সাক্ষাৎকারে ফিল্মমেকার ইয়ামিনা বশির শ্যুইখ : সিনেমা, আলজেরিয়া ও বাস্তবতা

0
81
Yamina Bachir

গ্রন্থনা ও অনুবাদ । রুদ্র আরিফ

ইয়ামিনা বশির শ্যুইখ। জন্ম : ২০ মার্চ ১৯৫৪। আলজেরিয়ান সিনেমার দাপুটে প্রতিনিধি। ক্যারিয়ারের শুরুতে মূলত ফিল্ম-এডিটর হিসেবে কাজ করলেও, আলজেরিয়ার মাটিতে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণকারী প্রথম আলজেরিয়ান নারী তিনিই। ‘রাশিদা’ [২০০২] শিরোনামের সেই সিনেমাটি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের [ফ্রান্স] প্রদর্শিত হয়ে ভীষণ সমাদৃত হয়। ফিল্মটিকে ঘিরে দেওয়া তার নানা সাক্ষাৎকারে উঠে আসে আফ্রিকান রাষ্ট্র আলজেরিয়ার সমাজ-বাস্তবতা ও সিনেমার অতীত-বর্তমান। এ রকম তিনটি সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশের গ্রন্থিত ভুবনে প্রিয় সিনে-পাঠক, আপনাকে স্বাগত জানাই…


 

মিন ফারজানেহার
অনেকগুলো আলজেরিয়ান সিনেমায় আপনি কাজ করেছেন। আলজেরিয়ান সিনেমার ঐতিহাসিক পর্যায়গুলোর বর্ণনা দেবেন একটু?

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
আলজেরিয়ান সিনেমার জন্ম ঘটে মুক্তিযুদ্ধের [১৯৫৪-৬২] সময়। রেনে ভতিয়্যে’র [ফরাসি ফিল্মমেকার] মতো অনেক বিদেশি ফিল্মমেকার ও নানা রকমের ডকুমেন্টারিয়ান এখানে কাজ করতেন। স্বাধীনতার যুদ্ধে বিজয় আসার পর সিনেমা-হল টিকে ছিল একটি; যদিও অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশের মতোই সেটি ছিল রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত। প্রচুর সিনেমা বানানো হয়েছিল ঠিকই, তবে সেগুলো সবই ছিল কম-বেশি একই বিষয়বস্তুর : মুক্তিযুদ্ধ, বিদ্রোহ ইত্যাদি।

পরবর্তীকালে ভূ-নিষ্পত্তির বিষয়টি যখন সামনে এলো, টপিকগুলো মুক্তিযুদ্ধ থেকে সরে ভূমির মালিকানায়, ভূমির গুরুত্বের কাছে গিয়ে ঠেকল। তবু রাষ্ট্রটি ফিল্মমেকারদের কম-বেশি ‘কর্মচারী’ হিসেবেই গণ্য করা অব্যাহত রাখল– যাদের চাকরি ছিল নিজেদের সিনেমায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালার প্রতিফলন ঘটানো। এই রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপকে বোকা বানানোর চেষ্টা কিছু ফিল্মমেকার করলেও, অন্য কোনো ধরনের সিনেমা বানাতে চাইলে তাদেরকে আগে কমিশনড ফিল্মগুলো বানাতেই হয়; তাই বলে এ পর্যায়ে কোনোই ভালো সিনেমা যে একেবারেই সৃষ্টি হয়নি– তা কিন্তু নয়।

১৯৮০ দশকের শেষভাগ ও ১৯৯০ দশকের প্রথমভাগে একটি পট-পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটি উদার ও বুর্জোয়া রাষ্ট্রযন্ত্রে পরিণত হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে এই রূপান্তরটি নানা হাতে ঘুরতে থাকে; এর ভোগান্তির শিকার সবার আগে যে সিনেমাকেই হতে হয়েছে– সে কথা তো বলাই বাহুল্য। সিনেমা বানানোর জন্য আমাদের তো টাকা চাই-ই। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রই প্রডিউসারের ভূমিকা পালন করত এবং দিতো অর্থের যোগান। রাষ্ট্র যখন পিছু হটে আসে, প্রাইভেট প্রোডাকশনে দেখা মেলে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার অভাব। প্রচুরসংখ্যক প্রোডাকশন কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়, এবং ফিল্মমেকার ও টেকনিশিয়ানরা পড়ে থাকেন নিজেদের কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখতে।

আলজেরিয়ার ড্রামাটির [সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড] শুরু এই অর্থনৈতিক সঙ্কটকালেই; তখন সহিংসতা শুরু হয়ে যায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজনের বিরুদ্ধেও। এ বেলা দুঃসাহস দেখানোয় কেবল অল্প কয়েকজন ফিল্মমেকারই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য– যারা সবকিছু বিনিয়োগ করেছিলেন এবং ঝুঁকি নিয়েছিলেন এইসব পরিস্থিতির অধীনে সিনেমা বানানোর জন্য; তাতে ১৯৮০ দশকে মাত্র অল্প কয়েকটি সিনেমাই নির্মিত হয়েছিল। রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব নিয়ে নেয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ফান্ডিং সিস্টেম ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা পেতে থাকে। তবে অল্প কয়েকটি সিনেমা তৈরি হওয়ার পরই ফুরিয়ে গিয়েছিল ফান্ডের টাকা।

রাষ্ট্র পরিচালিত ‘আলজেরিয়ান টেলিভিশন’ মূলত সিনেমাকে অবজ্ঞাই করে গেছে। মাত্র অল্প কয়েক বছর ধরে এটিকে সহযোগিতার ন্যূনতম চেষ্টা করছে টেলিভিশন। তবে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি ও টেলিভিশন– এমনকি উভয় উৎস একত্রেও ফিল্ম ম্যাটেরিয়াল, ডেভেলপমেন্ট, এডিটিং, সাউন্ড ও ইত্যাদি কর্মে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থের যোগান দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে আর্থিক যোগানের বেশিরভাগই আসে ইউরোপ থেকে।

Yamina Bachir-Chouikh
ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ

আমিন ফারজানেহার
গত কয়েক বছরে আলজেরিয়ান কিছু সিনেমা সেই সমস্ত মধ্যবিত্ত, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের সমস্যাগুলোকে জাহির করেছে– যারা ইসলামিস্টদের ও নির্বাসনের ঝামেলা পোহিয়েছেন। রাশিদা অবশ্য একজন সাধারণ শিক্ষিকার ওপর ফোকাস করে বানানো। এই ফিল্মটি কী নিয়ে?


আমরা সবাই যে অভিজ্ঞতার
ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, সেটির
গল্প শোনানোর ক্ষেত্রে এই
মানুষগুলোর একটি
অবয়ব তৈরি
করতে
চেয়েছি আমি

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
বাঁচতে পারেননি– এমন এক নারীর একটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে আমি শুরু করেছিলাম। তাকে নিজের গল্প শোনানোর একটি সুযোগ, বেঁচে থাকার একটি সুযোগ আমি দিতে চেয়েছিলাম। একইসঙ্গে আরেকটি গল্পও আমি শোনাতে চেয়েছিলাম– সাধারণ মানুষের কোনো গল্প।

বিখ্যাত সাংবাদিক কিংবা বুদ্ধিজীবীরা যখন খুন হন, পত্রিকায় তাদের নামগুলো অন্তত ছাপা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রতিদিনই দশ থেকে পনেরজন মানুষ খুন হয়ে যায়– যাদেরকে কেউই চেনে না। এই মানুষগুলোকে নিজেদের পরিচয়হীনতা থেকে বের করে আনতে, এবং তাদের মৃত্যু ও খুন হয়ে যাওয়ার ঘটনা জানিয়ে দিতে চেয়েছি আমি– যা সম্পর্কে কেউই ঠিক অবগত নয়। আমরা সবাই যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, সেটির গল্প শোনানোর ক্ষেত্রে এই মানুষগুলোর একটি অবয়ব তৈরি করতে চেয়েছি আমি।

জ্যঁ-ইভ্যে গেইলাক
আলজেরিয়ার পরিস্থিতির সামগ্রিক রূপটি [রাশিদার প্রেক্ষাপট] এই গ্রামটির প্রাত্যহিক জীবনের ভেতর দিয়ে আমাদের কাছে হাজির হয়ে গেছে।

filmfree
রাশিদা

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
১৯৯৬ সালের শেষদিকে, যখন আমি এই বিষয়বস্তুটির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠতে শুরু করি, তখন সব মিলিয়ে শহরগুলোই আসলে [সন্ত্রাসবাদে] আক্রান্ত হয়েছিল। তখন কোনো গ্রামে জীবনযাপন করা ছিল অপেক্ষাকৃত ‘নিরাপদ’। এরপর সহিংসতাটির স্থানকাল স্থানান্তরিত হয়। ছোট্ট একটি গ্রামের ক্ষুদ্র-জগতের ভেতর দিয়ে, ব্যাপক-বিস্তৃত যথাযোগ্যতা সহকারে চরিত্রগুলোর মধ্যে, প্রাত্যহিক জীবনে অভিজ্ঞতা লাভ করা আতঙ্কের ভেতরে আমি প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছি। আপনি যদি এ রকম পরিস্থিতিতে জীবনযাপন না করেন, তা হলে এই সন্ত্রাসকে আপনার পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব হবে না। আমি নির্ঘুম কত রাত কাটিয়ে, এক জানালা থেকে আরেক জানালায় সরে সরে যেয়ে, নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করেছি, ‘তারা আসলে আসবে কখন?’ আপনাকে প্রতিদিনই ধরে নিতে হবে, তারা আসবে। সকাল বেলা যখন নিজের সন্তানদের স্কুলে যেতে দেখবেন, আপনি কেঁপে ওঠবেন : ‘আজকে সন্ধ্যায় এর মধ্যে কয়টা শিশু পারবে বাড়ি ফিরতে?’ নিজের ভয়কে আপনার নিয়ন্ত্রণ করতেই, এটিকে আপনার উৎরে আসতেই হবে। এটিকে নিজের মনোব্যাধি হয়ে ওঠা থেকে নিবৃত্ত রাখতে এর সঙ্গে আপনার আপস করা চলবে না কিছুতেই। সবচেয়ে বড় কথা, বেঁচে থাকার জন্য, হোক তা স্রেফ একদিন একদিন করেই, আপনাকে কিছুতেই হাল ছেড়ে দেওয়া চলবে না; বরং জীবনযাপন রাখতেই হবে অব্যাহত। গ্রামটিতে রাশিদা যখন দ্বিতীয়বার সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল, তার মা তাকে বলেছে, ‘সাহস হলো ভয়ের সন্তান’।

জ্যঁ-ইভ্যে গেইলাক
রাশিদা ও তার মায়ের মাধ্যমে আপনি দুজন মর্মাহত নারীর একটি প্রতিকৃতি এঁকেছেন এখানে।

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
আমি আসলে নারীদের তিনটি প্রজন্মকে দেখিয়েছি : এখানে আছে রাশিদা, তার মা, আর আছে ছোট্ট মেয়ে কালিমা– যে চাঁদে চলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। কালিমা নামের এই মেয়েটি ভবিষ্যৎ আলজেরিয়ার প্রতিনিধি। রাশিদা সন্ত্রাসবাদের সহিংসতার ভুক্তভোগি; তার মা ভুক্তভোগি আরেক ধরনের সহিংসতার– সামাজিকতার, প্রথার সহিংসতা। সে একজন তালাকপ্রাপ্তা; সে জাতিচ্যূত। স্বামীকে সে ছেড়ে চলে এসেছে– সেই লোকটি আরেকটি বিয়ে করেছে বলে; তারপরও নিন্দা-গুজবের বিষয়বস্তু হতে হয়েছে তাকেই। সে বলে, ‘একজন তালাকপ্রাপ্তা সবসময় একজন তালাকপ্রাপ্তাই থাকে– তা সে কোনো সাধু হলেও।’ রাশিদা একজন আধুনিক তরুণী। সে তার নিজ সময়ের প্রতিনিধি : সে কেয়ারফ্রি, প্রফুল্ল; সে ম্যাকআপ করতে ভালোবাসে; তার প্রেমিক আছে। এ সময়টির প্রচুরসংখ্যক আলজেরিয়ানের মতো সে-ও নিজেকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে চায় না।

সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড যখন শুরু হলো, সবাই ভাবল, তারা এই সংঘাতের বাইরে রয়েছে। সন্ত্রাস ও উপলব্ধিহীনতার এই পর্যায়টিতে, যে কেউ কোনো গুপ্তহত্যার সপক্ষে যুক্তি সবসময়ই দাঁড় করিয়ে নিতে পারে : তারা যদি কোনো মানুষকে খুন করে থাকে, তাহলে সেই লোকটি নিশ্চয়ই কিছু না কিছু করেছিল! আমরা মৃত লোকটির জন্য নয়; বরং সন্ত্রাসীদের পক্ষে অজুহাত তৈরি করে ফেলি! অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই ঘটেছে। আওয়াজ তোলার সাহস করেনি কেউই। আমরা একে অন্যকে অবিশ্বাস করি– আমাদের নিজেদের বাবাকে, ভাইকে, চাচাত-ফুফাত-খালাত-মামাত ভাইদেরকে। সমাজ দাঁড়িয়ে যেতে শুরু করে সন্দেহের ওপর। এ রকম বিষাক্ত কোনো পরিবেশের ভেতর কারও পক্ষে দৈনন্দিন জীবনের অন্বেষণ করা সত্যিই দুরূহ খুব। রাশিদা কোনো সংগ্রামী নয়; সে স্রেফ স্বাভাবিক একটি জীবনই চায়।

filmfree
রাশিদা

জ্যঁ-ইভ্যে গেইলাক
প্রথার গুরুত্বটিও আপনি দেখিয়েছেন। শরীরের ক্ষতচিহ্নটি সিজারিয়ান সেকশনের [অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদান] ফল– লোকজন যদি এমনটা ভেবে বসে, এই ভয়ে হাম্মামে [উন্মুক্ত গোসলখানা] যেতে রাজি হয় না রাশিদা।


রাশিদা
বস্তুত
অন্তঃস্থলেই
ক্ষত-বিক্ষত

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
এটি সহিংসতার আরেকটি রূপ, যেটিকে ফুটিয়ে তোলা আমি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করি। রাশিদা বস্তুত অন্তঃস্থলেই ক্ষত-বিক্ষত। তবু, এই সমাজ তার ওপর যে বিধি-নিষেধ চাপিয়ে দিয়েছে, সেটিকে সে উপেক্ষা করতে পারে না। এই ঘটনাটির [সন্ত্রাসবাদী হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার] পর সে নিজের হবুস্বামীর সঙ্গে দেখা করতেও অস্বীকার করে। একজন স্বাভাবিক নারীর জীবন কাটানোর কথা, একটি স্বাভাবিক ভবিষ্যতের কথা সে আর ভাবতেও পারে না।

জ্যঁ-ইভ্যে গেইলাক
একটি মেয়ে অপহৃত ও ধর্ষিত হলে, মেয়েটিকে তার বাবা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
বাবাটিকে আমি দোষ দিই না। আলজেরিয়ান সমাজ একেবারেই পর্যুদস্ত হয়ে গেছে। এই লোকটিকে নপুংশক বানিয়ে দিয়েছে অন্য লোকেরা; তারা তার সম্মানকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত। নিজের কন্যাকে রক্ষা করতে সে অক্ষম; এবং তার কন্যার সঙ্গে সঙ্গে তার সম্মানও গেছে চলে। সম্মানের বিধিমালার নিজ ধারণাকে রক্ষা করতে সে অক্ষম। সে-ও একটি সমাজের, প্রথা ও নিয়মকানুনগুলোর শিকার– যেগুলোকে সে নিজেই একটি জায়গা করে দিয়েছে এবং যেগুলোকে ভেঙে ফেলেছে অন্য পুরুষেরা। আমি এই মানুষগুলোকে বিচার করতে নয়, বরং তাদের মধ্যে থাকা প্যারাডক্স ও ফাঁটলগুলোকে দেখিয়েছি– যারা কিনা প্রথা ও নিজেদের টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে পড়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ।

জ্যঁ-ইভ্যে গেইলাক
যে তরুণীটি ধর্ষিতা হয়েছে– তার ভাগ্নেটি, যে কিনা নিজের খালার পক্ষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, [স্কুলের] অন্য শিশুরা তাকে খুব পিটায়।

filmfree
রাশিদা

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
এই প্রজন্ম সম্পর্কে প্রশ্নটি ইতোমধ্যেই উত্থাপিত হয়ে গেছে, ‘লোকজন তাদের ওপর যা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই শিশুরা কি সেই নকশাই অনুসরণ করবে; নাকি এর বিপরীতে, তারা সমাজের অন্য কোনো আদর্শ বেছে নিতে চাইবে?’ ধর্ষিতা হওয়া নিজের খালার পক্ষে এই শিশুটি দাঁড়িয়ে যায়; আর অন্য শিশুরা সেই সামাজিক নকশার নামে তাকে নিষ্ঠুরভাবে পেটায়।

জ্যঁ-ইভ্যে গেইলাক
আর সেই মেয়েটি [কালিমা], যে সাহস করে এগিয়ে এসে ওকে বাঁচায়!

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
হ্যাঁ; কেননা, আমি বিশ্বাস করি, একটি সমাজ সবসময়ই এক ধরনের অংশীদারিত্বের ব্যাপার : নিজের খালার পক্ষে দাঁড়ানো ছেলেটি ও নারী হিসেবে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকলেও চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা মেয়েটি– এ দুটি শিশুর মধ্যে অংশীদারিত্ব।

আমিন ফারজানেহার
‘ইসলামিস্ট’– এই টার্মটির কি কোনো তাৎপর্য রয়েছে আপনার কাছে?


আমার বাবা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ
মুসলমান। এটিই আমার সামাজিক
পটভূমি। আমার কাছে এটির
অবশ্যই তাৎপর্য
রয়েছে

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
এই টার্মটি সম্পূর্ণই মিডিয়ার ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে তোলা। ফলে এটি দিয়ে সত্যিকারঅর্থে কী বোঝায়– এ কথা জানা নেই কারও। ইসলাম, মুসলিম, ইসলামিস্ট– সবকিছুকে একই পাত্রে ভরে দেওয়া হয়েছে।

একটি বিষয় আমি উপলব্ধি করতে পারি। আমার বাবা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এটিই আমার সামাজিক পটভূমি। আমার কাছে এটির অবশ্যই তাৎপর্য রয়েছে। আমি এই সংস্কৃতিতেই বেড়ে উঠেছি, এবং এটির রয়েছে দুর্দান্ত সব বৈশিষ্ট্য। এটি মানব-ইতিহাসের একটি অংশ, এবং এই ইতিহাসে এটির অবদান অনেক।

তবে আমি কোনো ধর্মতত্ত্ববিদ নই। তাৎপর্যপূর্ণ কিছু বলার জন্য একজন মানুষের অনেক বেশি জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তা না হলে তার কথা ভাসা-ভাসাই রয়ে যাবে, যা কিনা অনেক মানুষই বলে থাকে– সত্যিকারঅর্থে তারা কী বোঝাচ্ছে, তা একদম না জেনেই।

filmfree
রাশিদা

অলিভিয়ার বারলেট
আপনার সিনেমাটিতে আমরা যে যোদ্ধাদের [সন্ত্রাসবাদী] দেখতে পাই, তারা একেবারেই অল্পবয়সী।

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
তারা স্রেফ বাচ্চা! তারা তো গিনিপিগ! অন্য লোকজন তাদের কাছে এসে তাদেরকে ফাঁদে ফেলে; তাদেরকে ঠেলে দেয় চরম পরিস্থিতির ভেতর। এটি সম্ভব হওয়ার কারণ, পরিবেশটিই তাদের জন্য আবারও প্রবঞ্চিত হওয়ার অনুকূলে ছিল। সন্ত্রাসবাদীরা তো বড় বড় দাড়ি ও জ্বলজ্বলে চোখের, উস্কুখুস্কু চুলের স্টেরিওটাইপ কোনো মানুষ নয়। না; তারা তরুণ-তুর্কি; তারা আলজেরিয়ান; তারা দেখতে সুন্দর; তারা আমাদেরই সন্তান– যারা শিখেছে ঘৃণা করতে, এবং জড়িয়ে পড়তে এমন কাজে– যা থেকে ফিরে আসার কোনো পথ খোলা নেই। এটি একটি ভয়ঙ্কর রকমের ব্যর্থতা।

অলিভিয়ার বারলেট
ফিরে আসার কোনো পথ খোলা নেই– আপনার সিনেমাটি এই মনোভাব প্রকাশের ঝুঁকি নিয়েছে বলে কি আপনি মনে করেন?

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
আমি মনে করি, আমি কেবল এই পরিস্থিতিটিকেই প্রকাশ করেছি। সিনেমাটিতে আশার জায়গাও অনেক রয়েছে। স্রেফ বলতে পারি, এমন প্রশ্নের জবাব জানা নেই আমার। যদি কোনো আশা না-ই থাকত, পুরো দেশটি নিমজ্জিত হয়ে যেতে সামগ্রিক বিশৃঙ্খলার ভেতর। এই সবগুলো শিশুই– যারা বাস্তব জীবনেও এই সিনেমাটির মতোই, তারা দেশটিকে গড়ে তোলার কাজ থামিয়ে দিতো। এ বিচার করার দায়িত্ব আমার নয়। আমার যা অনুভূতি, যা আমাকে মর্মাহত করে ও যা আমার কাছে অবিচার বলে মনে হয়– তা নিয়েই কথা বলতে চেয়েছি আমি। বুঝতে চেয়েছি, কেন আমরা এ রকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেলাম। তাদের ওপর ইতোমধ্যেই অভিযোগের রাশি রাশি স্তূপ পড়ে আছে; সেটিতে অন্য কোনো স্তর যুক্ত করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না।

অলিভিয়ার বারলেট
[সিনেমাটি বানিয়ে] আপনি স্বভাবতই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেলেন। আলজেরিয়ায় জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিটি কি দিন দিন তীব্র হয়ে উঠেছে, নাকি রয়েছে অভিন্ন?

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
আমি জানি না! বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আপনি যেখানে জানেনই না, ফিরে আসতে পারবেন কিনা– এমন একটি দেশে জীবনযাপন করা আপনার পক্ষে কোনো সিনেমা বানানোর কারণে ঝুঁকির রদ-বদল ঘটবে না নিশ্চয়ই! আমি যখন কাহিনিটি লিখি, ঝুঁকিটি তখন একলা নিয়েছিলাম। এখন এটির সঙ্গে পুরো ক্রু জড়িত; এই সিনেমায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকটি মানুষই জড়িত। কিন্তু ঝুঁকি না নিলে তো আমরা অগ্রসর হতে পারব না। আমাকে মেরে ফেলা হবে, তাই বলে আমি হাত তুলতে পারব না– এমন ভাবনা আমার নেই। সিনেমার মাধ্যমে আমি কেবল আশা ও সাক্ষ্যই ছড়িয়ে দিতে পারি।

filmfree
রাশিদা

অলিভিয়ার বারলেট
আপনার সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রটি একজন নারী। এটি রাশিদা করিমের [ফরাসি ফিল্মমেকার] স্যু লা পিয়ে দু ফেমে [১৯৯৭] সিনেমাটির কিংবা রেনে ভতিয়্যের একটি আলোচনার কথা মনে করিয়ে দেয়– যিনি বলেছেন, আলজেরিয়ায় যদি নারীদের কথা বলার অধিকার দেওয়া হতো, তাহলে বর্তমানের পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। আপনার সিনেমাটিও কি এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছে?


দুনিয়ায় এ ধরনের সব সংঘাতের
প্রথম শিকারটি নারী ও শিশুরাই
হয়ে থাকে; অথচ তারাই
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
জীবনের
প্রতিনিধি

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
নারীদের ওপর আলাদাভাবে চাপিয়ে দেওয়া কোনো কিছু উল্লেখ করে আলজেরিয়ান [সন্ত্রাসবাদ] সমস্যাটিকে আমি সঙ্কুচিত করতে চাই না। সন্ত্রাসবাদ যে একটি বড় ব্যাপার– তা সত্য ঠিকই; তবে আমি মনে করি না, কেবল নারীরাই এটির লক্ষ্যবস্তু। আলজেরিয়ান জনসংখ্যার পুরোটাই এর লক্ষ্যবস্তু, এবং আমাদের বর্তমান অবস্থানের কারণটি সেটিই জানান দেয়। আমি নিজে একজন নারী ও একজন মা বলে নিজের [সিনেমাটির] প্রধান চরিত্র হিসেবে এক নারীকে হিসেবে বেছে নিয়েছি– এমনটা হতেই পারে; আরও কারণ হতে পারে– নারী তো জীবনের জন্ম দেয়, মৃত্যুর নয়। আমি বিশ্বাস করি, সমাজ গড়ে তুলতে হয় একসঙ্গে। আমি আমার আলোচনাকে স্রেফ নারীত্বের মধ্যে আটকে দিতে চাইনি। এ কথা সত্য, দুনিয়ায় এ ধরনের সব সংঘাতের প্রথম শিকারটি নারী ও শিশুরাই হয়ে থাকে; অথচ তারাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতিনিধি। সবচেয়ে বড় কথা, পুরুষেরা নারীদের ভয় পেয়ে, তাদের মধ্যে থাকা এ ক্ষমতাটির ভয় পেয়ে এইসব বিভেদ-রেখা চাপিয়ে দেয়। কিন্তু আমি এক মুহূর্তের জন্যও এ কথা বোঝাইনি যে, আলজেরিয়ায় কেবল নারীরাই ভুক্তভোগী, কিংবা কেবল নারীরাই সাহসী। আমার সিনেমাগুলোতে অজ্ঞাতনামা এমন অনেকের দেখা পাবেন– যারা সাহসী, এবং যারা নিহতের তালিকাটিকে দীর্ঘ করে তোলে।

অলিভিয়ার বারলেট
আপনার সিনেমার চরিত্রটি [রাশিদা] দাবী করে, সে নিজ দেশেই নির্বাসিত। বর্তমানে মানুষ আসলে কোন আস্থাটি রাখতে সক্ষম?

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
এটি একটি ব্যক্তিগত যুদ্ধ– যা কিনা তবু এক ঐকতানের অংশই– যেটি সবারই সঙ্গে মিলে যায়। রাশিদা একা নয়। সঙ্গে তার মা আছে; আছে সেই ছোট্ট মেয়েটি– যে চাঁদে পালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে; আছে তরুণটি– যে ভালোবাসে ও ভালোবাসা পেতে চায়… ইত্যাদি। সমস্যাটি হলো ছেলেটি বা মেয়েটির আশা ও অন্তর্দৃষ্টির প্রশ্নে পরস্পরের সঙ্গে সংযোগটি তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করা। এই অন্বেষণের পারস্পরিক সংযোগটি হলো– দুজনে একাকার হয়ে যাওয়া, ভেতর থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া, নিজের পছন্দমতো ভাবতে পারা; এবং আপনাকে নিজেদের ছাঁচে গড়ে তোলার চেষ্টারত মানুষগুলোর বিবেচনায় নিজেকে নিচুস্তরের মানুষ কিংবা পরিত্যক্ত না ভাবা। আমি একজন শিক্ষিকা ও একটি স্কুল দিয়ে শুরু করেছি; সেখান থেকেই সবকিছুর নির্মাণ ঘটেছে। শিশুদেরকে সমাজ গচ্ছিত রাখে স্কুলগুলোর কাছে; কেননা, ওরা তো সাদা কাগজের মতো। ওদের মধ্যে ঘৃণার বীজ রোপন করে, ওদেরকে অসহনশীলতার ও অপরকে প্রত্যাখ্যান করার শিক্ষা দিয়ে, নিজেদের এই সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করার কোনো অধিকার আমাদের নেই; অথচ এভাবেই তৈরি হয়েছে আলজেরিয়ান ট্র্যাজেডি!

অলিভিয়ার বারলেট
প্যারিসে আয়োজিত সর্বশেষ আরব ফিল্ম বিয়েনালেতে আলজেরিয়ায় যৌনতার নেতিবাচকতাকে ইঙ্গিত করে বানানো বেশ কিছু সিনেমা দেখানো হয়েছে; যা জানান দেয়, পুরুষের দ্বৈতনীতির অস্বীকৃতিটি সহিংসতা উৎপন্নের একটি কারণ হয়ে ওঠতে পারে।

filmfree
রাশিদা

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
এগুলো প্রাগৈতিহাসিক ও সেকেলে নিয়ম-নীতি। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় পশ্চিমাবিশ্বে এটি কোনো-না-কোনোভাবে প্রশমিত করা গেলেও, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি অন্তঃস্থল থেকে বদলায়নি। আমাদের [নারীর] সমস্যা হলো, আমাদেরকে নিজেদের মধ্যে ও নিজেদের কাঠিন্যের মধ্যে একেবারেই চুপ করিয়ে রাখা হয়; ফলে এমন সব জিনিসকে আমরা গুরুত্ব দিই– যেগুলোর এ সময়ে আদৌ কোনো দরকার নেই। পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমাদের নেই; তবু অতীতের এই জগৎটিতে নিমজ্জিত থাকি– যেটি সমগ্র মানব-সমাজকে একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। কেবল মুসলিম সমাজগুলোতেই নয়, বরং পৃথিবীর সর্বত্রই নারীকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়; কেবল আইনেই তাদের নির্দিষ্ট জায়গা ও কিছু বিষয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন এখনো আসেনি। একটা সিনেমা বানিয়েই প্রাগৈতিহাসিক নিয়ম-নীতিকে আপনি পাল্টে দিতে পারবেন না। এর জন্য সময় লাগবে। আমরা ব্যবস্থা করব। কলঙ্কিত থাকার কোনো মানে নেই; আমাদেরকে নির্মল হতেই হবে। সরাসরি মুখোমুখি হয়ে নয়, বরং কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়েই এগুলো পাল্টাতে পারব আমরা। কেননা, পরিবর্তনের জন্য সরাসরি মুখোমুখি দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষাগুলোই ভয়াবহ মনুষ্য ট্র্যাজেডিগুলোর কারণ।

আমিন ফারজানেহার
যদিও আপনি এর আগে এমন অনেক সিনেমাতেই কাজ করেছেন, যেগুলো ভীষণ ‘ফরমালিস্ট’ কিংবা থিয়েট্রিক্যাল; তবু কেন এবার আপনি একটি একেবারেই সাদামাটা, সুস্পষ্ট ও ব্যক্তিগত স্টাইল বেছে নিলেন?


বেদনা ও ক্ষতি নিয়ে বোঝাপড়া
করার ক্ষেত্রে আমাদের
প্রত্যেকেরই নিজস্ব
রাস্তা রয়েছে

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
বেদনা ও ক্ষতি নিয়ে বোঝাপড়া করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব রাস্তা রয়েছে। আমার যদি ব্যক্তিগত কোনো প্রবণতা থেকে থাকে, তাহলে সেটি ছিল এই নারীটির [রাশিদা] দৃষ্টিকোণের পুনঃসৃষ্টি। কীভাবে আমার সমাজটি কাজ করে ও আলোড়িত হয়– এটির রঙ, এটির কাব্য তো বটেই, সঙ্গে নেতিবাচক দিকগুলো এটির ভৌতিকতা সহকারেই একটি একেবারেই সাদামাটা ভঙ্গিমায় দেখাতে চেয়েছি আমি।

অলিভিয়ার বারলেট
ফিল্মটির সমাপ্তি দেখে মনে হয়, এ যেন একটি স্কুলের পুনঃমেরামতের কথাই জানান দিচ্ছে– নাগরিকত্বের বিশ্বাস থেকে।

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
শিশুদের উপদেশ দেওয়ার কোনো অধিকার আমাদের নেই। শিশুরা খারাপ নয়; তারা খারাপ পথে যাওয়ার কারণ, এটি আমরা তাদের মধ্যে সঞ্চার করিয়েছি। অন্যকে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করার চেয়ে বরং অন্য কোনো শিক্ষা আমরা তাদের দিতে পারব– এই আশা আমি রাখি।

filmfree
ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ

জ্যঁ-ইভ্যে গেইলাক
সিনেমাটি আপনি নিজের ভাই– মোহাম্মদকে, জাকিয়া গুসাবকে [১৯৯০ দশকে, আলজেরিয়ায়, সন্ত্রাসবাদের দিনগুলোতে খুন হওয়া স্কুলশিক্ষিকা– যার সত্যঘটনার ওপর ভিত্তি করে এ ফিল্মটি নির্মিত], এবং এ রকম আরও অনেককেই উৎসর্গ করেছেন।

ইয়ামিনা বশির-শ্যুইখ
আমার ভাই ছিল আলজেরিয়ার পরিস্থিতিটির শিকার হওয়া অগুণতি মানুষের একজন। স্কুলশিক্ষিকা চরিত্রটির অনুপ্রেরণা পেয়েছি জাকিয়ার ঘটনা থেকে; এবং আরও অনেকেরই ঘটনা থেকে। বেদনাত্মক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে একটি কাহিনি শোনানোর, নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগটি আমার ছিল ঠিকই; তবে এই বেদনাকে কুক্ষিগত করার অধিকার আমার রয়েছে বলে আমি মনে করি না।


প্রথম প্রকাশ । আমাদের সময় ঈদসংখ্যা ২০১৮
Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড] ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]

মন্তব্য লিখুন