অরসন ওয়েলসের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার । কিস্তি ৪:৫

2
83

সাক্ষাৎকার । কেনেথ টাইনান
অনুবাদ । রুদ্র আরিফ

অরসন ওয়েলস [৬ মে ১৯১৫–১০ অক্টোবর ১৯৮৫]। আমেরিকান মাস্টার ডিরেক্টর ও অভিনেতা। থিয়েটার, রেডিও ও সিনেমা– তিন মাধ্যমেই সৃজনী শিল্পগুণের কারণে তিনি বিখ্যাত। তার ‘সিটিজেন কেইন’কে অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সিনেমা হিসেবে গণ্য করে…

আগের কিস্তি পড়তে, এই বাক্যে ক্লিক করুন


অরসন ওয়েলস
দ্য ইমমরটাল স্টোরির দৃশ্য বোঝাচ্ছেন অরসন

চতুর্থ কিস্তি

কেনেথ টাইনান
থিয়েটারের সার্বিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার কোনো ভবিষ্যদ্বাণী আছে?

অরসন ওয়েলস
আমি বিশ্বাস করি, থিয়েটার হলো ব্যালে গ্র্যান্ড অপেরার মতো– যা কিনা ইতোমধ্যেই একটি সেকেলে জিনিস হয়ে গেছে। এটি এখনো আমাদের আনন্দ ও উদ্দীপনা দেয় : এটি এখনো শিল্পীকে গুণগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সুযোগ করে দেয়; আর তা হয়তো যেকোনো সময়ের চেয়ে সেরা কোনো রূপেই। কিন্তু আমাদের যুগের সঙ্গে তাল মেলানোর মতো কোনো প্রতিষ্ঠান এটি নয়; এবং এটির পক্ষে দীর্ঘ ভবিষ্যতের আশা করা অসম্ভব। থিয়েটার জিনিসটি আমাদের সবসময়ই ছিল– এমন কথা সত্য নয়। এ এক স্বপ্ন। এটিকে আমরা ইতিহাসের অল্প কয়েকটি কালেই পেয়েছি কেবল; তা এ মতের বিপরীতে যত কথাই চালু থাক না কেন। আর আমরা তো জানিই, থিয়েটার আসলে নিজের [থিয়েটার] একেবারেই শেষ পর্যায়টিতে এসে পৌঁছেছে।

কেনেথ টাইনান
নিজের পারফর্মিং আর্টস ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে, আপনার কি কখনো অনুতাপ হয়– রাজনীতিতে যাননি বলে?

অরসন ওয়েলস
কখনো কখনো খুব তিক্তভাবেই হয়। একটা সময় ছিল, যখন উইজকনসিন [রাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র] থেকে একজন জুনিয়র সিনেটর হিসেবে নির্বাচন করার কথা ভেবেছিলাম আমি; আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার কথা জো ম্যাককার্থি নামের একজনের। আপনার যদি মনে হয় পাবলিক অফিসে আপনি দরকারি ও কার্যশীল, তাহলে তা হওয়ার চেষ্টা কোনোদিনই না করার দুঃখ আপনি ভুলতে পারবেন না। নিজেকে আমি প্রলুব্ধ করেছিলাম– নিশ্চয়ই পারব। আমার বিশ্বাস, আমি একজন অভিনেতা হিসেবে যতটা না তারচেয়েও একজন পাবলিক স্পিকার হিসেবে অন্তত বেশি ভালো করার সম্ভবনা রাখি; আমি সম্ভবত মানুষের নিকটে পৌঁছানোর, তাদেরকে আলোড়িত ও সন্তুষ্ট করার সক্ষমতা রাখি। বর্তমানকালে বক্তৃতা অনেকটা অস্তিত্বহীন এক শিল্পে পরিণত হয়েছে ঠিকই, তবে যদি আমরা এমন কোনো সমাজে বাস করি– যেখানে বক্তৃতাবিদ্যাকে একটি শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেমনটা দুনিয়ার ইতিহাসে বহুকাল ধরে করে আসা হয়েছে, তাহলে আমার পক্ষে একজন বক্তা হওয়া সম্ভব ছিল।

কেনেথ টাইনান
আপনার রাজনীতি কোনগুলো? সেগুলোর কি গত ২৫ বছরে বদল ঘটেছে?


আকাঙ্ক্ষা
রাখি আমাদের
মৃত অতীতের অংশগুলোর
আরও বেশি জীবন্ত
হয়ে ওঠার

অরসন ওয়েলস
গত ২৫ বছরে প্রত্যেকেরই রাজনীতিগুলো বদলে গেছে। ফাঁপা কোনো বিষয় নিয়ে আপনি রাজনৈতিক মতামত দিতে পারেন না; এটিকে কোনো পরিস্থিতির একটি প্রতিক্রিয়া হওয়া লাগেই। আমি সবসময়ই একজন স্বাধীন সংস্কারবাদী যদিও, তবে তা আবেগাত্মক ও সাংস্কৃতিক সেকেলেপনার বিস্তৃত রেখাপাত সহকারে। ইদানিং গুরুতরভাবে ক্ষয়ে গেছে এবং মনে হয় কোনোদিনই আর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়– এমন বহু মনুষ্যরীতির প্রতি আমার প্রচণ্ড শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। যদিও আমি তেমন মানুষ, যাকে একজন প্রগতিশীল বলে ডাকা যায়; তার মানে এই নয়, অতীতের প্রতি ঘৃণা দেখাতে হবে। নিজেদের অতীতের দিনগুলোকে আমি খারিজ করে দিই না। বরং আকাঙ্ক্ষা রাখি আমাদের মৃত অতীতের অংশগুলোর আরও বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠার। আমি যদি নতুনত্বকে ধারণ করতে পারি, তার কারণ এই নয়, আমি আদর্শগুলোকে বিনষ্ট করতে কিংবা সময়গুলোর আগে চলতে চাইছি। আমার মধ্যে যদি অদম্য কোনো ব্যাপার থেকে থাকে, সেটি রেওয়াজের প্রতি অভক্তির কোনো বিষয় নয়। ‘এটির’ সঙ্গে থাকার চেয়ে বরং আমাকে সেকেলে ভাবাই শ্রেয় হবে অধিক। তবে সার্বিকভাবে, আমি এখনো উদার বামপন্থি দুনিয়ার অধিবাসী– যা কিনা পশ্চিমাবিশ্বে অস্তিত্বমান। আমি এভাবেই ভোট দিই এবং এই মানুষদের পাশেই দাঁড়াই। কোনো-কোনো বিষয়ে আমাদের মতানৈক্য হতে পারে, তবু এটিই আমার দাঁড়ানোর জায়গা।

অরসন ওয়েলস
টাচ অব ঈভল
ফিল্মমেকার । অরসন ওয়েলস

কেনেথ টাইনান
ভিয়েতনাম যুদ্ধে আপনার অবস্থান কী?

অরসন ওয়েলস
এই মুহূর্তে আমার সামনে থাকা একটি পত্রিকায় লেখা আছে, ভোটের হিসেবমতে, জনসনের [আমেরিকান প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন] ভিয়েতনাম প্রকল্পটি এখন অবনতির দিকে। যে সময়টিতে এটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে, আমার বলা যে কোনো কথাই সম্ভবত অনেক মানুষের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করবে। যুদ্ধে হারার ইতিহাস আমেরিকার নেই, এবং এর কপালে মাত্র অল্প কয়েকটিই বাজে যুদ্ধ রয়েছে; আর এটি সেগুলোর একটি।

কেনেথ টাইনান
নিজ সময়ের বহুসংখ্যক তুখোড় নারী-পুরুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে আপনার। এমন কোনো জীবিত ব্যক্তি কি রয়েছে– যার সঙ্গে এখনো দেখা করতে চান?

অরসন ওয়েলস
সুনিশ্চিত কিছু কারণে মিসেস সুকার্নো [ইন্দোনেশিয়ান ফার্স্টলেডি]; এবং মূলত কৌতূহলের জায়গা থেকে ঝু এনলাই [চীনা রাজনীতিক]– যদিও জানি না তার সম্পর্কে সবসময় যেমনটা শুনে এসেছি, এখন তিনি তেমনই ইন্টারেস্টিং রয়েছেন কিনা। হয়তো তিনি বুড়ো, খিটখিটে ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। জর্জ মার্শাল, উইন্সটন চার্চিল ও উইলসন মিঞ্জারের সঙ্গে আমার যতটা পরিচয় ছিল, আহা, যদি আরও বেশি থাকত! পোপ জনের সঙ্গে কোনোদিনই আলাপ-পরিচয় হয়নি আমার; আর এটি একটি সত্যিকারের অনুতাপের বিষয়। যদিও শুনতে খানিকটা জননেতাসুলভ লাগবে, তবু বলি, ইলজাবেথ অ্যালেন নামের এক বুড়ির সঙ্গে কথা বলতে পারলে আমার ভালো লাগত : তিনি ব্রিটিশ; তিনি প্রায় ৮০ বছর ধরে একটি বনের ভেতর টিনের কুঁড়েঘর বানিয়ে বসবাস করছেন; সবচেয়ে দুর্দান্ত সব ছবি তুলেছেন তিনি– যা আপনি হয়তো কোনোদিনই দেখেননি। সম্প্রতি তার প্রথম এক্সিবিশন হয়েছে লন্ডনে; তিনি সুমহান। তবে সবার আগে আমি চাইব রবার্ট গ্রেভসের সঙ্গে দেখা করতে। আমার মনে তিনি জীবিত কবিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বলেই নয় কিন্তু; বরং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে আপনি কী ধরনের আনন্দ পেতে পারেন– সেই শিক্ষা আমাকে তিনি বছরের পর বছর ধরে দিয়ে গেছেন বলে। এ ধরনের বিষয় আমি আরও পেতে চাইব; তবে তা কেবল সরাসরি।

অরসন ওয়েলস
দ্য আদার সাইড অব দ্য উইন্ড-এর সেটে অরসন

কেনেথ টাইনান
জীবিত কিংবা মৃত এমন কোনো মানুষ আছে– যার সঙ্গে নিজের স্থান-বদল করতে চাইবেন?

অরসন ওয়েলস
আপনার যদি আমারই মতো সৌভাগ্য থেকে থাকে, তাহলে আপনার মতো কেউ হয়ে ওঠার চাওয়াটা তো হবে এক ধরনের প্রবঞ্চনা।

কেনেথ টাইনান
আপনার প্রধান খুঁত কোনটি?


গ্রহণযোগ্য
পাপগুলোর
বেশিরভাগই
আমার মধ্যে
রয়েছে; হয়তো
অন্তত রয়েছে পরশ্রীকাতরতা

অরসন ওয়েলস
‘আক্কিদিয়া’– মানে ম্যালানকলির [বা, মনমরা] মধ্যযুগীয় লাতিন শব্দ; এবং ধীরজ। এটিকে আমি বেশিক্ষণ আচ্ছন্ন করতে দিই না ঠিকই, তবু ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে এটি আকস্মাৎ ঝেঁকে ধরে আমাকে। গ্রহণযোগ্য পাপগুলোর বেশিরভাগই আমার মধ্যে রয়েছে; হয়তো অন্তত রয়েছে পরশ্রীকাতরতা। আর রয়েছে অহংকার। এটি কোনো পাপ কিনা– আমি অবশ্য জানি না; এটিই একমাত্র জায়গা, যার উপর দাঁড়িয়ে আমি খ্রিস্টানধর্মীয় তালিকার সঙ্গে ঝগড়া পাকাই। এ যদি কোনো গুণ হয়ে থাকে, তাহলে নিজের মধ্যে এর খুব বেশি অস্তিত্ব আমি খুঁজে পাই না; আর এ যদি কোনো খুঁত হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

অরসন ওয়েলস
ইট’স অল ট্রু‘র দৃশ্য বোঝাচ্ছেন অরসন

কেনেথ টাইনান
পেটুকবৃত্তিকে কি আপনি একটি খারাপ খুঁত হিসেবে গণ্য করেন?

অরসন ওয়েলস
সকলই খুঁতই খারাপ। প্রচুরসংখ্যক খুঁত আসলে গোপনীয় হলেও, পেটুকবৃত্তি তা নয়; এটি প্রকাশ্য। এ আমার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই প্রকাশ্য। তবে আমি মনে করি, অন্য কিছু পাপের তুলনায় পেটুকবৃত্তিকে নিশ্চয়ই কম ঝামেলার সঙ্গে মোকাবেলা করা সম্ভব। কেননা, এটি ইতিবাচক; তাই নয় কি? এটি অন্তত জীবনের কিছু ভালো বিষয়ের উদযাপন করে। পেটুকবৃত্তি হয়তো কোনো পাপ; তবে এটি করতে গিয়ে এক ভয়ঙ্কর রকমের ফূর্তি হয়। অন্যদিকে, নিজেকে স্থূল বানিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন মানুষের এটি একটি ভুল তরিকা। আমি তো মোটা; আর লোকজনের নিশ্চয় মোটা হওয়া উচিত নয়।

কেনেথ টাইনান
পর্নোগ্রাফি এবং চার অক্ষরের শব্দগুলোর সাহিত্যগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার মনোভাব কী?

অরসন ওয়েলস
চার অক্ষরের শব্দগুলো কার্যকর হাতিয়ার; তবে যখনই এগুলোকে কম-বেশি নিষেধাজ্ঞার ভেতর আটকে দেওয়া হয়, তখন এগুলো নিজেদের তীক্ষ্ণতা হারিয়ে ফেলে। যখন আমরা ঝাঁকুনি দিতে চাই, নিজেদের মুখের কম্পনে কিছু শব্দ বের করে দেওয়া উচিত আমাদের– কাজটিকে আসলে করিয়ে ফেলতে। পর্নোগ্রাফির ক্ষেত্রে বলব, এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমান সঙ্গতিপূর্ণতার সঙ্গে আমি একমত নই। এ কথা দিয়ে আমি বোঝাচ্ছি না, লেডি চ্যাটার্লি’স লাভার [ডি. ডব্লিউ. লরেন্স; ১৯২৮] ধরনের বইগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে। আমি বোঝাতে চাচ্ছি হার্ডকোর পর্নোগ্রাফির কথা– ব্লু-নভেল ও ব্লু-ফিল্ম। পার্থক্যটি একেবারেই স্পষ্ট; এটি কেবল তখনই ঘোলাটে হয়ে যায়– যখন আপনাকে কোনো আদালতে এর পরখ নিতে হয়। আমরা সবাই একেবারে যথার্থই জানি, ফ্রেঞ্চ শব্দ ‘কুশ্যঁ’ [বাংলায়– ‘শূকর’] বলতে আসলে কী বোঝানো হয়। এর অর্থ কেবল শূকরীয় নয়; বরং একাকিত্বও। চূড়ান্ত রকমের ফলদায়ক যৌন উত্তেজক বস্তু হিসেবেই সম্ভবত হার্ডকোর পর্নোগ্রাফির আবির্ভাব ঘটেছে; তবে শেষ পর্যন্ত এটি একেবারেই দুশ্চরিত্র ও অসুস্থতাপূর্ণ। তাছাড়া, আমাদের মধ্যে যারা এ অসুখে আক্রান্ত, তাদেরকে এটি কোনো অহিংসক উপশম এনে দেয় না; এটি অসুস্থতাটিকে উত্তেজিত ও প্রলুব্ধ করে, বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে– ভালোবাসা ও আনন্দ বিনিময়ের নিমিত্তে যৌনতা সম্পর্কে যাদের শেখা হয়নি এখনো। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে যৌনতার অভ্যাসের বিষয়টি যার যার নিজের ব্যাপার। মুদ্রিত অক্ষরে এটি এমনই এক পরোক্ষ উপাদান– যা আমার পছন্দ নয়; লোকজন এটি ‘করে’ বলে নয়, বরং অন্য লোকেরা একা বসে এটি পড়ে বলে।

কেনেথ টাইনান
আপনাকে যদি সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয়, সিনেমা কিংবা থিয়েটার থেকে কোনো কিছু সেন্সর করতে চাইবেন?


শিল্পীদের
সেন্সর হওয়া
উচিত নয়; তবে
আমি মনে করি, নিজেদের
শিল্পভাষাকে দুর্বল হয়ে যাওয়ার
হাত থেকে রক্ষা করতে
নিজেদেরকে সংযত
রাখা উচিত
তাদের

অরসন ওয়েলস
সেন্সরশিপের আমি এতটাই বিরোধিতাকারী যে, আমার জবাব হবে– না, কিচ্ছুই না। তবে যদি কোনো সেন্সরশিপের অস্তিত্ব না থাকত, তাহলে আমি এমন ছোট্ট একটি তালিকা করে নিতাম– যেগুলো নিজে না দেখানোই শ্রেয় মনে করি। খুব নিয়মিত অবশ্য নয়। রসনায় কড়া ঝাল থাকা ভালো কিছু নয়; আর থিয়েটার ও সিনেমায়, যখন অনেক বেশি স্বাধীনতা পাওয়া হয়ে যায়, তখন স্রেফ এ প্রবণতাই দেখা যায় যে– দর্শককে প্রায় সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন, এবং আমাদের নাট্যসংক্রান্ত শব্দভাণ্ডারকে নিঃশেষ করে দেওয়া। সঙ্গমের দৃশ্য করতে গিয়ে আপনি যদি প্রতিবার যৌনক্রিয়া দেখাতে থাকেন, তাহলে প্রডিউসার ও দর্শক– উভয়পক্ষই ভাবতে থাকবে, অন্য কোনো ধরনের সঙ্গমদৃশ্যের কোনো মানে নেই; আর এ থিমটিতে এটি শারীরিক অবস্থানের বিভিন্নতার কেবল বিভিন্নতা মাত্র। না; শিল্পীদের সেন্সর হওয়া উচিত নয়; তবে আমি মনে করি, নিজেদের শিল্পভাষাকে দুর্বল হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে নিজেদেরকে সংযত রাখা উচিত তাদের। চলুন, পুরনো রোমান কমেডির কথা ধরা যাক : এইসব ব্যাপক চামড়ার পুংজননেন্দ্রিয়কে আপনি যদি একবার বের করে ফেলেন, আপনার পক্ষে করা সম্ভব– এমন অন্য কোনো রসিকতা আপনি আর করতে পারবেন না। ভায়োলেন্স, কিংবা থিয়েট্রিক্যাল এক্সট্রিম যে কোনোকিছুর ক্ষেত্রেও এ কথা খাটে। আপনি যদি অতিমাত্রায় ‘পজ’ দেন, মানব অনুভূতির মধ্যকার মনোযোগকে এটি ক্ষয় করে দেবে। অবশ্য, যে কোনো ধরনের প্রেমপূর্ণ মানব সম্পর্কের বিরোধিতাকারী প্রচারণাই ঘৃণাযোগ্য, এবং সম্ভবত এগুলোকে সেন্সর করাই শ্রেয়।

অরসন ওয়েলস
অরসন ওয়েলস

কেনেথ টাইনান
কিন্তু এটিকে আপনি মীমাংসা করবেন কীভাবে?

অরসন ওয়েলস
৩০ বছর ধরে লোকজন আমাকে প্রশ্ন করে যাচ্ছে, কী করে আমি অমুক-তমুকের মধ্যে মীমাংসা করি! সত্যি কথা হলো, আমি তা করি না। আমার সবকিছুই একটি স্ববিরোধিতা; এবং যাদের আমি চিনি– তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এ কথা খাটে। নানাবিধ বৈপরিত্যে আমরা তৈরি; দুই মেরুর মধ্যে বসবাস আমাদের। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একজন সঙ্কীর্ণমনা ও একজন নান্দনিক মানুষ বসত করে; আর একজন খুনি ও একজন সাধু। মেরু দুটির মধ্যে মীমাংসা টানেন না আপনি। আপনি স্রেফ এগুলোকে চিনে রাখেন।


কেনেথ টাইনান
[২ এপ্রিল ১৯২৭–২৬ জুলাই ১৯৮০]
লেখক ও সমালোচক । যুক্তরাষ্ট্র

উৎস ।। প্লেবয় ম্যাগাজিন । ১৯৬৭
অনুবাদটির প্রথম প্রকাশ ।। ইত্তেফাক ঈদ ম্যাগাজিন । ২০১৮

পরের কিস্তি পড়তে এই বাক্যে ক্লিক করুন

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]

2 মন্তব্যগুলো

মন্তব্য লিখুন