ফেল্লিনির ‘নাইটস অব কাবিরিয়া’

0
113
ফেদেরিকো ফেল্লিনি

মূল । রজার ইবার্ট
অনুবাদ । রুদ্র আরিফ

নাইটস অব কাবিরিয়া
Le notti di Cabiria
ফিল্মমেকার : ফেদেরিকো ফেল্লিনি
প্রডিউসার : দিনো দে লরেন্তিস
কাহিনি : ফেদেরিকো ফেল্লিনি
চিত্রনাট্য : ফেদেরিকো ফেল্লিনি, তুল্লিও পিনেল্লি, এন্নিও ফ্লাইয়ানো, পিয়ের পাওলো পাসোলিনি
অভিনয় : জ্যুলিয়েত্তা মাসিনা, ফ্রাঁসোয়া পেরি, ফ্রাঙ্কা মার্জি, ডরিয়ান গ্রে, আমেদিও নাজ্জারি
সিনেমাটোগ্রাফার : আলতো তন্তি
মিউজিক : নিনো রোতা, পাস্কেল বোনাগুরা
এডিটর : লিও কাত্তোজ্জো
রানিংটাইম : ১১৮ মিনিট
ভাষা : ইতালিয়ান
দেশ : ইতালি, ফ্রান্স
রিলিজ : ১০ মে ১৯৫৭
অ্যাওয়ার্ড : বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম [অস্কার]; বেস্ট অ্যাকট্রেস [কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল]


নাইটস অব কাবিরিয়া
ফিল্মমেকার । ফেদেরিকো ফেল্লিনি

কাবিরিয়ার আইভ্রু স্ট্রেইট, কালো হরাইজন্টাল রেখা, চোখের ওপরের নকশা মিলিয়ে তাকে দেখতে কার্টুন চরিত্রের মতো লাগে। তার মুখভঙ্গিমা, তার চেহারা করার ধরন, সবই অভিনয়ের ইঙ্গিতবাহী। নিশ্চয়ই পতিতামাত্রই সারাক্ষণ কোনো না কোনো ধরনের অভিনয় করে চলেন; কিন্তু কাবিরিয়াকে দেখলে মাথার মধ্যে একটা চরিত্র চলেই আসে, আর সেটি সম্ভবত চ্যাপলিনের লিটল ট্র্যাম্প, সঙ্গে যেন সেই লুসিল বলের খানিকটা ছোঁয়া– যাকে নিশ্চিতভাবেই ১৯৫০ দশকে ইতালিয়ান টেলিভিশনে দেখা গেছে। কাবিরিয়া যেন ভাবে, যদি একটি কমিক সত্তার ঢাল ব্যবহার করতে পারে, তাহলে নিজের দুনিয়ার বিভীষিকাগুলোর ভেতর অস্পৃশ্য হয়েই উল্লাসমুখর থাকতে পারবে সে।

কিংবা এটিই আসলে কাবিরিয়া, এবং এটি কোনো অভিনয় নয় : পাপিষ্ঠদের মধ্যে থেকেও হয়তো সে একজন নিরাশ্রয়ী নিষ্পাপ মানুষ, একজন সন্ত। জ্যুলিয়েত্তা মাসিনার পারফরম্যান্সের এটিই অন্যতম আনন্দের দিক– এই প্রহরাটির কখনোই অবনতি ঘটে না। কাবিরিয়ার আচার-আচরণ মাঝে মধ্যে মেকি মনে হলেও, সেটিকে সবসময়ই তার নিজস্ব বলে মনে হয়; আর রোমের নর্দমাগুলোতে এই পুঁচকে নারী নিজেকে গভীরভাবে বয়ে বেড়ায়।

নাইটস অব কাবিরিয়া বানিয়েছেন মাসিনার স্বামী ফেদেরিকো ফেল্লিনি; ১৯৫৭ সালে। এর জন্য কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন মাসিনা; অন্যদিকে ১৯৫৬ সালের লা স্ত্রাদার পর, টানা দ্বিতীয়বারের মতো, শ্রেষ্ঠ বিদেশি সিনেমার ক্যাটাগরিতে ফেল্লিনি পেয়েছেন অস্কার [পরবর্তীকালে, ১৯৬৩ সালে ৮ ১/২ ও ১৯৭৪ সালে আমারকর্দ-এর জন্যও একই ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতেছেন তিনি]। আজব ব্যাপার হলো, ফেল্লিনির তখনো তত নামডাক হয়নি, তখনো তিনি অতটা পরিচিত নন, তাই মাত্র তিন বছর পরের লা দোলচে ভিতায় এই সিনেমার অনেক ম্যাটেরিয়ালই পুনর্ব্যবহার করতে পেরেছিলেন।

সম্প্রতি সিনেমাটিকে ৩৫ মিলিমিটারে রিস্টোর করে পুনর্মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যেখানে সাবটাইটেলগুলো আরও মোটা অক্ষরে, পুনঃঅনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে জুড়ে। এছাড়া সাড়ে সাত মিনিটের একটি দৃশ্যও জুড়ে দেওয়া হয়েছে– যেটি সিনেমাটির আগের ভার্সনগুলোতে বাদ পড়েছিল।

ফেল্লিনির ভালোবাসার মিউজিক কম্পোজার নিনা রোতার মিউজিক-সহকারে, নাইটস অব কাবিরিয়ার নতুন এই ভার্সনটি দেখা যেন ফেল্লিনি ও চ্যাপলিনের মধ্যকার একটি পরিপক্ক থিমের সাহসী সহযোগের অনুভূতি পাওয়া। মাসিনা ইচ্ছেকৃতভাবেই নিজের কাবিরিয়া চরিত্রটিকে লিটল ট্র্যাম্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সুনিশ্চিত হওয়া যায় তখন, যখন তাকে দেখি ছাতা হাতে কাজে নামতে, এবং নাইটক্লাবের পর্দা ঠেলে ঢুকতে গিয়ে গোলমাল পাকাতে। কিন্তু চ্যাপলিনের চরিত্রটি যেখানে একদল শত্রুর পৃথিবীতে বসবাস করত এবং পরিণতিতে হ্যাপি-এন্ডিং থাকত, সেখানে কাবিরিয়াকে জীবনযুদ্ধ চালাতে হয় রোমের পতিতাবৃত্তির নিচুস্তরে। যখন তাকে এক বিখ্যাত অভিনেতা তুলে নেয়, এবং জিজ্ঞেস করে, রোমের চাকচিক্যের কেন্দ্র– ভিয়া ভেনেতোতে কাজ করবে কি না– সে তখন বাস্তবতা মাথায় রেখেই জবাব দেয়– না, তার জন্য আর্কেওলজিক্যাল প্যাসেজই ভালো; কেননা, তাহলে সে সেখানে পাতাল রেল দিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারবে।


ভাবালু
সে নয়; বরং
একটি শক্ত বিস্কুটের
মতো– যে ট্রাকের পেছনে উঠে
পড়তে, মারামারিতে জড়িয়ে যেতে,
আর পুলিশ রেইড দিলে
ঝোঁপের আড়ালে
লুকিয়ে পড়তে
জানে

কাবিরিয়া একজন কাজ করে খাওয়া মেয়ে। ব্রডওয়ে মিউজিক্যাল শো ও সেটির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমা সুইট চ্যারিটির মিষ্টি মেয়েটির মতো ভাবালু সে নয়; বরং একটি শক্ত বিস্কুটের মতো– যে ট্রাকের পেছনে উঠে পড়তে, মারামারিতে জড়িয়ে যেতে, আর পুলিশ রেইড দিলে ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে পড়তে জানে। নিজের বাড়ি নিয়ে গর্ব করে সে, হোক সেটি কোনো শিল্পাঞ্চলীয় পতিতভূমির ওপর পুঁচকে একটি খুপড়ি; আজ কিংবা কাল– একদিন সত্যিকারের ভালোবাসার খোঁজ সে পাবেই, সেই স্বপ্ন দেখে সেএ কিন্তু যে ধরনের পুরুষ তার পছন্দের– সেটি বিপজ্জনক, তবু সেটির ওপর ভীষণ আস্থাশীল সে। সিনেমাটির শুরু বর্তমান প্রেমিকের সঙ্গে তার দৃশ্য দিয়ে, যে কুটনামি করে তার পার্স চুরি করে এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয় ডুবিয়ে মারার জন্য।

কাজের ধরন অনুসারেই, পতিতারা প্রতি রাতে নিজেদের খুঁজে পান শহরের প্রায় সব অঞ্চলে, প্রায় প্রতিটি চত্বরে। যেমন ধরুন, সিনে-তারকা আলবের্তো লাজ্জারির বদৌলতে কাবিরিয়া ঢুকে পড়ে নাইটক্লাবে। নিজ বাগদত্তার সঙ্গে ঝগড়ার পর কাবিরিয়াকে তুলে নেয় লাজ্জারি, তাকে নিয়ে যায় নিজের প্রাসাদতুল্য উদ্যানবাড়িতে; তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে বাগদত্তা হাজির হলে তাকে লুকিয়ে রাখে বাথরুমে [সেখানে সারাটি রাত লাজ্জালির পোষা কুকুরের সঙ্গে কাটায় কাবিরিয়া]। এরপর এক ধরনের মুক্তির আকাক্সক্ষায় সে যোগ দেয় আরেক মেয়ের সঙ্গে। ভার্জিন ম্যারির এক তথাকথিত আবির্ভাব দেখতে গিয়ে আরেক পুরুষের সঙ্গে দেখা হয় তার। পরের দৃশ্যেই আমরা দেখতে পাই, সামারিতান জাতিগোষ্ঠীর একটি ভালো লোকের দেখা পায় সে, যে লোক রাতের আঁধারে গৃহহীনদের খাবার ও উপহার বিলায় [সেই গৃহহীনদের মধ্যে, মাটির নিচের এক গর্ত থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসা একদার সুন্দরী এক পতিতাকে দেখে শিউড়ে ওঠে কাবিরিয়া]।

এই সবগুলো দৃশ্যই কোনো না কোনো তরিকায় লা দোলচে ভিতায় পুনরাবির্ভূত হয়েছে; যেখানে পতিতার জায়গায় বরং একজন গসিপ কলামিস্টের [মার্সেল্লো মাস্ত্রোইয়ান্নি অভিনীত] দৃষ্টি থেকে দেখানো হয়েছে সেগুলো। উভয় সিনেমাতেই দরজায় ফাঁক দিয়ে পতিতা এমনভাবে উঁকি দেয়, যেন নিজের রক্ষিতার সঙ্গে সঙ্গম করতে এসেছে কোনো খদ্দের। উভয় সিনেমাতেই নাইটক্লাবের দৃশ্য শুরু হয়েছে রগরগে এথনিক নৃত্যশিল্পীদের দিয়ে। উভয় সিনেমাতেই ভার্জিন ম্যারির একটি মিথ্যে আবির্ভাব হয়েছে দৃশ্যমান। উভয় সিনেমাতেই একটি আউটডোর নাইটক্লাবে একটি মিউজিক্যাল সিকুয়েন্স রয়েছে। এবং ফেল্লিনির প্রায় সব সিনেমার মতোই, উভয় সিনেমাতেই রয়েছে একজন গোলগাল স্ত্রীলোক, সমুদ্রতীরবর্তী একটি পাথুরে বাড়ি, একটি ধর্মীয় মিছিল, এবং ভোরবেলার একটি ফ্রেম। এগুলো নিশ্চয়ই এই ফিল্মমেকারের ব্যক্তিগত কষ্টিপাথর।

ফেল্লিনি ছিলেন কথা ও মিউজিকের কবি। শুটিংয়ের সময় কখনোই সংলাপ রেকর্ড করেননি তিনি। বেশিরভাগ ইতালিয়ান ফিল্মমেকারের মতোই, পরবর্তীকালে কথাগুলোর ডাবিং করেছেন। নিজের সেটে, প্রায় প্রতিটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়ই তিনি মিউজিক বাজাতেন; আর তার বেশিরভাগ সিনেমার চরিত্রগুলো যে একটি নির্দিষ্ট ধরনের হেলেদুলে হাঁটে, সেটি খেয়াল করলেই টের পাওয়া যায় : এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ড এক্সট্রারাও যেন একই তাল-লয় শুনছে! কাবিরিয়া এটি শোনে ঠিকই, কিন্তু প্রায়সময়ই উল্টো তরিকায় হাঁটে– যেন সেটিই তার নিজস্ব মেলোডি। সে এক জেদি ভাবপ্রবণ মানুষ– যে নিজের ভালোবাসার পুরুষটিকে বিশ্বাস করতে পারে না, তবু যে মানুষের জন্য সে সবকিছুই করতে প্রস্তুত, এমনকি নিজের উপার্জনের ৪০ হাজার লিরাও তার হাতে নির্দ্বিধায় তুলে দিতে পারে [যদিও তার প্রতিবেশিনী তাকে সতর্ক করেছিল, ‘তারা [পুরুষ] এগুলো করে (তোমার কাছ থেকে) ৫ হাজার লিরা (হাতিয়ে) নিতে’]।


মুক্তি
খুঁজে ফেরা
এক নারী সে,
পাপ কাজে লিপ্ত
এক নারী সে, তবু সে
খোঁজে অন্তস্তলের আত্মিকতা

মুক্তি খুঁজে ফেরা এক নারী সে, পাপ কাজে লিপ্ত এক নারী সে, তবু সে খোঁজে অন্তস্তলের আত্মিকতা। এক রাতে সে এক হিপনোটিস্টের পারফরম্যান্সে, মঞ্চে গিয়ে হাজির হয়; আর সেটিই এই সিনেমার সবচেয়ে তুখোড় দৃশ্য– যেটি জায়গা করে নিয়েছে একটি দিবাস্বপ্নে [অর্ধেক ভডভিল, আর অর্ধেক পুলক-জাগানিয়া কল্পনায়]– যেখানে সে প্রকাশ করে দেয় নিজের বিশ্বাস ও মিষ্টতার কথা। রূঢ় দর্শকদের সে আরও জানিয়ে দেয়, তার আছে একটি বাড়ি এবং একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

তাকে মঞ্চে দেখে অস্কার [ফ্রাঁসোয়া পিয়েরে অভিনীত] নামের এক পুরুষ। তাকে ফুল দিয়ে, যথেষ্ট আন্তরিকভাবেই পটিয়ে ফেলে সে। আর জানায়, কাবিরিয়ার নিষ্কলুষতা ও ভালোত্ব তার মন ছুঁয়ে গেছে। তার কথা বিশ্বাস করে ফেলে কাবিরিয়া। অবশেষে সেই পুরুষের দেখা সে পায়, যাকে বিশ্বাস করতে পারবে, যার সঙ্গে কাটাতে পারবে সারাটা জীবন। ফলে খুশিতে চনমনে হয়ে ওঠে সে– এমনকি তার বান্ধবীরা [এবং দর্শক হিসেবে আমরাও] তার এই সরলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও।

ফিল্মমেকার হিসেবে ফেল্লিনির শিকড় প্রোথিত হয়েছে যুদ্ধোত্তর ইতালিয়ান নিওরিয়ালিস্ট মুভমেন্টে [১৯৪৫ সালে রোজেল্লিনির রোম, ওপেন সিটি সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি]। তার প্রথমদিকের সিনেমাগুলোতে একটি রূঢ়তা রয়েছে, শেষদিকের সিনেমাগুলোতে যেটির জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নিয়েছে চোখ ধাঁধানো ফ্যান্টাসিগুলো। নাইটস অব কাবিরিয়া এই ট্রাঞ্জিশনাল সিনেমা; লা দোলচে ভিতার যুদ্ধোত্তর রোমের বাস্তব দুনিয়ার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখলেও ভিজুয়াল ফ্রিডমের প্রতি ইঙ্গিত রেখেছে এটি। যে দৃশ্য ভালো সামারিতানটির সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেটি শহুরে গুহায় ও ব্রিজের নিচে জীবনযাপন করা মানুষগুলোকে দেখানোর একটি ফ্রেমওয়ার্ক হলেও, কাবিরিয়া যখন নিজের বাড়ির চাবিগুলো বাড়িটি কিনে নেওয়া বৃহৎ ও ভীষণ গরিব পরিবারটির হাতে তুলে দেয়– সেই দৃশ্য আরও বেশি হৃদয়ছোঁয়া।


সবগুলো
দৃশ্যেই সে রয়ে
যায় এক অবাধ্য চরিত্র;
তারপর আমরা শেষদিকে তার
একটি নির্দিষ্ট ধরনের
কোমলতা টের
পেতে থাকি

এই দৃশ্যগুলো এমন একটি নোঙর, একটি ঘূর্ণি জাহির করে, যেটি যে দৃশ্যে কাবিরিয়ার চেয়ে বেশি রূচিশীল [এবং বেশি লম্বা]– ভিয়া ভেনেতোর এমন দুই পতিতা কাবিরিয়াকে নিয়ে ঠাট্টা করে, কিংবা যে দৃশ্যে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী পতিতাদের দেখিয়ে নিজের নতুন খদ্দের, অভিনেতাটির বিরাট আমেরিকান প্রাইভেট-কারে চড়ে সে সগর্বে চলে যায় [এই দৃশ্যেরও পুনর্নির্মাণ ফেল্লিনি লা দোলচে ভিতায় করেছেন]– এ রকম অপেক্ষাকৃত হালকা দৃশ্যগুলোকে একটি প্রেক্ষাপট ধার দেয়। এই সবগুলো দৃশ্যেই সে রয়ে যায় এক অবাধ্য চরিত্র; তারপর আমরা শেষদিকে তার একটি নির্দিষ্ট ধরনের কোমলতা টের পেতে থাকি। যখন সে নিজেকে অস্কারের সঙ্গে ভবিষ্যৎজীবন কাটানোর কথা বিশ্বাস করায়, তার আইভ্রু সুনিপুণভাবে কোমল করে দেয় সেগুলোর গাঢ় হরাইজন্টাল স্ল্যাশগুলোকে; আর তার চোখের ওপরে কার্ভ ফুটে ওঠতে শুরু করে, চেহারাটা হয়ে ওঠে আরও ভঙুর। এ সবই সিনেমাটির অবিস্মরণীয় শেষ শটের প্রস্তুতি– যে শটে আমরা কাবিরিয়ার চেহারায় এটির সব অদম্য সমাধানের দেখা পাই।

ফেল্লিনি একদা বলেছিলেন, তার সৃষ্ট সব চরিত্রের মধ্যে কাবিরিয়া একমাত্র, যেটি নিয়ে তিনি এখনো উদ্বিগ্ন। ১৯৯২ সালে ফেল্লিনিকে যখন অনারারি অস্কার দেওয়া হয়, মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তাকিয়ে থেকেছিলেন সেই সামনের সারিতে, যেখানে মাসিনা বসা; আর করেছিলেন তাকে কাঁদতে বারণ। ক্যামেরা ‘কাট’ করে মাসিনার মুখের ওপর গিয়ে পড়ল, আর অশ্রুর ভীড় থেকে ভেসে ওঠল তার সাহসী হাসিমুখ– যেন স্বয়ং কাবিরিয়া!

নাইটস অব কাবিরিয়া

রজার ইবার্ট । ১৯৪২-২০১৩; সিনে-সমালোচক, যুক্তরাষ্ট্র
সূত্র । রজার ইবার্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক; ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ফেদেরিকো ফেল্লিনি ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]

মন্তব্য লিখুন