এলিসেও সুবিয়েলা : যৌনতার স্থাপত্য– মৃত্যুর উপপাদ্য/ অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

0
63

লিখেছেন । অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

এলিসেও সুবিয়েলা
জন্ম । ২৭ ডিসেম্বর ১৯৪৪; বুয়েনোস আইরেস, আর্হেন্তিনা
মৃত্যু । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬; বুয়েনোস আইরেস, আর্হেন্তিনা

তারপর, –শীত-হেমন্তের শেষে বসন্তের দিন
আবার তো এসে যাবে;
এক কবি, –তন্ময়, –সৌখিন,–
–জীবনানন্দ দাশ

এলিসেও ইগনাসিও সুবিয়েলা। জন্ম হয়েছিল ১৯৪৪ সালের সাতাশে ডিসেম্বর। বুয়েনোস আইরেসে। তখন পেরোনতন্ত্র। জাতিসত্তা তৈরির তাগিদ প্রতিটি সচেতন শিল্পী মানুষকে জেরবার করছে। অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অস্থিরতা– ঔপনিবেশিকতায় বিপন্ন, যুদ্ধপরবর্তী মিত্রশক্তির ও আমেরিকার দেশগুলিকে বিপর্যস্ত করছে। এ রকমই এক অস্থির সময়ে বেড়ে উঠবেন সুবিয়েলা। নয়া-উপনিবেশবাদ ও অনুন্নয়নের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আমরা কিছুটা বিস্মিত হয়ে দেখব তার অনুশীলন ও প্রকাশরীতির বাস্তবতা বা বলা ভালো অতিবাস্তবতাটিকে। সে রিয়্যালিটি, সমাজ-বাস্তবতা, সচেতনতা জন্ম দিয়েছিল ‘তৃতীয় সিনেমা’র– এবং ততদিনে সুবিয়েলা বেড়ে ওঠার কালে ইতিমধ্যেই চীনের প্রাচীরের মতো বিশালতা নিয়ে মাথা তুলেছেন ফের্নান্দো বিররি, তৈরি হচ্ছেন ‘পিনো’ সোলানাস চুল্লীর দিন চলচ্চিত্রায়িত করার লক্ষ্যে; তখন সেইসব লাল রোদে ঘুম ভাঙছিল তারও, এলিসেও সুবিয়েলারও চোখে। কিন্তু চোখের ভেতরেও থাকে যে চোখ– অন্য আরও কোনো বোধ– বোধহয় তাই পীড়ন করে থাকবে সুবিয়েলাকে। সোলানাস-খেতিনোর ‘তৃতীয় সিনেমা’ কাঁপানো প্রবল সময়ে ক্রিয়াশীল থেকেও তিনি হাঁটতে থাকছেন রাজপথ থেকে অল্প দূরে। একটু অন্য লয়ে। মন্থরতার ছন্দ তাতে। ভেতরে ভেতরে জিইয়ে রাখছেন আত্মদর্শনের অভিপ্রায়। নিঃশব্দে। কালে দিনে জুড়তে থাকবেন তাতে স্বদেশ-সময়-স্বজাতির কালজ্ঞানের গোপন নথি– তৈরি হবে এল লাদো ওসকুরা দেল কোরাজোন বা দ্য ডার্ক সাইড অব দ্য হার্ট-এর মতো চলচ্চিত্র। জীবন-মৃত্যু-প্রেম-আত্মখোঁজের ছাউনির নিচে।

এলিসেও সুবিয়েলা
দ্য ডার্ক সাইড অব দ্য হার্ট
ফিল্মমেকার । এলিসেও সুবিয়েলা

সুবিয়েলা কবি। আত্মনিমগ্ন দার্শনিক। প্রেম ও মৃত্যু তার কাছে প্যাশন। তাই তাকে দলিলে নিক্ষেপ করেন বর্জাইস অক্ষরে। ষাটের, সত্তরের মূল আর্জেন্তিনীয় ধারা থেকে দূরে– অল্প সংগোপনে।

আমাদেরও জীবনের লিপ্ত অভিধানে
বর্জাইস অক্ষরে লেখা আছে অন্ধকার দলিলের মানে
–জীবনানন্দ দাশ

শুরু থেকেই নিজের বিষয় খুঁজে নিতে সচেষ্ট দেখি শিল্পীকে। অধ্যয়ন করেছেন দর্শন। সাহিত্য সহযোগে। বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘সিনেমাটোগ্রাফি’ বা ক্যামেরা-ভাষার পাঠ নেন ‘লা প্লাতা’ সিনে-স্কুল থেকে। উনিশ বছর বয়সে তৈরি করলেন প্রথম ছায়াচিত্র– স্বল্পদৈর্ঘ্যরে। নাম ছিল উন লার্গো সিলেনশিও। সেটা ১৯৬৩ সাল। ‘ভিনিয়া দেল মার’-এর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারও জিতে নিলেন। এরপর কিছু সহপরিচালকের কাজ– অন্নরুটির জোগাড়ে। ফের তৈরি করলেন স্বল্পদৈর্ঘ্যরে আরেকটি ছবি। ছবির বিষয় ও চরিত্রায়ন অভিনব। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ‘এক্সট্রা’ অর্থাৎ অবহেলিত ‘মজদুর’ চরিত্রাভিনেতাদের নিয়ে তৈরি হলো এ ছবি। বিষয় বৈচিত্রে তো বটেই, ‘ট্রিটমেন্টে’ও ছবিটি অচেনা সরণির। ‘নাশিওনাল দে সিনেমাতোগ্রাফিয়া’ সুবিয়েলাকে এজন্য শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালকের শিরোপা দেয়।

এলিসেও সুবিয়েলা
উন লার্গো সিলেনশিও
ফিল্মমেকার । এলিসেও সুবিয়েলা

ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্ররীতি যখন তার সহজাত, তখন তার তো দৃষ্টি থাকবেই ক্ল্যাসিক সাহিত্য চলচ্চিত্রায়নের দিকে। ১৯৭০-এই জন্ম নিয়েছিল সেই ইচ্ছা। প্রবাদপ্রতিম উপন্যাস লোস পাসোস পেরদিদোসকে চলচ্চিত্রায়িতক করার কথাও হয়েছিল সৃষ্টিকর্তা আলেহো কার্পেন্তিয়েরের সাথে। কিন্তু কপিরাইটের সমস্যা দেখা দিলো। বইটির স্বত্ব অন্য কারোর দখলে থাকায় স্বয়ং কার্পেন্তিয়ের নিজে বইটির নাম সামান্য অদল-বদল করে আরেকটি সংস্করণও প্রকাশ করে দিলেন– যাতে সুবিয়েলা উপন্যাসটির স্বত্ব পেতে পারেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৯৯ তার কেটে গেল এই অপার চলচ্চিত্রায়নে। কিন্তু যত দিন গেল ততই স্বত্ব-সম্বন্ধের আইনি প্যাঁচে জড়িয়ে যেতে থাকলেন। শেষ হলো না স্বপ্নের সিনেমা। দমলেন না সুবিয়েলা। বদলে লিখলেন স্বপ্নভঙ্গের কবিতা– তার পরবর্তী ছবি– লা কনকিস্তা দেল পারাইজোদ্য কনকোয়েস্ট অব প্যারাডাইস। তাই সেভাবে দেখতে গেলে এই ছবিটিকেই সুবিয়েলার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রকর্মের স্বীকৃতি দিতে হয়। ১৯৮১ সালে মুক্তি পেল ছবিটি। ছবিতে ‘খোঁজ’-এর মেটাফর ব্যবহার করেছেন সুবিয়েলা। বহুস্তরিক এই খোঁজ– পিতার সন্ধান। আসলে দর্শক জেনে যান সার্চ অব অ্যা সার্টেইন ট্র্যাডিশন— ঐহিত্য-ইতিহাসের খোঁজ। খোঁজ অপার উন্মোচনের। এই খোঁজই চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে সোলানাসেও, তার জার্নি ছবিতে।

এলিসেও সুবিয়েলা
দ্য কনকোয়েস্ট অব প্যারাডাইস
ফিল্মমেকার । এলিসেও সুবিয়েলা

সুবিয়েলার কাব্যিক ও মেটাফিজিক্যাল আন্তরণ যে জন্মলগ্নেই দর্শক টানবে না– এ কথা প্রায় বিরল-শিল্পী সন্ধানীর কাছে স্বতঃসিদ্ধ সমান। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল।

শিল্পীর সেসব পূর্বাভাস জানা থাকে। হাত দিলেন দ্বিতীয় ছবির কাজে– ওমরে মিরান্দো আল সুদেস্তে। আন্তর্জাতিক টাইটেল– ম্যান ফেসিং অ্যাট সাউথ ইস্ট। ১৯৮৬-তে মুক্তি পেল। ১৯৮৯-তে তুললেন লাস্ট ইমেজেস অব দ্য শিপরেক। বিরানব্বইতে দ্য ডার্কসাইড অব দ্য হার্ট। ততদিনে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক আসরে তার ছবি স্বীকৃত হয়েছে।

তার দ্বিতীয় ছবিটি [ম্যান ফেসিং অ্যাট সাউথ ইস্ট] থেকেই সাইকোঅ্যানালিসিস ও দর্শন তার ছবিতে প্রচলিত ‘সৌন্দর্যরক্ষণের’ ধারণাকে ভেঙে ফেলেছে। ন্যাশনাল সিনেমা, এমনকি ‘তৃতীয় সিনেমা’রও মানচিত্রের বাইরে একাকী তন্ময় এই কবি তার প্রেম-মৃত্যুর উন্মাদনা নিয়ে। এই একাকীত্ব তাকে এতটাই দর্শকের কাছে আড়ালে রেখেছিল যে স্বদেশে ছবির প্রিমিয়ারেরও ব্যবস্থা হলো না। যেতে হলো আমেরিকা। জিততে হলো পাঁচটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এইবার স্বদেশে ডাক পড়ল। দেখানো হলো ‘প্রিমিয়ার’। পেলেন বহু প্রতীক্ষিত দর্শক-সমাদর। কিন্তু এখনো না। প্রডিউসার পেলেন না। আত্মীয়-বন্ধুরা গায়ে পড়ে উপদেশ দিলো– ‘আমেরিকা চলে যাও’। সুবিয়েলা চিঠি লিখলেন প্রেসিডেন্টকে– ‘Senor presidente, mi familia no quiere vivir en Hollywood’। ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট, আমার পরিবার হলিউডে যেতে ও থাকতে প্রবল অনিচ্ছুক’। কি সহজ নিষ্পাপ আর্তি! প্রেসিডেন্ট দ্রবীভূত হলেন। দেশের তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কালেও নিদারুণ আর্থিক দুরাবস্তাতেও দেশে থেকে ছবির কাজ করে গেছেন। রাজনৈতিক ডামাডোল– অনুন্নয়নের মধ্যেও চরম লিরিকধর্মিতা বজায় রাখা তার ছবির অন্য বৈশিষ্ট্য।

এলিসেও সুবিয়েলা
ম্যান ফেসিং অ্যাট সাউথ ইস্ট
ফিল্মমেকার । এলিসেও সুবিয়েলা

ডার্কসাইড অব দ্য হার্ট— তার জীবন ও মৃত্যুবোধের মানবিক দলিল। তার এই উপকথায় হৃদয়কে অলক্ষ্য থেকে রক্ষা করা প্রেমের পরীরা পর্দায় ভেসে ওঠে। উন্মাদ এক রাজকুমারকে তারা ‘অন্ধকারের উৎস’ হতে আলোর সন্ধান দেয়। খিরোন্দো, খেলমান এবং বেনেদেত্তির কবিতার স্থাপত্য বেয়ে এগিয়ে চলে সুবিয়েলার ক্যামেরা।

এলিসেও সুবিয়েলা
ডোন্ট ডাই উইদাউট টেলিং মি হোয়্যার ইউ আর গোয়িং
ফিল্মমেকার । এলিসেও সুবিয়েলা

ডার্কসাইড অব দ্য হার্ট-এর দ্বিতীয়ভাগও তুলে ফেলেছেন। ২০০১ সালে। এর আগে অবশ্য নির্মিত হয়ে গেছে ডোন্ট ডাই উইদাউট টেলিং মি হোয়্যার ইউ আর গোয়িং-এর মতো ছবি। সাতানব্বই সালে নির্মিত হয়েছে লিটল মিরাকলসপেকেনিয়োস মিলাগ্রোস। আবারও ফ্যান্টাসি। অতি-বাস্তব। ম্যাজিক। দর্শন। সর্বোপরি প্রেম ও তার সুবিয়েলিয় ব্যাখ্যা। ছবিটি গার্সিয়া মার্কেজ, বোরহেস, কার্পেন্তিয়ের ধারাকেই সমৃদ্ধ করে। টিভির জন্যও কাজ করেছেন। সিরিজ তুলেছেন। বিশুদ্ধবাদীরা নাক উঁচিয়েছেন কেউ কেউ। তাতে কি। চলচ্চিত্রীর আরাধ্য এক ‘চলমান চিত্রমালা’। যাকে গার্সিয়া মার্কেজ বলবেন ‘ইমেজেস ইন মোশন’। তার ২০০৫-এর ছবিটিও হৃদয়-সম্বন্ধীয়– লিফতিং দে কোরাজোন। সুবিয়েলার আলোকসম্পাত আসলে মুখ ঘুরিয়ে থাকে হৃদয়ের আঁধার পুরে– যেখানে প্রেম, মৃত্যু, যৌনতা স্তরে স্তরে নির্মাণ করে এক সুররিয়্যাল অতিবাস্তবীয় স্থাপত্য। বোনা হয় ইতিহাস জাদুবাস্তবের তলে তলে। এই তো লাতিন আমেরিকা! যেমন সাহিত্যে গার্সিয়া মার্কেজ, বোরহেস, কার্পেন্তিয়ের– তেমনই সিনেমায় বিররি, সোলানাস, সুবিয়েলারা–

মৃত্যুর ব্যাট হাতে মহাকাল এভাবেই
আমাদের চেতনার পিচ থেকে তুলে নেবে সময়ের রান
সেঞ্চুরীর পর সেঞ্চুরী– খ্রিষ্টপূর্ব থেকে খ্রীষ্টাব্দ
ছেঁড়া জামা ছেড়ে দিয়ে নতুন বসন– এক দেহ থেকে
উৎপন্ন হবে অন্য দেহ– এইভাবে রিলে হবে
ইতিহাস সাহিত্য সভ্যতা…
–ফাল্গুণী রায়


এলিসেও সুবিয়েলা
লিটল মিরাকলস
ফিল্মমেকার । এলিসেও সুবিয়েলা

এলিসেও সুবিয়েলার ফিল্মোগ্রাফি

১৯৬৩ । দ্য লং সাইলেন্স [Un largo silencio]
১৯৬৫ । সব্রে তোদাস এস্তাস এস্ত্রেলাস [Sobre todas estas estrellas]
১৯৬৯ । আর্হেন্তিনা, মায়ো দে ১৯৬৯ : লস কামিনোস দে লা লিবারেশন [Argentina, mayo de 1969: Los caminos de la liberación]
১৯৮১ । দ্য কনকোয়েস্ট অব প্যারাডাইস [La conquista del paraíso]
১৯৮৬ । ম্যান ফেসিং সাউথ-ইস্ট [Hombre mirando al sudeste]
১৯৮৯ । লাস্ট ইমেজেস অব দ্য শিপরেক [Últimas imágenes del naufragio]
১৯৯২ । দ্য ডার্ক সাইড অব দ্য হার্ট [El lado oscuro del corazón]
১৯৯৫ । ডোন্ট ডাই উইদাউট টেলিং মি হোয়্যার ইউ আর গোয়িং [No te mueras sin decirme adónde vas]
১৯৯৬ । ওয়েক আপ লাভ [Despabílate amor]
১৯৯৭। লিটল মিরাকলস [Pequeños milagros]
২০০০ । দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব গড [Las aventuras de Dios]
২০০১ । দ্য ডার্ক সাইড অব দ্য হার্ট-২ [El lado oscuro del corazón 2]
২০০২ । অ্যাঞ্জেল [Angel; টিভি-ফিল্ম]
২০০২ । এল দেস্তিনো দে অ্যাঞ্জেলিকা [El Destino de Angélica; টিভি-ফিল্ম]
২০০২ । রিলেশনেস কার্নালেস [Relaciones carnales; টিভি-ফিল্ম]
২০০৫ । হার্টলিফট [Lifting de corazón]
২০০৫ । লার্গা দিস্তানসিয়া [Larga distancia; টিভি-সিরিজ]
২০০৭ । দ্য ইফেক্ট অব লাভ [El resultado del amor]
২০০৮ । ডোন্ট লুক ডাউন [No mires para abajo]
২০১২ । ভ্যানিশিং ল্যান্ডস্কেপস [Paisajes devorados]
২০১২ । হোস্টেজ অব অ্যান ইলুশন [ Rehén de ilusiones ]


গ্রন্থসূত্র : সিনেমার আর্জেন্তিনা/ অনামিকা বন্দোপাধ্যায়
প্রকাশক : প্রতিভাস, কলকাতা, ভারত
প্রথম প্রকাশ : কলকাতা বইমেলা, ২০০৭

লেখকের অনুমতিক্রমে পুনঃপ্রকাশিত

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
চলচ্চিত্রকার, লেখক, টেকনিশিয়ান,হিউম্যান রাইটস কর্মী; ভারত ।। আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রের অধ্যাপনা করছেন ।। ফেমিনিস্ট ও বর্ণবিদ্বেষী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ।। প্রকাশিত গ্রন্থ : টালমাটাল; উসিমুসি করে বুক; সিনেমার স্পেন; সিনেমার আর্জেন্তিনা ইত্যাদি ।। চলচ্চিত্র : রেড; ১৭০০ কেলভিন; দ্য থার্ড ব্রেস্ট; টেক কেয়ার; টেইলার মেড ইত্যাদি

মন্তব্য লিখুন