় বউ], অজয় গাঙ্গুলী [খোকা], বঙ্কিম ঘোষ [সেজ খোকা], পার্থ মুখার্জি [অলক], প্রসাদ মুখার্জি [বড় খোকা]
রানিংটাইম । ১০৪ মিনিট
ভাষা । বাংলা
দেশ । ভারত
রিলিজ । ১৩ অক্টোবর ১৯৬৬


আমার বারবার মনে হয়, ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া তপন সিংহের গল্প হলেও সত্যি ছবিটিতে ১৯৬৬ সালের কলকাতায় ঘটে চলা অলিতে-গলিতে, বাড়িতে-বাড়িতে এক-একটা সংসারের মধ্যে জান্তে-অজান্তে ঘটে চলা সম্ভাবনাময় অথচ গুপ্ত রেভলুশনের গল্প উঠে এসেছে। অথচ সেই সংসারগুলোর মধ্যে, মানুষগুলোর মধ্যে কোনো রকম ধ্যান-ধারণাই ছিল না যে– বাংলায় সম্ভাবনাময় এক প্রকার সামান্য রেভলুশনের আঁচ, যাতে অজান্তে রয়েছে তাদেরও কন্ট্রিবিউশন, তাদের যে নাম আছে বা ছিল, কাগজে-কলমে না হলেও।

আরেকটু পরিষ্কার করে বলার চেষ্টা করি বরং। গল্প হলেও সত্যি ছবিটিতে ভালো করে পরপর কিছু বিষয় আমরা চেখে দেখতে দেখতে খেয়াল করতে পারি, যেখান থেকে বুঝতে পারব, তপন সিংহের এই ছবিতে ঠিক কী কী আছে– যা তিনি রিপ্রেজেন্ট করতে চেয়েছেন। যা তিনি আবার রিপ্রেজেন্ট করতে চেয়েছেন একটা অন্য রকম গল্পের কাঁধে চড়িয়ে। যে গল্পের মধ্য দিয়ে ছবিটির কিছু চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে একটা গোটা প্রজন্মের কিংবা একটা নির্দিষ্ট সময়কে সিনেমা-হলে বসিয়ে দেখাতে চেয়েছিলেন বাংলার মানুষকে।

গল্প হলেও সত্যি

আলোচনার প্রসঙ্গে আসতে গেলে গল্পটার একটা আঁচ আগে থেকে দিয়ে রাখা প্রয়োজন। যদিও গল্পটা অনেকেই জানেন। যেখানে একজন পরিচারক, যে আদতেও পেশায় একজন পরিচারক কি না তা ছবিটিতে সন্দেহের মূল মন্ত্রে রেখে বা গল্পের সাসপেন্সন হিসেবে রেখে পরিচারক রূপে চরিত্রটিকে একটি একান্নবর্তী পরিবারে ঢুকতে দেখা যায়। হাজারও সমস্যা সেই সংসারে, এবং সেইসব সমস্যাকে কেন্দ্র করেই সেই সংসারের ঐক্যবদ্ধতা বিষয়টির হাল প্রতিনিয়ত ভেঙে যেতে বসেছিল। আর তা সমাধানের উদ্দেশ্যে সেই পরিচারক [যে পরিচারকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবি ঘোষ] ক্রমাগত তার পলিটিক্স চালিয়ে একান্নবর্তী পরিবারটির ঐক্যবদ্ধতার সমস্যা শেষ পর্যন্ত মিটিয়ে চলে যেতে দেখা যায়।

চরিত্রটি সেই বাড়ি ছেড়ে [ওটাই ক্লাইম্যাক্স ছিল] যাবার সময় বলে যাওয়া শেষ কথাটি বা সংলাপটি সেই সংসারের বা পরিবারের সবচেয়ে প্রতারিত ও বাপ-মা মরা উপেক্ষিত চরিত্র এবং ওই পরিবারেরই মেয়ে কৃষ্ণাকে উদেশ্য করে বলে যেতে শোনা যায়। তার সময় ফুরিয়েছে এ সংসারে থাকার– এমন ধরনের কিছু বলতে শোনা যায় তাকে। অর্থাৎ, তার প্রধান কাজ ছিল বা এই পরিবারে ঢোকার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরিবারটিকে অশান্তি থেকে মুক্তি দেওয়া। ঐক্যবদ্ধ করে তোলা মানুষগুলোকে।

গল্প হলেও সত্যি

পরিবারটি যখন মুক্তি পায় অনৈক্যতা থেকে [যেটি মূল অশান্তির কারণ ছিল], তখন সেই পরিচারক চলে যায় সেই বাড়ি ছেড়ে, আর ঠিক তখনই প্রমাণিত হয়, সে পেশায় আদতেও একজন ‘পরিচারক’ অবশ্যই নয়। তবে কে সে?– আমার আলোচনা এই বিষয় নিয়ে নয়।আমার ধারণা, তপন সিংহেরও এইটাই ছিল সেই গল্প– যে গল্পের কাঁধে চড়িয়ে কিছু অনুগল্পকে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। প্রকাশ করেছিলেন বাংলার ঘরে ঘরে ঘটে যাওয়া বা উৎপাদিত ফসল দিয়ে ‘নিউ ওয়েভ’ হতে পারত বা ঘটে যেতে পারত [যা আদৌ ঘটতে পারল না]– এমন একটা প্রায়-অতীন্দ্রিয় কালচারাল ম্যাপকে। যে কালচারটির আবেগ ভেঙে গেছে, ভেঙে গেছে তার আবেগ ভরা কলশিটি। অথচ রেখে গেছে সেই অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের ম্যাপটির ওপর আবেগে উপচে পড়া কলশিতে থাকা স্বপ্ন, যেগুলোকে গেঁথে রাখা হয়েছে সেই ম্যাপের চার কোণায়।


‘সত্যি’
প্রকাশে
‘গল্প’কে এক্ষেত্রে
কাজে লাগাতেই হয়েছে
পরিচালক তপন সিংহকে। আর
এক্ষেত্রে ‘সত্যি’ বলতে
সেই অনুগল্পগুলো

যে স্বপ্নগুলোকে পরবর্তীকালে কেউ হয়তো দেখতে পায়নি, উপলব্ধি করতে পারেনি। চরিত্রগুলোকে কেউ চিনতে পারেনি। সিনেমা-হলে ভীড় যদি না হয়? যার জন্য তার স্বপ্ন বা চরিত্রগুলোকে কেউ যদি সন্ধানে না পায়– এই শংকায় তিনি সরাসরি স্বপ্নগুলো প্রকাশ করতে পারেননি। ‘সত্যি’ প্রকাশে ‘গল্প’কে এক্ষেত্রে কাজে লাগাতেই হয়েছে পরিচালক তপন সিংহকে। আর এক্ষেত্রে ‘সত্যি’ বলতে সেই অনুগল্পগুলো। তারই মধ্যে থাকা কিছু অনুগল্পকে আজ প্রসঙ্গে আনতে চলেছি।

যেটি এই লেখার আলচ্য বিষয়, তা হলো, ছবিটির মুক্তি কত সালে [১৯৬৬]– একটু খেয়াল করে দেখলেই বোঝা যাবে এবং মনে পড়ে যাবে, তার ঠিক দু-বছর বাদেই ঘটে গিয়েছিল ফ্রান্সে ‘মে সিক্সটি এইট’। এই নাম ছিল এক নেতৃত্বহীন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শেষ সফল নাম। প্রশ্ন জাগতে পারে, হঠাৎ ফ্রান্সের কথা উঠল কেন? কারণ আছে। এগুলোই ছবিটির গুপ্ত রেভলুশনারি ট্রিগার, যেগুলো লুকিয়ে ছিল ছবিটিতে, তার মধ্যে থাকা সেই প্রধান অণুগল্পগুলোর ভেতর।

গল্প হলেও সত্যি

মনে করে দেখা যায়, যখন একটি দৃশ্যে এক রাত্রিবেলা সেই গল্পে থাকা পরিবারের চারজন লোক খেতে বসেছে বাড়ির বারান্দায়, তার মধ্যে বাড়ির প্রধান তিন ছেলে ও তাদের সঙ্গে বড় ছেলের [যে চরিত্রটিকে আমরা ‘বড়ো খোকা’ হিসেবেই চিনেছিলাম] ছেলে ‘খোকা’ও খেতে বসেছে– যে এই লেখাতে উল্লেখযোগ্য অন্যতম চরিত্র। সেই সিনে [scene] দেখা যায়, সেই বাড়ির প্রধান তিন ছেলের ছোট ছেলে [ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনয় করেছেন চরিত্রটিতে]– যে কি না সিনেমায় ‘ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে’র কাজ করে, তাকে তার ভাইপো, অর্থাৎ খোকাকে বলতে শোনা যায় নানান কথোপকথনের মাধ্যমে যে, তার এই পেশা ‘ব্যাকডেটেড’। তার পিছনে যে কারণগুলো খোকা দিয়েছিল, সেগুলোই সেই গুপ্ত ট্রিগার।

তাকে হঠাৎ বলতে শোনা যায়, বাংলায় আজকাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার বিষয়টি ব্যাকডেটেড একটি কনসেপ্ট। কুরোসাওয়াত্রুফো — এর কেউ আজকাল [সেই পঞ্চাশ-ষাটের দশকে] ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করেন না। ভেবে দেখো! চরিত্রটি আসলে কে ছিল? কার হয়ে কথাগুলো প্রেজেন্ট করল চরিত্রটি?

যার হয়ে প্রেজেন্ট বা প্রতিনিধিত্ব করল কথাগুলো– সে নিশ্চয়ই ততদিনে ফরাসি ছবি দেখে ফেলেছে, দেখে ফেলেছে জাপানি চলচ্চিত্র, ফ্রান্সে ১৯৫৯ এ মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ দেখে ফেলেছে সে, তা না হলে ত্রুফোর [ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো] কথা বলে কি করে খোকা? কেনই বা বলে? যদিও প্রথম প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটি কিন্তু ভাববার বিষয়, কেনই বা বলল?


কেবলমাত্র একবার সিনেমা-হলে
খুব কষ্ট করে হলেও ঢুকে
একটিবার তাঁদের ছবি
দেখে তারপর সেই
একটিবার
দেখার
সুযোগটুকু
পেয়েই তা নিয়ে
মনেপ্রাণে ভাবনার
কুমোরপাড়া গড়ে তোলে
গল্পগুলোকে
নিয়ে

খেয়াল করা প্রয়োজন এই চরিত্রগুলো কলকাতার বুকে সেই গুপ্ত ট্রিগারগুলো, যারা কিন্তু সেই ‘মে সিক্সটি এইট’-এ অংশগ্রহণকারী ছেলেমেয়েগুলোর মনে মনে থাকা ভেজা বারুদের সমতুল্যতার ইঙ্গিত দেয়। তারা কেবল কলকাতায় থাকতো বলে সেই আন্দোলনে শারীরিক অংশগ্রহণ করতে পারেনি মাত্র। আর ত্রুফোর কথা কেবল বলা নয়, চরিত্রটি আসলে প্রতিনিধিত্ব করে সেই দশকগুলোর [৫০-৬০’র দশকের কথা বলছি] ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঢুকে থাকা এবং কেবলমাত্র একবার সিনেমা-হলে খুব কষ্ট করে হলেও ঢুকে একটিবার তাঁদের ছবি দেখে তারপর সেই একটিবার দেখার সুযোগটুকু পেয়েই তা নিয়ে মনেপ্রাণে ভাবনার কুমোরপাড়া গড়ে তোলে গল্পগুলোকে নিয়ে।

এই চরিত্রটিকে [খোকা] দেখলে এবং সংলাপগুলো শুনলে হঠাৎ করে বড্ড ‘ডেঁপো’ মনে হলেও ‘সম্পর্ক’ এবং তার ভিত্তিতে প্রদর্শিত ‘সন্মান’– এই দুটি বিষয় সেই সময় থেকে শুরু করে আজ অবধি সামাজিকভাবে এক প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্ন তোলে, যেখানে কেবল লোক দেখানোর বিষয়টি– যা কেবল সম্পর্কগুলোর মধ্যে অপ্রয়োজনীয়তার প্রতীক হিসেবে বারংবার ব্যাখ্যা করে গেছে ।

গল্প হলেও সত্যি

ওহ, আরও একটা বিষয় না তুলে ধরলেই নয়, তা হলো– তখন কিন্তু ইন্টারনেট ছিল না।মোবাইল ছিল না। ছিল না কম্পিউটারও। যেখানে বারবার একটা ছবিকে আজকের মতো [একুশ শতকের মতো] করে দেখার সুযোগ কিন্তু তখন ছিল না। তার ওপর বিদেশি ছবি– আমেরিকারও নয় ছবিগুলো; ফ্রান্সের… জাপানের– ভাবা যায়!

হয়তো যায়। বাকিটা আপনারা ভাবুন না হয়। তবে ভাবুন, তপর সিংহ কাদের প্রতিনিধিত্ব করলেন?

শুধু খোকা চরিত্রটিই নয়। আরও একটি চরিত্র এক্ষেত্রে তপন সিংহ নিজের দৃষ্টিকোণগত প্রতিনিধি হিসেবে রেখেছেন। হ্যাঁ, নির্দ্বিধায় আমার ধারণা, আগের খোকা চরিত্রটির মাধ্যমে তিনি নিজের যৌবনপোড়া চরিত্রটিকে দেখিয়েছেন। বারবার সেই চরিত্রের ‘আঁতলামি’ যেমন সেই সময়ের কিছু বেপরোয়া প্রজন্মের কথা বলে, অপ্রাসঙ্গিক সম্পর্কের বিরোধিতায় ‘নন ইন্টালেকচ্যুয়াল’ কথাগুলো বারবার বলতে শোনা যায় সংলাপের মাধ্যমে, সন্মান-অসম্মানের সঠিক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুলির মতো বেরিয়ে আসে বেপরোয়া এক-এক প্রকার আচরণ, যা অবশ্যই একটা প্রজন্মের আঁকা ছবি ভাবতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।

আরও ভেবে দেখলে দেখা যাচ্ছে, সংলাপের মাধ্যমে কফি হাউসের কথা উল্লেখ এবং সর্বোপরি পেশা হিসেবে সেই চরিত্রটির ‘পাবলিসিটির কাজ’ আরও ভয়ানকভাবে ব-কলমে প্রেজেন্ট করছে তপন সিংহকে। নির্দিষ্টভাবে তপন সিংহকে না হলেও তার রোজকার কফি হাউসে পাওয়া বন্ধুদের গোলটেবিলটিকে তো অবশ্যই প্রতিনিধিত্ব করেছিল চরিত্রটি।


এই
সিনেমা-হলগুলোই
হয়েছে একেকটা ইনস্টিটিউশন
আর ইনস্টিটিউশনগুলো
হয়েছে একেকটা
রাজনীতির
আখড়া

আরেকটি চরিত্র অবশ্যই সেজো খোকা। বাড়ির সেজো ছেলে– যাকে শীতের সকালে গায়ে তেল মাখতে মাখতে বাড়ির পরিচারিকার মুখ থেকে পরিচারিকাদেরও কালকাতার বুকে ‘অ্যাসোসিয়েশন’ আছে শুনতে পেয়ে জিজ্ঞেস করতে শোনা যায়, তাদের নেতা বামপন্থী না দক্ষিণপন্থী? সেই মুহুর্তেই সেই সিনেই তার সংলাপে বলতে শোনা যায়, ‘উঠতে সিনেমা, বসতে সিনেমা, খেতে সিনেমা, শুতে সিনেমা… সিনেমা সিনেমা… এই সিনেমা-হলগুলোই হয়েছে একেকটা ইনস্টিটিউশন আর ইনস্টিটিউশনগুলো হয়েছে একেকটা রাজনীতির আখড়া।’

কথাটা বা সংলাপটিকে চরিত্রের পেশাগত বিষয়কে [পেশায় শিক্ষক] কেন্দ্র করে তার ভাইয়ের পেশার [সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিসিয়ান] সঙ্গে গুরুত্বের একটি পার্থক্য তৈরির খাতিরে বিরক্তির সুরে চরিত্রটিকে দিয়ে বলানো হলেও আমার মতে এখানে ন্যারেটর অবশ্যই তপন সিংহ নিজে। অবশ্যই তপন সিংহ বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত ছিলেন না।থাকলে তো তিনি আজ ‘তপন সিংহ’ হতেন না। সেই সময়ের তপন সিংহ– যিনি ৬০-এর দশকে জ্বলন্ত সব ইনস্টিটিউশন এবং তার পাশাপাশি ‘সিনেমা’, যে বিষয়কে আমরা কেবল ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ হিসেবে ভাবি, সেই সিনেমা নিয়ে কিছু ছেলেমেয়ের উন্মাদনা দেখতে পেয়েছিলেন। কেমন করে যেন সাহিত্যের পাশাপাশি সিনেমাও বিপ্লবের একপ্রকার অস্ত্র হয়ে উঠেছিল সেই সময়– এটাও তিনি দেখতে পেয়েছিলন স্পষ্টভাবে।

গল্প হলেও সত্যি

বলে রাখা ভালো, ততদিনে জ্যঁ-লুক গোদারের লা চ্যিন্যস [La Chinoise]– যেটি ১৯৬৭-তে মুক্তি পাওয়া একটি ছবি, যে ছবির আগাম প্রকাশিত অনুবাদে নানান সমালোচনা ও বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপাসেই ছবির থিম নিয়ে নানান মন্তব্য ও সেই দেশের [ফ্রান্স] লোকেদের প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য, এই সবকিছু নিয়ে সেকালে কলকাতা বইপাড়ায় কফি হাউসের টেবিলে কটা কফি কাপ যে বেলাগাম আলোচনার ঝড়ে ভেঙেছে, তার কোনো ঠিক ছিল না।

ছাত্রছাত্রীদের নিঃস্বার্থ জীবন বাজি রাখার দিন আরও গভীর হয়ে উঠতে দেখছেন তপন সিংহ, যেখানে সংলাপের মাধ্যমে তিনি সেজো খোকাকে দিয়ে নির্দ্বিধায় বলিয়ে দিয়েছিলেন [ভিন্ন কারণে]– ‘…কমিউনিজমের মতো… খেটে যাও।’

তাহলে? কী দাঁড়ায় পুরো ছবিটিতে– তা অবশ্যই ছবিটি না দেখলে বোঝা যায় না। এটাই ন্যারেটর ও ন্যারেশনের বিভৎস ছারখার করা প্রভাবশালী ইঙ্গিতের কথা মনে করিয়ে দিল, যা নিয়ে না হয় আরেকদিন আলোচনা করব।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
পেইন্টার; চলচ্চিত্র সমালোচক; সাহিত্যপ্রেমী । শিক্ষার্থী, ফিল্ম স্টাডিস, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়; পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

মন্তব্য লিখুন