আহত ফুলের গল্প : রূপসী সিনেমার শরীরে মিথ্যা অলংকার! / অন্ত আজাদ

2
413
আহত ফুলের গল্প
A Flower in Flame
স্ক্রিপ্টরাইটার ও ফিল্মমেকার । অন্ত আজাদ
প্রডিউসার/প্রোডাকশন হাউস । ওশান মাইন্ড এন্টারটেইনমেন্ট
এডিটর । সৈকত খন্দকার
মিউজিক । পিন্টু ঘোষ; রোকন ইমন
সাউন্ড । শৈব তালুকদার
কালার । রাশেদুজ্জামান সোহাগ
টাইটেল অ্যান্ড ভিএফএক্স । নাজমুল হাসান
কাস্ট [ক্যারেকটার] । তাহিয়া খান [শাপলা], সুজন মাহাবুব, আলী আহসান, গাজী রাকায়েত, অনন্যা হক, শেলী আহসান, জয়া, অভি চৌধুরী, শান্ত কুন্ডু, কামরুল হাসান, তৌহিদুল আলম, সজীব, রিফাত, পিয়ারা বেগম, শহীদুল ইসলাম, ওমরচাঁদ, ইকতারুল ইসলাম, আরিফ, মিনহাজ, তাজিন, রাব্বি, শিরিন
ভাষা । বাংলা
দেশ । বাংলাদেশ
সেন্সরবোর্ডে সম্ভাব্য জমা । এপ্রিল ২০১৮

 

লিখেছেন অন্ত আজাদ

রূপসী সিনেমা তোমার শরীরে মিথ্যা অলংকার,
হৃদয় ভাঁজে সুঘ্রাণ জমানো, প্রেমে প্রেমে একাকার..!

বোকা-সুন্দর সেই সজীব-শৈশব থেকে সিনেমা জড়ানো কি যে অজানা আনন্দ আজও আচ্ছন্ন করে রেখেছে– সে সিনেমাই জানে! ছোটবেলায় সিনেমা দেখা মানে, গ্রামে প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে শুক্রবারে একঘরে দাঁড়িয়ে-বসে ব্যাটারিযোগে বিটিভিতে প্রায় অর্ধশত আগ্রহী একসাথে সাদাকালো সিনেমা দেখা! তাও মাসে, দু-মাসে এক-আধবার! এত মানুষের চাপে মাটির ঘরের মেঝের অবস্থা হতো নাজেহাল! গ্রামের অতি উৎসাহী সিনেমা দেখা সাধারণ মেয়েরা কখনো কাদা-পানি দিয়ে লেপে দিতো ঘরের সেই ক্ষত হওয়া নরম মাটির মেঝে! সে এক আনন্দ-উৎসব! সেই মাসে একবার সিনেমা দেখার জন্যও মা’র হাতে মার খেয়েছি কত! তাতে সিনেমাও আমাকে ছেড়ে যায়নি, আমিও ছাড়তে পারিনি তাকে। মনে মিলে গেলে তাকে কি ছাড়া যায়? যায় না, তাই যায়নি!

…সবাই মিলে গায়ের
সব জামা-কাপড় খুলে
সাইকেল কাঁধে নিয়ে নদীর
ঘাট থেকে বেশ খানিকটা
দূরে গিয়ে বুক পর্যন্ত পানিতে
নেমে নদী পাড় হলাম–
সিনেমাকে দেখব বলে…

তারপর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম দেবীগঞ্জ ‘আমার টকিজ’ হলে গিয়ে বড় পর্দায় দেখা হলো সিনেমা! কাজী হায়াতের দাঙ্গা! অন্ধকার হল, সিনেমা দেখার সময় ভয় লাগছিল খুব! তাই দরজার কাছেই জায়গা নিয়েছি, বেশি ভয় লাগলে যেন বেরিয়ে যেতে পারি! নায়ক মান্না, ভিলেন রাজীব! পর্দার সেই চরিত্রগুলোকে কি অজানা এক কারণে যেন বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম খুব! সিনেমা দেখার পরও সিনেমা হলের কাছ থেকে চলে যেতে ইচ্ছে করত না; মনে হতো এখানে থাকলে এ মানুষগুলোর কাছাকাছি থাকা যাবে– এ মানুষগুলোর স্পর্শ আরো বেশি পাওয়া যাবে! সেই থেকে কোমল এক অনুভূতির সম্পর্ক তৈরি হলো সিনেমার সাথে! মনে পড়ে ২৪ টাকা নিয়ে তিনজন [আমি, আমিন, লিটন] মিলে ডোমারে গিয়ে সিনেমা দেখার কথাও! তখন দেবীগঞ্জের করতোয়া নদীতে ব্রীজ হয়নি। এদিকে ২৪ টাকার মধ্যে নৌকা ভাড়া দিতে গেলে টিকেট এর টাকা হয় না! তখন সবাই মিলে গায়ের সব জামা-কাপড় খুলে সাইকেল কাঁধে নিয়ে নদীর ঘাট থেকে বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে বুক পর্যন্ত পানিতে নেমে নদী পাড় হলাম– সিনেমাকে দেখব বলে! নৌকা ভাড়া থেকে বাঁচা গেল! এরপর পরনের কাপড় দিয়েই শরীর মুছে, সিনেমার জন্য আরো ৫ কিলোমিটারের এক সাইকেলে তিনজনের আনন্দ যাত্রা! সিনেমা দেখেছিলাম কমান্ডার! ৩X৬=১৮ টাকা দিয়ে থার্ডক্লাস-এর টিকেট! ৩ টাকা দিয়ে একটা রুটি তিনজনে ভাগ করে খেয়েছি! ১ টাকা দিয়েছিলাম সাইকেল গ্যারেজে! আর বাকি তিন টাকা মনে হয় তিনজন ভাগ করে নিয়ে, সিনেমা দেখার অপার আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম! একটা সময় বিড়ি খাইয়ে গ্রামের ঢাকা-ফেরৎ রিক্সাচালকদের কাছে নায়ক নায়িকার গল্প শুনতাম! বুঝতাম, বানিয়ে বানিয়ে অনেক মিথ্যা গল্প বলছে; তবুও শুনতাম… শিহরিত হতাম… ভালো লাগতো!

Anta Azad
আহত ফুলের গল্প

ইন্টার পড়ার জন্য প্রথম বাড়ির বাইরে পা বাড়ালাম। সে সময় দিনাজপুরে পড়াকালে চারটি হলে [চৌরঙ্গী, মডার্ন, লিলি, বোস্তান] সিনেমা দেখেছি কত! মনে আছে মতিন রহমানের বিয়ের ফুল, নারীর মন— তিন-তিনবার করে দেখেছিলাম হলে গিয়ে! হঠাৎ বৃষ্টি সম্ভবত ৪/৫ বার! তখন রোমান্টিক সিনেমা দেখা মানে এক অপার প্রশান্তির মহাসাগরে অবগাহন : আহা প্রেম… আহা সিনেমা…! তারপর কত কত গল্প! সিনেমাকে জড়িয়েই, আমার জীবনের সবচেয়ে বৈচিত্রময় গল্প। এরপর সময়ের স্রোত আর মায়ার টানে ভাসতে ভাসতে চলে এলাম সিনেমার ছায়ায়! এখন তার আশ্রয়ে আছি! সেই ঘরে আহত ফুলের গল্প আমার প্রথম সন্তান! গত তিন বছর ধরে আমার হৃদয় গহবরে একটু একটু করে বেড়ে উঠছে– আমাকে ব্যথা দিয়ে… অনেক মায়া জড়িয়ে!

…যদি মাধ্যমটির নাম
হয় সিনেমা, তাহলে
আর বলার বাকি
থাকে না– যন্ত্রণার
রঙ
কত প্রকার…

মনের গহীন-গোপন ইচ্ছাগুলো উড়তে চায় তার মতো! তার দায় নিতে হয়– বাস্তবের বেঁচে থাকা মানুষকে! পূঞ্জীভূত পূজির দানবীয় শক্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে একজন ব্যক্তিমানুষের এমন ইচ্ছেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কঠিন– তা উদ্যেগীমাত্রই জানেন! যদি মাধ্যমটির নাম হয় সিনেমা, তাহলে আর বলার বাকি থাকে না– যন্ত্রণার রঙ কত প্রকার! ভালোবাসার কারণে, ফিল্ম সোসাইটির কারণে, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে সিনেমা দেখা হয়েছে– নানান দেশের, নানান রঙের। সেই লুমিয়ের ব্রাদার্সের সিনেমা থেকে হাল আমলের বাহুবলী এবং তারপর আরো আরো…। এর মাঝখানে জহির রায়হান, তারেক মাসুদ, আলমগীর কবির, সত্যজিৎ, ঘটক, ঋতুপর্ণ, ফেল্লিনি, গোদার, ত্রুফো, হিচকক, হানেকি, বেনিনি, বুনুয়েল, ওজু, অরসন ওয়েলস, চ্যাপলিন, স্পিলবার্গ, কুরোসাওয়া, কিয়ারোস্তামি, কি-দুক, তোর্নাতোরে, তারকাভস্কি, রিডলি স্কট, মাজিদি, সামিরা, ক্যামেরন, নোলানের সিনেমাসহ নাম মনে না হওয়া অনেক ফিল্মমেকারের সিনেমা যেমন আছে, তেমনি দেখা আছে প্রচুর দক্ষিণী সিনেমাও। আর বাংলা সিনেমা হলে গিয়ে সেই যে দেখা শুরু করেছি– তা আজও অব্যাহত আছে সমানতালে। শ্লীল-অশ্লীল সবসময় সিনেমা হলে উপস্থিত থেকেছি– কখনো স্রেফ দর্শক হিসেবে, কখনো অবজার্ভার হিসেবে, অধিকাংশ সময় দুটোই একসাথে। প্রায় দুই যুগের মতো সিনেমা হলে এভাবে উপস্থিত থেকে সিনেমার জার্নিটা আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে– সেটা তো বলতেই পারি।

Anto Azad
আহত ফুলের গল্প

মধ্যবর্তী সময়ে প্রাচ্যনাট নাট্যদলে থিয়েটার বিষয়ে কোর্স এবং পালাকার নাট্যদলে ১০/১২ নাটকে অভিনয়সহ অন্যান্য অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও হেঁটেছি। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের বই রসট্রাম থেকে পড়ার পর ওনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ! বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরির সদস্য হওয়া এবং চিত্রকলা ও সিনেমা নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত কিছু কোর্স আর ব্যক্তিগত পড়াশোনাই আমার সিনেমা চিন্তায় একমাত্র সম্বল। একসময় কিছু সিনেমা নিয়ে লিখেওছিলাম। এর মধ্যে কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা টোকন ঠাকুরের ব্ল্যাকআউট-এর [আনরিলিজড] স্মৃতি আজও মনে পড়ে। ব্ল্যাকআউট-এ রণজিৎ দাশের কবিতা– “সময় সবুজ ডাইনি/ পৃথিবীর উপকণ্ঠে থাকো/ নাবিকের হাড় দিয়ে/ সন্ধ্যার উঠোনে তুমি/ ভাঙা জাহাজের ছবি আঁকো…।” কবিতাটিকে গানের জন্য যে অন্তর্ভেদী সুরে বেধেছিলেন অর্ণব, সেই সুর আজো হৃদয়ে বাজে! শেষ দু-বছর ‘টিম ইয়োলো’ বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনম বিশ্বাসের সাথে কাজ করার সুবাদে আমার অডিও-ভিজ্যুয়াল টেস্টে আরো কিছু নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। এখনো দর্শক হিসেবে শিল্পের অনেক মাধ্যমের সাথেই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক অব্যাহত আছে। বাংলার কৃষক ও শিশুদের নিয়ে শিল্পী এসএম সুলতানের চিন্তা/অনুভূতি, বাঙালি মুসলমানদের চিন্তার অসম্পূর্ণতা নিয়ে আহমদ ছফার অন্তর্দহন, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে তারেক মাসুদ উদ্বিগ্নতা– এ সমস্তই চিন্তার নীল আকাশকে ভারি করে চলেছে প্রতিনিয়ত! বলার অপেক্ষা রাখে না– এই সমস্ত জার্নির মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে আমার জীবন আর সিনেমার সঙ্গে প্রাথমিক বোঝাপড়া।

…আমি তো আমার
সিনেমাটাকে একজন
কবির মতোই রচনা
করতে চাই, একজন
চিত্রশিল্পীর মতোই
আঁকতে চাই…

একাডেমিতে গিয়ে কয়েক বছর ব্যপী কোর্স করে সিনেমা জানা-বোঝা যায় নিশ্চয়ই। কিন্তু সিনেমাকে প্রথমত আমি যেহেতু শিল্প, তারপর অন্য অনেক কিছুর সম্মেলন মনে করি; তাই শিল্পের ক্ষেত্রে আমার যেটা মনে হয়, তা হলো– যিনি শিল্প সৃজনে রয়েছেন, তার সাথে ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের একান্ত ধ্যানস্থ মনে নিজের মতো বোঝাপড়া। ভাবনায় ভেসেছে– পৃথিবীব্যাপী প্রায় প্রত্যেক ভুবনের মাস্টাররাই কেন শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানকে বিদায় জানাতে বাধ্য হয়েছেন! কারণ সবাই নিশ্চই চাকরি করবেণ বলে একটা সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানে যান না। কিন্তু একাডেমি শেষ পর্যন্ত সবাইকে একই ছাঁচে ঢেলে শিক্ষা দেয়! একাডেমির বাইরে যাওয়ার হয়তো উপায়ও থাকে না! বাধ্য হয়ে কোনো ছাঁচের মধ্যে নিজের চিন্তাকে আবদ্ধ করতে প্রথমেই অশান্ত মন সমস্ত শক্তি নিয়ে বিদ্রোহ করে বসে! বুঝি এ রাস্তা আমার নয়! কিন্তু সবচেয়ে আইডল হতো, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বুঝে বুঝে যদি শিক্ষকরা অত্যন্ত সেন্সিটিভ ওয়েতে আলাদা আলাদাভাবে ডিল করতেন! তাহলে হয়তো প্রত্যাশিত বিষয়টি ঘটানো যেত! যদিও বাস্তবে এ ভাবনা অবান্তর। কিন্তু আমি তো আমার সিনেমাটাকে আমার মতোই বুঝতে চাই। আমি তো আমার সিনেমাটাকে একজন কবির মতোই রচনা করতে চাই, একজন চিত্রশিল্পীর মতোই আঁকতে চাই! কিন্তু একাডেমির যেহেতু পাশ-ফেলের বিষয় থাকে, একটি নির্দিষ্ট সময়-ফ্রেমের বিষয় থাকে, তাই সৃজনকারীকে অনেক সময়েই বাধ্য হয়ে নিজস্ব চিন্তা-বিশ্বাস-বাস্তবতা এবং অনুভূতির বাইরে গিয়ে অনেককিছু করার অভ্যস্ততা তৈরি করতে হয়! সেখানটাতেই ঘটে সমস্ত বিপত্তি! কিন্তু বিপত্তি হলে তো আমার চলে না; আনন্দ হলে চলে! অন্যদিকে সিনেমার তো অনেক প্রাকটিক্যাল ও টেকনিক্যাল বিষয়ও থাকে। হ্যাঁ, সেগুলো আমিও নানাভাবে প্রাকটিক্যালি মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছি; চেষ্টা করেছি বোঝার। আসলে এ শিক্ষার কোনো শেষ নেই! এটা বলা বোধহয় অসঙ্গত হবে না যে, জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার-এর অভিজ্ঞতা আর কিয়ারোস্তামির টেস্ট অব চেরির অভিজ্ঞতার অবস্থান দুই বিপরীত মেরুতে! আসলে প্রত্যেকটি কাজের অভিজ্ঞতাই অনেকখানি নতুন। তবুও অন্যান্য অনেক কারণেই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আছে হয়তো, সেও সত্য।

Anto Azad
আহত ফুলের গল্প

কিন্তু আমি যেটা স্পষ্ট করতে চাই, সেটা হলো, সিনেমায় আমার প্রকাশভঙ্গিটি কী হবে, কী হবে তার রূপ-রস-গন্ধ– আমার সৃজনে তা নির্ধারণের এখতিয়ার একান্তই আমার; শিল্পের স্বার্থে এ স্বাধীনতাটুকু আমি নিতেই পারি? কুরোসাওয়ার ড্রিম, কিম কি-দুকের আরিরাং, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের বাকিটা ব্যক্তিগত, আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তের আসা যাওয়ার মাঝে –এ ধরনের সিনেমা কি শিল্পের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ছাড়া সৃষ্টি সম্ভব?

অন্যদিকে আমাদের এখানে সিনেমা নিয়ে যে ‘নাটক/টেলিফিল্ম’ তকমা দেওয়ার এক অগভীর প্রবণতা শুরু হয়েছে, সেটা আদতেই কতটা যৌক্তিক বা ঠিক– সেটার বিষয়েও প্রশ্ন রাখছি। বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে মনে হয় সবচেয়ে বেশি ফেস করতে হয়েছে এই প্রশ্ন! অথচ আলোচিত ডুব-এর চলচ্চিত্র ভাষা কতটা আধুনিক, মার্জিত আর ম্যচিওরড! লংটেক থাকলেই সেটা সিনেমা! ব্যাপক হলিউডি-বলিউডি মার্কা আয়োজন থাকলেই সেটা সিনেমা! নায়ক ১০০ ভিলেনকে কুপোকাত করতে পারলেই সেটা সিনেমা! নায়ক-নায়িকা উপস্থাপন মার্কা গল্প থাকলেই সেটা সিনেমা! গতে বাঁধা একটা গল্প থাকলেই সেটা সিনেমা! নাচ-গান থাকলেই সেটা সিনেমা! লার্জার দেন লাইফ স্টাইলে উপস্থাপন করলেই সেটা সিনেমা! তাহলে মাইকেল হানেকির আমুর কী? কিয়ারোস্তামির টেন, মাজিদির চিলড্রেন অব হ্যাভেন কী? অথবা ২০১৮তে ইন্ডিয়াকে অস্কারে যেটা প্রতিনিধিত্ব করল, নিউটন— সেটা কী? এসব সিনেমার কোনোটাই মনে হয় না– লংটেক, নায়ক-নায়িকা নির্ভরতা, গতে বাঁধা গল্প অথবা লার্জার দেন লাইফ স্টাইলে গল্প বলার মতো তেমন কোনো শর্ত বা প্রবণতা মেনে চলে! তাহলে?

…আমার
মনে হয়,
‘শিল্প মানেই
সূক্ষ্মতার খেলা’…

নিউটন সিনেমার শেষদৃশ্যের যে উপস্থাপন-ভঙ্গি, সেটা খুবই সাদামাটা। আমাদের সাধারণ বিবেচনায় যেটা নাটক/টেলিফিল্মের মতো! অথচ আমার কাছে মনে হয়েছে, সিনেমায় এত সুন্দর আর ক্ল্যাসিক প্রেমের দৃশ্য আমি সারাজীবনে কমই দেখেছি! এ দেশে যেখানে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট ‘পুরস্কারপ্রাপ্ত তারেক মাসুদের মাটির ময়নার মতো সিনেমাকে জাতীয় গণমাধ্যমে এখানকার আরেকজন প্রতিষ্ঠিত পরিচালক ‘টেলিফিল্ম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, সে দেশে সিনেমা নিয়ে এতসব সূক্ষ্ম চিন্তার মূল্য কি-ই-বা থাকতে পারে! অথচ আমার মনে হয়, ‘শিল্প মানেই সূক্ষ্মতার খেলা’। যদিও আমাদের এখানে অধিকাংশ সিনেমায় মোটাদাগের খেলাটাই বেশি চলে!

Anta Azad
আহত ফুলের গল্প

শিল্পে স্বাধীনচিন্তা আর বৈচিত্রময়তার বিচ্ছুরণ ঘটুক। জয় হোক- আপন পরিচয়ে ফুটে ওঠা স্বাধীন সিনেমামালার!

সিনেমা তুমি যন্ত্রণাময়.. অবাধ্য.. আকাঙ্ক্ষিত আদূরে প্রেমিকার মতো..!
তোমার সঙ্গে আছি.. কথা দিচ্ছি, থাকব…।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
ইনডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকার; বাংলাদেশ । ফিচার ফিল্ম : আহত ফুলের গল্প [পোস্ট-প্রোডাকশন]

2 মন্তব্যগুলো

মন্তব্য লিখুন