খণ্ডচিত্র/ OUT OF BOUNDS!!

2
163
সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী

লিখেছেন । সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী

(মনের সম্পাদনায় কন্টিনুয়িটি করে নিন, প্লিজ)


১৯৭২ যুদ্ধ শেষ!
চাকুরিতে ফেরত নয়।
নাটকে ঢুকেছি।
চলচ্চিত্রে ঝুঁকেছি।
পাঠ নিতে গেলাম চলচ্চিত্র। (?)
রব উঠল: গেল!!
শুভ কামনার জন্য যাঁরা মুখিয়ে থাকেন, তাঁদের! গেলাম। আব্বা বেঁচে থাকলে ‘না’ করতেন না, নিশ্চিত। আম্মার না করার প্রশ্ন ওঠে না। বোরখা না পরে মুসলমান মহিলা কোলকাতায় পড়তে গিয়েছিলেন। একঘরে হয়েছিলেন। ১৯৪০: শিল্প-সংস্কৃতির পাঠ তাঁর কাছ থেকেই!

আম্মার আঁকা পাখির ছবি (১৯৫০)

২. দৃশ্যপট : কিছুটা ফ্ল্যাশব্যাক বলা যেতে পারে:

১৮৯৫। পশ্চিম থেকে ঢেউ এসে গেল দ্রুত উপমহাদেশে। ‘নড়েচড়ে চোখের তারায়, তয় ছুঁইলে পাওয়া যায় না।’ এসে গেল!

লুমিয়েররা শৈল্পিক ইংগিত দিলেন খণ্ডচিত্রে জীবনের!

এডিসন বললেন, mere scientific tools, no other prospect! উক্তি বিভ্রান্তিকর! ভুল? এডিসন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী বটে, কিন্তু হিংসুটে আর কট্ট্রর হিসেবি ব্যবসায়ী ছিলেন, শুনেছি! নয় কেন, তারা বানিয়া?

(ক) বিস্ময়, ম্যাজিক, বিনোদন!
তিনটিই ভাইরাসের চেয়ে দ্রতগতিতে ছড়ায়। ‘মন্দ মন্থর’ নয়! ত্রিমুখী স্রোত রুখবে কে? মন্দ কি? ক্ষতি কি?

খ) ঢেউয়ের মাথায় ত্রয়ী এলো; কিন্তু কারা ক্যামেরার সামনে এলো আর স্ক্রিনে বিস্ময়, ম্যাজিক আর বিনোদনের নাও ভাসাল? উপমহাদেশে? কারা এলো?

যতই গলাবাজী করা হোক না কেন, উপমহাদেশের সমাজব্যবস্থা স্তূপাকার আবর্জনার মতো। যতই সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর গভীর শিল্পবোধের শিকড় নিয়ে চিৎকার করি না কেন! আমরা ‘শ্যাষ-ম্যাস’ কিন্তু ‘উপ’! জি, হ্যাঁ! আমরা পুরো মহাদেশ নই। মহাদেশের ‘উপ’। উপ-পত্নী?

গ) আর আমাদের সমাজে ধর্মের নামে strata?

নরম তুলতুলে মানবিক পাললিক শিলা (sedimentary rocks) নয়, পরতে পরতে যার মমত্ব! বরং আদি অনন্তকালের চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় আজও মোদীর মদদপুষ্ট মমতা-চক্রের চক্রান্তে সমাজ stratified hard igneous rocks। যদিও বীভৎস কলিংগ যুদ্ধের পর অশোক-চক্রে মুক্তির বারতা বীণায় বেজে উঠেছিল, আজ সেই চক্র বাতাসে পত পত ওড়ে উঁচু মাস্তুলে, অসহায় ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে দ্যাখে শত কোটি!! পরতে পরতে বৈষম্য, ঘৃণা, hatred। নীচু strata’র কেউ জলের কলস ছুঁয়েছে, পুড়িয়ে মারো! মারে, আজও!! আমাদের এখানে? সাম্য, শান্তি, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে?

ঘ) উপরের তলায় যারা, বিনোদনের ননী-মাখন তাঁদের জন্মগত অধিকার। যোগান দেবেন নীচতলার ওরা। সেলিম আল-দীনের মুন্তাসির ফ্যান্টাসি এখন মঞ্চায়ন হলে মুন্তাসিরের সংলাপ সেলিম লিখতেন, “আমি বিনোদন খাব!”

বিনোদন প্রদানকারীরা অছ্যুৎ আবর্জনা! ওয়াক থু!
*****OUT OF BOUNDS!! অছুৎ!!!****
*তাওয়াইফ! শব্দটির অপ-প্রয়োগ চালু করেছে অপচক্র! অথচ ইতিহাস ঘেটে দেখুন, মোঘল সম্রাটদের সময় তাওয়াইফ কারা? তাওয়িফদের কাছে তাহজীব, তমদ্দুন, আদব, লেহাজ শিখতে পাঠানো হতো! আর সুর সঙ্গীত? infinite!

যমুনা বাঈ আর তারা বাঈ, ওদের ৭ কন্যা, থাকেন পুনে থেকে ৬০ মাইল দূরে ওয়াঈ নদীর ধারে। পরিবার প্রখ্যাত তামাশা শিল্পী। আমি পরিবারের সঙ্গে থেকে ডকু করেছি। তামাশা মুম্বাই আর মহারাষ্ট্রকেন্দ্রিক চলচ্চিত্রে আর মঞ্চনাটকে অসাধারণ কন্ট্রিবিউট করেছে। ভি. শান্তারামের প্রভাত স্টুডিওতে চিত্রায়িত সিনেমায় যা উদ্ভাসিত। পুনের প্রভাত স্টুডিও এখন FILM AND TV INSTITUTE OF INDIA (FTII) আর সেই ইনস্টিটিউট স্টুডিওতে যমুনা বাঈ, তারা বাঈ আর পরিবারকে নিয়ে আমি perform করিয়েছি! কাকতালীয় নয়।আসতে চাননি! এসেছেন, শুনেছি দীর্ঘশ্বাস!! গিরিশ কারনাড সহায়তা করেছেন। ওমপুরী সহকারী ছিলেন। ৯০ বছর বয়সী রাজা ভৌথিটেকে স্মরণ করছি। তামাশা গবেষক।

তামাশা মঞ্চে তারা বাঈ, যমুনা বাঈ

কথিত আছে, আওরংজেব ঐ আঞ্চল অবরোধ করে তাঁবু গেড়েছিলেন দীর্ঘদিন। সঙ্গে এনেছিলেন অতি উচ্চমানের কথক নৃত্য পটিয়সী শিল্পী। স্থানীয় মৃত্তিকার সংস্কৃতির শিল্পীদের সঙ্গে সংমিশ্রণে জন্ম হয় তামাশার। সময়ের আবর্তনে বিবর্তিত হয়েছে রূপ, রস, গন্ধ! তারা বাঈ বলছিলেন স্মৃতিমন্থন করতে যেয়ে, তাঁরাও অস্পৃশ্য হয়ে যান উঁচুতলার আক্রমণে!

* অপ্রাসঙ্গিক নয়, একটি কবিতা মনে ভেসে এলো, বন্ধুর লেখা:
“এই,আমাকে টেনোনা না, ছি!
আমি সিনান সেরেছি কাক ভোরে,
এখন আমাদের রাত! আমার আঁচলে ফুল, দেব দেবতার পায়ে
নিরবে গোপনে, জানবে না কেউ!
আমাকে টেনো না না, ছি!”

প্রশ্ন: দেবতা তুমি কার?

৩. মনোভাব পর্ব

পুনে থেকে এলাম! ১৬ মিমি ক্যামেরা দিয়ে কিছু documentation on cross-cultural communication করেছি। উপরতলার আমলার কাছে গেলাম, সজ্জন মানুষ, আব্বার ছাত্র ছিলেন! বললাম। খুব খুশি হলেন! বেশ, বেশ! রেখে যাও ,পড়ে ফেলব, আজই!
আমতা আমতা করে বললাম: মানে ইয়ে, মানে…!
বিস্মিত হয়ে বললেন: তোতলাচ্ছ কেন, জাকী! মানে, মানে আবার কী?
: মানে ১৬ মিমি ক্যামেরায় শুট করেছি, যদি একটু সময় দিতেন, নিয়ে যেতাম!
সাহসের ঘোড়ায় চড়ে বলে ফেললাম! সজ্জন বুরোক্র্যাট রাগলেন না!
: ফিল্ম! না, না জাকী, ফিল্মটিল্ম দেখে সময় নষ্ট করতে পারব না, কিছু লেখা থাকলে দিয়ে যাও!

সজ্জন মানুষ, তাই চা না শেষ করে উঠিনি, হাল ছাড়িনি! আশান্ত, অনিশ্চিত ঢেউ, হাল ছেড়ে দিলে ডুবে যাবে স্বপ্ন, ডুবে যাব!

* আরেকটি ছোট্ট ফ্ল্যাশব্যাক: আশ্চর্য অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি!! চলচ্চিত্রের!

মর্মান্তিক ’৭৫-এর পর কালো থাবা নেমে এলো আমাদের মঞ্চনাটক আর নির্মল চলচ্চিত্র সংসদ কার্যক্রমের ওপর। চাপিয়ে দেওয়া হলো ‘কালা কানুন’। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা বিভাগের একজন এলেন বাসায়।

: চলেন, স্যার একটু তকলিফ করে অফিসে। কিছু জানার আছে!
: যেমন?
: আপনাদের ফান্ডিংয়ের সোর্স কী? বাইরের দেশ?
: চলুন, বলা যাবে। যাব!

আম্মা এগিয়ে এসে ১০টি টাকা দিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাসায় এলে ৫ টাকা গুজে দিতেন নিঃশব্দে, আড়ালে!

তাঁদেরই গাড়িতে যেতে যেতে ভালো মানুষটিকে বললাম: দেখলেন তো ভাই, ফান্ডিং সোর্স!
হা হা করে অনাবিল হাসলেন।

অফিসে ঢুকতেই ওয়েল-ড্রেসড একজন আমাকে দেখে এগিয়ে এলেন!
: আরে,আপনি? এখানে?
আমার সফরসঙ্গীকে বললেন: কী ব্যাপার, কুদ্দুস?
বুঝলাম উচ্চপদের! এগিয়ে এসে হাত ধরলেন!
: আমি আপনার সিনে আর্ট সার্কেলের সদস্য। কত অসাধারণ সিনেমা দেখাচ্ছেন! ওহ! বুলগেরিয়ার I am Jumping Over the Puddles Again, Oh! Outstanding! ক্যারেল কাচিনার ছবি! Polio আক্রান্ত courageous বাচ্চাকে নিয়ে– আহা! চলুন, চলুন চা খাবেন!

হা হয়ে গেলাম, বিস্ময়ে! বিশ্বখ্যাত পরিচালকের নাম পর্যন্ত বলে ফেললেন। উল্লসিত হলাম, মাথা নত হয়ে এলো! গপ-সপ করে চা-বিস্কুট- সমুচা শেষ করে তবেই তাঁর গাড়িতেই ফেরত। টাকাটা আম্মাকে ফেরত দিইনি! স্নেহের দান। চলচ্চিত্র আর চলচ্চিত্রমোদিদের সেলাম, সেলাম! জয় আমাদের!

কাট/

৪. মনোভাব পর্ব

এফিডিসির ২৫ বছর পূর্তি! মাস ধরে অনুষ্ঠান! বিরাট কমিটি। সচিব কমিটি প্রধান।এমডি একজন কর্নেল। Disciplined, methodical, helpful person with dignity! আমি coordinator as OD, Operative Director of FDC । তৎকালীন বাঘা-বাঘারা committee’র সদস্য। চলচ্চিত্র শুধু নয়, সংস্কৃতির অন্য অঙ্গনের অনেকেই হাত বাড়িয়ে এসেছেন! বিদেশ থেকেও! আহা কি আনন্দ!

ফাইনাল মিটিং , সচিব এলেন। মিটিং হলো! জহির রায়হান ল্যাবের সামনে গ্রুপ ছবি তোলা হলো! ইতিহাস সংরক্ষণ। এটিই প্রথা। সচিব আমাকে ঈশারায় ডাকলেন।
: স্যার?
সচিব মহোদয় গলা নামিয়ে: শোনো জাকী…।
: জি, স্যার?
: তোমাকে একটা দায়িত্ব দিচ্ছি!
: স্যার! বলুন!
: এই গ্রুপ ছবিটা প্রিন্ট হয়ে এলে বা পারলে আগেই ‘কিল’ করবে।
: ‘কিল’? কেন স্যার?
: আহা, তুমি বুঝতে পারছ না, তুমিও তো সিভিল সার্ভিসে ছিলে, ফিল্মের ঐ ওদের [ইংগিত?] সাথে ছবি তোলা? আর বুঝই তো… না না, আমাদের পারিবারিক একটা status আছে!!!!
আকাশের দিকে হাত দেখালেন! আমি মাটির দিকে!
* (বোঝালেন তাঁর অর্ধ-অঙ্গের কথা, তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে, যদিও তৎকালীন আমলাদের (এখন কম) বেশির ভাগের ‘ওনারা’ অর্ধ-অঙ্গ নয়, পূর্ণাঙ্গ, full-frame!! ঐ সম্মানিত আমলার status ‘মামলা’ও ঐখানে, হাসি আজও)

মাথা নত করে দাও হে সবার চরণধূলার তলে! আমরা তো…!

ভুলে গেছিলাম! প্রথম নতুন মুখে বিপুল সাড়া আর সাফল্য পেয়েছিলাম। দিতি, সোহেল চৌধুরী, নিপা মোনালিসা, খালেদা আক্তার কল্পনা… আরও অনেকে।

নিপা মোনালিসা ও রফিকুল বারী চৌধুরীর সঙ্গে আমি
এফডিসির ২৫ বছর পূর্তিতে মঞ্চে চলচ্চিত্র সম্মাননা প্রাপ্তরা

জেনারেল এরশাদ আছেন, বেগম আছেন, এমডি এফডিসি আছেন, কিন্তু সচিব? ছবিতে খুঁজে দেখুন, পেলে খুশি হব! এটি কিল করা যায়নি! নয়তো!

৫. ঘটনা পর্ব

একজন শক্তিশালী চলচ্চিত্র প্রযোজক, একজন শক্তিশালী নায়িকার স্বামী একজন মহা শক্তিশালী চলচ্চিত্র সাংবাদিককে পিটিয়ে তক্তা করে দিলেন এফডিসির ফ্লোরে! যথারীতি সরকারি তদন্ত কমিটির প্রধান করা হলো আমাকে, কারণ আমি ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও…!

ঘটনা কি? যা হাওয়া গরম করে ফেলেছে?

সেই সজ্জন সু-অভিনেত্রী তারকার জীবনযুদ্ধের একটি সময়ের কিছু ছবি, অনেক বছর আগের, হঠাৎ করে এত বছর পর অপ্রাসঙ্গিকভাবে ছেপে দিয়ে সাংবাদিকতার ‘সততা’র হলুদ নয়, একবারে লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি।
: মাঠ থেকে বের হয়ে যাও!
বাহ!
তিনি বেসিকালি নর্দমার দারোগা, সাংবাদিক নন! দেশের ৯৯% সৎ পেশাজীবীর মতো তিনি নন, যাঁদের মমত্বের কলমে আমাদের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি তথা আমাদের রূপসী বাংলার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে! আজও উঠছে!

তাঁর ভাষ্য: sensational “NEWS” করে সততার পরিচয় দিয়েছেন!
(এক যুগ পরে! হাহ!!)
বেশ!

সততা দেখিয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে এত বছর পর পাঠক সমাজের মহা উপকার করেছেন, তাই সাংবাদিকতার সতীত্ব রক্ষায় “খবর” ছেপেছেন। যদি শহীদ হতে হয়, তবুও শহীদ হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
বেশ!
(* শহীদ হওয়ার প্রথম পাঠ এফডিসি’তে, মুক্তির জন্য যুদ্ধে নয়! সংবাদপত্রের মাধ্যমে মানুষের অধিকার আদায়ের যুদ্ধে নয়। paradoxical?)

সাদামাঠা কলমের কাজ করে sensational কিছু হচ্ছিল না! নজর কাড়া হচ্ছিল না! তাই!
বেশ!
কথা ঠিক! নৈতিক দায়িত্ব আছে না? হঠাৎ হাওয়া গরম করা উদ্দেশ্যমূলক নয়! তাঁর বয়ান!
বেশ।

তিনি কিন্তু খুব উল্লেখযোগ্য নন, rare কতিপয়ের মতো চলচ্চিত্রের পাত্রেই আহার করেন সেই সময়! যে পাত্রে আহার…!! না, কিছু বলিনি!

৫-খ. ঘটনা ২য় পর্ব

তদন্ত শেষ পর্যায়ে। ক্লান্ত। সন্ধ্যায় ক্লাবে এসেছি। স্বল্পপরিচিত এক বিত্তবান সদস্য আমাকে দেখে প্রবল “উৎসাহে” আমন্ত্রণ জানালেন (তাঁর সাথে আমার সে সখ্যতা নাই, যদিও)

“এই যে, আসুন, আসুন জাকী সাহেব! আপনারা কি কাণ্ড-কারখানা করছেন এফডিসিতে, এক… ‘র-ট্রুথ’ তুলে ধরায় ঐ বিখ্যাত সাংবাদিককে পিটিয়ে দিলেন?”
আমি চুপ করে ছিলাম আকস্মিক অনাহুত মন্ত্যব্যে!
: আসুন, আসুন; ভালোই হলো।বসুন, শুনি! এক ‘সিপ’ হয়ে যাক!
(এটি ব্রিটিশসৃষ্ট ক্লাব এথিকসে পড়ে না! আমরা পানীয় গেলা শিখেছি, ধরেছি; এথিকস ধরিনি! শিখিনি! মজা করার জন্য বলছি: কেউ কেউ cheers-এর বাংলা করেছিলেন কৌতুক করে বন্ধুমহলে ‘গিলা লা’, বুঝলেন না? গিলা ফেলা!! হা, হা! একদম ঠিক!)

: কোথা থেকে আসছেন? নিশ্চয়ই এফডিসি থেকে?
আমার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
: জী না, আপনার বাসা থেকে!
ভদ্রলোক থতমত খেয়ে গেলেন!
: কী? মানে?
: মানে সহজ, আপনি বাসায় ছিলেন না, জানতাম; তক্কে তক্কে ছিলাম।আপনার **** একা পেলাম…! ওখান থেকেই এলাম!
: কী-ই??
ভদ্রলোক আচমকা আমার দিকে গ্লাস ছুড়ে মারলেন। আমার প্রস্তুতি ছিল, তাৎক্ষণিক! সবাই ছুটে এলো! এ কি কাণ্ড!
: আমার **-কে নিয়ে এত বড় কথা!
: বললাম, Congratulations! শান্ত হোন, Congratulations! আপনার ‘অ্যাকশন’ যথার্থ! সঠিক! YOU ARE A HUSBAND, HUSBAND FIRST! YOU HAVE RIGHTLY ACTED AS A HUSBAND! THANKS And that Producer is a husband too, –a good husband like what you are! He acted accordingly just like you did just now!

বেলুন চুপসে গেল।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আমার দু’টো হাত ধরে ফেললেন!

কাট/

পরিবার-সহ তাঁকে নিয়ে এফডিসি গেছি। এফডিসি তাঁর কাছে OUT OF BOUNDS হয়নি কোনোদিন; এফডিসির কর্মব্যস্ত মানুষগুলোও!

৫-গ. ‘মা’ আর মেঘনা পর্ব: আমার কক্ষ, এফডিসি

আমি চট্টগ্রাম থেকে অফিসের কাজ সেরে ফিরেছি। আতা ভাই এলেন। চট্টগ্রাম যাত্রার সময় অপক্ষমান ফেরিঘাটের মর্মস্পর্শী একটি ঘটনা তাঁকে বলছিলাম আলতো করে! চুপ করে শুনছিলেন! আমি ভাবিনি উনি ডুবে গেছেন! আমি গল্প শেষ করছিলাম বন্ধুর সংলাপ দিয়ে (বন্ধু ড্রাইভ করছিলেন গাড়ি)। কলস কাঁখে পানি বিক্রেতা ১২ বছরের ফুটফুটে মেয়েটির সঙ্গে হাল্কাভাবে বন্ধু কথা বলছিলেন!

বন্ধু: তোর নাম কী রে?
মেয়েটি: মেঘনা!
বন্ধু: এই শোন, কাইল থিকা তো আর পানি বেচতে পারবি না, ব্রিজ খুইল্লা দিবে, ফেরি থাকব না!

মেঘনা এদিক-ওদিক অসহায় তাকাল, তাকাল আকাশের দিকে, আধো কণ্ঠে বলল: “মায়ে জানে”!
মেঘনা?

আতা ভাই আচমকা উঠে গেলেন! চোখ সজল, স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি! বিড়বিড় করে বলছেন: মেঘনা, মেঘনা! ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা! (স্বগতঃ অস্ফূট উচ্চারণ যেন শুনলাম: The Day Shall Dawn, পদ্মা নদীর মাঝি! নাকি আমার শ্রবণের বিভ্রান্তি?) মায়ে জানে, মায়ে জানে, মায়ে জানে! মেঘনা মায়েরা সব জানে…! আমরাই জানি না! আমরাই ভুলে যাই!

উনি চলে যাওয়ার পর আমার চোখেও তখন মেঘনার ঢল!
“শোনো মা আমিনা রেখে দেরে কাজ, ত্বরা করি মাঠে চল,
এলো মেঘনায় জোয়ারের বেলা এখনি নামবে ঢল!”

আতা ভাইকে উৎসর্গ করে গল্পাকারে ছেপেছিলাম ‘মেঘনা এবং টিপ কল’!

ফটোকপি: পত্রিকার পাতায় মেঘনা এবং টিপকল

৫-ঘ. সহমর্মিতা পর্ব: আমার কক্ষ, এফডিসি ১৯৯৩

রাজাকার সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে জিতেছি, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ! খবরের পাতায় খবর। আমি জয়েন করার ক’দিন পর একটু দেরি করে অফিসে এসেছি। পিএস বলল: খান আতা সাহেব এসেছিলেন। চিট রেখে গেছেন!

ছোট্ট লিখন: “প্রিয় জাকী, …অভিনন্দন জানাচ্ছি… সত্যের জয়ও তাহলে হয়, আজকের দিনে। –আমার অকৃত্রিম স্নেহ ও প্রীতি ও ছালাম নিও। আতা ভাই!”

ফটোকপি, তাঁর পত্রের

আতা ভাইয়ের ছালাম? এই মেজাজি, মুডি এবং স্পষ্টবাদী (মাঝে মাঝে বিতর্কিত) মানুষটির নিঃস্বার্থ সহমর্মিতায় আমার মাথা নত!

OUT OF BOUNDS-এর “মানুষ” আমরা। কাঁদাতে, হাসাতে, কাঁদতে জানি! ভালোবাসতে জানি। হাসি-কান্না-ভালোবাসার ভেতর দিয়ে সত্যের জয় হোক!

* (হঠাৎ মনে পড়ল, তাই বলছি! আতা ভাইয়ের সুর করা অসংখ্য গান থেকে একটি লুপ্ত গানের কথা বলি: ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন নিয়ে ফজলে লোহানীর লেখা গানে সুর দিয়েছিলেন আতা ভাই, আমরা অনেকেই জানি না: “শীতল পৃথিবী অবশ নগর, –বোবা পাখিগুলো ডানা ঝাপ্টায়, বোবা পাখিগুলো ডানা ঝাপ্টায়” নিছক গণসঙ্গীত নয়, বেদনার গান, ’৫২-র ভাষা সংগ্রামের আর্তনাদ, স্বাধিকার আর স্বাধীনতা সংগ্রামের আওয়াজ! আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বিটিভির মুসা আহমেদ আর এদেশের প্রখ্যাত গণসঙ্গীত শিল্পী মনিরুল আলম মনু গাইতেন! দুজনই প্রয়াত! আমরা ভুলে যাওয়া আর মুছে ফেলার জাত?)

৫-ঙ. সহমর্মিতা পর্ব

রাত ১২টার মতো হবে! ফোন এলো। ল্যান্ডফোনের যুগ। কে, এত রাতে?
হুমায়ূন আহমেদ

: হুমায়ূন, এত রাতে? তোমার শুটিং তো শেষ!
: না, ভাই, আমার সহকারী বিরাট ভুল করেছে, একটি সিকুয়েন্স শুট করা হয়নি, ফ্লোর ছেড়ে দিয়েছে!
: সর্বনাশ! তুমি ফ্লোর ছাড়ার পর পরশু নায়করাজ রাজ্জাককে দেওয়া হয়েছে!
: আমি তো ডুবে যাব!
হুমায়ুনের আর্তনাদ!
: দেখি! গ্যারান্টি দিচ্ছি না!
নায়করাজ রাত জাগেন, জানি। ফোন দিলাম। তিনিই ধরলেন–
: আসবেন নাকি? আসেন, আসেন…।
: না, রাজ্জাক ভাই, একটা সমস্যা…
: সমস্যা? আপনার? (উদ্বিগ্ন)
: না। আবার হ্যাঁ!
খুলে বললাম!
: হুমায়ূন আহমেদ? নন্দিত নরকে?
: জী!
: (উদাত্ত হাসি) এটা কোনো সমস্যা? আপনারও নয়, আমারও নয়।আমাদের! যে কদিন লাগে, দিন! মনে হয় সেট ভাঙা হয়নি! ভালো কিছু তো পাব, যেন পাই! জহির ভাই হারিয়ে যাওয়ার পর ভালো ছবিও যেন হারিয়ে যাচ্ছে…!
সমস্যা শেষ!
রাজ্জাক ভাই, তুমি নায়করাজ নও, মহাসম্রাট!
এই সহমর্মিতা ভুলি কেমনে?

রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আমি

সহমর্মিতা। হুমায়ূনের সঙ্গে শেষ ফ্ল্যাশ ব্যাক যাওয়ার আগে।

দেখা করতে গেলাম। “দখিন হাওয়া”। অন্তরঙ্গ আলোকে। বাদশা নামদার লিখে দিতে যেয়ে গোস্যা করে: জাকী ভাই, নাটক নয় আর।আপনি ছবির মানুষ। ছবি করবেন। ‘বাদশাহ নামদার’ করেন।
: ওরে বাপ্স! বিষয় অসাধারণ; কিন্তু বিশাল আয়োজন, বিশাল বাজেট!
বললেন: আমি ব্যবস্থা করে দেব!

ফটোকপি: হুমায়ূনের উৎসর্গ; ক্রন্দনময়!

কর্মব্যস্ত চলচ্চিত্রের সূতিকাগার:

সেই এফডিসির দ্বার উন্মুক্ত হলো, পরিচালক সমিতির স্টাডি রুমস হলো। আগে আমরা বসতাম পুরাতন গেটের সামনে প্রায় ঝুপরিতে, যেখানে এখন সাউন্ড কমপ্লেক্স। শিল্পী সমিতির বিশ্রামাগার, প্রযোজকদের সুসজ্জিত কমপ্লেক্স, ক্যামেরা পারসনদের আলোচনা কক্ষ, আরও কত কি হলো!

আজকে আমরা যাঁদের জুনিয়র শিল্পী বলি, তাঁদের বলা হতো “এক্সট্রা”! বিস্ময়কর! পুরাতন গেটের বাইরে অপেক্ষা, প্রতীক্ষা। না টয়লেট, না বসার স্থান! মানবেতর? নতুন গেটের কাছে টয়লেট-সহ বসার স্থান হলো। আমরা শিল্পের সবাই পিতার সম্মান পেয়েছি। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি!

পরিবেশ সুস্থ সবার প্রয়াসে। সুবাতাস!

অলিখিত OUT OF BOUNDS ব্যানার অদৃশ্য হলো!

এফডিসিতে, আয়নাবিবির পালার শুটিংয়ে
এমডি সদ্য প্রয়াত গ্রুপক্যাপ্টেন আযম, রাজ্জাক ভাই, নায়ক আলমগীর, মাহফুজ ভাই, বিটিভির প্রডিউসার বাদশা, আরও অনেকে ২ নম্বর ফ্লোরে
এফডিসিতে রোমান পোলান্সকির সঙ্গে
এফডিসিতে অড্রে হেপবার্ন, শাবানা; পরিবার আসত বিনা দ্বিধায়! সুন্দর পরিবেশ!

প্রতি মাসে বেশ কয়েকবার এ-বাসায় নয়তো ও-বাসায় আড্ডা হতো নির্মল! আড্ডা সম্রাট নায়করাজ, আলমগীর, ববিতা, বুলি, হায়দার, দিলু, মোহসিন ভাই, দবীর সিদ্দিকী, কেএমআর মঞ্জুর, দিতি, সোহেল আমার বাসায়! পারিবারিক পরিবেশের আলয়ে, নতুন গেট, পুরাতন গেট বা কোথাও অদৃশ্য ব্যানার ছিল না Out of bounds!

কিন্তু Oh! Eternity! কালো ছায়া, থাবা নেমে এলো এক সময়! বিপুল অর্থ আর তৎকালীন বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিরোধী পাকিস্তানি লেজুর সরকারের অদৃশ্য মদদে এলো তথাকথিত অপশক্তি! কাটপিস! নির্লজ্জ নগ্নতার নীল দংশন।

আবার কি ঝুলবে Out of bounds? অর্থ, বিত্ত আর পেশীশক্তির বদৌলতে?

এক “শক্তি” আসলেন একদিন, লিখিত প্রস্তাবনা নিয়ে: এফডিসির ২ নম্বর ফ্লোর দুই বছরের জন্য পুরো টাকা advance দিয়ে নেবেন! মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায় থেকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে; যদিও নির্দেশনা নয়, তবুও গুরুত্বপূর্ণ!

না! উন্নয়ন করপোরেশন মনোপলির জন্য নয়, ছোট-বড় সবার জন্য!উচ্চবিত্তের ব্যবসার শপিং মল বা কমপ্লেক্স নয়!

পেশীশক্তির চাপ এলো।
না! গর্জে উঠল পুনর্বার সুন্দরের সবুজে সুন্দরবনের বাঘ! শিল্পের সবাই! কতিপয় বিভ্রান্তিতে ধরা খেয়েছিল, আচিরেই অবদমিত হলো! নীল কাটপিসগুলো কাটপিস বিনে (Bin) মুখ লুকাল! আড়াল হলো!

সাম্প্রতিক ঘটনা! সাম্প্রতিক ঘটনা:

I have a “hunch”! I have a nose!! হেরে যেয়ে strategic-ভাবে আড়ালে চলে গিয়েছিল যে অপশক্তি, পুনরায় উঠাতে চাইছে ব্যানার! জুয়ার চাক্কিতে (Roulette) ধরা খেয়ে ওৎ পেতে থাকা ওরা আবার প্রযুক্তির সহজলভ্যতা আর প্রচার-প্রদর্শনের সুযোগে এবার “কাটপিস’ নয়, পূর্ণাঙ্গ দৈর্ঘ-প্রস্থ আর অনাবৃত অবয়বে নীল দংশনের নীল নকশার নতুন ভার্সন দিয়ে টিউব “কালচার” ছেয়ে ফেলার প্রয়াস পাচ্ছে! ঘূণপোকার মতো কুরে কুরে খাবে নিঃশব্দে!

Victim হতে যাচ্ছে আমাদের প্রাণের সংস্কৃতি, মুভিং ইমেজ, সেই ইমেজ Andre Malraux’র ভাষায় “images sufficiently powerful to deny our nothingness”! যা অস্তিত্বের অহংকার আমাদের!

কানের কাছে কিছু ভেনা মাছি ভন ভন করছে, ওরা lackeys! যুৎসই বাংলা পেলাম না!

* তারা কদর্যতার synonym বানিয়েছে “আধুনিকতা”;
* বিকৃত বিক্রয়যোগ্য নগ্নতার synonym করেছে প্রগতি, স্বাধীনতা, উদার ঔদার্য;
* প্রেম-ভালোবাসার অনুবাদ Open heart surgery করা হৃদয়-শূন্য দেহ, তাদের স্বরচিত, স্বঘোষিত অভিধানে!

তাদের হাতে তৈরি হয়ে আছে সেই OUT OF BOUNDS ব্যানার। যেটি আবার আমাদের সংস্কৃতির দ্বারে ঝুলিয়ে দিতে পারলে “কিল্লা ফতেহ’!

কিন্তু The choice is yours!

বোরখার ভুয়া কাফনে আমাদের সংস্কৃতির অবয়ব ঢাকতে বলছি না, বরং বোরখা unveil করতে বলছি! বলছি! রূপ-রস-গন্ধ-সৌরভ-যৌবন! সব আছে রূপসীর অঙ্গে! না, বোরখার আড়ালে শেলফে সাজিয়ে রাখার জন্য নয়। বাজারী ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নয়!

রবি ঠাকুরের শৈল্পিক অংকনে রূপসীর সৌরভ কি যৌবন চিত্রিত হয়নি?
“যৌবনসরসীনীরে মিলন শতদল
কোন চঞ্চল বন্যায় টলোমল টলোমল।।
শরম-রক্তরাগে তার গোপন স্বপ্ন জাগে,
তারি গন্ধকেশর-মাঝে এক
বিন্দু নয়নজল।।
ধীরে বও ধীরে বও, সমীরণ।
শংকিত চিত্ত মোর
পাছে ভাঙে বৃন্তডোর– তাই
অকারণ করুণায় মোর
আঁখি করে ছলোছল।।

অপরিমিতব্যয়ীর extravaganza দামি হিজাবের ফ্যাশন-জালে বনলতা সেনের কালো চুল ঢাকতে বলছি না, বলছি না কৃষ্ণকলির মুক্ত বেণী দোলানোর গান গাইতে না দিয়ে কফিনে  আবদ্ধ করতে (Art  is  difficult, hence  Fashion! যদিও এখন আমি এই dictum  পুরোপুরি  মানি না, ফ্যাশনেরও শৈল্পিক প্রকাশ আছে, ইদানিং)

আবার OUT OF BOUNDS ব্যানারের আড়ালে খ্যামটা নাচে “রূপসী বাংলা”কে ভোগ্য পণ্য করার জন্য নয় আমাদের মুভিং ইমেজেস!

* “যৌবন” আর “যৌনতা” synonymous নয়! বলছি করোনার চেয়ে ভয়াবহ রুচির দুর্ভিক্ষ, মহামারি থেকে পরিত্রাণ পেতে!
* কামনা-বাসনা-ভালোবাসা আর কামুকতার উদবমন এক নয়!
* যথেচ্ছাচার কি স্বাধীনতার অনুবাদ?

শিলপী is not a “PRODUCT” salable by the vested interest groups and syndicates! Not salable! NO! NOT FOR SALE!
শৈল্পিক সত্তা বিক্রয়যোগ্য “ভোগ্য পণ্য” নয়!

কারা যেন গলা উঁচিয়ে উচ্চস্বরে বলতে চেয়েছেন, দেখলাম, ওটা তাঁদের নাকি “জীবিকা”, বেঁচে থাকার তাগিদে ওরা করছেন! হাস্যকর!

*শিল্পী তার ‘জীবিকা’য় বা পেশায়, উপার্জনে, জীবন ধারণ করেন, ঠিক, কিন্তু ‘জীবিকা’ বা পেশা আত্মহনন নয়, আত্মমর্যাদার বিসর্জন নয়! কারা তবে?

They are the hidden predators who are promoting and crying for their defense saying: it is their ‘জীবিকা’!
‘জীবিকা’???

Do we know that in recent times, those who are participating and indulging in the latest hated ‘ORGY,’ do not belong to the down trodden economically unstable under privileged. They definitely do not belong to the sub-strata or  down trodden group of our society! They are privileged! সুবিধা-ভোগী

Why then?

The answer is very simple! To destroy the very “core’ of our humble  society’s nucleus by the predators!

Are the participants caught on the wrong foot or caught unaware?? Or did they opt deliberately, paid, for the hated act???

‘জীবিকা’ ?

The answer is yours! The choice is yours, the sensible, sane majority of our society! And the action is ours.
YES!

জীবনানন্দের রূপসী বাংলা আমাদের সবার পরাণ পাখির নিলয়!

আসুন, হাত বাড়িয়ে দিন! প্রযোজক ভাইদের বলছি, “প্রযোজক” শব্দটি মহান, তাই সম্মান দিন! কেন বললাম?

[বেদনার সঙ্গে বলছি: একজন উচ্চগ্রামের “প্রযোজক” বড়াই করে দম্ভের সঙ্গে উক্তি করেছিলেন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালকের ছবি সম্পর্কে বলতে যেয়ে (কো-প্রযোজনায় তাঁর নাম ছিল); স্ব-প্রশংসা”য় অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন: “আমি ‘সুলভে’ একটি দামি পেইন্টিং ‘ক্রয়’ করেছি!” পেশার সম্মানে সম্মানজনক উচ্চারণে বলেননি ‘প্রযোজনা’ করেছি। বানিয়া, সৃষ্টির সহায়ক শক্তি নয়, ক্রেতা, কড়ি ফেলে নাম কেনা! আর সেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালক mere, insignificant বিক্রেতা জীবিকার জন্য? তিনি আরও বলতেন: এ দেশে কোনো চলচ্চিত্র পরিচালক নেই! তাই তিনি পরিচালক ‘ইম্পোর্ট’ করেন এবং ক্রয় করেন। আমি মোরশেদ, তানভীরের নাম বলায় তাচ্ছিল্যের ভাব দেখিয়েছিলেন। প্রবল প্রতিবাদ করে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলাম; আজও নেই! প্রবল প্রতিবাদ হয়েছিল! চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বলয়ে শুধু নয়, প্রযোজক বলয়েও!]

হ্যাঁ, তবে মননশীল মুক্তচিন্তার চিত্রায়নের জন্য আওয়াজ তুলুন, চাপ সৃষ্টি করুন! সরকারকে অনুরোধ: সহযোগিতা করুন! যেমন করে যাচ্ছেন! বিগত এক অবৈধ সরকারের “কালা কানুন” রোধ করেছিলেন! আগেই বলেছি! জীবনের কথা বলতে দিন, সুস্থ রাজনীতি জীবনেরই অংশ! দেখবেন, নতুন প্রজন্ম সোনালী ফসল দিচ্ছে মেধা আর মননে! স্বাধীনতার প্রকৃত connotation তাই!

আবার বলছি, ছবি দেখুন, আমাদের ছবি! নবপ্রজন্ম চমৎকার কাজ করছে বোরখা-হিজাবে না পরিয়েও, অপ্রয়োজনীয় নগ্নতার orgy’র আবর্জনার স্তূপ না বানিয়ে!

আসুন, হাত বাড়িয়ে দিন! আমরা সবাই আছি। মুক্তির আরেকটি যুদ্ধের জন্য! রূপসী বাংলা আমাদের চিরকালের প্রতিচ্ছবি! জয় বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা!

স্বপ্নজাল, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ছবি

এই লেখার মেকআপ, ছবির বিন্যাস ও ক্যাপশন লেখকের সাজানো...
-ফিল্মফ্রি
Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
প্রখ্যাত ফিল্মমেকার; সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ ।। জন্ম : ২৬ আগস্ট ১৯৪৬ ।। ফিচার ফিল্ম : ঘুড্ডি ; লাল বেনারসী; আয়না বিবির পালা ।। শর্টফিল্ম : দেয়াল, তামাশা, গল্পদাদুর গল্পকথা, অংকুর ইত্যাদি ।। মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন [১৯৯৬-২০০১] ।। অপারেশন ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন [১৯৮১-১৯৯৪] ।। শিক্ষার্থী, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া [(পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউট); ১৯৭২-১৯৭৭]

2 মন্তব্যগুলো

  1. So, what would be the next before ‘Fin’, a Total Fadeout?

    I have read Zaki’s Out of Bound. He started with the Arts and the Artists when they were out of bound. Today they are respected professionals. Film and Film Artists have been accepted as the part of Culture of our society through its evolution. Films and TV are the major medium of the Arts with their millions of viewers watching everyday in Bangladesh.

    In Bangladesh context what are the success of Film and TV entertainments at this very moment? Our Bangladeshi viewers are looking at the West of the boarder.
    Our children are learning Hindi watching Hindi cartoons.
    Our elders are watching Indian serials.

    Have any one made a survey of the 25+ Bangladesh TV Channels, who are actually watching them? What next and how are we going to make Bangladesh story a success? Make people of Bangladesh believe in their own culture and Arts. Hassan Nawaz

  2. Talent or creative faculty will always finds way out of doom and gloom, it has done so in other parts of the world, even under most oppressive regimes. I fervently hope and pray that it will happen here again as well, as it did in the past for a brief period.

মন্তব্য লিখুন