বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের ভবিষৎ রূপরেখা/ বেলায়াত হোসেন মামুন

1
346

লিখেছেন বেলায়াত হোসেন মামুন


ত শতাব্দীর ষাটের দশকের শেষ পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতের অন্যতম অগ্রপথিক রণেশ দাশগুপ্ত চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বা চলচ্চিত্র সংসদের পরিধি এবং কর্মসূচি কি হতে পারে– এ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধের শিরোনাম– ফিল্ম সোসাইটির ভূমিকা। তিনি বলেছিলেন চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন যেন গণমানুষের মধ্যে কাজ করে, চলচ্চিত্র সংসদ যেন এলিট শ্রেণীর ‘ড্রইং রুম’ কালচারের অংশ হয়ে না যায়, চলচ্চিত্র সংসদ যেন সর্বস্তরের মানুষের চলচ্চিত্রচর্চার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এর কোনোটিই আমরা ‘কার্যকর’ করতে পারিনি। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ কখনও হয়নি, চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন গণমানুষের মধ্যে কাজ করতে পারেনি এবং সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়, চলচ্চিত্র সংসদ নির্দিষ্ট একটি শ্রেণীর ‘ড্রইং রুম’ কালচারের শোভা বর্ধন করে গেছে!

রণেশ দাশগুপ্ত বলেছিলেন, চলচ্চিত্র সংসদের কার্যক্রমের মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন ‘ছুতার মিস্ত্রি’ও যেন যুক্ত হতে পারেন এবং তার মতামত প্রদানের সুযোগ থাকে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন তো দূরের ব্যাপার; আমরা দেখতে পাই, চলচ্চিত্র ইন্ড্রাস্ট্রির সাথে চলচ্চিত্র সংসদের দূরত্ব সীমাহীন! চলচ্চিত্র সংসদ আর চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি একে অপরের বিষোদগার করা ছাড়া পেটের অন্ন হজম করে না!

এভাবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো আমাদের দেশের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি। বলা হয়, ঢাকার খুব কাছাকাছি দুই এলাকায় এই চর্চা অব্যাহত আছে। কারওয়ানবাজার এলাকায় ইন্ডাস্ট্রি তার মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টায় ‘পাবলিক যা খায়’ তার উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে আর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত এলাকার মধ্যে ‘বিকল্পধারা’, ‘স্বাধীনধারা’ এবং ‘সৎ চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন’ তার কর্মসূচি জারি রেখেছে। মূলত এই দুই এলাকার তৎপরতার জন্য দেশের অন্যান্য জেলা বা বিভাগে যা কিছু প্রতিক্রিয়া ঘটে থাকে। ফলে তৎপরতার ভরকেন্দ্র বলতে যা বোঝায়, তা খুব বেশি দূরের নয়; খুব কাছাকাছি!

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি [শিল্প বলতে পারতাম; কিন্তু বাংলায় ‘শিল্প’ বলতে কলা এবং ইন্ডাস্ট্রি– দুই-ই বোঝায়; তাই আলাদা করে বলাটাই শ্রেয়] যেমন মানুষের প্রয়োজনের কথা বলতে ব্যর্থ হয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন অল্প কিছু ব্যতিক্রম বাদে মানুষের কন্ঠস্বর হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যদি মুনাফা-বৃদ্ধির কারখানা হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনও মৌলিকভাবে মানুষের অধিকার আদায়ের ‘হাতিয়ার’ হয়ে উঠতে পারেনি। প্রশ্ন আসতেই পারে, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সেই ‘হয়ে ওঠার’ আকাঙ্ক্ষা কখনও ছিল কি-না?

উপরের বক্তব্য একেবারেই কঠোর মনোভাবের। অন্যভাবে যদি বলা যায়, তাহলে আমরা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের ক্ষেত্রে অনেক ‘চেষ্টা’, ‘প্রচেষ্টা’ এবং ‘লড়াই’ লক্ষ্য করে থাকি। অনেক কিছু ‘হয়ে ওঠার’ চেষ্টা এবং ব্যর্থতার ইতিহাস আমাদের জানা আছে। এই জানা তথ্যটুকু আমাদের আজকের এই আলোচনার জন্য ভীষণ জরুরি। পূর্ব পুরুষ এবং নারীদের কোন কোন অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে পারি! উত্তরাধিকারের এই প্রশ্ন আছে বলেই আজ আমরা এই আলোচনার পাটাতন পেয়েছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কার্পণ্য অথবা অস্বীকারের স্পর্ধা কোনোটাই আমাদের নেই। তবু নিজেদের আগামীর দিনগুলোর প্রয়োজনে একটু বুঝে নেব না! কোনো পথ এবং মতাদর্শ বিনাপ্রশ্নে কেন গ্রহণ করব? জীবন এবং সময় যেহেতু আমার; ফলে প্রশ্ন করার অধিকার তো আমারই!

এক আয়োজনে বক্তৃতা রাখছেন চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম
এক আয়োজনে বক্তৃতা রাখছেন চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম

  ১.  
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির একটি ‘স্বর্ণযুগ’, একটি ‘রুপালী যুগ’ সকলে খুঁজে পান; আমি পাই না! কেন পাই না– এই প্রশ্ন আমাকেও তাড়িয়ে বেড়ায়। মনে রাখা প্রয়োজন, ঢাকায় যখন অনেক লড়াই করে আব্দুল জব্বার খান নির্মাণ করছেন মুখ ও মুখোশ, তখন কিন্তু আমাদের পাশেই একটু দূরে সত্যজিৎ রায় তারও বেশি লড়াই করে নির্মাণ করেছেন পথের পাচালী। বাকি বিশ্বের কথা বাদ দিয়ে বলতে চাই, ঋত্বিক কুমার ঘটক যখন কলকাতায় নির্মাণ করছেন সূবর্ণরেখা, ঠিক তখন ঢাকায় জহির রায়হান নির্মাণ করছেন বেহুলা। ঢাকায় ছবি করা যদি কঠিন হয়ে থাকে, তাহলে খোঁজ নিয়ে জানুন, কলকাতাতেও সে সময় ছবি করা লড়াইয়ের অংশই ছিল। ফলে আমাদের চলচ্চিত্রে ‘স্বর্ণ’ বা ‘রৌপ্য’ যুগ যারা দেখতে পান, তাদের সাথে আমার তফাৎ শুধু দেখতে পারা আর না-পারাদের সাথে তুলনীয় হতে পারে। সেই যে আমাদের পিছিয়ে থেকে শুরু করা হয়েছিল, আজ অব্দি আর বিশ্বচলচ্চিত্রের সাথে পা ফেলার সুযোগ আমরা পাইনি। আমাদের চলচ্চিত্র হয়ে রইল ‘সামাজিক’ চলচ্চিত্র। কিন্তু কিছুদিন পর যখন মানুষ এই ‘সামাজিক চলচ্চিত্র’ দেখতে চাইল না, তখন আমরা বানাতে শুরু করলাম ‘অসামাজিক চলচ্চিত্র’। এরও পরে যখন ‘সামাজিক মানুষ’ এই ‘অসামাজিক চলচ্চিত্রের’ বিরুদ্ধে মিছিল করল, তখন রাষ্ট্র আমাদের চলচ্চিত্রকে করে দিল ‘অবৈধ চলচ্চিত্র’! আমাদের নির্মাতারা প্রথমে কলকাতার বাজারি চলচ্চিত্র, এরপর বোম্বের বাহারি চলচ্চিত্র এবং শেষে তামিল আসমানী চলচ্চিত্র ‘দেখা এবং কপি’ করা ছাড়া আর পৃথিবীর কোথাও উঁকি দিয়েও দেখলো না! আমরা এত সন্তুষ্ট থাকতে পারা মানুষ যে, আমাদের অল্পতেই সব হয়ে যায়; এই ‘অল্প’ তা জ্ঞানে হোক আর কর্মে! কোনো ব্যাপার না। আমাদের সমাজের সবখানে এই ‘অল্পের’ রাজত্ব! আর আমাদের ‘অল্পতত্ত্বে’ সৃষ্ট বামনত্ব থেকে পুষ্টির অভাবে পূর্ণমানুষ হয়ে ওঠা হয় না।

এ তো গেল আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির কথা। আসুন আমরা আমাদের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনকে দেখি। আমাদের আন্দোলনের উত্থানকাল ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। এই আট বছরে দেশে শ’খানেক চলচ্চিত্র সংসদ গড়ে উঠেছিল। ঢাকা এবং সারা দেশে বিস্তৃত ছিল এর কর্মক্ষেত্র। ১৯৮০ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি আইন করলেন– ‘চলচ্চিত্র সংসদ নিয়ন্ত্রণ এবং নিবন্ধন আইন ১৯৮০’। এই আইনকে চলচ্চিত্র সংসদ বলে ‘কালাকানুন’। এই আইন প্রর্বতনের পর থেকে আজ অব্দি চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে চলছে বিনাশকাল। আমাদের অভিভাবকরা সবাই এভাবেই বলে থাকেন। সেই শতাধিক চলচ্চিত্র সংসদ থেকে এই ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে আমার জানা মতে চলচ্চিত্র সংসদ এবং চলচ্চিত্র সংসদ আইনে নিবন্ধিত ফোরাম, পর্ষদ মিলিয়ে মোট ২০টি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। প্রশ্ন হলো, এত দীর্ঘ বিনাশকাল বর্তমান থাকার পরেও কিভাবে ২০টি সংগঠন ক্রিয়াশীল থাকতে পারে!

আমার পর্যবেক্ষণ মতে আমি দেখি, বাংলাদেশে যদি কেউ কাজ করতে চায়, তাহলে সে কোনো না কোনোভাবে ক্রিয়াশীল থাকতে পারে। যে চায় না, সে অনেক অনুকূল সময় পেলেও পারে না। এখন প্রশ্ন হলো, আপনি চেয়েছেন কাজ করতে? চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের জন্য কাজ করার প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যখন বিদেশের চলচ্চিত্র দেশে দেখানোর বিষয়ে অনেক রকম সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আরোপ করা হয়েছে। যে শখ এবং সামাজিক মর্যাদার একটি আরামদায়ক পরিবেশে ‘চলচ্চিত্র সংসদ’ চলছিল, তা খুব দ্রুতই মিইয়ে গেছে। সরকারি চাকুরে, বেসরকারি পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পর্যায়ের পড়াশোনায় থাকা সংসদকর্মীদের এই যন্ত্রণা সহ্য হয়নি; তারা আন্দোলনে ইস্তফা দিয়ে ঘরের ছেলে-মেয়ে ঘরে ফিরে গেছে। এভাবেই শতাধিক চলচ্চিত্র সংসদ দ্রুতগতিতে নেমে এসেছে ২০টিতে। এর মধ্যেও কথা আছে; যে ২০টির কথা বলছি, তার মধ্যে তিন পর্যায়ের চলচ্চিত্র সংসদ আছে। এদের কাজের ধরন এবং পরিধি তাদের অবস্থানের কারণেই নির্ধারিত।

প্রথম পর্যায় হলো স্বাধীন চলচ্চিত্র সংসদ। যেমন বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটি, রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি অথবা চলচ্চিত্রম ফিল্ম সোসাইটি, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি। এই চলচ্চিত্র সংসদ একেবারেই স্বাধীন, এবং তার কাজের পরিধি সীমানা দিয়ে নির্ধারিত নয়। এদের সক্রিয় থাকতে এবং টিকে থাকতে হলে স্বাধীনভাবেই তাকে লড়াই করতে হয়। অন্য কোনো বিশেষ আনুকূল্য তাকে পেতে দেখা যায় না।

দ্বিতীয় পর্যায় হলো জেলা বা বিভাগভিত্তিক চলচ্চিত্র সংসদ। যেমন চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র কেন্দ্র, খুলনা ফিল্ম সোসাইটি, রাজশাহী ফিল্ম সোসাইটি অথবা কুষ্টিয়া ফিল্ম সোসাইটি। বোঝাই যাচ্ছে, এই চলচ্চিত্র সংসদ একটি নির্দিষ্ট জেলায় অথবা বিভাগ জুড়ে কাজ করে। এর কাজ এবং কাজের পরিধি ঐ জেলার বা বিভাগের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি নিয়ে যতখানি, ততখানি দেশের সামগ্রিক চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি নিয়ে তাকে কাজ করতে দেখা যায় না। এটা স্বাভাবিক যে তার সামর্থ্য এবং সক্ষমতার পরিধিও ঐ বিভাগ বা জেলার পরিধির মাঝে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সাধারণত জেলা বা বিভাগভিত্তিক চলচ্চিত্র সংসদসমূহ ঐ জেলার সংস্কৃতির অপরাপর চর্চায় বা আন্দোলনে থাকা মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়ে থাকে– যা তার ক্রিয়াশীলতাকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে।

তৃতীয় পর্যায়ের চলচ্চিত্র সংসদ হলো কোনো সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতাধীন চলচ্চিত্র সংসদ। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর স্টুডেন্টস ফিল্ম সোসাইটি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র সংসদ ‘চোখ’, স্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটি সিনে ফোরাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ফিল্ম ক্লাব। এছাড়াও এই পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক দলের চলচ্চিত্র শাখা। যেমন উদীচী’র চলচ্চিত্র শাখা, সিপিবি’র চলচ্চিত্র শাখা– রণেশ দাশগুপ্ত ফিল্ম সোসাইটি বা এক সময়ের বহুল প্রচারিত চলচ্চিত্র পত্রিকা চিত্রালীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চিপাচস বা চিত্রালীর পাঠক-পাঠিক চলচ্চিত্র সংসদ। এই পর্যায়ের চলচ্চিত্র সংসদগুলো সরাসরি সহযোগিতা পেয়ে থাকে তাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের– যা একটি স্বাধীন ও জেলাভিত্তিক চলচ্চিত্র সংসদের নেই। এই চলচ্চিত্র সংসদসমূহের কাজের পরিধি এবং কর্মসূচি তাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং দল বা প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন হয়। সাধারণত এই চলচ্চিত্র সংসদগুলোতে এমন কর্মসূচি থাকে, যা শুধুমাত্র চলচ্চিত্র অনুরাগি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কোনো মৌলিক প্রতিবাদি কর্মসূচি প্রণয়ন অথবা বাস্তবায়ন প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণেই তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

এই তিনটি পর্যায়ের বাইরে চলচ্চিত্র সংসদ আইনে নিবন্ধিত বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম অথবা বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদকে বলা যায় বিশেষায়িত চলচ্চিত্র সংসদ। কারণ, তাদের কাজের ক্ষেত্র এবং পরিধি তাদের নামেই নির্ধারিত হয়ে আছে। যদি আপত্তি না থাকে, তাহলে এই সংগঠনদুটিকেও স্বাধীন চলচ্চিত্র সংসদ বলা যেতে পারে। এমনি আরো একটি চলচ্চিত্র সংসদ রয়েছে, বাংলাদেশ চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি। এটিও একটি স্বাধীন চলচ্চিত্র সংসদ; কিন্তু এর কাজের পরিধিও এর নামেই নির্দিষ্ট হয়ে আছে।

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশে চারটি চলচ্চিত্র উৎসব নিয়মিত [বছরে এবং দুই বছরে] হয়ে থাকে। এর আয়োজন করে থাকে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি, বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম, বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদ এবং বাংলাদেশ চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি। এর বাইরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে নিয়মিত কর্মসূচি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ দুই একটি, স্বাধীনধারার একটি বা দুটি এবং জেলাভিত্তিক একটি বা দুটি চলচ্চিত্র সংসদ তাদের কর্মসূচি চালু রাখতে পেরেছে। সব মিলিয়ে নিয়মিত কর্মসূচি আছে এমন সংগঠনের সংখ্যা হবে ছয় থেকে সাতটি। এই ছয় সাতটি চলচ্চিত্র সংসদের কর্মসূচি বড়োজোড় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। আমাদের এই প্রায় ১৬ কোটি মানুষের দেশে এই চলচ্চিত্রচর্চা সমুদ্রে সুই খোঁজার চেয়ে খুব বেশি কিছু নয়। আত্মসমালোচনা বলুন আর নিজেদের আত্মস্বরূপ খোঁজার চেষ্টা বলুন, তা আমাদের করতে হবে; কেননা আমরা অনেক বেশি ‘অল্প’তেই হয়ে যাওয়া মানুষ। কতখানি কাজ আমরা আসলে করেছি যে, আমাদের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি একেবারে সোনালি ফসলের ফল্গুধারায় চারপাশকে ভরিয়ে তুলবে?

নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৩
নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৩

  ২.  
কিন্তু এ তো সত্য যে, আমাদের ‘চলচ্চিত্রশিক্ষা’ একেবারে নেই থেকে আমরা শুরু করেছিলাম। এখন যখন আমাদের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে জাতীয় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট চালু হয়েছে, সেখানে গুণগত ‘চলচ্চিত্রশিক্ষা’ কি দেয়া যাচ্ছে? আমি সংশয় নিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় আপনার মুখপানে চেয়ে আছি!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি টেলিভিশন এবং ফিল্ম স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট চালু হয়েছে। আমি জানি এবং অনেকেই আজ জানেন, সেখানে ডিপার্টমেন্টের প্রধানের দায়িত্ব যাকে দেয়া হয়েছে, তার কোনো ‘চলচ্চিত্রশিক্ষা’ নেই! তিনি মূলত একজন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ। এই জাতিকে এ কথা কে বোঝাবে যে চলচ্চিত্রের মধ্যে থাকা অনেকগুলো সংযোগ সম্ভাবনার মধ্যে মাত্র একটি হলো গণসংযোগ। অবশ্য এই ভ্রম রাষ্ট্র কাঠামোর মাঝেই প্রকট। যে কারণে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; এটা তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়! চলচ্চিত্রের সবকটি সরকারি দপ্তর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত। চলচ্চিত্র মূলত কলা অর্থে শিল্পমাধ্যম। যা উপেক্ষিতই শুধু নয়; বিতাড়িত। তাই দেখা যাচ্ছে দেশের আজকের চলচ্চিত্রশিক্ষার প্রধান শিক্ষকেরা সবাই এলেন কি-না গণযোগাযোগ বিষয়ক শিক্ষাসমাপ্ত করে! এটাও হয়তো মন্দের ভালো হতো, যদি চলচ্চিত্রের কলারূপের প্রতি তাদের গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ দেখা যেত। গুটিকয় ব্যতিক্রম হয়তো আছেন, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের চলচ্চিত্রবোধ সংশয় উদ্রেক করে। আর তাই আশঙ্কা– আগামীদিনে চলচ্চিত্রশিক্ষার এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের চলচ্চিত্রকে কলারূপে প্রতিষ্ঠার বদলে একে বিজ্ঞাপন এবং প্রজ্ঞাপনের ভাষায় রূপ দেবে। যা চলচ্চিত্রে ইশারার চেয়ে, অনুভবের চেয়ে, ‘চিৎকারের’ গুরুত্ব বাড়াবে।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ-এ অনেক গবেষণার কাজ হচ্ছে। সেগুলো নিয়মিত প্রকাশনা আকারে প্রকাশ পাচ্ছে। এই গবেষণার কাজটি আমাদের অতীত এবং ভবিষতের দিকনির্দেশক হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের অর্থে [হোক তা সামান্য] ‘গবেষণা’ হিসেবে যে কাজগুলো হচ্ছে, তার কোনো জবাবদিহিতা কি আছে? আজ পর্যন্ত কয়টি মানসম্পন্ন গবেষণা হলো? বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ-এর নানাবিধ প্রচারমুখি কর্মসূচি আছে, কিন্তু চলচ্চিত্রের অনুসন্ধান আছে তো? রাষ্ট্রীয়ভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দাপ্তরিক আমলাতন্ত্রের সহজাত নিয়মে চলছে। সেখানে চলচ্চিত্র সংসদকর্মীদের অংশগ্রহণও আছে, কিন্তু সম্পর্কের তিক্ততার ভয়ে আমাদের কন্ঠস্বর সরব হয়ে ওঠে না!

আলোচনায় পুরোনো দিনের কথার ফিরিস্তি শুধুমাত্র এই জন্য যে, আমাদের সামনের দিন আমাদের হাতেই এবং তা আমাদের হাতেই তৈরি হবে। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আমাদের জানা আছে এবং আমরা নতুন সময়ের প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাঝে বসবাস করি। আমাদের উত্তরাধিকার আমাদের সাহস না যোগালেও আমাদের ভুল করতে সাবধান করে। এই সাবধানবানীর গুরুত্ব নেহায়াৎ কম নয়!

সেমিনার । বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসারে চলচ্চিত্র সংসদের ভূমিকা ও করণীয়
সেমিনার । বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসারে চলচ্চিত্র সংসদের ভূমিকা ও করণীয়

  ৩.  
আজ একজন তরুণ অথবা তরুণী চলচ্চিত্র সংসদ কেন করবে? এই সময়ে, এই অহেতুক সময়-শ্রম-অর্থ এবং মেধা বিনষ্টকারী সংঘবদ্ধতার কি প্রয়োজন আছে? কেন একজন তরুণ এই কাজ করতে আসবে? এই প্রশ্নের মীমাংসায় দেশপ্রেম, সমাজের ভালো, মানুষের কল্যান, শিল্পেরসেবা– এমন শব্দাবলি বহু পুরোনো এবং বহু-ব্যবহারে ক্লিশে। আমাদের প্রয়োজন আরো প্রায়োগিক এবং প্রয়োজনীয় কারণ। এই সময়ে একজন চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহী অথবা চলচ্চিত্রপাঠে আগ্রহী তরুণ বা তরুণী প্রযুক্তির সকল সহজতা এবং তথ্যের বিপুলতায় বসবাস করেও চলচ্চিত্র সংসদ করতে আগ্রহী কেন হতে পারে; যদি না তার খুব প্রায়োগিক অপরিহার্যতা থাকে?

সেই অপরিহার্যতা সমাজে জারি থাকতে পারে অথবা সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই সেই কারণ রোগের মতো গোপন, কিন্তু উপসর্গ আকারে হাজির থাকতে পারে। আমাদের তা খুঁজে দেখতে হবে। আমার চলচ্চিত্র সংসদচর্চার উপলব্ধি বলে সমাজে চলচ্চিত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি মাত্রায় রয়েছে এবং আগামীদিনে তা আরও বাড়বে। বিশেষত বাংলাদেশের মতো দেশসমূহে। আমাদের রাজনীতি অপরিণত, আমাদের সমাজে বৈষম্যের হার দিন দিন বাড়ছে এবং রাষ্ট্র দিন দিন একটি নিপীড়ক যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবী একটি ভৌগোলিক সামগ্রিকতায় দেশসমূহকে গ্রামে পরিণত করেছে। জাতিকে করেছে প্রতিবেশী। দেশের এবং মানুষের সংস্কৃতি অপর দেশ ও সংস্কৃতির চাপে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঝুঁকি দিন দিন বাড়বে এবং মানুষের ভুলে যাওয়ার ও মনে রাখার সংগ্রামও বাড়বে। একটি সময় ছিল, যখন বই ছিল আলো এবং অন্ধকারের উৎস। প্রযুক্তির প্রবলতায় পৃথিবী শ্রুতি এবং দৃশ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে এবং যাচ্ছে। আমরা যা কিছু দেখব এবং শুনব, তা আমাদের মগজকে ও হৃদয়কে নিয়ন্ত্রণ করবে। আমাদের পড়া এবং লেখাও আগামীদিনের অডিও-ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হবে। এই সর্বব্যাপি অডিও-ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতির কোনো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এই ভিজ্যুয়াল কালচার দেশ এবং জাতির সীমানা চূরমার করে দেবে। আমরা চোখ এবং কান খোলা রাখলে দেখতে পাব, এই প্রক্রিয়া বহু আগেই শুরু হয়ে গেছে!

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন তরুণ চলচ্চিত্রকারের পক্ষে একা এই বহুস্তর প্রাচীরের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া প্রায় অসম্ভবই নয়; অকল্পনীয়। দেশের আপাতস্বাধীন সংস্কৃতিচর্চার আড়ালে অদ্ভুত এক নিয়ন্ত্রণ সবসময় ক্রিয়াশীল রয়েছে। রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক, শ্রেণী এবং গোষ্ঠীস্বার্থের বিপরীতে সাধারণের কন্ঠস্বর সেখানে উচ্চকিত হতে দেখা যায় না। রাষ্ট্রীয় সেন্সর এবং সামাজিক সেন্সর সব ভিন্নস্বরকে নিষিদ্ধ করে রাখবে এবং রাখছে। এই নিয়ন্ত্রণের ঘেরটোপে শিল্পসাধনায় নিরীক্ষার কোনো স্থান নেই। সামনের দিনগুলোতে চলচ্চিত্রনির্মাণ পুঁজি এবং প্রচারযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে এককেন্দ্রিক করপোরেট গোষ্ঠীর ইচ্ছাধীন হবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, দেশের অপরিণত রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে যে সামাজিক অস্থিরতা বিরাজমান– তা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিকাশে এবং সমাজে তাদের নিয়ন্ত্রণকে আরো প্রতিষ্ঠিত করবে। আগামীদিনের অডিও-ভিজ্যুয়াল বিশ্বে সব টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রনির্মাণ পুঁজির মালিকানা থাকবে এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। নিয়ন্ত্রণের প্রসারের জন্য সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের ইচ্ছানুযায়ী পরিবর্তিত হবে এবং হচ্ছে। দেশের চলচ্চিত্রশিক্ষা তো ইতোমধ্যেই বিপথগামী; ভবিষৎ শুধু কল্পনাযোগ্য!

আমি একটি কাল্পনিক ভয়ালচিত্র তুলে ধরে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি– বিষয়টি তা নয়। আমি যে কথাগুলো বলছি, তা আসলে সম্ভাবনার স্তরে নেই। এই পরিস্থিতি এখনই বিদ্যমান। বিশ্বচলচ্চিত্র যখন অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ভিন্নতর দৃশ্যময়তা উপহার দিচ্ছে, তখন আমাদের দেশের একজন তরুণ নুন্যতম নিরীক্ষার শাস্তিস্বরূপ বছরের পর বছর নিষিদ্ধ থাকবে। অপরদিকে, কাঠামোগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে প্রচারযন্ত্রে এমন অনেক চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে– যার নির্মিত চলচ্চিত্র সমাজের বিশেষ ক্ষতকে আরো গভীর করে তুলবে; সমাজ হয়ে উঠবে নিরাময়ের অযোগ্য। কোনো তরুণ যখন সমাজের ভিন্নস্বর এবং মানুষের অনালোকিত ক্ষয়কে সামনে আনবে, তখন প্রচারযন্ত্র থাকবে নিরব। নিরবতার অবহেলায় সেই স্বর হারিয়ে যাবে প্রান্তিকসীমায়। আর সেই স্বরকে তুলে আনার অপরাধে সেই তরুণ হবে শাস্তিযোগ্য। রাষ্ট্র তাকে নাজেহাল করবে। সমাজ তাকে লাঞ্চিত করবে আর প্রধান প্রচারযন্ত্র তাকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকবে। অপরদিকে, পুঁজির মুনাফার আকাক্ঙ্ক্ষা পুঁজিকে করে তুলবে অপ্রতিরোধ্য। সেখানে ‘আর্ট’ কেটে দিয়ে লেখা হবে ‘ইন্ডাস্ট্রি’। বলা হবে, ‘কলা’য় সুখ নেই, সুখ আছে কোলবালিশে। বলা হবে, চলচ্চিত্র মূলত বিনোদন, বিনোদন এবং বিনোদন। সেই বিনোদনের মৌতাতে কোথায় যাবে তারুণ্যের সকল স্বপ্ন এবং স্বাদ। কার খবর কে রাখে বলুন!

হীরালাল সেন স্মারক বক্তৃতা ২০১৫
হীরালাল সেন স্মারক বক্তৃতা ২০১৫

  ৪.  
আগামীদিনের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির সকল ঝড়-ঝাপটা সামলানোর শক্তি আমি চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের আপাত স্বেচ্ছাসেবী সংঘবদ্ধতায় দেখতে পাই। আমি দেখতে পাই, একটি ভিন্নতর কিন্তু প্রবল চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি গড়ে তোলার সকল সম্ভাবনা এই সংগঠনগুলো বহন করে যাচ্ছে। আমি প্রবলভাবে আশাবাদী এই ভেবে যে, পুঁজিলগ্নিকারীদের দারস্থ না হয়েও একজন তরুণ চলচ্চিত্র সংসদচর্চার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে সফল হয়ে উঠতে পারবে। এই আশাবাদ একেবারে অহেতুক নয় এবং তা কষ্টকল্পিতও নয়। আমি বাস্তবতার খড়খড়ে মাটিতে দাঁড়িয়ে এই স্বপ্ন দেখি।

আমাদের আপাত প্রধান শক্তি আমাদের দেশের মানুষ। এই মানুষ দৃশ্যমাধ্যমে গল্প দেখতে চায়। শুনতে চায়। আমাদের দেশের মানুষ নিজের অবয়ব যে ছবিতে দেখতে পায়, তাকেই আপন করে নেয়। এই প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে প্রায় ১০ কোটি মানুষ চলচ্চিত্র কোনো না কোনোভাবে দেখে অথবা দেখতে চায়। নিরেট সত্য হলো, যেহেতু মানুষ চলচ্চিত্র দেখতে চায়, তাই এই দেশে চলচ্চিত্রের ভবিষৎ আছে

আমার প্রস্তাব, বাংলাদেশের সকল চলচ্চিত্র সংসদকে অনেক বেশি প্রায়োগিক পর্যায়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতিকে দেখতে হবে মুক্ত চোখে। ইন্ডাস্ট্রির জায়গায় ইন্ডাস্ট্রি থাকবে। দূরত্ব এবং বিরোধের মীমাংসা করতে হবে নিজস্ব চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে। আলোচনা-সমালোচনা জারি থাকবে ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্য। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র সংসদের আদর্শিক সকল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই তার ধ্যানধারনার পরিবর্তন করতে হবে। তার এতকাল চলে আসা সকল কর্মসূচি এবং গুরুত্ব আরোপকারী সকল বিষয় চলবে আগের মতোই। কিন্তু তা সময়ের বিচারে যাচাই করে নিতে হবে। যে কাজ একসময় ছিল প্রচণ্ড বৈপ্লবিক, হয়তো আজ তা ক্লিশে! দেশের সামগ্রিক চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে চলচ্চিত্র সংসদের জায়গা কোথায় হবে– তা তাকেই চিহ্নিত করতে হবে। দুনিয়ার সেরা চলচ্চিত্র আজ আর শুধু দেখলে হবে না; সময় এসেছে দুনিয়ার সেরা চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণের। চলচ্চিত্রপাঠে শুধু প্যাসিভ ভোক্তা হলে চলবে না; হতে হবে চলচ্চিত্রপাঠ উৎপাদনকারী।

আমাদের চলচ্চিত্র সংসদকর্মীদের আমাদের সংগঠনগুলো ধারণ করে না। তাদের পাশে দাঁড়ায় না এবং যখন কেউ অনেক কষ্টে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে, তখন সংগঠনের বাকি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার বিনাশ ঘটাতে তৎপর হয়। অতীতে আমাদের অভিভাবকরা এমনটা করেছেন শিল্পের প্রতি আনুগত্যে! আমরা শিল্প উৎপাদন করতে পারি না, কিন্তু আমরা খুব শিল্প বুঝি, আর তাই আমাদের চারপাশের সবকিছু অসুন্দর এবং কদর্য! আমাদের মেয়েরা অসুন্দর; সুন্দর কেবল সোফিয়া লরেন! বাস্তব জীবনে যেহেতু আমরা সোফিয়া লরেনকে পাচ্ছি না; তাই আমাদের চারপাশের কোনো কিচ্ছুই আমাদের ভালো না, আমরা কেবলি এক গভীর উন্নাসিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকি, আর সবাইকে বলি– তুমি বোঝ আমার…!

এই আত্মঘাতি আচরণ আমাদের শুধু পিছিয়ে দেয়নি, আমরা নিজেদের খুব হীনমণ্যভাবে দেখে থাকি। আমাদের সংগঠনের কোনো কর্মী কখনই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে না। কেননা, তাদেরকে আমরা সাহসের চেয়ে ভয় দিয়ে ভরে রাখি। আমরা বিশ্বাস করি, ওদের অজ্ঞানতাই আমাদের শক্তি! তাই আমাদের কর্মীরা নেহায়াত ‘কর্মী’ হয়; সহযোদ্ধা হয় না।

প্রত্যেকটি চলচ্চিত্র সংসদকে তাদের কর্মীদের ইচ্ছের গুরুত্ব দিতে শিখতে হবে। মনে রাখতে হবে সংগঠন বাঁচিয়ে রাখে কর্মীরা; সংগঠন কর্মীদের বাঁচাতে পারবে না। কর্মী যদি সমৃদ্ধ না হয়, তাহলে সংগঠন কখনও সমৃদ্ধ হতে পারে না। একজন জহির রায়হান আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বাকি ৩৩৬ জন [এফডিসি’র বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে নিবন্ধিত চলচ্চিত্রকারের সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত] চলচ্চিত্রকারের মর্যাদাকে তৈরি করেছেন। তারা গর্ব করেন এবং বলেন, জহির রায়হান যে ইন্ডাস্ট্রির চলচ্চিত্র নির্মাতা, তারাও সেই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির নির্মাতা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই ৩৩৬ জন চলচ্চিত্র নির্মাতা সম্মিলিতভাবেও একজন জহির রায়হানের ভূমিকা পালন করতে পারেননি। অন্যদিকে, একজন তারেক মাসুদ চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের মান এবং একজন সংসদকর্মীর উন্নত রুচি ও জ্ঞানের কাঠামো কেমন হতে পারে– তার উদাহরণ তৈরি করে দিয়েছেন। অন্যান্য চলচ্চিত্র সংসদকর্মীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যা যথেষ্ঠ। ফলে শিল্পচর্চায় সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়; কর্মীদের গড়ে তোলার যত্নে যদি একজন কর্মীও গড়ে উঠতে পারে, তাহলেই সেই সংগঠনের সিদ্ধিলাভ হয়েছে– এমনটা মনে হবে। অন্যথায় রণেশ দাশগুপ্তের ভাষায় তাকে ‘ঘুণে ধরা সোসাইটি’র আখ্যা দিতে হবে।

সংঘবদ্ধতার কারণ কী? আমি যা একা পারি না, তা দলবদ্ধভাবে করতে পারব। এই বোধ আমাকে সংগঠনে বিশ্বাসী করে তোলে। আপনার সংগঠনে যদি কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়, তাহলে তাকে চলচ্চিত্র নির্মাণে সম্ভব সব রকম সহযোগিতা করাই হচ্ছে সংগঠনের কর্তব্য এবং দায়িত্ব। কেউ যদি লেখালেখি করতে চায়, তাকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তা করতে উৎসাহিত করাই সংঘের সঠিক ভূমিকা হতে পারে। কেউ হয়ত চলচ্চিত্র দেখাটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাকে চলচ্চিত্র দেখতে শেখানোটাই সংঘের কাজ। চলচ্চিত্র সংসদ হতে পারে চলচ্চিত্র শিক্ষার, নির্মাণের এবং চলচ্চিত্র বিতরণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

চলচ্চিত্রশিক্ষা বিস্তারে এই দেশে চলচ্চিত্র সংসদের ভূমিকাই মুখ্য। আজ যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে চলচ্চিত্র শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, সেখানে চলচ্চিত্রকে ‘পড়ানো’ হচ্ছে গণমাধ্যমের অংশ হিসেবে। সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র মাধ্যমটি পড়ানো হয় সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের আওতায়, অথবা এরই বর্ধিত অংশরূপে। প্রকৃত অর্থে তা হওয়ার কথা নয়; চলচ্চিত্রের অন্যান্য অনেক সংযোগ ক্ষমতার একটি গণযোগাযোগ। এই অদ্ভুতুড়ে চলচ্চিত্রশিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীরা ভালো করে না ‘বুঝবে’ চলচ্চিত্র, আর না বুঝতে পারবে গণমাধ্যম। বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, একটি চলচ্চিত্র সংসদ যদি যত্ন এবং আন্তরিকতার সাথে চলচ্চিত্রশিক্ষা নিয়ে কাজ করতে চায়– তাহলে সে প্রকৃত চলচ্চিত্র শিক্ষাকেন্দ্রের ভূমিকা যর্থার্থরূপে পালন করতে পারবে। এক্ষেত্রে গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষকরাও হতে পারেন সহযাত্রী। তাদেরও বুঝতে হবে, চলচ্চিত্র ‘শুধু’ সাংবাদিকতার চোখ দিয়ে দেখলে তারা চলচ্চিত্র ‘দেখা’ থেকে বঞ্চিতই হবেন। আর নিজেরা ‘দেখতে’ না পারলে অন্যদের শেখাবেন কী করে?

চলচ্চিত্র শিক্ষাকেন্দ্রের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংসদ তার শিক্ষার্থী এবং কর্মীদের চলচ্চিত্র নির্মাণের বোধকে উৎসাহিত করবে। চলচ্চিত্র সংসদের তরুণ এবং নবীন চলচ্চিত্রকাররা সমাজ, দেশ এবং সময়কে ধারণ করবে চলচ্চিত্রে। মানুষের গল্প এবং মানুষের ইতিহাস সে তুলে আনবে মানুষের ভেতর থেকে। তার স্বল্প পুঁজি, অফুরান ভালোবাসা এবং আন্তরিক ইচ্ছে দিয়ে সে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে। সে চলচ্চিত্র হতে পারে কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র অথবা নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্র। সেই ছবির দৈর্ঘ্য হতে পারে ৫ মিনিট, ১০ মিনিট অথবা এক ঘন্টা। নির্মিত সেই চলচ্চিত্রের প্রচারে চলচ্চিত্র সংসদই প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। যদি কোনো চলচ্চিত্র সংসদ বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে শুধুমাত্র নিজেদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজন করবে নিজস্ব চলচ্চিত্র উৎসব। নিজ এলাকায় প্রদর্শনীর পাশাপাশি সে অপরাপর চলচ্চিত্র সংসদের সাথে চলচ্চিত্র বিতরণের একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। বিনিময় করবে নিজেদের নির্মিত চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র সংসদগুলোর যদি নিজেদের চলচ্চিত্র বিনিময়ের নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, তাহলে খুলনার কোনো চলচ্চিত্র সংসদকর্মীর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে কুষ্টিয়ায়। আর কুষ্টিয়ার কোনো চলচ্চিত্র সংসদকর্মীর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে খুলনায় এবং চট্টগ্রামে। এই সকল প্রদর্শনী হবে স্বল্পমূল্যের দর্শনীর বিনিময়ে। দর্শকদের প্রতি আহবান জানাতে হবে নিজেদের চলচ্চিত্র দেখে নিজেদের পৃষ্টপোষকতা করতে। প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের দর্শনীর একটি বড় অংশ পাবেন ঐ চলচ্চিত্রের নির্মাতা। এভাবে এক একটি প্রদর্শনী হতে হয়তো সামান্যই অর্থপ্রাপ্তি হতে পারে, কিন্তু তাই বা কম কি-সে! একটি সময় আসবে, যখন এভাবে বিভিন্ন জেলায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র সংসদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের কল্যাণে একজন তরুণ চলচ্চিত্রকর্মী পরিচিত হয়ে উঠবেন। পরিচিতি ছড়িয়ে পড়বে অনলাইনের মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটগুলো হবে চলচ্চিত্র সংসদগুলোর অন্যতম প্রধান প্রচারযন্ত্র। প্রচারের এই প্রক্রিয়ায় একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা গড়ে উঠবে। করপোরেট পুঁজি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রধান প্রচারযন্ত্রের আনুকূল্য ছাড়াও এভাবেই ছড়িয়ে পড়বে কাজ এবং নির্মিত হবে ভিন্নস্বরের চলচ্চিত্র।

আমি বিশ্বাস করি, চলচ্চিত্র সংসদগুলো যদি নিজেদের বিষয়ে মনোযোগি হয়, তাহলে চলচ্চিত্রশিক্ষা, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং চলচ্চিত্র বিতরণের বর্তমান কাঠামো আমূল বদলে যাবে। চলচ্চিত্র বিতরণের একটি পারস্পরিক নেটওয়ার্ক চলচ্চিত্রশিক্ষা বিনিময়ে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সাথে চলচ্চিত্র নির্মাণেও চলচ্চিত্র সংসদগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। যখন সামগ্রিক চলচ্চিত্রসংস্কৃতির এই আমূল পরিবর্তনের কাজ ক্রিয়াশীল হবে, তখন চলচ্চিত্র সংসদগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক হতে হবে আন্তরিক, ঈর্ষাহীন এবং একে অপরকে নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছেমুক্ত। মনে রাখতে হবে, কোনো অভিভাবক-ই প্রশ্নের উর্ধ্বে নন, কোনো পরামর্শই আমাদের সামগ্রিক স্বার্থের বিপরীতে নয়।

ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা ২০১৩-এর উদবোঢন
ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা ২০১৩-এর উদবোঢন

  ৫.  
প্রযুক্তির সহজতা আজ যে সম্ভাবনা আমাদের সামনে হাজির করেছে, তা অতীতে ছিল স্বপ্ন। আমি জানি, এই স্বপ্ন অতীতেও কেউ কেউ দেখেছেন। তখন তা বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। কিন্তু আজ একটি সাধারণ ক্যামেরা এবং মোটামুটি মানের একটি কম্পিউটারেই একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হতে পারে। সারাদেশের চলচ্চিত্র সংসদগুলোর একে অপরের সাথে পরিচয় এবং জানাশোনা বহুদিনের। আজ সময় এসেছে তা কাজে প্রয়োগ করার। আমার বিশ্বাস, চলচ্চিত্র মাধ্যম যতই নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বে, দেশে স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রকারের সংখ্যা ততই বাড়বে। এক একটি চলচ্চিত্র সংসদ হবে অনেক অনেক চলচ্চিত্রকারের জন্ম এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের আতুঁড়ঘর। ফলে স্বাধীন চলচ্চিত্রকার হয়ে উঠবেন সত্যিকারের স্বাধীন। এই স্বাধীনতায় হয়তো অর্থের জোয়ার থাকবে না, কিন্তু মর্যাদা থাকবে। চলচ্চিত্রে মানুষের কথা বলতে গিয়ে চলচ্চিত্রকারকে আর পাগলাগারদে যেতে হবে না– যেমনটি যেতে হয়েছিল ঋত্বিক ঘটককে। একজন শেখ নিয়ামত আলী আর অনেক অবহেলা আর দুঃখের মৃত্যুবরণ করবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রকারদের আতুঁরঘর ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদগুলো। কিন্তু সেই স্বাধীন নির্মাতারা বাস্তবিক কারণেই আর ‘স্বাধীন’ থাকতে পারেননি। আগামীদিনেও অনেক অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্রকার আসবেন চলচ্চিত্র সংসদ থেকে। বিশ্বাস করি আমাদের মগজের কারফিউ এবং হৃদয়ের ক্ষুদ্রতাকে উৎপাটন করে আমরা নতুন দিনের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের গতিমুখ নিয়ন্ত্রণ করতে পারব


তথ্যসূত্র :
১। রণেশ দাশগুপ্ত রচিত ফিল্ম সোসাইটির ভূমিকা রচনাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। মূল রচনাটি ইংরেজিতে রচিত। ভাষান্তর করেন মাসুদ আলী খান।

২। প্রবন্ধটি আমার প্রকাশিতব্য প্রথম চলচ্চিত্রগ্রন্থ চলচ্চিত্রের সাথে বোঝাপড়ায় সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থটি প্রকাশনা সংস্থা কথাপ্রকাশ প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
লেখক; চলচ্চিত্র নির্মাতা; চলচ্চিত্র সংগঠক। ঢাকা, বাংলাদেশ। সাধারণ সম্পাদক, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ। সভাপতি, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি। নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র : অনিবার্য [ পোশাক শ্রমিক আন্দোলন; ২০১১]; পথিকৃৎ [চলচ্চিত্রকার বাদল রহমানের জীবন ও কর্মভিত্তিক; ২০১২ (যৌথ নির্মাণ)]; সময়ের মুখ [জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের জীবন অবলম্বনে; ২০১৮]। সম্পাদিত ফিল্ম-ম্যাগাজিন : ম্যুভিয়ানা; চিত্ররূপ। সিনে-গ্রান্থ : চলচ্চিত্রপাঠ [সম্পাদনা]; চলচ্চিত্রের সাথে বোঝাপড়া। পরিকল্পক ও উৎসব পরিচালক : নতুন চলচ্চিত্র নতুন নির্মাতা চলচ্চিত্র উৎসব

১টি কমেন্ট

  1. […] চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার যোগসূত্রও তৈরি হয় টেলিভিশনে চাকরি থেকেই। তখন টেলিভিশনের আর্ট ডিজাইন সেকশনের চিফ ডিজাইনার ছিলেন ভাষাসৈনিক এমদাদ হোসেন। এমদাদ হোসেনের কাছে মুহম্মদ খসরু যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে মুহম্মদ খসরুর সাথে পরিচয় হয় বাদল রহমানের। সেটাও ১৯৬৮ সালেই। এই বিষয়ে তিনি বলেন, […]

মন্তব্য লিখুন