ফ্রিৎস্ লাং ও জ্যঁ-লুক গোদার : আড্ডায় দুই মাস্টার ফিল্মমেকার

0
177
filmfree

গ্রন্থনা ও অনুবাদ রুদ্র আরিফ

নভেম্বর ১৯৬৪। মুখোমুখি হয়েছিলেন ‘মাস্টার অব ডার্কনেস’খ্যাত অস্ট্রিয়ান-জার্মান-আমেরিকান ফিল্মমেকার ফ্রিৎস লাং [১৮৯০-১৯৭৬] ও ‘ফ্রেঞ্চ নিউ-ওয়েভ’ ফিল্ম-মুভমেন্টের অগ্রসেনা ফ্রেঞ্চ-সুইস ফিল্মমেকার জ্যঁ-লুক গোদার [১৯৩০-]। ‘দ্য ডাইনোসর অ্যান্ড দ্য বেবি’ শিরোনামের ডকুফিল্মের সূত্র ধরে দুই প্রজন্মের দুই প্রবল প্রভাববিস্তারী ফিল্মমেকারের এই আলাপচারিতাটি হাজির করা হলো…


 

জ্যঁ-লুক গোদার
আপনার নাম ফ্রিৎস্ লাং। আর আমার নাম জ্যঁ-লুক গোদার। আপনি আমার চেয়ে অনেক অনেক বেশি সিনেমা বানিয়েছেন। কতগুলো সিনেমা বানিয়েছেন, জানেন?

ফ্রিৎস্ লাং
না, জানি না।

জ্যঁ-লুক গোদার
আমি জানি।

ফ্রিৎস্ লাং
তবে আমি জানি, আমার সিনেমা সম্পর্কে আমার চেয়ে আপনার জানাশোনা অনেক বেশি।

জ্যঁ-লুক গোদার
আপনি মোট ৪২টি সিনেমা বানিয়েছেন।

Fritz Lang
ফ্রিৎস্ লাং

ফ্রিৎস্ লাং
বলেন কি! এতগুলো?

জ্যঁ-লুক গোদার
এই ৪২টি সিনেমায় আপনি অনেক কিছুই দেখেছেন। ইউরোপ ও আমেরিকার ইতিহাসের অনেক চড়াই-উৎড়াই আপনি দেখেছেন। আজকে আমি একটি প্রশ্ন রাখতে চাই। সিনেমা সম্পর্কে কোনোই ধারণা নেই, এমন কোনো মানুষ যদি জানতে চায় আপনার কাছে, ফ্রিৎস লাং, ‘মানুষ কী জিনিস’– আপনি কী বলবেন? এবং আরও গভীর অর্থে, একজন ফিল্মমেকার আসলে কে? সে কি শ্রমিক? শিল্পী? ফিল্মমেকার আসলে কোন মানুষটিকে বলা হয়? কোন জিনিসটি তাকে অনন্য করে তোলে?

ফ্রিৎস্ লাং
দেখুন, ‘শিল্পী’ টার্মটি আমার পছন্দ নয়। শিল্পী আসলে কে? যে মানুষটি কঠোর পরিশ্রম করে এবং যে মানুষটি নিজের কাজ সম্পর্কে জানে। আমার মতে, একজন তুখোড় শল্যচিকিৎসক একজন শিল্পী। আমি এমনই এক মানুষ, যে কঠোর পরিশ্রম করি এবং নিজের কাজকে ভালোবাসি। আমি জোরের সঙ্গে বলব, নিজের কাজকে আমি সত্যিকারঅর্থেই ভালোবাসি। এই তো।


ভ্যানগঘ যে ইজেল ব্যবহার
করতেন– সেটি বানিয়েছেন
যে কার্পেন্টার, তা তিনি
কার্পেন্টার হিসেবে যতই
তুখোড় হোন না কেন,
তার চেয়ে ভ্যানগঘই
বেশি গুরুত্বপূর্ণ

জ্যঁ-লুক গোদার
বিষয়টিকে আমি একটু ভিন্নভাবে দেখি। ভ্যানগঘ যে ইজেল ব্যবহার করতেন– সেটি বানিয়েছেন যে কার্পেন্টার, তা তিনি কার্পেন্টার হিসেবে যতই তুখোড় হোন না কেন, তার চেয়ে ভ্যানগঘই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রিৎস্ লাং
হ্যাঁ, আপনি একদমই ঠিক কথা বলেছেন। দুর্দান্ত এক উদাহরণ টেনেছেন আপনি। আমিই বরং ভুল বলেছি। শুনুন…

filmfree
জ্যঁ-লুক গোদার

জ্যঁ-লুক গোদার
আপনি কি নিজেকে একজন শিল্পী ভাবার চেয়ে কার্পেন্টার ভাবতেই বেশি পছন্দ করেন?

ফ্রিৎস্ লাং
না, আমি কার্পেন্টার নই, বরং একজন শ্রমিক। লোকজন ভাবে, আমরা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আদৌ কোনো কাজ করি না। আচ্ছা! লোকজন ভাবে, সিনেমা এমনি এমনি বানানো হয়ে যায়। এ পুরোটাই ফানের ও গেমসের ব্যাপার। তারা বুঝতেই পারে না, কতটা কঠোর পরিশ্রম এটি। আমার ধারণা, আমাদের দুজনের মধ্যে একটি ‘একাত্মতা’ রয়েছে : ফরাসি ভাষায় এটিকে কী বলে যেন?

জ্যঁ-লুক গোদার
সাদৃশ্য।

ফ্রিৎস্ লাং
আমার বিশ্বাস, আপনি একজন রোমান্টিক মানুষ। আমি নিজেও তা-ই। আমি জানি না এ বয়সে ও এ সময়ে এসে রোমান্টিক হওয়াটা ভালো কিছু কিনা।

জ্যঁ-লুক গোদার
আমার ধারণা, আজকালকার দিনে এটি খারাপ কিছুই!

ফ্রিৎস্ লাং
কেন?

জ্যঁ-লুক গোদার
কেন? কেননা, ‘রোমান্টিক’ মানে হলো ‘ভাবালু’।

ফ্রিৎস্ লাং
তবে এটি ভাবালুতা নয়। কিছুতেই নয়। কিন্তু টেকনিক্যাল দিক থেকে এগুলো ক্ষমাহীন হয়ে থাকে; এ ব্যাপারে আপনার কিছুই বলার থাকবে না।

জ্যঁ-লুক গোদার
ঠিক বলেছেন। টেকনিক কোনো রোমান্টিক জিনিস নয়।

ফ্রিৎস্ লাং
নিজেকে আমি যন্ত্র ভাবতে চাই না। কোনো যন্ত্রমানব [ভাবতে চাই না]। আরেকটি বিষয় হলো, আপনি জানতে চেয়েছেন, আমার বিবেচনায় ফিল্মমেকার কাকে বলে। আমি মনে করি, তাকে খানিকটা মনোবিশ্লেষক হতেই হয়। একজন অভিনেতার ত্বকের গভীরে ঢুকে যেতেই হয় তাকে। তাকে জানতেই হয়, কাহিনিটিতে চরিত্রগুলো যা কিছু করছে– সেগুলোর কারণ কী। ফলে তাকে একজন মনোবিশ্লেষক হতেই হয় বলে আমি মনে করি। একদিন কেউ একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এ বিষয়ে, এবং তা আমার মনে এমন একটি আইডিয়ার উদ্রেক ঘটিয়েছিল– যেটি তারপর থেকে আমার নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে। একদিন এক লোক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “এম [১৯৩১] বানানোর সময় আপনার মনে আসলে কী ভাবনা কাজ করছিল, আমি তা জানি।” তাকে বললাম, “আপনি কী করে তা জানলেন?” তিনি আমাকে কিছু একটা বললেন; তাকে জানালাম, তার কথাটি খুবই ফালতু। কিন্তু আমি ভাবতে শুরু করে দিলাম। হয়তো আমাদের প্রতিটি সিনেমাতেই আপনি আমাদের অন্তর, আমাদের আকাঙ্ক্ষাগুলো খুঁজে পাবেন; যা কিছু ভালোবাসি আমরা এবং যা কিছু আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। আমার বিশ্বাস, যদি কোনোদিন কেউ একজন আপনাকে আর আমাকে বিশ্লেষণ করতে বসেন, তাহলে তিনি হয়তো [উত্তরটি] বের করে ফেলতে পারবেন; [অথচ] আমি জানি না, কেন আমি সিনেমাগুলো বানিয়েছি। আপনি জানেন কি?

দেখুন, সেই লোকটি হয়তো খুঁজে বের করে ফেলতে পারবেন, কেন আমরা এটি বা সেটি করি। ফলে আমি মনে করি, একজন ফিল্মমেকারকে খানিকটা মনোবিশ্লেষক হতেই হয়।

Fritz Lang
এম । ফিল্মমেকার : ফ্রিৎস্ লাং

জ্যঁ-লুক গোদার
আমার মনে সবসময়ই একটি প্রশ্ন খোঁচা দিতে থাকে, যদি অনুমতি দেন, তাহলে আপনাকে সেটি বলে আমি ডাকতে চাই : আপনি একজন বুড়ো ফিল্মমেকার। একজন ডাইনোসর!

আবেল গান্স ও জ্যঁ রেনোয়াঁর ক্ষেত্রেও এ খোঁচাটি আমার মনে কাজ করেছে– তাদের কাজ সম্পর্কে আমাদের জানার পরিসর বিস্তৃত করতে গিয়ে টের পেয়েছি, আপনার তারুণ্য এখনো বলবৎ রয়েছে। আমি যা বলতে চাচ্ছি, তা হলো– বিষয়আশয়গুলো কোত্থেকে আসে, যেন এগুলোর আবির্ভাব এই প্রথমবারের মতো ঘটছে– এ ব্যাপারে আপনি এখনো মনোযোগী। নতুন নতুন সমস্যার প্রতি আপনার আগ্রহ সবসময়ই রয়ে গেছে।

ফ্রিৎস্ লাং
আমার ধারণা, আমাদের পেশাটি, সিনেমা-শিল্পটি স্রেফ আমাদের শতাব্দীরই শিল্প নয়। এটি তরুণ প্রজন্মের শিল্পমাধ্যম।

জ্যঁ-লুক গোদার
আপনার ধারণা, এটি তরুণ প্রজন্মের শিল্পমাধ্যম? আমিও তা-ই মনে করি।


যখন থেকে আমাদের জীবন একটি ভীষণ
গতিশীলতার ভেতর যাত্রা শুরু
করল, আমাদের সিনেমাগুলোও
অপেক্ষাকৃত অধিক গতিশীল
হতে থাকল, অধিক দ্রততর
হতে থাকল

ফ্রিৎস্ লাং
আপনাকে কিছু কথা বলতে চাই। এ নিয়ে প্রচুর ভেবেছি। আমি একটি সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছিলাম, সেটি বানাইনি কোনোদিন। এটির শিরোনাম ছিল…। ওহ, না; এখন আর মনে পড়ছে না! আমি চেষ্টা করছিলাম নিজের তরুণ বয়সকে স্মরণ করার, কিন্তু তা করতে পারিনি। আজকের দিনের তারুণ্য ও আমাদের সময়ের তারুণ্যের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে তুলনা টানতে চেয়েছিলাম আমি। আমি দেখি, আমি বিশ্বাস করি, এ সময়ের তরুণদের জীবন অনেক বেশি গতিশীল। নির্বাক সিনেমাগুলোর কথা ভাবুন। সেগুলো অনেক মন্থরগতির। ৩০ বছর আগে যে সিনেমাগুলো আমরা বানিয়েছি– আমি সেই ডাইনোসর এখন কথা বলছি!

১৯১৮ সালে যখন শুরু করেছিলাম, সেই ৪৫-৪৬ বছর আগে, সিনেমাগুলোর গতি তখন অনেক মন্থর ছিল। যখন থেকে আমাদের জীবন একটি ভীষণ গতিশীলতার ভেতর যাত্রা শুরু করল, আমাদের সিনেমাগুলোও অপেক্ষাকৃত অধিক গতিশীল হতে থাকল, অধিক দ্রততর হতে থাকল। আমার ধারণা, এখনকার তরুণ প্রজন্মের জীবন আমাদের সময়ের তরুণদের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল।

শুনুন, আপনাকে একটা কথা বলি। আপনাকে তো বলেছিই, এই নতুন শিল্পমাধ্যমটিতে কাজ করতে আমরা যারা যাত্রা শুরু করেছিলাম, তাদের প্রায় কেউই এখন আর বেঁচে নেই।

জ্যঁ-লুক গোদার
এর মধ্যে ছিলেন [কার্ল থিওডর] ড্রায়ার, গান্স ও আপনি নিজে।

ফ্রিৎস্ লাং
আপনি এখন যেভাবে বলছেন, এ রকম কথা বলাবলি হয়নি আমাদের। আমার ধারণা, এটি আপনাদের চেয়ে আমাদের পক্ষেই অপেক্ষাকৃত অধিক সহজ ছিল। কেননা, আমরা ছিলাম অগ্রদূত। তখনকার দিনে অর্থলগ্নিকারীরা বলতেন না, ‘আপনাকে চার সপ্তাহের মধ্যেই সিনেমাটির কাজ শেষ করতে হবে’, বা এ রকম কোনোকিছু। তখনকার দিনে সেইসব সিনেমা দিয়ে প্রচুর পরিমাণ টাকা কামাই করেছি আমরা। আমার ধারণা, তখনকার দিনের সিনেমাগুলো ছিল রুটির রোলের মতো। চমৎকারভাবে নির্মিত, আজকের জন্য ভোগযোগ্য, কিংবা এক সপ্তাহ, ছয় মাস কিংবা এক বছর মেয়াদী। এখনকার দিনে ব্যাপারটি কী রকম– আমি জানি না।

জ্যঁ-লুক গোদার
কিন্তু একটি সিনেমার মেয়াদকাল তো একটি রুটির রোলের মেয়াদের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

filmfree
নাপোলিয়ন । ফিল্মমেকার : আবেল গান্স

ফ্রিৎস্ লাং
নিশ্চয়ই। তবে আমি মনে করি, কেবল সময় ও দর্শকই এ বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে। একটি সিনেমা যখন অনেকদিন পর্যন্ত টিকে থাকে, যেমন ধরুন গান্সের নাপোলিয়ন [১৯২৭]…

জ্যঁ-লুক গোদার
…আমার বিশ্বাস, নাপোলিয়ন চিরকালই টিকে থাকবে।

ফ্রিৎস্ লাং
…এ কারণেই এটি একটি শিল্পকর্ম। কিন্তু ঠিক কয়টি সিনেমা সম্পর্কে আপনি এমন কথা বলতে পারবেন? কয়টি সিনেমা আজকের দিনেও প্রদর্শনযোগ্য রয়েছে– যেগুলো দেখে দর্শক পারবে শিল্পকর্ম হিসেবে সণাক্ত করতে এবং একইসঙ্গে উপভোগ করতেও?

জ্যঁ-লুক গোদার
আমার মনে হয় না এমন কোনোটা আদৌ রয়েছে। আমরা আবেল গান্স, ড্রায়ার ও আপনার কথা উল্লেখ করেছিলাম। ড্রায়ারের ক্ষেত্রে হয়তো দ্য প্যাশন অব জোয়ান অব আর্ক-এর [১৯২৮] নাম নেওয়া যেতে পারে; হয়তো ভ্যাম্পায়ারও [১৯৩২]। আপনার ক্ষেত্রে, ব্যক্তিগতভাবে আমার মতামত এম-এর পক্ষে। আপনি কি একমত?

ফ্রিৎস্ লাং
হ্যাঁ, অবশ্যই একমত। আমি মনে করি, এম একটি ডকুমেন্টারি।… শুনুন, আপনি তো একটা বাচ্চা ছেলে!

জ্যঁ-লুক গোদার
নিশ্চয়ই আমি একটা বাচ্চা ছেলে। আর বাচ্চারা তো চমৎকার হয়ে থাকে। আর বাচ্চারা সবসময় পায় শাস্তি।…

the passion of joan of arc
দ্য প্যাশন অব জোয়ান অব আর্ক । ফিল্মমেকার : কার্ল থিওডর ড্রায়ার

ফ্রিৎস্ লাং
না; তা কেন?

জ্যঁ-লুক গোদার
…সিনেমা কি এ কারণেই তরুণ প্রজন্মের শিল্পমাধ্যম? সিনেমা যদি তরুণ প্রজন্মের কাজ হয়ে থাকে, সে কারণেই কি অতিতরুণেরা এ মাধ্যমটিতে প্রায়শই তর্জন-গর্জন করে? ‘তর্জন-গর্জন’কে জার্মান ভাষায় আপনি কী বলবেন?

ফ্রিৎস্ লাং
জানি না!

জ্যঁ-লুক গোদার
লোকজন অন্য মাধ্যমের চেয়ে এ মাধ্যমটির প্রতি বেশি কঠোর হয়ে থাকে। আপনার কাছে জানতে চাই, এ বিষয়টিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাব আমরা? আমরা এটিকে সেন্সরশিপ বলতে পারি না। বরং আরেকটু মার্জিত টার্ম ব্যবহার করা যাক : ‘দৌরাত্ম’। সবকিছু ধ্বংস ও বিনষ্ট করে দেওয়া শিশুদের মতোই কি হওয়া উচিত আমাদের, নাকি আমরা এর জন্য অন্য কোনো তরিকা খুঁজে নেব?

ফ্রিৎস্ লাং
শিশুদের সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই আমার।

জ্যঁ-লুক গোদার
কিন্তু দৌরাত্ম সম্পর্কে তো আপনি অবগতই।

ফ্রিৎস্ লাং
দেখুন, আপনাকে দৌরাত্মের বিরুদ্ধে সবসময়ই লড়তে হবে। আপনি যেহেতু সেন্সরশিপের প্রসঙ্গ তুললেন, একটি বিষয়ের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল– জানি না, সেটি সত্য কিনা। এমনকি তরুণ বয়সেও, আমি সবসময়ই ছিলাম সেন্সরশিপের শত্রু। দ্য ওম্যান ইন দ্য উইন্ডো [১৯৪৪] নামে আমি একটি সিনেমা বানিয়েছিলাম। সেটিতে একটি দৃশ্য ছিল, যেখানে এক নারী ছিল একটি স্বপ্নের মধ্যে– যেটিতে এক নারী এক পুরুষকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা চালায়। সেই দৃশ্যটি কেটে ফেলে দেওয়া হলো– সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বরং অরিগনে [রাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র]; কেননা, সেখানে কোনো একজনকে এক নারীর বিষ প্রয়োগ চেষ্টার একটি মামলা চলছিল বেশকিছু বছর আগে। ফলে মুখোমুখি দাঁড়াতে হলো সেন্সরশিপের। তবে আমাকে বলা হলো, আপনি তো সেন্সরশিপের মুখোমুখি হয়েছেন অনেকবারই।… আপনি তো জানেন, ফ্রান্সকে আমি কতটা ভালোবাসি। এ কথা কি সত্য– ফ্রান্সে আপনারা কোনো রাজনীতিককে কিংবা পুলিশকে টাকা [ঘুষ] নিতে দেখাতে পারেন না?

জ্যঁ-লুক গোদার
না; আমার মনে হয় না, আপনারা তা করতে পারেন।

দ্য ওম্যান ইন দ্য উইন্ডো । ফিল্মমেকার : ফ্রিৎস্ লাং

ফ্রিৎস্ লাং
কেন নয়?

জ্যঁ-লুক গোদার
এ খুবই আজব ব্যাপার। ফ্রান্সে আপনি প্রচুরসংখ্যক জিনিস বানাতে পারবেন।… বলা যেতে পারে, ফ্রান্সে যে তিন-চতুর্থাংশ সিনেমা আমি বানিয়েছি, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়ায় বানাতে পারতাম না। তবে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের সিনেমা নিশ্চয়ই আমি ফ্রান্সে বানাতে পারব না– যেগুলো হয়তো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়ায় বানাতে পারব। ফ্রান্সে আপনি যুদ্ধের কোনো সিনেমা বানাতে পারবেন না। কেন? জেনারেলরা! জেনারেলরা সবসময়ই ঠিক, বুঝলেন? কোনো জেনারেল কিংবা ক্যাপ্টেন ভুল করেছেন– এমনটা আপনি দেখাতে পারবেন না।

ফ্রিৎস্ লাং
পারবেন না?

জ্যঁ-লুক গোদার
না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো সিনেমা…। এ বাজে ব্যাপার। ফ্রান্সের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো সিরিয়াস সিনেমাই নির্মিত হয়নি।

ফ্রিৎস্ লাং
কেন হয়নি?

জ্যঁ-লুক গোদার
…কিংবা পরাধীনতা নিয়ে।… কারণটা আমি জানি না। ফরাসিরা জানে না। আমজনতা নয়, বরং শাসনযন্ত্রই এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া সহ্য করতে পারে না। ডকুমেন্টারি তারা পছন্দ করে না। যদি ফিকশন হয়ে থাকে, তাহলে, গণপ্রজাতন্ত্রী ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি আপনি ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না; অথচ কেনেডির চরিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অভিনেতাই অভিনয় করেছেন।


আমাদের জানাশোনা বা যাপন করা
কোনো সময়কাল নিয়ে শুটিং
করে আপনি যদি কোনো
সিনেমা বানান, সেটি
অবশ্যই একটি
ডকুমেন্টারি
হয়ে ওঠবে

ফ্রিৎস্ লাং
এক্ষুনি আপনি একটা কথা বললেন– তারা ডকুমেন্টারি পছন্দ করে না। আমার ধারণা, এই সময়গুলো কিংবা আমাদের জানাশোনা বা যাপন করা কোনো সময়কাল নিয়ে শুটিং করে আপনি যদি কোনো সিনেমা বানান, সেটি অবশ্যই একটি ডকুমেন্টারি হয়ে ওঠবে।

Le Mepris
কনটেম্পট । ফিল্মমেকার : জ্যঁ-লুক গোদার

জ্যঁ-লুক গোদার
এই দিনগুলোতে আমরা প্যারিসে নির্দিষ্ট কিছু ধরনের সিনেমা বানাতে পারি না। কিংবা, যদি আপনি বানান, জেনে রাখুন, আপনাকে অনেকগুলো ঝামেলার মধ্যে পড়তে হবে। যেমন ধরুন, শিক্ষার্থীদের ওপর আমি একটি সিনেমা বানাতে চাই। ১৮-১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী– যাদের আগ্রহ সবকিছুর প্রতিই, বিশেষত রাজনীতির প্রতি। কিন্তু এ কথা বলা জরুরি, ডক-শ্রমিকদের নিয়ে আপনি কোনো সিনেমা বানাতে পারবেন না; ঠিক যেমন যুক্তরাষ্ট্রে বানাতে পারবেন না ওয়াটারফ্রন্ট কিংবা এ রকম বিষয় নিয়ে। আপনি স্রেফ পারবেন না। এই হলো এর অল্প কয়েকটি উদাহরণ।

ফ্রিৎস্ লাং
আপনাকে একটা কথা বলি। হলিউডে সেন্সরশিপ ছিল। আমরা সেই লোকগুলোর সঙ্গে কথা বলতে পারতাম।

জ্যঁ-লুক গোদার
সেটিই যথেষ্ট শ্রেয়; কেননা…

ফ্রিৎস্ লাং
…আপনারা কি এখানে [ফ্রান্স] এদের [সেন্সরশিপ মেম্বার] সঙ্গে কথা বলতে পারেন?

জ্যঁ-লুক গোদার
না। পারি না।

ফ্রিৎস্ লাং
এখানে সেন্সরশিপ নিয়ন্ত্রণ করে কে?

জ্যঁ-লুক গোদার
একদল লোক…।

ফ্রিৎস্ লাং
…একদল এমন লোক, যাদেরকে আপনি চিনেন না? দেখুন, অতীতে, যখন আমি সিনেমা বানাতাম, এবং যখন এখানে [হলিউড] সেন্সরশিপ ছিল, আমাকে কখনোই এমন অনুভূতি পেতে হয়নি যে– এই লোকটি [আমি] এমন কিছু সৃষ্টি করেছে, যার চেষ্টা ছিল নিজের সহযোগীদের কোনো মূল্যবোধকে জাহির করা। কিছু একটা ভুল করে ফেলা বাচ্চা ছেলেটির মতোই নিজেকে সবসময় মনে হতো আমার। আর ছিল প্রত্যাশা। আমার ধারণা, এ কারণেই লোকজন খানিকটা এ রকম হয়।

জ্যঁ-লুক গোদার
সেন্সরবোর্ডের সদস্যরা কোনোকিছু নিজেদের অন্তর দিয়ে দেখেন না। তারা দেখেন এভাবে… একটি কথা আছে…

ফ্রিৎস্ লাং
…একজন রোমান্টিক মানুষের কাছে অন্তরের দাম অনেক। আমার ধারণা, আপনি ঠিকই বলেছেন।

জ্যঁ-লুক গোদার
…আমার ধারণা, এ কথাটি প্রডিউসার কার্লো পন্তির। এ কথাটি আমাকে সবসময়ই শিহরিত করে। তিনি বলতেন, “দর্শক আসলে কোনো সিনেমাকে সেটির চোখ দিয়ে দেখেন না; বরং দেখেন সেটির পেট দিয়ে।” আপনি কি মনে হয়, এ কথা ঠিক?


সিনেমাকে নির্ভুলভাবে বিচার করার
ক্ষেত্রে দর্শকের সক্ষমতার ওপর
যদি আমার আস্থা না থাকত,
তাহলে সিনেমা বানানোর
কোনো অধিকারই আমি
রাখতাম না

ফ্রিৎস্ লাং
‘লা ভেত্রেঁ’ কথাটির মানে কী? আমার ধারণা, তিনি যা বোঝাতে চেয়েছেন, আমি বুঝতে পেরেছি। এ খুবই কঠিন কাজ। আমার মনে হয় না, দর্শক আদৌ জানেন– তারা নিজেদের অন্তর নাকি পেট দিয়ে দেখছেন সিনেমা। তবে সিনেমাটি ভালো নাকি খারাপ– এ তারা ঠিকই জানেন। দর্শকের ওপর আস্থা আছে আমার।

আপনাকে একটা কথা বলি। আমি দর্শকের জন্যই কাজ করি। তার মানে, আমি বিশ্বাস করি, সিনেমা হলো আমজনতার জন্য একটি শিল্পমাধ্যম। সিনেমাকে নির্ভুলভাবে বিচার করার ক্ষেত্রে দর্শকের সক্ষমতার ওপর যদি আমার আস্থা না থাকত, তাহলে সিনেমা বানানোর কোনো অধিকারই আমি রাখতাম না।

জ্যঁ-লুক গোদার
কিন্তু আমজনতার কথা ভেবেই যদি আপনি কোনো সিনেমা বানান, আর সেটি যদি আমজনতা পছন্দ না করে, তবুও সেটিকে আপনার কাছে কোনো বাজে সিনেমা বলে মনে না হয়, তাহলে আপনি কি সেটি বদলে ফেলবেন?

ফ্রিৎস্ লাং
সিনেমাটিকে? নাকি নিজেকে?

জ্যঁ-লুক গোদার
সিনেমাটিকে।

ফ্রিৎস্ লাং
মোটেও না। হয়তো আমার কোনো ভুল হয়েছিল, কিন্তু সার্বিকভাবে আমি দেখেছি… কথাটি শুনতে হয়তো খানিকটা কেমন লাগবে… কীভাবে যে বলা যায়… দাম্ভিকভাবে। আমেরিকায় যেটিকে ‘ফ্লপ’ বলে ডাকে– এমন অভিজ্ঞতা আমার ক্ষেত্রে বিরল। মানে বলতে চাচ্ছি…

কনটেম্পট । ফিল্মমেকার : জ্যঁ-লুক গোদার । অভিনেতা : ফ্রিৎস্ লাং

জ্যঁ-লুক গোদার
‘ব্যর্থতা’।

ফ্রিৎস্ লাং
আমি যে সিনেমাগুলো বানিয়েছি, খেয়াল করে দেখেছি, বানিয়ে ফেলার পর সেগুলো আমার আর আদৌ ভালো লাগেনি; কিন্তু সেগুলোর নিজেদেরই একটি জীবন রয়েছে। আর ১০-১২ বছর কেটে যাওয়ার পর, সেগুলোকে আবারও যখন দেখেছি, খেয়াল করেছি, যতটা ভেবেছিলাম, আদৌ তত খারাপ নয়।

জ্যঁ-লুক গোদার
ছয়-সাত মাস আগে আপনার সঙ্গে যখন কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখা হলো, আপনি আর কোনো সিনেমা বানাবেন কিনা– সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না। তবে এখন আমি নিশ্চিত জানি, আপনি সিনেমা বানাতে চান। এ ব্যাপারে কিছু বলুন…

ফ্রিৎস্ লাং
সত্যটি জানতে চান আপনি?

জ্যঁ-লুক গোদার
নিশ্চয়ই, একেবারেই নির্ভেজাল সত্য।

ফ্রিৎস্ লাং
ওহে বন্ধু আমার, আপনাকে একটা কথা বলি। যখন কোনো পেশায় আপনি বুড়ো হতে থাকবেন, এ নিয়ে একটু আগেই আমরা যেমনটা বলেছি, নিজের তারুণ্যের সঙ্গে সংযোগ-বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় কাজ করতে থাকবে আপনার মনে। এ ভয়টি আমার ছিল। আর কোনো সিনেমা আমি বানাতে চাইনি। জানেন তো, আপনার কনটেম্পট [১৯৬৩] সিনেমায় অভিনেতা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম। নিজেকে বলেছি, ‘এটিই আমার যবনিকা’। কিন্তু এরপর, তিন-চার সপ্তাহ আগে, আমি শাইল্যো’তে [থিয়েটার, প্যারিস], ‘সিনেমাটেক ফ্রঁসেজ’-এ গিয়েছিলাম। তখন কয়েক যুগল বালক-বালিকা আমাকে বলল, ‘মিস্টার লাং, আপনার সিনেমাগুলো আমাদের অঢেল আনন্দ দিয়েছে; অনেকগুলো আনন্দমুখর সময় কেটেছে আমাদের। আপনার কাছ থেকে অনেককিছু শিখেছি আমরা। প্লিজ, আরও সিনেমা বানান।’

কথাটি ভীষণ রকম ছুঁয়ে গেল আমাকে। ভাবলাম, আরেকটি সিনেমা বানাব।

জ্যঁ-লুক গোদার
সেটির নাম দেবেন কী?

ফ্রিৎস্ লাং
ভাবছি, নাম দেবো, ডেথ অব অ্যা ক্যারিয়ার গার্ল। তার মানে, নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই কেবল ভাবনা-চিন্তা করা এক নারীর মৃত্যু। ভুলে গেছি…

জ্যঁ-লুক গোদার
তার মৃত্যুটি কি কোনো শাস্তি, নাকি…?

ফ্রিৎস্ লাং
এ হলো বেঁচে থেকেও মরে যাওয়া। কিন্তু আমি কুসংস্কারাচ্ছন্ন একজন মানুষ; এ সিনেমা নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না!

জ্যঁ-লুক গোদার
ঠিক আছে।

CONTEMPT
কনটেম্পট । ফিল্মমেকার : জ্যঁ-লুক গোদার

ফ্রিৎস্ লাং
নিজেদেরকে ডাইনোসর হিসেবে অভিহীত করে আমরা কিছু কথা বলেছিলাম। আমরা যখন নির্বাক সিনেমায় কাজ শুরু করেছিলাম, যেমনটা আগেই বলেছি, আমাদের হাতে কোনো কথা ছিল না; ছিল শুধু অ্যাকশন। আপনি আর আমি যখন একসঙ্গে কাজ করলাম, একটি তুমুল পার্থক্য আমি খেয়াল করেছি, যেটি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, এবং যেটির ক্ষেত্রে আপনাকে মনে হয়েছে একেবারেই সঠিক।…

আমি গাড়ি-দুর্ঘটনাটির কথা বলছি। যে গাড়ি দুর্ঘটনায় বার্দো [ব্রিজিত বার্দো অভিনীত কামিলা চরিত্রটি] ও প্যালেন্সের [জ্যাক প্যালেন্স অভিনীত জেরেমি চরিত্রটি] মৃত্যু হয়। নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমি হলে তাদেরকে গাড়িটির ভেতরেই দেখাতাম; দেখাতাম– গাড়িটির গতি বাড়ছে। তারপর কিছু একটা গোলমাল হতো; হয়তো কোনো টায়ার কিংবা অন্য কোনোকিছুতে। আর দেখাতাম দুর্ঘটনাটির ঘটে যাওয়া। কিন্তু আপনি তা দেখাননি। আপনি স্রেফ তাদেরকে দুটি বগির মাঝখানে প্রাণহীন অবস্থায় দেখিয়েছেন; কেননা, আপনার কাছে দুর্ঘটনাটির চেয়ে বরং সেটির রেজাল্টের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। আপনার অনুরোধ মেনে যদি আমাদের মধ্যে তুলনা টানতে যাই, তাহলে আপনারটিই অনেক বেশি গুরুত্ববহ।

জ্যঁ-লুক গোদার
লোকজন বলে থাকে, আমি নাকি খানিকটা ইমপ্রোভাইজ করি। আপনার কাছে কি এ কথা সত্য মনে হয়? কেননা, আমি যখন দ্য স্পাইডারস [১৯১৯] দেখেছি, খেয়াল করেছি, আমি যা যা করি, সেসবের অনেককিছুই সেই ফিল্মটিতে আপনি করে ফেলেছেন। আর সেটি বানানো হয়েছে বহু বছর আগে।

ফ্রিৎস্ লাং
খানিকটা এ রকমই…

জ্যঁ-লুক গোদার
‘নিউ ওয়েভ’-এর মতো।


একজন ফিল্মমেকারকে অবশ্যই একজন
ক্রিয়েটর হতে হবে।… তার যা
কিছু বলার আছে, তা
নিজের সিনেমাগুলোর
ভেতর দিয়েই
বলা উচিত।

ফ্রিৎস্ লাং
আপনি এ কথা বলেছেন বলে আমি খুব খুশি হয়েছি। আমি আপনার সঙ্গে একমত। গত ৩০-৪০ বছরে এই সিনেমাগুলো আমি দেখিনি। ফলে এখন বরং এগুলো নিয়ে কথা না বলাই ভালো। তবে আপনার আর আমার মধ্যে বিরাট একটি পার্থক্য রয়েছে। আপনি আপনার কাজে একটি আলাদা ধরনের মেথড প্রয়োগ করেন। আপনি ইমপ্রোভাইজেশন পছন্দ করেন; আমি করি না। আমি মনে করি, একজন ফিল্মমেকারকে অবশ্যই একজন ক্রিয়েটর হতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই একজন ফিল্মমেকারের কথা বলা কিংবা লেখা উচিত নয়। তার যা কিছু বলার আছে, তা নিজের সিনেমাগুলোর ভেতর দিয়েই বলা উচিত। একজন ফিল্মমেকার যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা যদি নিজে মুখ ফুটে কিংবা লিখে ব্যাখ্যা করেন, আমি বিশ্বাস করি, না সেটি কোনো ভালো সিনেমা, না তিনি কোনো প্রকৃত ফিল্মমেকার। যে ফিল্মমেকার কোনো অভিনেতাকে বলেন, “আপনি এই দরজাটি দিয়ে ভেতরে আসুন”; আপনার হাতে স্ক্রিপ্ট আছে, আর আপনি বলেন, “এটা করুন, ওটা করুন; আর আপনার কাজ শেষ হয়ে গেলে অই দিক দিয়ে বেরিয়ে যান”; আমার কথা হলো, এটি তো স্রেফ কোনো ট্রাফিক পুলিশের কাজ।…

জ্যঁ-লুক গোদার
এ কাজটি আপনি কীভাবে করেন?

ফ্রিৎস্ লাং
…কিন্তু এটি তো একজন ফিল্মমেকারের কাজ নয়। দাঁড়ান, আপনাকে একটা জিনিস দেখাই। এক মুহূর্ত অপেক্ষা করুন।… আমি যখন কাজ করতে শুরু করি, যখন আমি কোনো চিত্রনাট্য পাই।… ধরুন, আমার কাছে একটি দৃশ্য রয়েছে। ধরা যাক, ডিজাইনার আমাকে একটি ঘরের নকশা করে দিলেন। আমি বললাম, “না, এটিকে এভাবে ব্যবহার করতে পারব না। আমি বরং এ রকম চারটি দেয়াল চাই।” তারপর বললাম, “এই লোকটি একটি ডেস্কে বসে আছে। এখানে থাকবে ডেস্কটি। এখানে আমি একটি জানালা রাখতে চাই।” তিনি [ডিজাইনার] আমাকে কাজ শুরু করার জন্য এটি করে দেবেন। তিনি এখানে বসবেন। এখানে আমাকে একটি দরজা করে দেবেন। ফলে দৃশ্যটি আমার কাছে ধরা দেবে– লোকটি ওখানে বসে আছে, এই দরজা দিয়ে বাইরে বের হবে, এর জন্য এ পরিমাণ সময় লাগবে। আমি অপচয় করতে চাই না…

M by Fritz Lang
এম । ফিল্মমেকার : ফ্রিৎস্ লাং

জ্যঁ-লুক গোদার
…সময়…।

ফ্রিৎস্ লাং
তার মানে, আমাকে একটি দরজা দিন এখানে, যেন সে [চরিত্রটি] এখান দিয়ে বের হতে পারে। এখন, আমি বসে আছি এ জায়গাটিতে, এবং আমার ধারণা, এটির অবস্থান আপনার একেবারেই মুখোমুখি, আমার কাছে স্ক্রিপ্টটি আছে, এবার আমি বলতে পারি, “চলুন, এখান থেকে একটা শট নিয়ে শুরু করা যাক।” মানে, লোকটি ওখানে বসে কিছু লিখছে। জানালাটিও রয়েছে ঠিকঠাক জায়গায়। সে দেখল, কেউ একজন ওখান দিয়ে আসছে। তার মানে, আমি এভাবেই ডিজাইন করে নিই। সে এ পথ দিয়ে এলো। ক্যামেরাটি তার সঙ্গে ডলি করতে থাকল। চলুন, ধরা যাক, এক নারী বসে আছে এখানে। আর ক্যামেরাটি এখন ওখানে। এ কাজ যখন আমি করি, তখন সর্বপ্রথম আমার জানাই থাকে, কোন কোন জায়গায় ট্র্যাক-শট দরকার পড়বে।

আরেকটি বিষয় : আমি সিকুয়েন্স ধরে কখনোই শুট করি না। কোনো জায়গায় প্রয়োজনীয় সকল শটের জন্য সেটআপ করতে বলি ক্যামেরাম্যানকে। যখন ওখানে কোনো শট নিই, বাকিটুকু বাদ দিয়ে যাই।

জ্যঁ-লুক গোদার
সেটি আপনি পরে কখনো নেন।

ফ্রিৎস্ লাং
সেখানকার সবকিছু খেয়ালে রাখি আমি। যখন প্রয়োজনীয় অন্য জিনিসপত্র পেয়ে যাই, ওখান থেকে শট নেওয়া শুরু করি। আমার বিশ্বাস, এভাবে সময় বাঁচাতে পারি। যখনই স্টুডিওতে আসি, আমার সবসময়ই জানা থাকে, ঠিক কী করতে যাচ্ছি।

জ্যঁ-লুক গোদার
কেননা, দৃশ্যটি সম্পর্কে একেবারেই নিগূঢ় একটি আইডিয়া থাকে আপনার।

ফ্রিৎস্ লাং
এর মানে এই নয় যে, এটির কখনোই পরিবর্তন ঘটবে না। বরং তা ঘটলেও কালেভদ্রেই ঘটে।

জ্যঁ-লুক গোদার
আপনি আপনার আইডিয়ার প্রসারের ক্ষেত্রেই পরিবর্তন ঘটান।

ফ্রিৎস্ লাং
আসলে আমার আইডিয়া নয়; কখনো কখনো অন্য কোনোকিছুও আপনার কাছে শ্রেয় মনে হতে পারে। ধরুন কোনো অভিনেতা নিজের সংলাপ ঠিকঠাক বলতে পারছেন না, তখন আপনাকে বেছে নিতে হবে অন্য কোনো পথ।

জ্যঁ-লুক গোদার
এবার আপনি আমার কাছে একটা বিষয় ব্যাখ্যা করুন, প্লিজ। ধরুন ডেস্কটি আমি এখানে চাই নাকি ওখানে– সেটি বলতে পারছি না।

ফ্রিৎস্ লাং
কেন পারছেন না?

জ্যঁ-লুক গোদার
যদি এখানে কিছুই না থাকে, আমি পারলাম না। আমাকে সবকিছুই দেখতে হবে : ডেস্ক, চেয়ার, দরজা।

ফ্রিৎস্ লাং
শুনুন…

কনটেম্পট । ফিল্মমেকার : জ্যঁ-লুক গোদার

জ্যঁ-লুক গোদার
…দরজাটি যদি এখানে থাকে, ঠিক আপনার মতোই, আমি তাহলে সময় নষ্ট করতে চাইব না।… যেমনটা বলছিলাম, দরজাটি আমি বদলাতে পারব না। আমার আসলে এই দেয়ালগুলো বাস্তবেই চাই এবং এই দরজাটি বাস্তবেই চাই। যেহেতু এগুলো বাস্তবে অস্তিত্বমান, ফলে এদের বদলাতে পারব না। আমি কেবল এই লোকগুলোকে বদলে দিতে পারব। কিংবা, যদি দরজাটি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে অন্য কোনো এলাকায় অন্য কোনো অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে নেব আমি। রোমের [ইতালি] সেই অ্যাপার্টমেন্টটির কথা মনে আছে আপনার– যেখানে আমরা কনটেম্পট-এর শুট করেছিলাম?

ফ্রিৎস্ লাং
আপনাকে একটা কথা বলি, শুনুন। সেই দৃশ্যটি যখন দেখেছি, এখানে আপনাকে সত্যি করে বলছি, এ বেলা আমি একেবারেই নিখুঁতভাবে বুঝে গেছি, কেন আপনি ইমপ্রোভাইজ করে থাকেন। আমি সেটিকে একটি অনন্যসাধারণ দৃশ্য হিসেবেই গণ্য করি।… আমাকে বলতে দিন! আমি মনে করি, আমার দেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ দৃশ্য এটি। আপনি তো জানেন, আপনাকে আমি তেল দিচ্ছি না! আপনি জানেন, আমি মনে করি আপনি একজন…! থাক, বাদ দিন! আপনি ঠিকই জানেন, আপনাকে আমি কী ভাবি। সেই দৃশ্যটি দেখে আমি বুঝে গেছি, কেন মাঝেমধ্যেই ইমপ্রোভাইজ করেন আপনি; তবে আপনি সবসময়ই ‘বড় সিনেমা’ বানান। কেন সবকিছুই দেখার দরকার পড়ে আপনার? এটি একটি ভিশন। এটির আবশ্যকতা নেই। এ বিষয়টি আমি একদমই বুঝতে পারি না।


কোনো বিশেষ অংশের চেয়ে
বরং সামগ্রিক রূপটির
প্রতিই আমার
আগ্রহ
বেশি

জ্যঁ-লুক গোদার
হয়তো কোনো বিশেষ অংশের চেয়ে বরং সামগ্রিক রূপটির প্রতিই আমার আগ্রহ বেশি।

ফ্রিৎস্ লাং
দেখুন, আমি বিশ্বাস করি… এ বিষয় নিয়ে কথা বলে রাতের পর রাত কাটিয়ে দিতে পারব আমরা। আমি মনে করি, যখন কোনো সিনেমা বানাই, সামগ্রিক রূপটিই দেখতে পাই আমি। সবকিছুই দেখতে পাই। আমি একটি দৃশ্যের সেটআপ করার চেষ্টা করি; যেন পরবর্তীকালে শত শত দৃশ্য পেয়ে যাই। ‘এখান’ থেকে একটি আইডিয়া নিয়ে শুরু করি, যেটি ‘ওখানে’ গিয়ে চরম শিখরে পৌঁছবে। আমি মনে করি, যদি ইমপ্রোভাইজ করতে যাই, কাজটি খুবই দুরূহ হয়ে ওঠবে।

জ্যঁ-লুক গোদার
হ্যাঁ, সেটি খারাপও হতে পারে।

ফ্রিৎস্ লাং
আমি বলছি না, আমার পথটি আপনারটির চেয়ে শ্রেয়।

জ্যঁ-লুক গোদার
হয়তো আমার ডিপারচারের বিষয়টি ডকুমেন্টারি সদৃশ্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি; যেখানে আপনি কোনো ফিকশন সাদৃশ্য দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত এ দুটি দৃষ্টিভঙ্গি একাকার হয়ে যায়।

ফ্রিৎস্ লাং
হ্যাঁ; আমার মনে হয় আপনি ঠিকই বলেছেন।

জ্যঁ-লুক গোদার
আরেকটি বিষয়, কিছুক্ষণ আগে আমরা ফ্রান্সের প্রতিকূলতা নিয়ে কথা বলছিলাম; তবে আমি মনে করি, এখানে অসাধারণ কিছু একটা রয়েছে…

ফ্রিৎস্ লাং
আমি জানি, আপনি কী বলবেন। এটিই একমাত্র দেশ, যেখানে ফিল্মমেকারের কপিরাইট রয়েছে।

জ্যঁ-লুক গোদার
এটিকে কপিরাইট বলে কিনা, জানি না; তবে এটিই একমাত্র দেশ, যেখানে ফিল্মমেকারকে একজন ‘অথর’ হিসেবে আইনত গণ্য করা হয়।

ফ্রিৎস্ লাং
এটি ফ্রান্সের একটি দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত।

জ্যঁ-লুক গোদার
পৃথিবীর অন্য কোথাও এ বিষয়টির অস্তিত্ব নেই।

ফ্রিৎস্ লাং
…ডিস্ট্রিবিউটর ও অর্থলগ্নিকারীরা [সিনেমায়] কাটা ছেড়া করেন; অথচ যুক্তরাজ্য, ইংল্যান্ড কিংবা জার্মানিতে এ ব্যাপারে আপনার [ফিল্মমেকারের] কিছুই করার থাকে না। আমি আমার নিজের দু’তিনটি সিনেমার নাম নিতে পারি, যেগুলোতে তারা সেইসব প্রতিটি দৃশ্যেই ছুরি চালিয়েছেন– যেগুলোর জন্যই সেই সিনেমাগুলো বানিয়েছিলাম আমি। কিন্তু এ ব্যাপারে আপনার কিছুই করার নেই।

Fritz Lang
এম । ফিল্মমেকার : ফ্রিৎস্ লাং

জ্যঁ-লুক গোদার
তাহলে সিনেমা বানানো হয় কেন?


আমার কাছে গ্রেট সিনেমা
মানে হলো, যেটি আমি
একাধিকবার দেখতে
পারব

ফ্রিৎস্ লাং
কেন সিনেমা বানানো হয় তাহলে? আপনাকে এগুলো বানাতেই হয়। জানেন তো, এ এক রোমান্টিক কাজ। আপনাকে একটা কথা বলি। আমার অবস্থান বিনোদনের বিপক্ষে নয়; একেবারেই নয়। কিন্তু যখন আমি আমজনতার সঙ্গে বসে কোনো সিনেমা দেখি, তাদেরকেই দেখতে থাকি। ফলে ক্লিওপেট্রা [জোসেফ এল. ম্যানকিউইচ; ১৯৬৩] কিংবা এ রকম কোনোকিছু দেখার কোনো মানে হয় না আমার। আমার ক্ষেত্রে সবসময়ই এমনটা ঘটে। তবে আমি মনে করি, আপনাকে বর্তমানের সিনেমার ওপর একটি সমালোচনামূলক চোখ রাখতেই হবে– কোনো সুনির্দিষ্ট টপিকের বিবেচনায় : বিষয়বস্তুটি অবশ্যই তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা চাই। সবসময়ই বলি, “গ্রেট সিনেমা আসলে কী জিনিস?”– আমি জানি না। আমার কাছে গ্রেট সিনেমা মানে হলো, যেটি আমি একাধিকবার দেখতে পারব। প্রায়শই বলে থাকি, একটি সিনেমার অবশ্যই হওয়া উচিত… অবশ্যই বিনোদনমূলক হওয়া উচিত তো বটেই, তবে এটির বলারও কিছু থাকা চাই। এটির একটি সমালোচনামূলক ভঙ্গি থাকা চাই। আমি মনে করি, লোকজন যখন কোনো সিনেমা নিয়ে কথা বলে, যখন তারা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনা করতে পারে, তখন তাদেরকে সেই সিনেমাটি দু’তিনবার দেখতে হয়; আর এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তবে আপনাকে একটি কথা বলি, শুনুন : এ কাজটি প্রায়শই ভীষণ দুরূহ হয়ে ওঠে।

আপনি যদি অনুমতি দেন, তাহলে আমার একটি সিনেমা নিয়ে কথা বলতে চাই! ফিল্মটির নাম, এম। আমার ধারণা, দর্শকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন সিগমেন্ট জাহির করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। একটি সিগমেন্ট ছিল এক অপরাধীকে তাড়া করে ধরার। আরেকটি সিগমেন্টে এটিকে দেখানো হয়েছে পুলিশের কাজের ভেতর দিয়ে। আর তৃতীয় সিগমেন্টটি, যেটি কিনা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি ছিল মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এক আলোচনা। আর সর্বশেষটি, যেটিও কিনা গুরুত্বপূর্ণভাবে ছিল এ আইডিয়াটি থেকে– আমরা আমাদের সন্তানদের ওপর এখন যতটুকু সতর্ক নজর রাখি, রাখতে হবে তারচেয়েও অনেক বেশি।

এ বিষয়টির ওপর একটি কথা আমার বলা উচিত। কোনো সমস্যা নিয়ে বোঝাপড়া করে– এমন সিনেমার ব্যাপারে অনেক অর্থলগ্নিকারীর আপত্তি রয়েছে। তারা কেবল চান, কীভাবে আপনি ‘বিনোদন’ দিচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, নারী ও পুরুষের জন্য, যে শ্রমিকেরা কঠোর পরিশ্রম করেন– তাদের জন্য, আপনাকে অবশ্যই বিনোদন দিতে হবে। তবে আপনি যদি একইসঙ্গে কোনো ইন্টারেস্টিং সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারেন, তারা তাহলে সেটি নিয়ে কথা বলাবলি করবেন। তারা বলবেন, “চলো এটি [সিনেমাটি] আরেকবার দেখা যাক।’ তারা দুইবার-তিনবার করে টিকেট কিনবেন। আর এ বিষয়টিই আমার কাছে সবসময় ইন্টারেস্টিং মনে হয়। ফরাসিরা কি ‘বক্সঅফিস’ টার্মটির সঙ্গে পরিচিত? টিকেট কাউন্টারে যে টাকাগুলো নেওয়া হয়, রিসিপ্টগুলো।… এবার অর্থলগ্নিকারীরা খুশি, আর আমিও আগ্রহী। কিন্তু অর্থলগ্নিকারী রিসিপ্ট দেখেন আর বলেন, “আমি টাকা লস খাচ্ছি”, “আমি টাকা ফেরত পাচ্ছি”, কিংবা “আমি টাকা কামাচ্ছি”।

আর আমি যখন রিসিপ্টগুলো দেখি, যখন বুঝি প্রচুর পরিমাণ টাকা কামানো গেছে– খুব খুশি হয়ে যাই ঠিকই, তবে টাকা কামানোটাই কিন্তু আমার মৌলিক প্রণোদনা নয়। বরং প্রচুর টাকা কামানো মানে হলো…

cleopatra
ক্লিওপেট্রা । ফিল্মমেকার : জোসেফ এল. ম্যানকিউইচ

জ্যঁ-লুক গোদার
…প্রচুর লোক দেখেছেন সিনেমাটি।

ফ্রিৎস্ লাং
ঠিক তাই। যে দর্শকের কাছে পৌঁছুতে চেয়েছিলাম, তাদের কাছে আমি পৌঁছুতে পেরেছি। আর নিজের চাওয়ামতো আইডিয়াগুলোকে পেরেছি ছুঁতে। যদি সামান্য কিছু দর্শক দেখেন সিনেমা, তার মানে, আমি নিজের দর্শকদেরকে ছুঁতে পারিনি।

জ্যঁ-লুক গোদার
তাদেরকে আপনার ছুঁতেই হবে।

ফ্রিৎস্ লাং
সবসময়ই। এটি রোমান্টিক ব্যাপার। অন্তরের ব্যাপার। চলুন, আমাদের ভবিষ্যতের সিনেমার জন্য কাঠটিকে ছোঁয়া যাক [সামনে থাকা টেবিলটি ছুঁয়ে বললেন লাং]!

আড্ডায় ফ্রিৎস্ লাং ও জ্যঁ-লুক গোদার

প্রথম প্রকাশ । সমকাল ঈদসংখ্যা ২০১৮
Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড] ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]

মন্তব্য লিখুন