মোহসেন মাখমালবাফের ‘গাবে’ । পূর্ণাঙ্গ ফিল্ম স্ক্রিপ্ট

5
707
গাবে
[Gabbeh]
স্ক্রিপ্টরাইটার, ফিল্মমেকার ও এডিটর • মোহসেন মাখমালবাফ
প্রডিউসার • খলিল দারুদচি
মিউজিক • হোসেন আলিজাদে
সিনেমাটোগ্রাফার • মাহমুদ কালারি
অভিনয় [চরিত্র] • শাগহায়েহ জোদাত [গাবে]; আব্বাস সায়াহ [চাচা]; হোসেন মহারামি [বৃদ্ধ]; রগেই মহারামি [বৃদ্ধা]
ভাষা • ফার্সি
দেশ • ইরান, ফ্রান্স
রানিং টাইম • ৭২ মিনিট
মুক্তি • ২৬ জুন ১৯৯৬
অ্যাওয়ার্ড • বেস্ট ডিরেক্টর অ্যান্ড স্পেশাল ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড [সিতজেস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, স্পেন, ১৯৯৬]; সিলভার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড : বেস্ট এশিয়ান ফিচার [সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ১৯৯৭]; বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড [টোকিও ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, জাপান]

মূল স্ক্রিপ্ট • মোহসেন মাখমালবাফ । অনুবাদ • রুদ্র আরিফ


গালিচার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ভেসে ওঠে তরুণী
গালিচার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ভেসে ওঠে তরুণী
সিকুয়েন্স • ১ 
কোনো একদিন । দিনের বেলা

একটা সবুজ গাবে বা গালিচা ভেসে যাচ্ছে জলের স্রোতে। দূর থেকে ভেসে আসছে নেকড়ের ডাক। একটা গালিচার নীল ব্যাকগ্রাউন্ডে এক তরুণী; তার চারপাশে একটা নীল গালিচার রেখা টানা : নেকড়ের ডাক শুনে, নিজের কাঁধে একটা জার বা বয়াম ভর্তি পনি নিয়ে, নিজের মাথা ঘুরিয়ে সে মুচকি হাসে।

সিকুয়েন্স • ২
বসন্তকাল । দিন

বসন্তে, একটা গাছ থেকে টুপ করে একটা আপেল পড়ে নিচে। নীল পোশাকে এক বুড়ি। একটা বুড়ো লোক, কাঁধে করে একটা গালিচা নিয়ে এসে, একটা ঝুড়ি হাতে, ধীর পায়ে এগিয়ে যায় পুকুরের দিকে…

বুড়ি : কাল রাতে তো ব্যাথায় কোঁকাচ্ছিলে। তোমার পায়ের কালসিটে দাগ দেখেই বুঝেছি, রাতে ঘুমাওনি। এখন কিছুতেই তোমাকে গালিচা ধু’তে দেবো না আমি।
বুড়ো : আমাকে ধুতে দাও।
বুড়ি : আমার পায়ে রাবারের বুট আছে। আমিই ধুবো।
বুড়ো : রাবারের বুটও তাহলে আমাকে দাও।
বুড়ি : তোমার পায়ে ঘা হয়ে গেছে। তুমি বরং খাবার বানাও। আমি এটা ধুই আর নিজেই নিজেকে আমুদ দিই একটু।

বুড়ো লোকটা আগুনের [মাটির] চুল্লির কাছে যায়– সেখানে রান্না হচ্ছে। বুড়ি মহিলাটি গালিচাটা মেলে দেয় নিচে। গালিচায় কালো সুতোয় বোনা একটি পুরুষের অবয়ব, আর একটা সাদা ঘোড়ার টমটমের উপর চেপে আছে এক তরুণী। বুড়িটি গালিচার উপর পরম মমতায় হাত বুলায়।

বুড়ি : গাবে-টা আমি ধুয়ে ফেলি?
বুড়ো : আমার আদুরে নারী, তুমি ছাড়া আর কে-ই-বা আছে এটা ধোয়ার মতো?
বুড়ি : [গাবে-টি স্পর্শ করে] আমার আদুরে গাবে, তুমি এত নীল কেন? তুমি এত চুপ কেন? কেন বলছো না আমাকে, কে এই ঘোড়সওয়ার? অন্তত এটা বলো, তোমাকে বুনেছেটা কে?

একটা হালকা মৃদু হাওয়া বয়ে যায়। গাবে’র ভেতর, নীলরঙের পোশাকে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে এক তরুণী। বৃক্ষশাখায় একটা হলুদ ঝাপটা বয়ে যায়। আগুনের পাশ থেকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে বুড়োটা। সে বিস্ময়াবিভূত।

বুড়ো : অদ্ভুত তো! সে তো দেখছি পূর্ণিমার চাঁদের মতো সুন্দর।
বুড়ি : আমার আদুরে ললনা, কী নাম তোমার?
তরুণী : গাবে। [বসন্তের নির্মল জলের হাতের ঝাপটা দেয় সে। তার আঙুল বেয়ে পড়তে থাকে জলকণা।] বাহ, কী স্বচ্ছ পানি! আমাকে তুমি ধোবে না?
বুড়ো : তোমাকে না ধু’লে আর কাকে ধো’ব, গাবে খানম?

বসন্তের স্বচ্ছ জলে ডোবানো হয় নীল গাবে’টিকে। বুড়ি এখন একা। পা দিয়ে মাড়াচ্ছে গাবে’টি।

বুড়ি : তোমার যুবতী কাঁধে আমি আমার হাত দুটো রাখতে পারি কি? আমি তো বুড়ো। আমার আর শক্তি নেই কোনো।
তরুণী : [সে আবারও দৃশ্যমান। নিজের কাঁধের ওপর বুড়ির হাত দুটি নিয়ে নেয় সে।] তোমাকে স্বাগত জানাই।
বুড়ো : দেখতে তোমাকে খুব চেনা চেনা লাগছে। তোমার বাবার নাম কী, বলো তো?
তরুণী : তার নাম তাঁত-টানা! তার নাম তাঁত-টানা আর সুতা-বোনা। এই তো সে।

কাফেলার নেতৃত্বে তরুণীর বাবা
কাফেলার নেতৃত্বে তরুণীর বাবা

ইনসার্টে, একজন যাযাবরকে চলাফেরা দেখা যাবে। ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসা মেয়েটির বাবা এই কাফেলাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

তরুণীর কণ্ঠস্বর : এই তো আমার বাবা। সে একজন যাযাবর। আমরা কাসকাইস গোত্রের লোক। জগতের কোথাও নিজেদের বাড়ি হয় না আমাদের। যদি কোথাও গড়ি, বাবা আবারও কাফেলা সাজিয়ে ফেলেন– যেন কোনো জায়গার প্রতি টান না জন্মায় মনে। একজনের প্রেমে পড়েছিলাম আমি- এক সওয়ার, এক অদ্ভুত কণ্ঠস্বর, যেন সে একটা মোহ; আমাদের কাফেলাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছিল সে, যেন সুযোগ পেলেই আমাকে সঙ্গে নিয়ে পালাতে পারে।
বুড়ো : [উত্তেজিত হয়ে–] যদি বয়সটা কম হতো আমার, নিজের হাতে তোমাকে জয় করে নিতাম। তোমার বাবা খুবই ভালো মানুষ।
তরুণী : তার চেহারা দেখে বোকা হইয়ো না। তার খুব মাথা গরম।
বুড়ি : [গাবে’র উপর নিজের পা রেখে, তরুণীটির কাঁধে নিজের হাত রেখে–] বাবাকে নিয়ে অনেক হয়েছে। তোমার মায়ের কথা বলো? সে কি মায়াবতী? সুন্দরী?
তরুণী : না। জ্ঞাতিজনেরা বলে, আমার মা দেখতে এত কুৎসিত বলেই নাকি বাবার মুখটা এমন গোমড়া থাকে। শুনলে তো মার কথা।

ইনসার্ট : তরুণীটির মা মাখন বানানোর জন্য ছাগলের চামড়ায় দুধ জাল দিচ্ছে।

তরুণীর কণ্ঠ : আমার মার নাম সাকিনে। আমি তার বড় মেয়ে।
বুড়ো : রাবারের বুটটা আমাকে দাও, যেন, গাবে-টা আমি ধুতে পারি।
বুড়ি : [এখন সে একা] তোমার পায়ে তো ঘা। পানিতে পা ভেজালে তোমাকে খুব ভুগতে হবে কিন্তু। এটা বরং আমিই ধুচ্ছি।

বুড়ো লোকটা আগুনের কাছ থেকে হেঁটে পুকুরের কাছে আসে। এখন আবারও শুধু বুড়ো-বুড়ি দুজনেই এখানে; যদিও বুড়ি ঠিক আগের মতোই, এখনো নিজের হাত দুটো এমনভাবে তুলে রেখেছে– যেন কাল্পনিক তরুণীটির কাঁধে সেগুলো রাখা। বুড়ো লোকটা নিজের হাতে গাবে’টা ঘষে পরিষ্কার করছে।

বুড়ো : দেখো, তুমি ধোয়ার পর এটা কত সুন্দর হয়ে গেছে দেখতে! আরও একবার এটার প্রেমে পড়ে গেলাম।
বুড়ি : [যেন তরুণীটি তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে, এমন ভঙ্গিমায় তরুণীর উদ্দেশে–] তোমার উপর চোখ পড়তেই, সে আরও একবার আমার কথা ভুলেই গেছে।
বুড়ো : [যেন তরুণীটি বুড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে–] এই বুড়ি তো নিজেকেও ঈর্ষা করে। গাবে খানম! গাবে খানম! তোমার মতো সুন্দরী মেয়ের প্রেমে তো যে কেউই পড়ে যাবে, তাই না?
বুড়ি : তুমি যখন যুবক ছিলে, তখন তো আমার প্রেমেই পড়েছিলে।
বুড়ো : [উঠে, শূন্যে হাত তুলে পুকুরে দাঁড়িয়ে থাকা বুড়ির দিকে পেছন ফিরে–] যুবক বয়সে কী বোকাটাই না ছিলাম আমি!
বুড়ো : [যেন তরুণীটি সামনে দাঁড়িয়ে আছে, এমন ভঙ্গিমায়, তার কাছে নালিশ করার মতো করে–] দেখো, কতটা নিষ্ঠুর সে হতে পারে!

তরুণীটি বুড়ির হাত নিজের গাল ঘষে আদর দেয়। নেকড়ের একটা ডাক ভেসে আসে। দূরের পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে তরুণী। বুড়িও তাকিয়ে থাকে সেদিকেই। পাহাড়ের চূড়ায় সাদা ঘোড়ার উপর কালো পোশাকের এক অশ্বারোহী দৃশ্যমান হয়। বুড়িটি মুখ ফেরায় তরুণীর দিকে–

বুড়ি : ওর গলাটা এমন নেকড়ের মতো কেন, বলো তো?
তরুণী : এটা তার আর আমার গোপন ব্যাপার। সে বলে, সে নাকি আমার জন্য পাগল। বলি, যদি সত্যি তা-ই হয়ে থাকো, তাহলে আসো না কেন সামনে?

নেকড়ের ডাক ভেসে আসে আবার…

বুড়ি : যদি সত্যিই ভালোবাসো এত, পালিয়ে যাও না কেন ওর সাথে?
তরুণী : বাবা আমাকে ভয় দেখিয়েছে, এমনটা করলে প্রাণে মেরে ফেলবে।
বুড়ো : [আগুনের ধোয়ায় সারা চোখে পানি নিয়ে–] তোমার জন্য এত জালাতন সহ্য করার বদলে আমি বরং মৃত্যুই বেছে নিতাম।

নেকড়ের ডাক ভেসে আসে আবার…

তরুণী : সে বলেছে, আমাদের দুজনের নাকি পালানোই ভালো। যাব নাকি?
বুড়ি : [তরুণীর কাঁধের উপর নিজের হাত দুটো ঠিক করে রেখে, ভর দিয়ে–] সেটা করতে যেও না। তাহলে তোমার বাবা তোমাকে মেরে ফেলবে। ভালো হয়, যদি তার সঙ্গে আগে কথা বলে যাও।
তরুণী : বাবা এখন এ নিয়ে কথা বলবে না; কারণ, আমার দাদীর খুব অসুখ। আমার চাচা শহর থেকে এসে, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে তাকে। বাবা বলেছে, চাচা আসার পরই নাকি এই ছেলেটার সঙ্গে বিয়ে করবে দেবে আমাকে। কিন্তু ততদিনে তো ছেলেটা পাগল হয়ে যাবে।

ক্লাসরুমে, শিশুদের রঙ চেনাচ্ছে চাচা
ক্লাসরুমে, শিশুদের রঙ চেনাচ্ছে চাচা
সিকুয়েন্স • ৩
সমতলে একটি ভ্রাম্যমান স্কুল। দিনের বেলা

একটা মোরগ ডেকে ওঠে। সমতল ভরা পাম গাছ। পাম গাছের মাঝখানেই সাদা তাঁবুর এই ভ্রাম্যমান স্কুল। চাচা, মানে বয়স্ক লোকটি কাঁধে একটা সাদা ব্যাগ নিয়ে, স্কুল-তাঁবুর দিকে এগিয়ে যায়। শিক্ষকের প্রশ্নের জবাব সমস্বরে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাঁবুর ভেতর প্রবেশ করে চাচা। শিক্ষার্থীদের উঠে দাঁড়াতে বলে শিক্ষক। এরপর চাচা তাদেরকে বসতে বলে।

চাচা : এখানে এটা কী জিনিস?
শিশুদের কণ্ঠস্বর : ফার্স প্রদেশের আদিবাসী স্কুল।
চাচা : ফার্স প্রদেশ কোন দেশের অন্তর্গত?
শিশুদের কণ্ঠস্বর : ইরান।

একটা বাচ্চা মেয়ে একটা ছাগলের গলার ঝুলন্ত ঘণ্টি ধরে নাড়া দেয়। শিশুরা হুড়োহুড়ি করে তাঁবু থেকে বেরিয়ে পড়ে। চাচা এবার ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে এসে, ক্লাসের দিকে মুখ করে দাঁড়ায়–

চাচা : বলো তো এটা কী রঙ?
[নিজের ডান হাতটা সে ফ্রেমের বাইরে বের করে দেয়। টিউলিপ ফুলের ইনসার্ট। তার হাতটা ফ্রেমে ঢুকে।]
শিশুদের কণ্ঠস্বর : লাল।
[চাচা তার হাত বাড়িয়ে, হাতভর্তি লাল-লাল টিউলিপ ফুল আনার ভঙ্গিমা করে। কাট-টু-দ্য-ব্ল্যাকবোর্ড। তার হাতে একগুচ্ছ লাল ফুল।]
চাচা : টিউলিপের লাল রঙ। এবার বলো তো, এটা কী রঙ?
শিশুদের কণ্ঠস্বর : হলুদ।
[ইনসার্ট : হলুদ ফুলের ময়দানে হাতড়িয়ে বেড়ায় চাচার হাত। কাট-টু-দ্য-ব্ল্যাকবোর্ড। তার হাতভর্তি একগুচ্ছ হলুদ ফুল।]
চাচা : গম ক্ষেতের রঙ হলুদ। এবার বলো তো এটা কী রঙ?
[চাচা তার হাত আকাশের দিকে প্রসারিত করে]
শিশুদের কণ্ঠস্বর : নীল।
[চাচার হাত। কবজির মধ্যে নীলরঙ। ফিরে আসে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে, ফ্রেমে]
চাচা : মাবুদের স্বচ্ছ আকাশের নীলরঙ।
[সে হাত নামিয়ে রাখে, ফ্রেমের বাইরে। ইনসার্ট। ফোরগ্রাউন্ডে তার হাত একটা নীল সমুদ্রের দিকে ইশারা করে।]
চাচা : এটা কী রঙ?
শিশুদের কণ্ঠস্বর : নীল।
[তার হাত থেকে টপটপ করে পানি ঝরে। হাতটি ফিরে আসে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে, ফ্রেমে।]
চাচা : এ হলো সমুদ্রের নির্মল নীলরঙ। এখন তোমরা বলো তো, এটা কী রঙ?
[সে তার হাত সূর্যের দিকে প্রসারিত করে]
শিশুদের কণ্ঠস্বর : হলুদ।
চাচা : রৌদ্রোজ্জ্বল সূর্যের হলুদ আভা। সূর্যের হলুদ রঙ আর পানির নীল রঙ মিলেমিশে এনে দেয় ঘাসের টাটকা সবুজ-আভা।
[সে তার হলুদ ও নীল হাত দুটি মাথার ওপরে ওঠায়। শটটি কাট করে একটা সবুজ তৃণভূমিতে যাবে। তার হাতটি ফ্রেমে ঢুকতে থাকবে।]
শিশুদের কণ্ঠস্বর : সবুজ।
[ব্ল্যাকবোর্ডের ফ্রেমে আবারও ফিরে আসা। তার হাতে কিছু সবুজ ঘাস।]
চাচা : টাটকা সবুজ। [একগুচ্ছ লাল ফুলের ওপর সে তার হলুদ হাতটি মাথার ওপর ওঠায়। কাট-টু-সানসেট] সূর্যের হলুদ আভা আর লাল আভা সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের কালে হয়ে যায় কমলা।

সবুজ তৃণভূমিতে চাচার হলুদ ও নীল হাতদুটি
সবুজ তৃণভূমিতে চাচার হলুদ ও নীল হাতদুটি
সিকুয়েন্স • ৪
দিন । সমতলে যাযাবর গোত্রটির কাফেলা

কাফেলাটি যেদিকে, তার বিপরীত দিকে ছুটে যাচ্ছে চাচা…

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : বসন্ত এসে গেলো, কিন্তু চাচা এলো না। বসন্তে আমাদের পুরো গোষ্ঠী এক জায়গা ছেড়ে আরেক জায়গায় সটকে পরে বংশ রক্ষা করি। বাবা বলেছিল, অসুস্থ দাদীকে শহরে নিয়ে যাওয়া জন্য চাচার ফিরে আসার অপেক্ষা করাই ভালো। কিন্তু চাচা যখন ফিরলো, দাদী ততদিনে মরে গেছে। সবুজে ভরা এক কবরস্তানে তাকে কবর দিয়ে এসেছে বাবা।

ইনসার্ট : একটা সবুজ তৃণভূমি। চাচার হলুদ ও নীল হাতদুটি সেখানে প্রবেশ করছে।

সিকুয়েন্স • ৫
দিন। গোত্রটির কালো তাঁবুগুলো

তিনটি কালো তাঁবু। মাখন বানানোর জন্য ছাগলের চামড়ায় দুধ ঝাড়ছে সাকিনে। অন্য নারীরা বানাচ্ছে রুটি। ছাগলছানাদের সঙ্গে খেলা করছে শিশুরা। তাঁবুতে এসে পৌঁছুলো চাচা।

চাচা : সবাইকে সালাম…।
সাকিনে : সালাম।
চাচা : আমাকে চিনতে পারছো তো?
সাকিনে : না।
চাচা : [মাথা থেকে হ্যাট খুলে ফেলে] এখন?
সাকিনে : তুমি আমার স্বামীর ভাই। তুমি যদি বিয়ে করতে, তাহলে আর একা একা ঘুরতে হতো নাকি?
চাচা : বিয়ে করার বয়স হয় নাই আমার। শিশুকে তো কোনো নারীই বিয়ে করতে চায় না।
জয়নব : সালাম, ভাই।
চাচা : সালাম, জয়নব বাজি। কেমন আছো? অবাক ব্যাপার, তুমি আমাকে চিনে ফেলেছো।

চাচাকে স্বাগত জানাতে ও তার কাছ থেকে উপহার পেতে শিশুরা তাকে ঘিরে ধরেছে।

সিকুয়েন্স • ৬
বসন্তের ছোট্ট একটা দিন

বুড়ো : [খাবার রান্না করার আগুনের আঁচ থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে–] তোমার চাচা চলে এসেছে, গাবে খানম। শিগগিরই বিয়ে হয়ে যাবে তোমার।
বুড়ি : চাচাকে বলো, তোমার বাবাকে যেন রাজি করায়।
তরুণী : আমার কথা মনে নেই তার। আমি জানি, সে আমাকেই জিজ্ঞেস করবে, সে আমার চাচা হয়, নাকি মামা!

সিকুয়েন্স • ৭
গোত্রটির কালো তাঁবুগুলো। দিন।

চাচা [জয়নবের উদ্দেশে] : এটা কি তোমার বাচ্চা?
জয়নব : তুমি এতদিন পরেই আসছো যে, নিজের ভাতিজা-ভাতিজিদেরও চিনতে পারছো না।
চাচা : দাঁড়াও, তোমাকে দেখিয়ে দেবো– সবাইকেই আমি ঠিকমতো চিনি। জয়নব, তুমি গাছটির এ পাশে দাঁড়াও। আর সাকিনে, তুমি দাঁড়াও ঐ পাশে। জয়নবের বাচ্চারা তাদের মায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়াও। আর সাকিনের বাচ্চারা দাঁড়াও তাদের মায়ের কাছে।

চাচাটি তার ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্নে-ভাগ্নিদের গাছের আরেক দিকে দাঁড় করিয়ে দিলো।

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : গাছটির নিচে আমাদের পরিবারের সবাইকে দাঁড় করিয়ে দিলো চাচা। পরিবারে যখনই একটা নতুন শিশু জন্মায়, গাছটিতেও তখন একটা নতুন ডালা গজায়; আর আমাদের বংশের কেউ যখন মারা যায়, গাছটিরও একটি ডালা ভেঙে পড়ে। ঠিক কোন ডালাটি আমাদের পরিবারের কোন মানুষটির জন্য– দাদী সে কথা জানতো।
চাচা : আমি ঠিকঠাক দাঁড় করিয়েছি তোমাদের; তাই না?
শিশুরা : না।
চাচা : তাহলে ঠিক কোনটা?
শিশুরা : [সরে গিয়ে, যার যার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে–] এখন ঠিকঠাক!

সিকুয়েন্স • ৮
বসন্তের ছোট্ট প্রহর । দিন

তরুণীটি আর বুড়িটি পুকুরের পাশে বসে আছে; দুজনের কাঁধে দুজনের হাত।

তরুণী : দেখলে? আমার কথা তো সে জিজ্ঞেসই করলো না। আমার নামও তো নিলো না। শহরে ফিরে যাওয়ার আগে, সে আসলে তার মাকে একবারে দেখে যেতে এসেছিল।

'পারিবারিক' বৃক্ষ পেরিয়ে, মায়ের কবরের দিকে চাচার হাঁটা...
‘পারিবারিক’ বৃক্ষ পেরিয়ে, মায়ের কবরের দিকে চাচার হাঁটা…
সিকুয়েন্স • ৯
গোত্রটির তাঁবুগুলো । দিন

পারিবারিক গাছটির কাছ থেকে, চাচা তার মায়ের কালো তাঁবুতে ঢুকলো…

চাচা : আমার আম্মা কই? কই রে আমার নারাঞ্জ খানম? আম্মা! আম্মা নারাঞ্জ! তোমার আব্বাস চলে আসছে? কই তুমি?

তার আম্মার কালো তাঁবুটি ফাঁকা। একটা গাবে’র ফ্রেকওয়ার্কের দেখা মেলবে– যেটি আগে দেখা যায়নি। একটা কুকুর লেজ নাড়াতে থাকবে চাচার পায়ের কাছে।

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছো, চাচা; তোমার ভালোবাসা মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়।
সাকিনের কণ্ঠস্বর : তিনি চেয়েছিলেন, বোনা শেষ হলে গাবে’টা শহরে পাঠাবেন, তোমার বিয়েতে।

চাচা বেদনায় মুষড়ে পড়ে। ইনসার্ট : সবুজ তৃণভূমিতে দাদীর কবর। চাচা আর মেয়েরা সেটির সামনে দাঁড়িয়ে। ইনসার্ট : সবুজ তৃণভূমিতে মৃদু হাওয়া ঢেউ খেলে যায়; আর তরুণীটির আঙ্গুলগুলো গাবে’টা বুনতে থাকে। জনৈক নারীর বিলাপ শোনা যায় হয়তো। গাবে’টির ব্যাকগ্রাউন্ড বুননিতে সবুজ হয়ে ওঠে।

সিকুয়েন্স • ১০
বসন্তের ছোট্ট প্রহর । হলুদ তৃণভূমিতে ভ্রাম্যমান স্কুল। দিন

স্রোতে ভেসে যাচ্ছে লাল-লাল ফুল। নীল পোশাকের তরুণীটি পানি থেকে সেগুলো তোলে। সে কাঁদছে। বুড়িটি তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে…

বুড়ো : শোকের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন তো বিয়ের সময়।
তরুণী : এখন তো বিয়ের সময়, কিন্তু আমার বিয়ের নয়। বাবা বলেছে, চাচা বুড়ো হয়ে গেছে, অথচ বিয়ে করেনি। আগে তার বিয়ে, তারপর আমার। [তরুণীটি মাথা ঘুরিয়ে নেয়। ফুলগুলো হাতে নিয়ে, ফ্রেম থেকে বের করে দেয়–] অভিনন্দন চাচা, এগুলো রাখো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজের বিয়ের ব্যবস্থাটা করে ফেলো।

চাচা ফুলগুলো হাতে নেয়। তারপর রেখে দেয় ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে…

চাচা : টিউলিপ ফুলের রঙ লাল। এটা কীসের শব্দ শুনছো, বাচ্চারা?
শিশুদের কণ্ঠস্বর : একটা চড়ুই পাখির।

বুড়োটি একটা বাসা থেকে একটা চড়ুই পাখি নিয়ে আসে, তারপর সেটিকে ফ্রেমের বাইরে রেখে দেয়। চাচার হাত সেটিকে তুলে নিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দেখায়…

চাচা : চড়ুই পাখি। [চড়ুই পাখিটির সামনে সে এক গোছা গম রাখে; আর নিজের মাথার ওপর দিয়ে, এটিকে ফ্রেমের বাইরে নিয়ে যায়। তাকায় আকাশের দিকে–]
হে প্রভু!
তোমার হলুদ রঙের জন্য ধন্যবাদ।
এই আদুরে চড়ুই পাখিটা
আরেকটা হলেই হলদে পাখি হয়ে যেতো।

সে ফ্রেমের মধ্যে একটা হলদে পাখি, মানে ক্যানারি পাখি নিয়ে আসে। তারপর সেটাকে ছেড়ে দেয়। কাট টু : একটা হলুদ তৃণভূমি। সেখানে কাফেলাটিকে এখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চাচা। তরুণীটির কাঁধে একটা নীল গাবে; যতবার নেকড়ের গর্জন শোনে, ততবার পেছনে ফিরে ফিরে তাকায় তরুণী…

তরুণীর কণ্ঠস্বর : চাচা স্বপ্ন দেখেছে, কোনো এক বসন্তে নিজের মনের মানুষটাকে খুঁজে পাবে, সেই মেয়েটি ক্যানারি পাখির মতো গান গেয়ে শোনাবে তাকে। তার জন্য পাত্রী খুঁজতে এই গোত্রের সব পরিবারের কাছেই গিয়েছে বাবা। মেয়েগুলো সবাই সুন্দরী ছিল, কিন্তু ক্যানারি পাখির মতো নয়। আমাদের কাফেলা প্রত্যেক বসন্তেই খুঁজে বেরিয়েছে পাত্রী। কিন্তু ক্যানারি পাখির মতো কিচিরমিচির করতে জানা কোনো মেয়ে পায়নি তারা।

সিকুয়েন্স • ১১
মরুদ্যান । দিন

কাফেলাটি একটা মরুদ্যানে পৌঁছেছে। একটা শিশু পিপাসার্ত। জনৈক বুড়োর বোনা রশি পরখ করে দেখছে চাচা…

চাচা : বসন্ত কোথায় এখন?
জনৈক বুড়ো লোকটি : যেখানেই জলের শব্দ শুনবে, সেখানেই আছে।

মায়ের গাবে'তে দুই ভাইয়ের শুয়ে থাকা [সিকুয়েন্স-২১]
মায়ের গাবে’তে দুই ভাইয়ের শুয়ে থাকা [সিকুয়েন্স-২১]
সিকুয়েন্স • ১২
বসন্তের দীর্ঘদিন । দিনের বেলা

কাঁধে একটি ছাগলের চামড়া নিয়ে, সমতলে জলের কলকল ধ্বনি শুনছে চাচা। তার কানে ভেসে আসছে কারও গান। সবজির জমির ভেতর দিয়ে, বসন্তে, সেই কণ্ঠস্বর ধরে এগিয়ে যায় সে। দেখে, পুকুরে থালা-বাসন ধুচ্ছে আর গান গাইছে এক তরুণী…

চাচা : চমৎকার। জল আর গানের ফোয়ারা।
আল্লাহদাদের কন্যা : সালাম।
চাচা : সালাম। কী নাম তোমার?
আল্লাহদাদের কন্যা : আমি আল্লাহদাদের মেয়ে।
চাচা : পানির খোঁজে এসেছিলাম, তোমার গান শুনতে পেলাম। কী চমৎকার গানের কথা! এ গান আগে কখনো শুনেছি বলে তো মনে পড়ে না।
আল্লাহদাদের কন্যা : এই গানটা আমি গতরাতে বেঁধেছি। এর আগে কেউই শোনেনি এটা।
চাচা : তার মানে, তুমি নিজে গতরাতে বেঁধেছো?
আল্লাহদাদের কন্যা : ঠিক ধরেছেন।
চাচা : তুমি নিজে এটা বেঁধেছো?
আল্লাহদাদের কন্যা : ঠিক তাই।
চাচা : তুমি কবিয়াল নাকি?
আল্লাহদাদের কন্যা : না, আমি আল্লাহদাদের মেয়ে।
চাচা : আরেকবার শোনাবে, প্লিজ?
আল্লাহদাদের কন্যা : [গান গাইতে থাকবে…]
বসন্তের শেষবেলার উপরিতলে এ যে আমি…
বসন্তের শেষবেলার নিন্মস্তরে এ যে আমি …
পুকুরের পাথর– এ যে আমি…
আমার প্রেমিক এখান থেকেই আসে…
তার কাছে আমি তো একটা তিতির পাখির মতো… 
আমি তো একের ভেতর অনেক টুকরো…
চাচা : এই কথাগুলো তুমি বেঁধেছো, প্রিয়তমা?
আল্লাহদাদের কন্যা : কিন্তু আমার কোনো প্রেমিক নাই।
চাচা : কেন, বলো তো? তুমি বিয়ে করোনি?
আল্লাহদাদের কন্যা : দেখুন…
চাচা : দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার। তোমার বয়স কত? [মেয়েটি চুপ করে থাকে।] কেউ যদি তোমাকে বিয়ে করতে চায়, করবে?
আল্লাহদাদের কন্যা : আমার জীবনকে ভরিয়ে দেওয়ার মতো কেউ যদি থাকে।
চাচা : ধরো, আমি…
আল্লাহদাদের কন্যা : [বাসন ধোয়া থামিয়ে দিয়ে] আমি যদি আপনাকে বিয়ে করি, আমার সঙ্গে জীবন কাটাতে গিয়ে কতটা হিংস্র হতে পারবেন?
চাচা : আমি হিংস্র হবো না। তোমাকে আঘাত দিতে গেলে আমি তো দুঃখ পাবো মনে, তখন কবিতা আওড়াবো।
আল্লাহদাদের কন্যা : কেমনতর কবিতা?
চাচা : [পানিতে হাত দিয়ে, পানির ফোঁটা ছিটিয়ে…] আমি আওড়াবো :
আমি তো তৃষ্ণার্ত খুব, তুমি তো বহমান জল।
আমি তো পরিশ্রান্ত খুব; তুমি শক্তি ও দমে ভরা।
আমি তো বুড়ো, কৃশকায়–
তুমি গাছের জাঁকালো প্রশাখা…
আল্লাহদাদের কন্যা : আপনার কবিতা আমার পছন্দ হয়েছে; আপনাকে বিয়ে করব।

তৃষ্ণার্ত শিশুকে নিয়ে সাকিনের আবির্ভাব

সকিনা : [চাচাকে উদ্দেশ্য করে–] তোমার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। পিপাসায় বাচ্চাটার মরার দশা।
চাচা : আমি আল্লাহদাদের মেয়ের সাথে যাচ্ছি; তুমি এই ছাগলের চামড়াটায় জলে ভরে ফেলার আগেই ফিরে আসব।

থালা-বাসন গুছিয়ে, আল্লাহদাদের কন্যার পিছু হাঁটা দেয় চাচা। ছাগলের চামড়ার থলেতে পানি ভরতে থাকবে সাকিনে। সেটি যখন ভরে যাবে, দেখা যাবে, আল্লাহদাদের কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এসেছে চাচা, তার সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের পণ হিসেবে একটা লাল গাবে। কাফেলাটি এখন বসন্তে পরিপূর্ণ।

চাচা : আল্লাহদাদের সম্মতি নেওয়ার দরকার ছিল আমার। তার কন্যাকে বিয়ে করার পক্ষে বয়ান আমি নিজে দিয়েছি; বিয়ের জন্য খুবই আমুদে ব্যাপার এটা।

ইনসার্ট : বুড়ি, বুড়ো আর তরুণীটি সেই দৃশ্য দেখছে সেই ছোট্ট পুকুরটি থেকে…

অশ্বারোহী প্রেমিক ও তরুণী
অশ্বারোহী প্রেমিক ও তরুণী
সিকুয়েন্স • ১৩
নানাবিধ সমতল ভূমি। পুকুরের পাশে, বসন্তের ছোট প্রহর । দিনের বেলা

সমতল ধরে এগিয়ে যাচ্ছে কাফেলা। তাদের সঙ্গে নবদম্পতি রয়েছে। নীল পোশাকের তরুণীটির কাঁধে একটা নীলরঙা গাবে। নেকড়ের ডাক শুনে বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে সে। কাফেলা শিবিরগুলো ভেড়ার পশম খসিয়ে নিয়ে, পেচিয়ে, তৃণভূমি থেকে ছোট্ট বালিকাদের তুলে আনা ফুলের রঙে রাঙিয়ে নেয়। তরুণীটিকে চুরি করার উদ্দেশ্যে কালো অশ্বারোহীর দেখা মেলে একবার, কিন্তু ভয়ঙ্কর রক্ষক কুকুরদের কারণে সে দূরে সরে যায়। পশমগুলো রোদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুকানো হচ্ছে, অথচ বৃষ্টি নামার আগেই এগুলোকে তাড়াতাড়ি গুটিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে ব্যস্ত বালিকারা।

সিকুয়েন্স • ১৪
নাগস-ই-রুস্তামের [প্রাগৈতিহাসিক কবরাস্থান] পাশে । দিন

সবুজ সবজিতে সমতল ঢাকা। কালো তাঁবুগুলোর ছাদে রঙিন পশমগুলো ছড়িয়ে আছে। বিবাহের উৎসব। শিশুদের হাতে রুমালের নৃত্য। নববধূ একটা ছাগলের দুধ দোহাচ্ছে। তরুণীরা গাবে বুনছে। পণ হিসেবে নববধূর নিয়ে আসা লাল গাবে’টি মেলে ধরেছে চাচা…

চাচা : তোমার গাবেহ এই অশ্বারোহীকে কেন বুনেছো, আল্লাহদাদের মেয়ে?
আল্লাহদাদের মেয়ে : মনে হয়েছিল, আমার ভাগ্য আমার কাছে ঘোড়ায় চড়ে আসবে।
চাচা : তরুণ ভাগ্য তার নববধূকে ঘোড়ায় চড়িয়ে বাড়ি তুলতে পারে, কিন্তু বুড়ো তো তা পারে না। [বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে আয়নার সামনে দাঁড়ায় চাচা। নিজের দিকে তাকিয়ে, বেদনার্ত কণ্ঠে কবিতা আওড়ায়…]
বুড়ো বয়সের ঠকঠকে দুর্ভোগের শব্দ আমি শুনি– 
যখনই দেখি, চুল পেকে গেছে আমার।
[নিজের বধূর কাছে যায় সে]
দৃষ্টিশক্তি প্রখর নয় লোকটির
ভালো বলতে কিছুই নেই তাদের।
তা না হলে শৈশবের দোলনার পেছনে কবরের দেখা পেত তারা
আর প্রত্যেক আনন্দোৎসবের পেছনে থাকা বেদনারও পেত দেখা।
আল্লাহদাদের কন্যা : এই কবিতা কেন পড়ছেন? আমার সাথে ঝামেলা বাঁধাতে চান?
চাচা : সাতান্ন বছর পেরিয়ে এসেছি আমি।
হায়, কী দ্রুত আর নিরর্থকভাবে চলে গেল সবকিছু।
যদিও শরীরটা বুড়ো হয়ে গেছে, পেকে গেছে চুল আমার
তবু হৃদয় আমার তৃষ্ণায় ভরা, আশায় ভরা।
কারাগারের মতো শীতল ও নৈঃশব্দ এ দেহ আমার
তবু আত্মা যেন প্রাণবন্ত শিশুর মতোই চপল।

গাবে বুনতে থাকা তরুণীকে কাঁধে নিয়ে, ছন্দে ছন্দে নাচতে শুরু করে দেয় চাচা। এবার সবাই নাচতে শুরু করে। এমনকি ছোট্ট বসন্তে যে বুড়োটি, নীল রঙা তরুণীটির জন্য সেও নাচতে থাকে। গাবে’র জমিনে বিবাহ-দৃশ্য বোনা হতে থাকে। কাফেলাটি একটা নদীর কিনারে এসে পৌঁছায়, যে নদীর সবটাই গাবে’তে ভরা। নবদম্পতির জন্য নদীর তীরে একটা তাঁবু গাড়া হয়। তাদের রেখে এগিয়ে যাওয়া কাফেলাকে হাত ও রোমাল নেড়ে তারা বিদায় জানায়।

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : চাচার বিয়ের দৃশ্য বোনা হয়েছিল গাবে’র জমিনে। চাচা ও তার বধূকে গাবে-ধৌত নদীর তীরে, মধুচন্দ্রিমার জন্য রেখে, আমাদের গোষ্ঠীটি এগিয়ে চলে।

বুড়ো
বুড়ো
সিকুয়েন্স • ১৫
বসন্তের ছোট্ট দিন । দিনের বেলা

পুকুরের পাশে বসে তরুণীটি ফুঁপিয়ে কাঁদছে। বুড়িটি পাশে নেই।

বুড়ো : কাঁদছো কেন, গাবে খানম?
তরুণী : আমাকে আরও অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে। বাবা বলেছে, আমাকে বিয়ের জন্য, আমার মায়ের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বুড়ো : সে তো কথা দিয়েছিল, তোমার চাচার বিয়ের পরই তোমারটা দেবে; তাই না?
তরুণী : সে কথা এখন মায়ের সন্তান প্রসবের পর পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
বুড়ো : কবে হবে বলে মনে হয়? এই মাসে?
তরুণী : যখন আমরা আরও দূরে কোথাও গিয়ে তাঁবু গাড়ব, যখন আরও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া হবে, যখন আমরা অনেক বেশি মেহনত করব, যখন আমরা এই পানির রাজ্য পেরিয়ে যাব।

সিকুয়েন্স • ১৬
নদীর তীর । দিন

কাফেলাটি নদীর তীরে এসে পৌঁছে। নারীটির পেট ফুলে ওঠে। পুরুষেরা জলধারার ওপর দিয়ে পারাপারের জন্য একটা ভেলা বানাতে থাকে। নেকড়ের ডাক ভেসে আসে…

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : তরুণীরা গা ঝাড়া দেয়। আর পুরুষেরা, চাচা আর আমার বাবা, তাদের তাড়া দেয় ভেলায় ওঠতে। মেষশাবকগুলোর সঙ্গে ওঠে বালকেরা; আর শিশুদের রাখা হয় নিরাপদ জায়গায়– যেন পড়ে না যায়। আর আমরা পশুপালের মতো ঝাঁক বেঁধে পেরিয়ে যাই স্রোত; আমাদের সবার আগে আগে কাজ করে যায় মা। কিন্তু প্রসব-ব্যথা ওঠার কোনো লক্ষণই নেই তার মধ্যে।

হাতের ওপর ডিম পেড়ে দেওয়া মুরগী
হাতের ওপর ডিম পেড়ে দেওয়া মুরগী
সিকুয়েন্স • ১৭
লেক, পাহাড়, উপত্যকা, পুকুর । বসন্তের ছোট্ট প্রহর । দিনের বেলা

লেকের পাশ দিয়ে এগিয়ে চলে কাফেলা। এক বালিকার হাতের মধ্যে ডিম পেরে দেয় একটি মুরগি; বালিকাটি ডিমটিকে ফ্রেমের বাইরে নিয়ে ফেলে দেয়। নীল রঙা তরুণীটির হাতের ওপর পড়ে সেটি…

তরুণীটি [ আনন্দের সঙ্গে] : সময় হয়ে গেছে।

কুয়াশায় ঢেকে যায় কাফেলা। সাকিনের প্রসব-ব্যথা; কুয়াশার মধ্যে হেঁটে যায় সে। বালিকারা গাবে বুনতে থাকে। মাকে যখন নারীরা ঘিরে ধরে, তখন কুয়াশার মধ্যে মিলিয়ে যায় চাচা…

চাচা : জীবনই রঙ।
বুননরত বালিকারা [ সমস্বরে] : জীবনই রঙ।
চাচা : পুরুষই রঙ।
বুননরত বালিকারা [সমস্বরে] : নারীই তো রঙ।
চাচা : শিশুই তো রঙ।

বাতাসে যখন নবজাতকের কান্না ভেসে আসে, তখন গাবে’র মধ্যে একটা শিশুর অবয়ব ফুটে ওঠে। ডিমটি এখন বুড়োটির হাতে। নীলরঙা পোশাকের তরুণীটি তার পাশে। বুড়োটি কাঁদছে…

বুড়ো [তরুণীর উদ্দেশ্যে–] : তুমি কখনোই কোনো সন্তানের জন্ম দাওনি। একটা সন্তান আমি কতই-না চেয়েছি।
বুড়ি [ঈর্ষায় পাশে সরে গিয়ে] : আমি চলে যাচ্ছি, আর কোনোদিন ফিরে আসব না।
বুড়ো : তুমি জাহান্নামে যাও, সেখানে গিয়েই থাকো। [তরুণীর দিকে ফিরে–] বুড়ি তো চলে গেছে, গাবে খানম। তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে?
তরুণী : কিন্তু বাবা তো আমাদের মেরে ফেলবে।
বুড়ো : মিথ্যে বলো না, গাবে খানম। মিথ্যে বলা পাপ। সত্যি করে বলো। তুমি আমাকে ভালোবাসো না, বাসো কি?
তরুণী : খোদার কসম, তোমাকে ভালোবাসি।
বুড়ো : বাজি ধরে বলতে পারি, তুমি মিথ্যে বলছো। তোমার বাবা তো ধারে-কাছে নেই। তুমি একটা মিথ্যুক।

বুড়ি ফিরে আসে। সাথে নিয়ে আসা মেষশাবকটি বুড়োর হাতে তুলে দেয়। তরুণীটি এখন নেই।

বুড়ি : এই না। এই শিশুটি তোমার জন্য। ঘ্যানঘ্যান বন্ধ করো।
বুড়ো [শাবকটিকে জড়িয়ে ধরে] : কী সুন্দর বাচ্চাটা! ওকে দুধ খাইয়েছো তো?
বুড়ি : না।
বুড়ো [শাবকটিকে ছেড়ে দিয়ে–] : বেহারা বাচ্চা, যাও, দুধ খেয়ে আসো।

সিকুয়েন্স • ১৮
মেষের দঙ্গল । দিন

মেষশাবকটি, ভেড়ার পালে ছুটে বেড়ায়। নবজাতকটি কাঁদছে। সাকিনে মেষের দুধ দোহাচ্ছে। আটকে রাখা মেষশাবকগুলো বেড়ার আড়ালে ভ্যা-ভ্যা করছে। সাকিনে যখন দুধ নিয়ে চলে যায় তার নবজাতকের কাছে, মেষশাবক আর ভেড়াশাবকগুলো তখন হুড়োহুড়ি করে নিজেদের মায়ের দুধ খেতে থাকে। ছাগলের দুধ খেতে থাকা এক শিশুর অবয়ব ফুটে ওঠে গাবে’টির বুননে।

ছাগলের পাল তাড়িয়ে নেওয়া বোন...
ছাগলের পাল তাড়িয়ে নেওয়া বোন…
সিকুয়েন্স • ১৯
বসন্তের ছোট্ট দিন। দিনের বেলা

নীল পোশাকের তরুণীটি পুকুরের পাশে বসে কাঁদছে। বুড়িটি ধারে-কাছে নেই।

বুড়ো : গাবে’টা ধু’তে পারলে তোমার ভালো লাগবে, এ কথা তো বলেছিলে, তাই না? তাহলে এখন কাঁদছো কেন?
তরুণী : আমাকে অপেক্ষা, আরও অপেক্ষা করতে হবে। বাবা কাছে নেই। চাচা কাছে নেই। মা কাছে নেই। সবাই মিলে শহরে গেছে। চাচার বৌর বাচ্চা হবে। মেষপাল আর শিশুদের দেখাশোনা করতে হবে আমাকে। একটা ভেড়া ঠাণ্ডায় জমে গেছে। আমার বোন সোলেহকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পশমের স্তূপের নিচে একটা অসুস্থ ভেড়া কোঁকাচ্ছে। একটা মেষশাবকের পিছু ছুটতে ছুটতে, পাহাড়ের খাঁড়া বাঁধে আটকে পড়েছে সোলেহ। গাবে বুননকারী তরুণীরা, সূর্যাস্তের পেছনে কালো রেখা বুনছে। ক্রন্দনরত তরুণীটি ও বুড়িটি– দুজনের গায়েই এখন নীল পোশাক; দুজনেই সোলেহকে নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তুষারের মাঠ পেরিয়ে, কাফেলার এগিয়ে চলা...
তুষারের মাঠ পেরিয়ে, কাফেলার এগিয়ে চলা…
সিকুয়েন্স • ২০
তুষারঢাকা পাহাড়-পর্বত । তৈলক্ষেত্রের কাছাকাছির গ্রাম । দিন

প্রগাঢ় শীতল আবহাওয়ায়, কাফেলাটিকে অনুসরণ করছে কালো পোশাকের অশ্বারোহীটি। নীল পোশাকের তরুণীটির কাঁধে নীল গাবে’টি; নেকড়ের ডাক শুনে সে পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। পালের কুকুরটি তরুণীটিকে দেখছে। অশ্বারোহীর জন্য একটা লাল স্কার্ফ ফেলে গেল তরুণীটি; সেটির ওপর বরফের একটা বল চাপা দিয়ে গেল, যেন বাতাসে উড়ে না যায়। সেই লাল স্কার্ফটি হাতে পেলো অশ্বারোহী। স্নোবলটিও হাতে তুলে নিলো, তারপর নিজের হাতে পিষে ফেলল। নীল পোশাকের তরুণীটি হাতে হাত ঘষে নিজের ঠাণ্ডা হাতগুলো গরম করার চেষ্টা করল। কাট-টু : তৈলক্ষেত্রের গ্যাসের যন্ত্র থেকে ওঠা আগুনের শিখা। তৈলক্ষেত্রের কাছাকাছির গ্রামটির সব বাড়িতেই ছোট্ট একটা অগ্নিকূপি রয়েছে।

সিকুয়েন্স • ২১
তৈলক্ষেত্র গ্রামটির কাছাকাছি । দিন ও রাত

গাবে মুড়ি দিয়ে ঘুমুচ্ছে তরুণীটি। তার চাচা রয়েছে কাছে। নেকড়ের ডাক ভেসে আসে। পালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে; কিন্তু যখন দেখল, চাচা তার ওপর নজর রাখছে, তখন ঘুমুতে চলে এলো। কুকুরের ঘেউঘেউয়ের জবাবে ভেসে আসছে নেকড়ের ডাক। গোধূলি লগ্ন…

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : দিনের বেলা মেয়েগুলো আর রাতের বেলা পুরুষেরা আমাকে চোখে চোখে রাখে; পালানোর কোনো সুযোগই নেই আমার। দাদীর শেষ করে যেতে না পারা গাবে’টা শেষ পর্যন্ত শেষ করেছি যখন, চাচা তখন মমতা আর বিশ্বাস নিয়ে আমাকে বলেছে, বাবাকে সে দূরে নিয়ে যাবে– যেন আমি পালাতে পারি।

মৌসুমী পরিভ্রমণের সময়ে সবুজ গাবে’টি বোনা শেষ হয়েছে; এটিকে মেলে দেওয়া হয়েছে জমিনে। চাচা ও বাবা বসে আছে সেটির ওপর…

চাচা : তোমার গাবে’টা শেষ পর্যন্ত বুনে শেষ করতে পেরেছি আমরা, নারাঞ্জ আম্মা। আহা, যদি এটির ওপর শুয়ে পড়লে আর কোনোদিনই জেগে ওঠতে না হতো আমাকে।

বাবা ও চাচা দুজনেই সেটির ওপর শুয়ে পড়ে আর মিলিয়ে যায়…

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : এবার একটা সুযোগ এসেছে; কিন্তু পালানোর তো সাহস নেই আমার।

সুযোগ এলেও সাহস হয়নি, তাই গাবে মুড়িয়ে তরুণীর শুয়ে থাকা...
সুযোগ এলেও সাহস হয়নি, তাই গাবে মুড়িয়ে তরুণীর শুয়ে থাকা…
সিকুয়েন্স • ২২
বসন্তের ছোট্ট প্রহর । দিন

গাছে ঝুলে থাকা একটা নীল গাবে’র ওপর লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে, নেকড়ের ডাক নকল করার চেষ্টা করে বুড়োটি। মৃদু হাওয়া বয়ে যায়…

বুড়ো : আমার সাথে এত নোংরামি করলে কেন তুমি? কেন আমরা পালিয়ে গেলাম না? তোমার বাবা তো ধরে-কাছে নেই। তুমি মিথ্যুক। তুমি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছ। তুমি আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল। উপবন আর পাহাড়-পর্বতের ভেতর, আমার সঙ্গে দস্যুতা করেছ তুমি। তুমি আমাকে ভালোবাসো না। এখন তো তোমার বাবা নেই ধারে-কাছে; চলো পালাই আমরা।

সিকুয়েন্স • ২৩
পুকুরের পাশে । দিন

একটা ভেড়া-শাবকের জন্ম। নীল পোশাকের তরুণীটি গাবে বুনছে। মা-ভেড়াটি তার সদ্যজাত শাবকটির গা চাটছে। নীল পোশাকের তরুণীটি গাবে বুনে চলেছে। শাবকটি চেষ্টা করছে ওঠে দাঁড়ানোর, হাঁটার। নীল পোশাকের তরুণীটি সুতো ঠিক করছে, গিঁট দিচ্ছে। মা-ভেড়াটি তার সামনে পা দিয়ে মাটিতে শব্দ করছে, যেন নিস্তেজ সন্তানটি উঠে দাঁড়তে পারে। তরুণীটি জোরসে সুতো ঝারছে। মা-ভেড়াটি তার সামনের পা দিয়ে মাটি খুড়ছে। শাবকটি উঠে দাঁড়িয়েছে। সবুজ মাঠে ঢেউ খেলে যাচ্ছে বাতাস; আর তরুণটির ঘোড়ার পিঠে চড়ে পালিয়ে যাচ্ছে তরুণীটি। টগবগ করে দ্রুত ছুটে যাচ্ছে ঘোড়াগুলো। সবুজ গাবে’র বুকে দুজন পুরুষ আবারও দৃশ্যমান হলো। বাবাটি তার বন্ধুক উঁচিয়ে, পলায়নরতদের পিছু তাড়া করছে। দূর থেকে ভেসে এলো দুটি গুলির শব্দ আর একটি নেকড়ের আর্তনাদ। বাতাসে নেচে বেড়াচ্ছে হলুদ ঘাস। কাঁধে রাইফেল ঝুলিয়ে, ফিরে এলো বাবা। কী ঘটেছে– জানার জন্য উদ্বেগে জড়ো হলো পুরো গোষ্ঠী। বাবটি তার কন্যার নীল গাবে’টি ছুড়ে ফেলে দিলো নিচে। সবকিছুর রঙ নীল হয়ে গেল…

তরুণী
তরুণী
বুড়ি
বুড়ি
সিকুয়েন্স • ২৪
বসন্তের ছোট্ট প্রহর । দিন

নীল গাবে’টি গুটিয়ে নিলো বুড়ি; ঝর্ণা থেকে ভরে নিলো বয়াম। তারপর হাঁটা দিলো নিজের কুটিরের দিকে…

বুড়ো : [বুড়ির উদ্দেশে–] গাবে’টি ধুতে আসবে নাকি, গাবে খানম?
বুড়ি : আমার পায়ে ঘা হয়ে গেছে। এ কাজ আমি আর করতে পারব না।
বুড়ো : আমাকে হতাশ করো না, গাবে খানম। [নেকড়ের অনুকরণে ডাকবে] তুমি আমাকে ভালোবাসো না; তা না হলে, তোমার বাবা তো ধারে-কাছে নেই, আমার সঙ্গে পালাতে এখন। তুমি একটা মিথ্যুক; আমাকে ভালোবাসো না।

কাঁধে বয়ামটি নিয়ে কুটিরের দিকে এগিয়ে যাবে বুড়ি…

তরুণীটির কণ্ঠস্বর : বাবা আমাদেরকে না মারলেও, মারার খবরই ছড়িয়ে দিয়েছিল, যেন আমার বোনেরা কোনো নেকড়ের ডাকে বিমোহিত হয়ে না যায়। এ কারণেই গত চল্লিশ বছরে, বসন্তে কোনো ক্যানারি পাখির কিচিরমিচির শোনেনি কেউ।

সবুজ ও নীল গাবে একসঙ্গে ভেসে যায়– স্রোতে…


সূত্র • মোহসেন মাখমালবাফের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন]

5 মন্তব্যগুলো

  1. […] পাব কিভাবে? জাফর পানাহিকেও ভাল্লাগে। মাখমালবাফও প্রথম দিকে বেশি টানত! ধরো, অাব্বাস […]

  2. […] আহানখাহ পরিবারে তিনি নিজেকে পরিচালক মাখমালবাফ বলে পরিচয় দেন। সেইসূত্রে ওই পরিবারের […]

মন্তব্য লিখুন