চান্তাল আকেরমানের সঙ্গে আলাপ [৭/৮]

0
57
চান্তাল আকেরমান

সাক্ষাৎকার গ্রহণ । নিকোল ব্রেনেজ
অনুবাদ । রুদ্র আরিফ

অনুবাদকের নোট
চান্তাল আকেরমান [৬ জুন ১৯৫০-৫ অক্টোবর ২০১৫]। বেলজিয়ান ফিল্মমেকার। সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম স্বতন্ত্র বিপ্লবী অ্যাকটর-ডিরেক্টর। ২০১১ সালের গ্রীষ্মকালে, সদ্যনির্মিত সিনেমা “আলমেয়ার’স ফলি”র সূত্রধরে, নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ সেই সাক্ষাৎকারের সপ্তম কিস্তি প্রকাশিত হলো এখানে…

আগের কিস্তি পড়তে ক্লিক করুন এই বাক্যে


সা ক্ষা ৎ কা র

চান্তাল আকেরমান
ব্লো আপ মাই টাউন
ফিল্মমেকার ও অ্যাকট্রেস । চান্তাল আকেরমান

প্রসঙ্গ : প্ররোচনা

নিকোল :: বললেন, নিজেকে আড়ালে লুকিয়ে রাখতেন আপনি; কিন্তু আপনার কাজগুলোর প্ররোচিত করার একটি বিস্ময়কর শক্তিও রয়েছে। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও আপনি ভীষণ প্রলুব্ধকারী হয়ে ওঠতে পারতেন; যেমন ধরুন, ২০০৮ সালের ভেনিস বিয়েন্নালেতে [আর্ট এক্সিবিশন; ইতালি] আপনি জনসমক্ষে আমেরিকান সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করতে এতটুকুও দ্বিধা করেননি।

চান্তাল :: ওহ, আমার ঠিক মনে পড়ছে না। তবে নিজের কাজের মধ্যে, আমি প্রলুব্ধকারী নই। ব্যক্তিজীবনে, যখন সেটি কোনো আশু প্রতিক্রিয়ার ব্যাপার ঘটে, আমি কোনো শব্দই এতটুকু অস্বাভাবিক জোরে উচ্চারণ করি না। জানি না কী বলব; কেবল আমজনতার বিস্তৃত দুনিয়াটির বেলায়ই আমি প্রলুব্ধকারী হয়ে ওঠতে পারি, আমি বলে দিতে পারি যেকোনো কিছু; আমার কাছে তখন সবই সমান। আমি সাধারণত একটি ঝলসিত পৃথিবীর নীতি অনুসরণ করি।

নিকোল :: তবু, স্বাধীনতা প্রকাশের একটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বে আপনাকে আপনার কাজ পরিণত করেছে। আপনি একটা নিজস্ব জায়গা করে নিতে পেরেছেন, এবং হয়ে উঠেছেন শৃঙ্খলভাঙার প্রতীক।

চান্তাল :: ১৯৬৮ সালে আমার বয়স ছিল ১৮ বছর। সে বছরের নভেম্বরে ব্লো আপ মাই টাউন শর্টফিল্মটি বানিয়েছি। নারীদের কাছে ১৯৬৮ সালটি ছিল ক্যালেঙ্কারির বছর; যৌনতার প্রশ্নে তখনো নিজেদের পছন্দ বেছে নিতে পারতাম না আমরা। এ ধরনের পুরো রেওয়াজের পুনর্বিবেচনাটি হয়েছে পরে; তার আগ পর্যন্ত, আমাদেরকে স্রেফ ভান করতেই হতো।

কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব কিংবা শৃঙ্খলভাঙার প্রতীক হয়ে ওঠা– দেখুন, নিজেকে মোটেও এভাবে ভাবি না আমি।

প্রসঙ্গ : অনুভূতিজাত জীবন ও রেসিস্ট্যান্স

নিকোল :: রেসিস্ট্যান্স নিয়ে আপনার সিনেমা বানানোর আগ্রহ আছে কি না– এ কথা জানতে চেয়েছেন আমার ইতিহাসবিদ বন্ধু অলিভিয়্যে ভিয়্যেভোর্কা।

চান্তাল :: ফ্রান্স আমাকে টানে না।

নিকোল :: আপনার বেলায় মুহূর্তেই আমি জ্যঁ ম্যুলার বদলে সোফি শ্যলের কথা ভেবেছিলাম।

চান্তাল :: আসলে, অরোরা ক্লেমোঁ এটা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বন্দিশিবিরসংক্রান্ত যেকোনো কিছুর ভাবনা থেকেই নিজেকে আমি সরিয়ে রাখতে চাই; আমি এটির মধ্যে এতটাই আটকে গেছি, আমার একটু দম নেওয়া দরকার। আমি বরং গান গাইব! সিনেমা না হয় অন্যরাই বানাক।


আমি
বরং গান
গাইব! সিনেমা না
হয় অন্যরাই বানাক

তবু, আমি আমার বাবার একটি ঘটনা আপনাকে শোনাতে চাই– যিনি ইয়েলো স্টার পরতে রাজি হননি। পরিণামে তার শরীরে এত রত্তি চামড়াই কেবল আস্ত ছিল। ফলে জীবিকানির্বাহের জন্য তাকে লুকিয়ে বাঁচতে হয়েছে। একদিন তিনি ট্রামে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন, জনৈক এসএস [নাৎসি] অফিসার সেটিতে ওঠল, আর গিয়ে বসল বাবার ঠিক মুখোমুখি। জন্মগতভাবে সহজাত ইহুদি অনুমানশক্তি ছিল বাবার। নিজেকে তিনি বললেন, ‘আমাকে কেটে পড়তে হবে’। কিন্তু তিনি নড়লেন না; বরং নাৎসি অফিসারটিই শেষ পর্যন্ত নেমে পড়ল।

এটিও এক ধরনের রেসিস্টেন্স বা সহনশীলতা। যুদ্ধের পুরোটা সময় আমার দাদীও সহ্যশক্তি দেখিয়েছেন; নিজেকে ধরে রেখেছেন তিনি; যুদ্ধের পরে হয়ে গেছেন বদ্ধউন্মাদ। আমার বাবা সেদিন ট্রামে যেমনটা করেছিলেন, এমনি করে হাজারোভাবে একজন মানুষের পক্ষে প্রতিরোধশক্তি ধরে রাখা সম্ভব– ছোট ছোট এ বিষয়গুলো আমার ভালোলাগে।

নিকোল :: বাস্তবে, আপনাকে যেসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেগুলোতে আপনি ভীষণ সহ্যশক্তির পরিচয় দিয়েছেন।

চান্তাল :: কখনো কখনো। এখন আমার যে জিনিসটার দরকার, তা হচ্ছে– চপলতা। আমি জীবনের এমন একটি সময়ে রয়েছি, যখন আমার চপলতার অনুভূতি পাওয়া ভীষণ দরকার।

নিকোল :: এটি কোত্থেকে আসবে?

চান্তাল :: আমি ঠিক জানি না; দশ বছর পর আপনাকে বলতে পারব।

ভের্নার শ্রোয়েটার
মারিয়া ক্যালাস পোর্ট্রেট
ফিল্মমেকার । ভের্নার শ্রোয়েটার

প্রসঙ্গ : মারিয়া ক্যালাসকে নিয়ে ভের্নার শ্রোয়েটারের ১৯৬৮ সালের এইট মিলিমিটারের ফিল্মগুলো

চান্তাল :: ১৯৭১ সালে [জার্মানির] কোলন [শহরে] এই সিনেমাগুলো [ক্যালাস ওয়ার্কিং লুসিয়া, মারিয়া ক্যালাস পোর্ট্রেটক্যালাস টেক্সট মিট ডোপেলবেলুশটুং] আবিষ্কারের পর থেকে ভের্নারের সম্পর্কে সবচেয়ে সুন্দর যে স্মৃতি আমার মনে গেথে আছে, তার পর সেই সিনেমাগুলো আর কোনোদিন দেখিনি।

ভের্নার তখন কোলনে ছিলেন না। তার সঙ্গে বেলজিয়ামে, ১৯৬৯ সালে দেখা হয়েছিল আমার; সিনেমাটেক রয়েলের [ফিল্ম আর্কাইভ; বেলজিয়াম] ডিরেক্টর জ্যাক লেদ্যু তাকে নিয়ে এসেছিলেন। ভীষণ সুদর্শন ছিলেন ভের্নার; সব ভাষাতেই কথা বলতেন; ছিলেন আবেদনজাগানিয়া– উত্তরাধিকারসূত্রে নয়, বরং স্বশিক্ষায় স্পষ্টতই ছিলেন ভীষণ মার্জিত। পরস্পরের সঙ্গে এক তুখোড় বোঝাপড়া হয়েছিল আমাদের।

নিকোল :: ২০০৮ সালে ভেনিসে তার দেওয়া দুর্দান্ত বয়ানটি আপনি ক্যামেরাবন্দি করেছেন।

চান্তাল :: হ্যাঁ; তবে পুরোটা রেকর্ড করিনি; শেষাংটা নিশ্চয়ই হোসে লুইয়ের কাছে আছে। তিনি যেন পুরস্কার পান– আমি সত্যিকারঅর্থেই যেকোনোমূল্যে লড়েছিলাম।

ডগলাস সার্ক
ইমিটেশন অব লাইফ
ফিল্মমেকার । ডগলাস সার্ক

প্রসঙ্গ : ডগলাস সার্ক ও ‘রিটেন অন দ্য উইন্ড’; এবং ফাসবিন্ডার ও ‘ইন অ্যা ইয়ার উইথ থার্টিন মুনস’

চান্তাল :: রিটেন অন দ্য উইন্ড সিনেমার শিরোনামটি খুবই সুন্দর। মেলোড্রামার মধ্যে ভীষণ বিধ্বংসীরূপ জাহির করতে ডগলাস সার্ক ছিলেন বদ্ধপরিকর। ইমিটেশন অব লাইফ-এর কথা যদি ভাবেন, এবং একজন কালো নারী ঠিক কেমনটা অনুভব করছে– সেই একই অনুভূতি কোনো শ্বেতাঙ্গ দর্শককে অনুভব করানোর তার যে তরিকা– সেদিকে খেয়াল করলেই ব্যাপারটি বুঝতে পারবেন। ফাসবিন্ডারের ওপর সার্কের ভীষণ প্রভাব পড়েছে ঠিকই, তবে এ বিষয়টিকে আরও অনেক বেশি রূঢ়তার সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন তিনি [ফাসবিন্ডার]।

কারও বিরুদ্ধেই অসন্তোষ ধরে রাখার মনোভাব সার্কের মধ্যে নেই; তার সিনেমায় বিরক্তিপ্রকাশের লেশমাত্র নেই। সার্কের সচেতন আকাঙ্ক্ষা যা-ই হোক না কেন, সেটি স্বয়ং সিনেমাটির মধ্যে সম্পূর্ণভাবে অতিক্রান্ত হয়। সেটিই সিনেমাটিকে শক্তি দেয়, সৌন্দর্য দেয়।

নিকোল :: হোক সিনেমা কিংবা ইনস্টলেশন– সবকিছুতে আপনি বরাবরই উচ্ছ্বাসভাব ও মনস্তত্ত্বকে পরিহার গেছেন।

চান্তাল :: ব্রেসোঁর প্রতি যেহেতু আমার সবসময়ই ঝোঁক ছিল, আমি মনে করি, উল্টো পথের ভেতর দিয়ে, মেলেড্রামার ভেতর দিয়ে গেলেও এসেনশিয়াল মেটারিয়ালিটি ঠিকই একই থাকবে। ব্রেসোঁ ও সার্ক– দুটি বিপরীত রাস্তা শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে গিয়ে মিলিত হয়েছে; পিকপকেট-এর [ব্রেসোঁ; ১৯৫৯] ফাইনাল শটটিকে ডগলাস সার্কের কোনো সিনেমার এন্ডিংয়ে জুড়ে দেওয়া সম্ভব। সার্ক ইতোমধ্যেই দান্তের ইনফার্নোর [‘ডিভাইন কমেডি’ মহাকাব্যের প্রথম পর্ব] দ্বারস্থ হয়েছেন; এবং ব্রেসোঁ এখনো অতিক্রমণের দোরগোড়ায় রয়েছেন। আমি দান্তের দ্বারস্থ হয়েছি আগুনের জন্য।

নিকোল :: রিটেন অন দ্য উইন্ড-এ ভারোত্তক যন্ত্র ডেরিকস ও তৈলক্ষেত্রের অগ্নির দেখা মেলে।

চান্তাল :: তৈলক্ষেত্রের বিপদ হলো, এটি সর্বদাই ভূমির উর্বরতা ও সমুদ্রকে কলুষিত করার ইঙ্গিত দেয়।

মাইকেল স্নো
ব্যাক অ্যান্ড ফোর্থ
ফিল্মমেকার । মাইকেল স্নো

প্রসঙ্গ : মাইকেল স্নো ও ‘লা রিজিয়ন সেন্ত্রালে’

চান্তাল :: আমার যখন ২১ বছর বয়স, নিউইয়র্কে থাকি, তখনই ফিল্মটি দেখেছি। এজন্য বাবেত মগোঁলৎকে ধন্যবাদ জানাই। কেননা, তিনি আমাকে এমন একটি জগতে নিয়ে গিয়েছিলেন– যেটির খোঁজ জানা ছিল না আমার, যে দুনিয়াটি সে সময়ে ছিল খুবই ছোট ও খুবই গুপ্ত। যে সংবেদন-জাগানিয়া অভিজ্ঞতা আমি পেয়েছিলাম, সেটি অসাধারণ রকমের দাপুটে ও শারীরিক।


যে সংবেদন-জাগানিয়া
অভিজ্ঞতা আমি
পেয়েছিলাম,
সেটি
অসাধারণ রকমের
দাপুটে ও শারীরিক

কোনো কাহিনি দেখানো ছাড়াই একটা সিনেমা বানিয়ে ফেলা সম্ভব– এ আমার জন্য ছিল এমনই এক উদ্ভাসন। ব্যাক অ্যান্ড ফোর্থ-এ [মাইকেল স্নো; ১৯৬৯] ক্লাসরুমের মুভমেন্ট সহকারে সেই ট্র্যাকিং শটটি– যে ক্লাসরুমে কোনোকিছুই হচ্ছে না, তবু শটটি নিখাঁদভাবে স্থানানুগ হয়ে উঠে, হিচককের সিনেমার মতোই টেনশন ও সাসপেন্সের একটি পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। এগুলো দেখে আমি শিখেছি, একটা ক্যামেরা মুভমেন্টের পক্ষে, ক্যামেরার স্রেফ একটা মুভমেন্টের পক্ষে যেকোনো ন্যারেটিভের মতোই শক্তিধর কোনো আবেগাত্মক আবহ তৈরি করে ফেলা সম্ভব।

নিকোল :: আপনার সে সময়ের সিনেমাগুলো এইসব নতুন অভিজ্ঞতার একেকটি আশু রিওয়ার্কের ফল।

চান্তাল :: হ্যাঁ; তবে একইসঙ্গে সেগুলো একেবারেই আলাদাও বটে। আমি ফিল্মগুলোকে সায়েন্টিফিক এক্সিপেরিমেন্টেশন করে তুলতে চাইনি। স্নোর প্রোগ্রামেটিক স্টাইলটি আমি আত্মস্থ করিনি; কোনো হাইপোথিসিসকে স্বীকার কিংবা অস্বীকার করার মধ্যে আমি নেই। সেদিক থেকে আমি স্নোর চেয়ে আলাদা। তবে তার সিনেমা আমাকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে।

নিকোল :: ন্যারেটিভ থেকে ফেলে দেওয়া জিনিসগুলোকে ভবিষ্যতে আপনার ইনস্টলেশনে ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছেন?

চান্তাল :: না। কেননা, আমি কোনো আইডিয়া নিয়ে নিখাঁদ এক্সপেরিমেন্ট করার মধ্যে নেই। আমি কিছু একটা খুঁজছি; কী সেটি– জানি না; ধারণার ওপর কখনোই ছড়ি ঘুরাতে আমি নারাজ। তাছাড়া, স্নো ছিলেন একজন ভয়ঙ্কর রকমের রমনীমোহন পুরুষ; তিনি আমাকে তার ওপরতলার চিলেকোঠায় থাকতে দিয়েছিলেন। তখন আমার ছিল অসহায়, অথচ সন্তুষ্ট অবস্থা।

জ্যঁ-মারি স্ত্রু ও দানিয়াল হুইয়্যে
মোজেস অ্যান্ড অ্যারন
ফিল্মমেকার । জ্যঁ-মারি স্ত্রু দানিয়াল হুইয়্যে

প্রসঙ্গ : জ্যঁ-মারি স্ত্রু ও দানিয়াল হুইয়্যে এবং ‘মোজেস অ্যান্ড অ্যারন’

চান্তাল :: সিনেমাটি [মোজেস অ্যান্ড অ্যারন] আমি সে সময়ে কান ফেস্টিভ্যাল দেখেছি। বিষয়বস্তুটি আমাকে ভীষণ রোমাঞ্চিত করেছিল। খুবই সুন্দর, মনোমুগ্ধকারী, বুদ্ধিদীপ্ত ছিল এটি : এ এমনই এক সৌন্দর্য, যেটি সুন্দর হতে নারাজ, এবং যেটি তা ঠিকই অর্জন করেছে। অ্যারন যখন সোনার বাছুরটিকে [গোল্ডেন কাফ : ইহুদিধর্মের প্রতিমাবিশেষ] উত্তোলন করে, তার কারণে সব কমান্ডমেন্ট ভেঙে পড়ে; এর ফলে সেগুলো কেবল কমান্ডমেন্টসই নয়, বরং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আইডিয়াগুলোও ভেঙে পড়ে।

স্ত্রু ও হুলিয়্যের বস্তুবাদ সেগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলে– যা কি না আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মজেস ও অ্যারনের মধ্যকার ভিন্নতাটি সেই নিষ্ক্রমণের প্রশ্নটিকে উত্থাপন করে– যেটি মনুষ্যজাতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত : হোক সেই মানুষটি ইহুদি, আরব কিংবা অন্য কেউ। এখানে সবই আছে : আইন, আইন খেলাপ, কৃতদাসদের নিষ্ক্রমণ, প্রতিমা। আমরা এখানো এখানেই আছি, এবং এখনো এটিকে ঠিকঠাক বুঝে ওঠতে পারিনি। পশ্চিমা ও সেমিটিক দুনিয়ায় এক্সোডাস [হিব্রু বাইবেলের দ্বিতীয় খণ্ড] একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকাল । ১৫ জুলাই ও ৬ আগস্ট ২০১১; প্যারিস, ফ্রান্স 
সূত্র । লোলা জার্নাল

অষ্টম ও শেষ কিস্তি পড়তে এই বাক্যে ক্লিক করুন

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক; ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ফেদেরিকো ফেল্লিনি ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]

মন্তব্য লিখুন