চান্তাল আকেরমানের সঙ্গে আলাপ । কিস্তি-৮ [৮]

0
117
চান্তাল আকেরমান

সাক্ষাৎকার গ্রহণ । নিকোল ব্রেনেজ
অনুবাদ । রুদ্র আরিফ

অনুবাদকের নোট
চান্তাল আকেরমান [৬ জুন ১৯৫০-৫ অক্টোবর ২০১৫]। বেলজিয়ান ফিল্মমেকার। সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম স্বতন্ত্র বিপ্লবী অ্যাকটর-ডিরেক্টর। ২০১১ সালের গ্রীষ্মকালে, সদ্যনির্মিত সিনেমা “আলমেয়ার’স ফলি”র সূত্রধরে, নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ সেই সাক্ষাৎকারের শেষ কিস্তিতে, প্রিয় পাঠক, আপনাকে স্বাগত…

আগের কিস্তি পড়তে ক্লিক করুন এই বাক্যে


সা ক্ষা ৎ কা র

পিনা বাউশ
অন ট্যুর উইথ পিনা বাউশ ওরফে ওয়ান ডে পিনা আস্কড…
ফিল্মমেকার । চান্তাল আকেরমান

প্রসঙ্গ: সারভাইভাল ও মিজ-অঁ-সিন

নিকোল ব্রেনেজ ::
আপনি চরিত্রগুলোকে প্রায়ই এমন এক পরিস্থিতিতে হাজির করেন, যেন তারা রয়েছে একেবারেই নিখাঁদ সারভাইভাল অবস্থায়; তারা ঠাণ্ডায় ভুগে, ক্ষুধার্ত হয়ে, জীবন হুমকির মধ্যে ফেলে শারীরিকভাবে সেই পরিস্থিতিকে সহ্য করার পুঁজি জড়ো করে। আপনার সিনেমাগুলো হরহামেশাই শরীরের নিরেট শক্তির মানদণ্ড হয়ে ওঠে।

চান্তাল আকেরমান ::
ঠিকই। তবে তা স্পৃহা বিস্তরণের আনন্দও। নাচতে আমি ভালোবাসি, এটি যেন মাদকের মতো, এ যেন সুখানুভূতির সকল বন্ধনের এক স্বাধীনতা। হ্যাঁ, আপনি যেমনটা বললেন, এটি নিশ্চিতভাবেই যৌনতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে একমাত্র যৌনতারই সঙ্গে নয়।

নিকোল ::
অবশ্য পিনা বাউশকে নিয়ে বানানো আপনার সিনেমাটির ক্ষেত্রে তা নয়।


বিধিনিষ্ঠ সৌন্দর্যের ভেতর
দিয়ে তিনি নিজের
বিষাদবাদের
মধ্যে
দর্শককে আনন্দ দিয়ে থাকেন

চান্তাল ::
না। প্রথমত আমি বিহ্বলিত হয়ে গিয়েছিলাম কেবলই সৌন্দর্যের, নন্দনতত্ত্বের দেখা পেয়ে। কিন্তু তার ওপর সিনেমা বানাতে গিয়ে বুঝলাম, বিধিনিষ্ঠ সৌন্দর্যের ভেতর দিয়ে তিনি নিজের বিষাদবাদের মধ্যে দর্শককে আনন্দ দিয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি একজন তুখোড় শিল্পী।

নিকোল ::
শরীরগুলোকে নিজের মতো বিন্যাস্ত করে শরীর থেকে সুখানুভূতি নিংড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিতভাবে বিষাদবাদী হওয়াটাই কি মিজ-অঁ-সিনের একেবারেই মূলতত্ত্ব?

চান্তাল ::
না। এ দুটি এক জিনিস না; কেননা, এটি ইমেজের ভেতর দিয়ে ঘটে। মঞ্চের ক্ষেত্রে আমরা শরীরটিকে বাস্তবজীবনে, একেবারেই অভিন্ন মুহূর্তটিতে দেখি। সিনেমায় দেখি উভয় সময়ই– যখন আপনি ফিল্মটি দেখছেন, তখন তো বটেই, আবার যে মুহূর্তে শুটিংটি করা হয়েছে– তখনো। না, এ দুটি জিনিস কিছুতেই এক নয়। সবচেয়ে বড় কথা, পিনার বেলায়, উদাহরণ হিসেবে ধরুন, অভিনেতারা আছড়ে পড়েছিলেন, নিজেদের ছুড়ে দিয়েছিলেন দেয়ালের ওপর; কিন্তু ফর্মটির ভেতর দিয়ে, তার [পিনা] নন্দনতত্ত্বের ভেতর দিয়ে এটি আমাদের কাছে সুখানুভূতি হয়ে ধরা দিয়েছে।

তিনি কথা বলেন নরোম ও মৃদু স্বরে। তিনি একজন গুরু। কেউ তাকে কিছু বলার সাহস করে না। প্রতিটি শোয়ের জন্যই তিনি নোট টুকে নেন, কথা জড়ো করেন, নৃত্যশিল্পীরা নিজেদেরকে ছুড়ে দেয় ইমপ্রোভাইজেশনের ওপর। নিজের আগ্রহের জিনিস নিয়ে তিনি একটা মন্তাজ, একটা জমায়েত তৈরি করেন। মুষ্ঠিযুদ্ধের চেয়েও জঘণ্য– এমন এক মিষ্টি স্বরে তিনি সম্পূর্ণ কর্তৃত্বারোপ করেন।

১৯৭৩ সালে, ‘সাইকোঅ্যানালাইসিস অ্যান্ড পলিটিকস’ মুভমেন্টটি দিয়ে অতোঁনেত ফ্যুকি ঠিক একই কাজই করেছেন। তিনি আপনার মনোবিশ্লেষণ এতই নির্মমভাবে করবেন, যা কি না মেরে ফেলতে সক্ষম। মে ’৬৮-এর [ফ্রান্সজুড়ে হওয়া গণআন্দোলন] পর অনেক ভ্রান্ত আইডিয়ার আধিপত্য বেড়েছিল। যেমন ধরুন, প্রচুরসংখ্যক ইহুদি মাওবাদীর দেখা মিলেছে– আমি জানি না এটা কী করে সম্ভব।


স্তালিন ও বন্দিশিবিরের দিনগুলোর
পর আপনার জানা হয়ে যাবে,
মতাদর্শ বস্তুত জঘণ্য
পরিণাম ডেকে
আনে

আমি কখনোই কোনো মতাদর্শে বিশ্বাস করিনি। স্তালিন ও বন্দিশিবিরের দিনগুলোর পর আপনার জানা হয়ে যাবে, মতাদর্শ বস্তুত জঘণ্য পরিণাম ডেকে আনে– তা সেটি শুনতে যতই সুন্দর ও মঙ্গলকর এবং স্রেফ কোনো একটা তত্ত্বের মতোই লাগুক না কেন।

চান্তাল আকেরমান
মায়ের সঙ্গে, শৈশবে চান্তাল আকেরমান

প্রসঙ্গ: আস্থা

চান্তাল ::
সবসময় ভেবে এসেছি, আমার মা-ই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী, এবং আমাকে তিনি পাগলের মতো ভালোবাসেন, যেমনটা তাকে আমি বাসি। তারপর এক সময় বুঝতে পারলাম, নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই তিনি ভালোবাসেন না; যদি বাসেনও, পরিপূর্ণভাবে নয়। টিকে থাকার শিক্ষা, জীবন বাঁচানোর জন্য নিজেকে ভালোবাসা বন্দিশিবিরে তাকে নিতেই হয়েছিল। এটি ছিল এক ধরনের চালিকাশক্তি।

অনেক পরে এসেই শুধু বুঝতে পেরেছি, বাবা আমাকে ভালোবাসতেন। যখন মুমূর্ষু, আমি টের পেয়েছি, তিনি চেয়েছিলেন যেন তার পাশে থাকি। আমি প্রার্থনাগীত গেয়ে শুনিয়েছিলাম– সেটিই তাকে তখন একমাত্র স্বস্তি দিয়েছিল। তিনি ভেবেছিলেন, আমি তার মা, আমার বয়স ৭৫ বছর! আমার কণ্ঠের গানই কেবল হালকা করেছিল তাকে। কিংবা আমি এমনটাই মনে করি; কিংবা, আমি এমনটাই মনে করতে চাই।


শরীরের
বাদবাকি অঙ্গ
মৃত্যুযন্ত্রণা দিয়ে নিষ্ক্রিয়
হয়ে গেলেও, হৃৎপিণ্ড
তাকে বাঁচিয়ে
রেখেছিল

মস্তিষ্কে একের পর এক রক্তক্ষরণ হয়েছিল তার। তবু রক্ত তার হৃৎপিণ্ড সচল রেখেছিল বলে তিনি বেঁচে ছিলেন। শরীরের বাদবাকি অঙ্গ মৃত্যুযন্ত্রণা দিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও, হৃৎপিণ্ড তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

ডাক্তারকে আমি টেলিফোন করলাম তাকে নিষ্কৃতি দিতে! যথেষ্ট হয়েছিল। স্রেফ হৃৎপিণ্ড সচল– এভাবে বেঁচে থাকা যায় না। মরফিনের ডোজ বাড়িয়ে দিলেন ডাক্তার। তিনদিন পর মারা গেলেন বাবা। পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর এটিই ছিল আমার প্রথম দায়িত্ব পালন। মা বলতে থাকলেন, ‘তুই সবসময়ই আমার কাছে বাচ্চাই থাকবি।’ কাউকে একটা শব্দও না বলে, একেবারেই ঠাণ্ডা মাথায়, এই সিদ্ধান্ত আমি একদম একাই নিয়েছিলাম।

নিকোল ::
আপনার বয়স কত তখন?

চান্তাল ::
৪৫ বছর। আমার সারাজীবনের সম্পন্ন করা ভালো কাজগুলোর একটা এটি। নিজের জন্য যেটি করা দুরূহ, সে রকম কোনো কাজ অন্যকে করে দেওয়া। আমি যখন প্রথমবার বড় ধরনের মেন্টাল ব্রেকডাউনের মধ্যে পড়লাম, মায়ের সঙ্গে বাবা এসেছিলেন হাসপাতালে। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আমি ব্রাসেলসে চলে গিয়েছিলাম। আমাকে বাবার কাছে ফেলে রেখে, আমাদের ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন মা। আলো কমে আসছে– সেটি খেয়াল না করেই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কথা বলেছিলাম আমরা : তখন আমার পাশে মা নন, বরং বাবা ছিলেন।

এ রকম ঘটনার মধ্য দিয়ে নিজে গিয়েছেন বলে মায়ের পক্ষে সহ্য করা আর সম্ভব হচ্ছিল না। বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘১৮ বছর বয়সে, খালি হাতে যখন আমি বাড়ি থেকে পালিয়েছিলাম, তখন আমাকে নিয়ে আপনার ভয় হয়নি? আমি পতিতা, নেশাখোর ইত্যাদি হয়ে যেতে পারি– এমন ভয় কাজ করেনি আপনার মনে?’ তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘না, তোমার ওপর আস্থা ছিল আমার।’

১৯১৯ সালে একটি অর্থোডক্স পরিবারে বাবার জন্ম। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বাবা; এখনকার বাবাদের মতো নন।

নিকোল ::
একজন কুলপতি…

চান্তাল ::
হ্যাঁ এবং না। একজন সেকেলে বাবা। সত্যিকারঅর্থেই তার মনে সে ধরনের আস্থা ছিল। খালি হাতে আমাকে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে দিয়েছেন নিঃসন্দেহে স্বেচ্ছায়ই। আমি আসলেই জানি না!

লাস্ট ডেজ
ফিল্মমেকার । গাস ভ্যান স্যান্ট

প্রসঙ্গ: গাস ভ্যান স্যান্ট ও ‘লাস্ট ডেজ’

চান্তাল ::
যখন অসুখে ভুগি, নিজেকে কার্ট কোবেইনের মতো মনে হয় আমার। [কার্ট কোবেইনের জীবনের শেষ দিনগুলোর ওপর নির্মিত গাস ভ্যান স্যান্টের লাস্ট ডেজ (২০০৫) সিনেমায়] তার চরিত্রে অভিনয় করা মাইকেল পিট আমাকে বলেছেন, সিনেমাটির শুটিং শুরুর আগে গাস ভ্যান স্যান্ট জ্যেন ডেলমাঁর প্রদর্শনী করেছিলেন। তবে তার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের অধিকারী সিনেমা এলিফ্যান্ট [২০০৩] তুলনামূলকভাবে আরও বেশি সন্দেহউদ্রেকাত্মক।

হ্যাপিনেস
ফিল্মমেকার । অ্যানিয়েস ভার্দা

প্রসঙ্গ: অ্যানিয়েস ভার্দা ও জ্যাক দুমি

চান্তাল ::
[অ্যানিয়েস ভার্দার হ্যাপিনেস-এর (১৯৬৫)] আইডিয়াটি অসাধারণ : একজনের ভালোবাসার মূল্য আরেকজনের ভালোবাসার মতোই; একটা মানুষকে আরেকটা মানুষের মধ্যে রিপ্লেস করে ফেলা সম্ভব। আমার মতে, হ্যাপিনেসই সবচেয়ে অ্যান্টি-রোমান্টিক সিনেমা। অ্যানিয়েসকে আমি এ কথা বলেছি; অবশ্য তিনি একমত হননি। তবে সে সময়ের জন্য এ ছিল ভীষণ দুঃসাহসী এক কাজ; হয়তো এ সময়ের জন্যও।

অ্যানিয়েস কিন্তু মার্গারিতার মতো নন; বরং পৃথিবীকে এক সুতোয় গেথে ফেলার মতো বুদ্ধিমত্তার অধিকারী তিনি। নানাবিধ মর্মপীড়ার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে; বিশেষত জ্যাক যখন তাকে ছেড়ে একজন পুরুষের কাছে চলে গেলেন। প্রেমের ব্যাপারে ছিদ্রান্বেষী ছিলেন জ্যাক; জীবনের সঙ্গে নিজেকে অভ্যস্ত করা তোলাটাই শেষ পর্যন্ত তার কাছে মুখ্য– ঠিক যেমনটা আমরা দেখি তার দ্য আমব্রেলাস অব শ্যেরবুর্গ [১৯৬৪] সিনেমার গ্যারেজ-মালিক চরিত্রটির মধ্যে।

নিকোল ::
নিজেদের নিজস্ব আবেগাত্মক ও যৌন-পৃথিবী আবিষ্কার করতে পারা এক প্রেমিক যুগল ছিলেন তারা– এ কথা কি আপনি মানবেন না?

চান্তাল ::
হ্যাঁ, এ কথাও বলা যায়। জীবনের সঙ্গে নিজেকে আপনার অভ্যস্ত করে তুলতেই হবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ। যদি সাহিত্যের স্বপ্নের কাছে, যেমন ধরুন– রোমান্টিসিজমের কাছে নিজের জীবনকে ন্যস্ত করেন, তাহলে নিরন্তর নৈরাশ্যের মধ্যে জীবন কাটাতে হবে আপনাকে। এ কারণেই অ্যারেঞ্জ ম্যারিজের প্রতি আমার আগ্রহ: প্রেমে পড়ে তিক্ত মনোভঙ্গের অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেয়ে বরং আপনি আরেকটি মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। আপনি তুলনামূলক কম বোকা বনবেন।

দেখুন, এ কথাটি নিজেকে বলি ঠিকই, কিন্তু বিশ্বাস করি কি না– জানি না!

ওং কার-ওয়াই
হ্যাপি টুগেদার
ফিল্মমেকার । ওং কার-ওয়াই

প্রসঙ্গ: ওং কার-ওয়াই ও ‘হ্যাপি টুগেদার’

চান্তাল ::
এই রকম একটি সংবেদনশীল সিনেমা [হ্যাপি টুগেদার; ওং কার-ওয়াই; ১৯৯৭] আমাকে নিজের বাড়িতে থাকার অনুভূতি দেয়। সিনেমার এক নিখাঁদ আনন্দ; কী সুন্দর এই তরুণগুলো। ওং কার-ওয়াইয়ের কাজে যৌনতার প্রশ্নে এমন এক ধরনের দ্বিধা, এক ধরনের দোদ্যুল্যতা থাকে– যা কোনো পুরুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া বিরল। কিন্তু তাকে আমেরিকান সিনেমার মতো সিনেমা বানানোর পন্থা অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে; কেননা এটি তার কাজের জন্য হানিকর। তার সর্বশেষ সিনেমা– মাই ব্লুবেরি নাইটস-এ [২০০৭] সেই প্রভাবের ছাপ অনেক কম।

নিকোল ব্রেনেজ ::
‘আমেরিকানের’ চেয়ে বরং বলা ভালো– ‘হলিউডিয়ান’…

চান্তাল আকেরমান ::
সবাই-ই হলিউডে যেতে চেয়েছিল। এমনকি আমিও, এমনকি গোদারও। এটি তো মক্কা [পূণ্যভূমি অর্থে]।তবে এই টার্মটির প্রকৃত অর্থে নয়– এটি এমন মক্কা যেখানে নিজের ছাল ছাড়িয়ে বাঁচার জন্য আপনি যাবেন। এমনকি ফিল্মমেকার, মিউজিশিয়ান, ঔপন্যাসিক– আমাদের এমন অনেক ইহুদি সহকর্মীরও যুদ্ধের দিনগুলোতে সেখানে গিয়ে কাজ করার সুযোগ ছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতি আমার টান আছে, যদিও সেটি অপরাধের শহর। যখন আপনি গোয়েন্দা কাহিনিগুলো পড়বেন, বুঝতে পারবেন, সিনেমা ছাড়া আর কোনো স্বপ্ন নিয়ে কোনো তরুণী লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে পা বাড়ায়নি, আর তাদের স্বপ্নের পরিণতি হয়েছে পতিতা কিংবা নেশাখোর হয়ে যাওয়া। ক্ষমতা, টাকা– এসব মিলিয়ে সিনেমার অবস্থা জঘণ্য সেখানে।


আমেরিকানধর্মী জীবনের নামে
তারা মানবতাবোধকে
ধীরে ধীরে নিঃশেষ
করে দিচ্ছে

আর আমেরিকানধর্মী জীবনের নামে তারা মানবতাবোধকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এটি আত্মপ্রচারের একটি আদর্শও বটে; তবে এর সঙ্গে কোনো বইয়ের, পৃথিবীকে রক্ষা করার মতো কোনো আলোচনার স্থান নেই। এটি স্রেফ নিজেকেই বিষাক্তভাবে আত্মপ্রচার করে যাওয়া।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকাল । ১৫ জুলাই ও ৬ আগস্ট ২০১১; প্যারিস, ফ্রান্স 
সূত্র । লোলা জার্নাল
Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক; ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ফেদেরিকো ফেল্লিনি ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]

মন্তব্য লিখুন