অ্যা সেপারেশন : ভাঙনের গল্প/ তানভীর পিয়াল

0
174

অ্যা সেপারেশন
Jodaí-e Nadér az Simín
ডিরেক্টর, প্রডিউসার, স্ক্রিনরাইটার  আসগর ফরহাদি
সিনেমাটোগ্রাফার  মাহমুদ কালারি
মিউজিক  সাত্তার অরাকি
এডিটর  হায়েদে সাফিয়ারি
ডিস্ট্রিবিউটর  ফিল্মইরান
কাস্ট [ক্যারেক্টার]  লায়লা হাতামি [সিমিন], পেমান মোয়াদি [নাদের], শাহাব হোসেনি [হোদজাত], বাবাক কারামি [বিচারক], সারেহ বায়াত [রাজিয়া], সারিনা ফরহাদি [তেরমেহ]
রানিং টাইম  ১২৩ মিনিট
ভাষা  ফার্সি
দেশ  ইরান
মুক্তি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১
অ্যাওয়ার্ড  বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম [অস্কার, ২০১২]; বেস্ট ফিচার ফিল্ম [এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড, ২০১১]; বেস্ট ফিল্ম, বেস্ট ডিরেক্টর, বেস্ট স্ক্রিনরাইটার, বেস্ট এডিটর [এশিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, ২০১২]
a separation

 

লিখেছেন  তানভীর পিয়াল


 

পৃথিবীর সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রচারমাধ্যম– চলচ্চিত্র। একশ বছরের বেশি তার বয়স। বছরের পর বছর ধরে এই মাধ্যম বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করে চলেছে নিরন্তর। এই সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বিভিন্ন সময়ের নানা দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভাবনা ও গবেষণার চাষ। বর্তমান সময়ে সে প্রচেষ্টার অন্যতম শরিক ইরান ও সে দেশের চলচ্চিত্রকারগণ। হলিউড-বলিউডের রঙচঙে চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান সময়ে ইরানি চলচ্চিত্র নিজেদের সমাজবাস্তবতা, ঐতিহ্য ও জীবনবোধের উপস্থাপনে তৈরি করে নিয়েছে স্বকীয় গ্রহণযোগ্যতা। এর সবচেয়ে উজ্জ্বলতম উদাহরণ– অ্যা সেপারেশন। ২০১২ সালে অস্কারের ৮৪তম আসরে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার জিতে নেন ইরানি চলচ্চিত্রকার আসগর ফরহাদি, তার অনবদ্য অ্যা সেপারেশন-এর হাত ধরে। এটি অস্কার জেতা প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ইরানি চলচ্চিত্র।

অ্যা সেপারেশন শুধু দুজন নারী-পুরুষের সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্প নয়। এটি মানুষের ভেতরের মানুষটিকে তুলে আনে। এই ছবিতে কোনো মানুষই নায়ক নয়, নয় কেউ খলনায়কও। আদতে যেরকম হয়ে থাকে পৃথিবীর মানুষেরা, এই ছবির চরিত্রগুলোও তেমন– সবাই ভালো ও খারাপের মাঝখানটিতে দাঁড়িয়ে, নিজেকে, নিজের অবস্থান, বাস্তবতা, অনুভূতি-জীবনবোধ ও সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গে নিয়ে।

SEPARATION, A (2011)
অ্যা সেপারেশন

নাদের এই ছবির প্রধান চরিত্র। সিমিন– নাদেরের স্ত্রী– বিদেশ যাবার সুযোগ পেয়ে, উন্নত জীবনের আশায় কাজে লাগাতে চায় সেই সুযোগটিকে। কিন্তু স্বামী নাদের তার বাবাকে, যিনি আলঝেইমা রোগে আক্রান্ত, ইরানে রেখে যেতে চায় না। তাই নাদের সিদ্ধান্ত নেয় সিমিনের সঙ্গে বিদেশে না যাওয়ার। তাদের মেয়ে তারমেহও আইনত বাবার অনুমতি ছাড়া মায়ের সঙ্গে যেতে পারবে না, এবং নাদের অনুমতি দিতে ইচ্ছুকও নয়। এখান থেকেই শুরু হয় নাদের ও সিমিনের সম্পর্কের অবনতি– এরই আখ্যান অ্যা সেপারেশন

ছবিটি শুরু হয় আদালতের একটি দৃশ্যের মধ্য দিয়ে– যেখানে সিমিন ও নাদের সিমিনের দায়ের করা ডিভোর্সের মামলার শুনানিতে অংশ নেয়। এখানে তারা দুজনেই বসে আছে ক্যামেরার, আদতে দর্শকের মুখোমুখি। গল্পের একদম গোড়াতেই যেন আসগর নির্ধারণ করে দিচ্ছেন, সিনেমাজুড়ে দর্শকের ভূমিকা কেমন থাকবে। অদৃশ্য বিচারকের শুধু কণ্ঠই শোনা যায়, এবং বিচারকের প্রশ্নগুলোও দর্শকেরই প্রশ্ন যেন।

…চরিত্রগুলোর মধ্যকার
সম্পর্কের ভাঙাগড়ার
মধ্য দিয়ে এগিয়ে
চলে গল্প…

সিমিন ডিভোর্স চায়, সে চায় স্বামী-সন্তানসহ বিদেশে গিয়ে উন্নত জীবনযাপন করতে। কিন্তু নাদের নানা কারণে তা চায় না, ফলে দ্বন্দ্ব অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই দ্বন্দ্ব কেবল সিমিন ও নাদেরের মধ্যে নয়, তাদেরকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যেও লক্ষণীয়। চরিত্রগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে গল্প। চলচ্চিত্রটির শেষদৃশ্যও দেখি আদালতে : যেখানে ছবির শুরু হয়েছিল, শেষও হয় সেখানে; নানা ঘটনার পর সিমিন নাদেরের তালাক অনুমোদন হওয়ার মাধ্যমে।

হয়তো এই চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলোর মুখের ফার্সি ভাষা আমাদের জানা নেই, তারপরও একটিবারের জন্যও ভাষার এই বাধাটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। কেননা, চরিত্রগুলো আমাদের আশপাশেরই মানুষ, চেনা মানুষ, তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড আমাদের চেনা, তাদের বোঝার জন্য তাই আমাদের মুখের ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় না। প্রতিটি মানুষই ভালো ও মন্দের মিশেলে গড়া, প্রতিটি মানুষই নিজের অস্তিত্ব ও অনুভূতি রক্ষার জন্য চরম স্বার্থপর। নিজের বক্তব্য, চাওয়া-পাওয়াটাই অগ্রাধিকার পায় আমাদের কাছে। ‘আমি’ শব্দটাই মুখ্য আমাদের জীবনে, ‘আমরা’ নির্বাসিত প্রায়, বিলুপ্তির পথে– এটিই উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে। মানুষই এই ছবির আলোচ্য, মানুষ কত বিচিত্র আচরণই না করে! সহযোগিতা, সমঝোতার ক্ষেত্রেও তারা নিজের ইগো, আত্মাভিমান রক্ষায় ব্যস্ত।

a separation
অ্যা সেপারেশন

সিমিন চলে যাবার সময় নাদের তাকে ফেরানোর চেষ্টাটুকুই করে না, এমনকি ‘বিদায়’ পর্যন্ত বলে না। আদালতে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নাদের নিজে মিথ্যা বলে এবং নিজের মেয়েকেও মিথ্যে বলতে শিখিয়ে দেয়। আবার এই নাদেরই দায়িত্বশীল পিতা, কর্তব্যপরায়ণ পুত্র। অনাগত জীবন সংগ্রামের জন্য সে তার মেয়েকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে। একটি দৃশ্যে আমরা দেখি, গাড়িতে তেল নেওয়ার সময় পেট্রল পাম্পে অতিরিক্ত টাকা রাখায় তারমেহকে দিয়ে ঝগড়া করিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করায় নাদের। আলঝেইমা রোগে আক্রান্ত বাবার যতটুকু সম্ভব সেবা করার চেষ্টা করে নাদের, এমনকি বাবার জন্যই বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সে প্রত্যাখ্যান করে। তাহলে মিথ্যেবাদী নাদেরকে খারাপ বলিই-বা কি করে! বস্তুত আমরা সবাই হলাম নাদের, ভালো ও মন্দের মিশেলে আমরা মানুষ।

এই চলচ্চিত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র– তারমেহ। স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ছবির শুরু থেকেই সে নিশ্চুপ, গুমোট– যা তার বয়সসুলভ নয় মোটেও। মাঝে মধ্যে বিদ্যুচ্চমকের মতো হঠাৎ উচ্ছ্বলতা, চঞ্চলতা দেখা গেলেও বাকিটা সময় তার গুমোটভাব ঝড় ওঠার পূর্বাভাসই যেন।

…সিমিন না মারলেও অন্য
কোনো কারণে হয়তো তার
ভেতর জমে থাকা এই
কান্না আগ্নেয়গিরির
মতো বের হয়ে
আসতো…

নাদেরের অসুস্থ বাবার পরিচারিকা রাজিয়ার দুর্ঘটনা তাকে ও নাদেরকে গভীর অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়; তাতেও দেখা যায় সে আশ্চর্য নিশ্চুপ। আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে আসার সময় তার গাল বেয়ে নামতে থাকে নিরব অশ্রুধারা। সিমিন তাকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে এসে নাদেরের কারণে সৃষ্ট রাগ যখন ঝাড়ে তারমেহর ওপর, তখন সে কেঁদে ওঠে চিৎকার করে, যা অবধারিতই ছিল। সিমিন না মারলেও অন্য কোনো কারণে হয়তো তার ভেতর জমে থাকা এই কান্না আগ্নেয়গিরির মতো বের হয়ে আসতো।

a separation
অ্যা সেপারেশন

অন্য যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিচালক আসগর ধরতে চেয়েছেন, তা হলো– শ্রেণিভেদে ধর্মের প্রভাব। শহরকেন্দ্রিক উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের ধর্মের জন্য আলাদা কোনো সম্ভ্রমের স্থান নেই; তারা শুধু প্রয়োজনের তাগিদেই ধর্মকে ব্যবহার করে। ঠিক বিপরীত প্রান্তে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার। জীবনের নানা অনুষঙ্গে এই শ্রেণির মানুষ মেনে চলে ধর্মের অনুশাসন। অ্যা সেপারেশন-এ রাজিয়া এই শ্রেণিরই মানুষ, ছবিটির একমাত্র ধর্মভীরু চরিত্র। তার এই ধর্মভীরুতার পরিচয় পাই, যখন দেখি নাদেরের বৃদ্ধ অসুস্থ পিতার প্রস্রাবে ভেজা প্যান্ট বদলানোর সময় কোনো এক ইমামের কাছে ফোন করে জেনে নিচ্ছে– এ বিষয়ে ধর্মের কোনো বিধি-নিষেধ আছে কি-না। নাদের যখন মীমাংসার টাকা দেওয়ার আগে শর্ত জুড়ে দেয়, রাজিয়া যেন কোরআন ছুঁয়ে শপথ করে সাক্ষ্য দেয়– নাদেরই দোষী, তখনো রাজিয়া পাপ ও নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ অমঙ্গলের ভয়ে প্রচুর টাকার সূবর্ণ সুযোগ দূরে সরিয়ে দেয়। অথচ রাজিয়ার এই ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে ঠিকই নিজেকে মুক্ত করে আনে নাদের।

…কাঁচের ভেতর দিয়ে দেখানো
ঝাপসা চরিত্রগুলো কখনো
কখনো দর্শকদের কাছেও
মনে হয় ঝাপসা,
অচেনা…

একটি ভালো চলচ্চিত্রের বৈশিষ্ট্য হলো পরিমিতিবোধ। অ্যা সেপারেশন তেমনই একটি ছবি। এখানে ড্রামা আছে, তবে তা মেলোড্রামায় পর্যবসিত হয়নি। আসগর ছবিটি দেখিয়েছেন তৃতীয় ব্যক্তির নিরপেক্ষ চোখ দিয়ে, দর্শককে বিচারকের আবেগবর্জিত চোখ দিয়ে। তাই চরিত্রের আবেগ আমাদের কাছে ততটুকুই ধরা দেয়, যতটুকু প্রয়োজন। নাদের যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিমিনের সঙ্গে চলে যাওয়া তারমেহর দিকে তাকিয়ে থাকে, তাকে দেখে দর্শক সহজেই অনুভব করতে পারে– কতটা একা সে! দর্শক এও যেন আগে থেকেই জেনে যায়, এই সিনেমায় নায়িকা সবকিছু ভুলে গিয়ে, মেনে নিয়ে নায়কের কাছে ফিরে আসবে না শেষ পর্যন্ত। ঘটনার উত্থান পতনের সঙ্গে সঙ্গে, দৃশ্যকে টুকরো টুকরো করে অনেকগুলো শটে ভেঙে উপস্থাপন, ক্যামেরার অস্থির ঘোরাফেরা দর্শককেও সমান অস্থির করে চরিত্রগুলোর মতো। কাঁচের ভেতর দিয়ে দেখানো ঝাপসা চরিত্রগুলো কখনো কখনো দর্শকদের কাছেও মনে হয় ঝাপসা, অচেনা। দর্শককে চরিত্রগুলোর সঙ্গে একাত্ম করে তোলা– এটাই আসগরের সাফল্য।

 A SEPARATION
অ্যা সেপারেশন

রূপকের ব্যবহারও এই ছবিতে এসেছে সফলভাবে। নাদের, সিমিন ও তারমেহ যখন রাজিয়ার ঘর থেকে বেরিয়ে গাড়িতে চড়ে যেতে থাকে নিজেদের গন্তব্যের দিকে, রাজিয়ার স্বামীর রাগে অন্ধ হয়ে ভেঙে ফেলা গাড়ির সামনের কাঁচটি আমাদের জানিয়ে দেয়– তারা কোন গন্তব্যের দিকে চলেছে। ছবির শেষদৃশ্যে আদালতের করিডোরে নাদের ও সিমিনকে আলাদা করে দেওয়া কাঁচের দেয়ালটিই সে গন্তব্য– তাদের বিচ্ছেদ।

আসগর ফরহাদির সঙ্গে তার পূর্বসুরিদের মিল হলো– সবাই কাজ করেছেন সমাজের রুক্ষ ও দুঃখদায়ক বাস্তবতাকে নিয়ে। তাদের প্রত্যেকেরই মূলবিষয়– ‘মানুষ’। সমাজের বিদ্যমান প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত মানুষ। আর অন্যদের থেকে আসগর নিজেকে আলাদা করেছেন উপস্থাপনের শৈলীগত দিক থেকে। বর্তমান সুদৃঢ় ইরানি চলচ্চিত্রের ভিত গড়ে দিয়েছেন যে নির্মাতারা, তারা নির্মাণভঙ্গি হিসেবে বেছে নিয়েছেন কাব্যময়তাকে। বিশাল ক্যানভাসে হাতে আঁকা ছবির মতোই তারা সাজিয়ে তুলেছেন তাদের গল্প, তাদের ফ্রেম। প্রয়াত কিয়ারোস্তামি, মাজিদি কিংবা মাখমালবাফের চলচ্চিত্রগুলো বলতে গেলে সেলুলয়েডে লেখা কবিতাই। কিন্তু আসগর হাঁটলেন না সে পথে, তিনি রুক্ষতাকে দেখাচ্ছেন রুক্ষভাবেই।

আসগর মূলত মধ্যবিত্ত সমাজের ভাষ্যকার। তার অ্যা সেপারেশন-এর আগের ছবি অ্যাবাউট এলি-তেও দেখি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী কিছু চরিত্রকে, যেখানে প্রত্যেকেই সমুদ্রে ডুবে যাওয়া এলির মৃত্যুতে তারা যে দায়ী নয়, তা প্রমাণেই ব্যস্ত। এলির মৃত্যুর চেয়েও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করাই তাদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। অ্যা সেপারেশন, অ্যাবাউট এলি— চলচ্চিত্রগুলোতে মানুষের সঙ্কটকে দেখানোর জন্য ক্যামেরাকে নেড়েচেড়ে, অস্থিরভাবে ছোটাছুটি করিয়ে, একটি শটকে অনেকগুলো খণ্ড খণ্ড শটে ভেঙে গল্প বলার যে শৈলীর আশ্রয় আসগর নেন, সেই স্বাতন্ত্রতার পুরস্কারই হয়তো তার অস্কার জয়।


প্রথম প্রকাশ • জুম ইন । সিনে-ম্যাগাজিন। প্রথম সংখ্যা, ২০১২

 

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
লিটলম্যাগ সম্পাদক; সিনে-প্রেমি । চট্টগ্রাম

মন্তব্য লিখুন