টেরেন্স মালিকের সিনেমার নির্বাচিত ১৫ শট

1
427

মূল • জেসিকা কিয়াং ।। অনুবাদ •  আশিকুর রহমান তানিম


‘দ্য ক্রাইটেরিওন কালেকশন’ তাদের অর্থযোগকে বেশ গুরুত্বসহ নিয়ে সম্প্রতি টেরেন্স মালিক [আমেরিকান  মাস্টার ফিল্মমেকার; ৩০ নভেম্বর ১৯৪৩-] পরিচালিত ২০০৫ সালের অনিন্দ্যসুন্দর মহাকাব্যিক সিনেমা দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড আবার মুক্তি দিয়েছে বলেই আমাদের এই কুৎসিত সময়ে মনে পড়েছে যে, পৃথিবীতে এখনো সৌন্দর্যের কিছুটা উপস্থিতি আছে! এটা সেইসব সিনেমার একটি, যেটি প্রথম দর্শনে খুব একটা মন যোগাতে পারেনি দর্শকদের এবং আমরাও তাই এই সিনেমা দ্বারা খুব একটা আলোড়িত হব না হয়তো; কিন্তু, এর দৃশ্যায়নের অসাধারণতার ব্যাপারে অস্বীকার করার কোনো জো নেই। সিনেমাটি ক্যামেরায় তুলেছিলেন মালিকের এই সময়ের সিনেমার নিত্যসঙ্গী এবং হ্যাটট্রিক অস্কারজয়ী এমানুয়েল লুবেজকি, কিন্তু পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যতীত এ রকম কাজ অসম্ভবই। টেরেন্স মালিকের ঝলমলে দৃশ্য, তার উদ্দেশ্যের স্থিতিশীলতা ও গভীরতা আর তার বিখ্যাত প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার ও নাটকীয় পরিবেশ– হতে পারে পরিপূর্ণ আমেরিকান কিংবা উত্তেজক, বিস্তৃত জঙ্গল এসব– কিন্তু আজ পর্যন্ত এই সিনেমাটি কিংবদন্তীতুল্যই!

তার সর্বশেষ ছবি নাইট অব কাপস অবশ্য দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড-এর চেয়েও কম সাড়া পেয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই-ই মনে হয়েছে যে, সুন্দরী বিষাদময় নারীদের সৌন্দর্যের বিশদ চিত্র আর লাতিন পুঁথিপাঠের মতো কন্ঠস্বরে বিশ্বাস, ঈশ্বর ও দেবতাদের ব্যাপারে অস্পষ্ট বিড়বিড়। কিন্তু, সত্যি বলতে, একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে বোঝা যাবে যে, এর নাটকীয়তা আরও ব্যাপক– এটি মালিকের প্রথম মৌলিক শহুরে ছবি। এটা হয়তো অন্যান্য নির্মাতার কাছে খুব বিশাল কিছু নয়, কিন্তু মালিক, যিনি প্রায়ই মানুষের চেয়ে প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে বেশি স্বীকৃত কিংবা অভিযুক্ত– তিনি শহরের উড়ালসেতু, স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের লট আর লস অ্যাঞ্জেলেসের রুফটপ পার্টিতে তরী ভাসিয়েছেন এবং এখানেও চিরাচরিত সুন্দর দৃশ্যায়নের মধ্য দিয়েই।

এসবের সবই প্রমাণ করে যে, মালিকের সিনেমার গুরূত্বটা ব্যাষ্টিক নয়, আলাদা আলাদা সুতোগুলো একসাথে জোড়া দিয়ে দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড-এর মত একটা ঠাস বুনোটের নকশী কাঁথার সৃষ্টিতেই এর মাহাত্ম্য নিহিত। এবং মালিকের সেরা চিত্রায়ণের লিস্টিটা হয়তো একটু অদ্ভুত ও অসামঞ্জস্যকর ঠেকতে পারে; কিন্তু এই চয়েসের একটা নিজস্ব ব্যাখ্যাও আছে। এগুলো একদম টেরেন্স মালিকিয়ান শট; হয়তো সবচেয়ে বিখ্যাত নয়, সবচেয়ে সুন্দরও নয় হয়তো– আপনি চেষ্টা করতে পারেন মালিকের সেরা শটগুলো বাছাই করতে গিয়ে পাগল বনে যেতে, তারপরও দেখবেন সেই লিস্ট গিয়ে ১০০০-এ থেমেছে। তার বদলে, এই ১৫টি দৃশ্যে সবকিছুরই মিশেল পাওয়া যাবে; এগুলো হয়তো শুনতে একটু খারাপ লাগলেও সেইসব শট– যা টেরেন্স মালিকের সিনেমার গল্পের চেয়েও বেশি ভূমিকা রেখেছে!

এ রকম পূঙ্খানুপুঙ্খ রূপে সিনেমার কাঁটাছেড়া করাটা আসলেই আনন্দজনক, আর খুব অল্প পরিচালকই আছেন যাদের কাজ এ রকম ময়নাতদন্তের সম্মুখীন হতে পারবে। কিন্তু, মালিকের সিনেমার উদ্দেশ্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এখানে আরও অনেক কিছু থেকে যায় বোঝার বাকি; বিষ্মিত হওয়ারও! এটা কোনো বস্তুবাদী কল্পনাই হোক, বাড়িঘর পোড়ানোর দৃশ্যই হোক, জলদ সাঁতারই হোক, মাটির উপরের ময়লা আবর্জনা কিংবা শস্যখেতে বাতাসের বয়ে চলাই হোক কিংবা তার ক্যারাক্টারের নৃত্যসুলভ চলাফেরাই হোক– মালিক আসলে একজন গল্প বলিয়ের চেয়ে গল্প দেখিয়েই বলা চলে। এই হচ্ছে মালিকের ১৫ টা দৃশ্যের বর্ণনা– যা আমাদের কিছু বলেঃ

নি র্বা চি ত  ১ ৫  শ ট

 ১ 
জ্বলন্ত ডলহাউজ । ব্যাডল্যান্ডস [১৯৭৩] । সিনেমাটোগ্রাফার : তাক ফুজিমোতো, স্টিভান লার্নার, ব্রায়ান প্রবিন
জ্বলন্ত ডলহাউস
জ্বলন্ত ডলহাউজব্যাডল্যান্ডস

মালিক বস্তুবাদী রূপকতা ব্যবহার করেন প্রায়ই– মাটি, বায়ু, আগুন এবং পানি– এসব তার সব ছবিতেই দেখা যায়। তার অভিষেক ও টিপিক্যাল মালিকিয়ান ছবি ব্যাডল্যান্ডস-এ এগুলোর ব্যবহার একটু পরপরই পরিলক্ষিত হয়। হলি’র [সিসি স্পাসেক অভিনীত] শয়নকক্ষে ধারণ করা ডলসহাউজের পুড়তে থাকার এই দৃশ্যেই বুঝা যায়, টেরেন্স মালিকের জন্য এই পুড়িয়ে ফেলার কেবল শুরু; তিনি আরও ঘর পুড়িয়ে ছাই করবেন ভবিষ্যতে, আক্ষরিকভাবেই কিংবা রূপক অর্থে। হলির প্রেমিক কিট [মার্টিন শিন অভিনীত] হলির বাবাকে [ওয়ারেন ওটস অভিনীত] হত্যার পর যখন খুনের চিহ্ন মুছে ফেলছিল এই দৃশ্যে, তখন সেই দৃশ্য আসলে নিষ্পাপ শৈশবের বলিকেই ফুটিয়ে তুলছিল। সেইসাথে অসামাজিক বিপ্লব ঘটাতে চাওয়া পালিয়ে বেড়ানো প্রেমিক জুটি হলি আর কিটের অস্থিরতাও; যদিও তারা যে প্রেমকে উপস্থাপন করেছে সিনেমায়, সেটা আয়রনিক্যালি বালখিল্যসুলভই।

 ২ 
সাঁতাররত কুকুররা । নাইট অব কাপস [২০১৫] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি
সাঁতাররত কুকুরেরা
সাঁতাররত কুকুরেরা নাইটস অব কাপস

যে জিনিসটার কারণে টেরেন্স মালিকের সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও হতাশাজনকভাবে পরিব্যপ্ত ছবিটা বুঝতে একটু কঠিন লাগে, ঠিক সেই কারণেই এই ছবিকে নির্দয়ভাবে বিশ্লেষণ করাটাও কঠিন; মনে হয় যেন অস্তিত্ববাদের অসম্ভব কষ্ট, পরজাগতিক চিন্তাভাবনার মধ্যেই নির্মিত সিনেমাটি। মালিকের এই সিনেমাটি আর সবচেয়ে খোলামেলা দর্শনের সিনেমাগুলোর মাঝে প্রধান পার্থক্যটি মনে হয় ‘কাপস’ শব্দটায় নিহিত। খুব সম্ভবত, মালিক নিজেও আর বিস্ময়টা টের পান না, এবং একমাত্র অনুতাপই তাকে জীবনের স্মৃতিগুলোর সাথে একটা সেতুবন্ধন তৈরি করে দেয়। এখানেও লুবেজকির ধারণকৃত মনোমুগ্ধকর রূপক দৃশ্যগুলো সেই অস্তিত্ত্ববাদের অগভীরতাই প্রকাশ করছে, ইন্ডাস্ট্রি পার্টি, স্ট্রিপ ক্লাব, অসমাপ্ত মুখাবয়ববিহীন মেয়ের দল। এই দৃশ্যে, যাই হোক, আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে নির্বোধ দৃশ্য [যেখানে পোশাক পরে কুকুরের দল সাঁতার কাটতে থাকে– টেনিস বল আর ভাসতে থাকা খেলনা ধরার জন্য] অন্যকিছু ঠিকই ইঙ্গিত করে, অনেকটা খেলাচ্ছলেই। এটা অনেকটা অপরীক্ষামূলকভাবে, অবচেতন মনেই আমাদের মনে একরাশ আনন্দের আর আশার বাতাস বইয়ে দেয়, যেখানে পুরো সিনেমাটিতেই একটা হতাশা আর অবসাদের আস্তরণ ছিল।

 ৩ 
আহত পাখি । দ্য থিন রেড লাইন [১৯৯৮] । সিনেমাটোগ্রাফার : জন টোল
 আহত পাখি । দ্য থিন রেড লাইন
আহত পাখিদ্য থিন রেড লাইন

স্পিলবার্গের এপিক ওয়্যার ড্রামা সেভিং প্রাইভেট রায়ান-এর সাথে একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমা অনেককেই হতাশ করেছে সেভিং প্রাইভেট রায়ান-এর একদম বিপরীত মেরুর সিনেমা হয়ে– যারা আরও ধুন্ধুমার অ্যাকশন আশা করেছিল। প্রকৃতপক্ষে, এই সিনেমাটি বিখ্যাত টেরেন্স মালিকের মানুষ অপেক্ষা প্রকৃতিপ্রেমের দর্শনের শুরুর নিদর্শন, ঘটনার চেয়ে বোধের নিদর্শন হিসেবে এতটাই যে, বারবার দেখা যায়। তবে এটাই বিস্ময়কর যে, অনেকটুকু রক্তপাত আর বিস্ফোরণের ছাপ আছে এতে। এমন না যে, এটাতে ধ্রুপদী যুদ্ধের কোনো বিষয়বস্তুর অভাব; তবে যুদ্ধের আবহটা টেরেন্স মালিকের সিনেমার মতো অদ্ভুতুরেই। একটা আহত পাখি, ব্যাকগ্রাউন্ডে আরও শত শত পাখি উড়ছে– এমন অবস্থায় ময়লায় পড়ে কাতরাচ্ছে– এটা খুব সম্ভবত খুব হিংস্র আর সাসপেন্সফুল দৃশ্য ছিল, যেখানে মানুষ বনাম প্রকৃতির খেলায় মানুষের সত্যিকারের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে নগ্নভাবে।

 ৪ 
ঘাসফড়িং ঝাঁকের উড়াউড়ি । ডেজ অব হ্যাভেন [১৯৭৮] । সিনেমাটোগ্রাফার : নিস্তোর আলমেন্দ্রোস; হ্যাস্কেল ওয়েক্সলার
ঘাসফড়িং ঝাঁকের উড়াউড়ি । ডেইজ অব হ্যাভেন
ঘাসফড়িং ঝাঁকের উড়াউড়িডেজ অব হ্যাভেন

কেবল মালিকের সিনেমারই উল্লেখযোগ্য শট না এটি, বরং সম্ভবত আমেরিকান সিনেমার চিত্রায়ণেই একটি দিকপালও। মালিকের প্রাকৃতিক আলোর উপরে মাত্রাতিরিক্ত অবসেশন আর ম্যাজিক-আওয়ার ফিল্মমেকিংয়ের সব কষ্ট সার্থক হয়ে যাবে এমন দৃশ্যের দৃশ্যায়নে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বিশালাকার নির্জন প্রাসাদ আর রিচার্ড গিয়ারের অলস নৌকার ঘাটে পড়ে থাকা– আর পুরোটা জুড়ে গোলাপি আলোর একটা স্বর্গীয় আবহ! ঘাসফড়িংয়ের দল [আসলে, বাদামের খোসা] অবশ্যই মালিকের পুরনো ঘরানার প্রকৃতির অবাধ্যতার যে দর্শন, তার বহিঃপ্রকাশ করছে; কিন্তু এখানে তার সাথে বর্ণণামূলকভাবে আক্ষরিক অসুস্থতা, অনেকটা গিয়ারের বর্ণনায় ধ্বংসের লীলারও একটা উদাহরণ বলা যায়।

 ৫ 
হাতের উপর শিশুর পা । দ্য ট্রি অব লাইফ [২০১১] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি; পিটার সিমোনাইট
হাতের উপর শিশুর পা । দ্য ট্রি অব লাইফ
হাতের উপর শিশুর পাদ্য ট্রি অব লাইফ

এই দৃশ্যটি এমনকি ছবির পোস্টারেও ব্যবহৃত হয়েছিল, তাই এটা আপাতদৃষ্টিতে একটু কঠিনই যে, এই ক্ষুদ্র শটটি কতটুকু আবেগ ধারণ করে আছে। কিন্তু লুবেজকির দৃষ্টিতে, সত্যি বলতে এটা একদম ‘হল অব ফেইম’-এ জায়গা করে নেওয়ার মতোই একটি শট। পিটার সিমোনাইট বলছিলেন, হাতের গোলাপি আভায় খুব নরম ও কোমল কিছু একটা আছে, যেটা অনেকটা প্রার্থনারত ভঙ্গিতে জড়ো হয়ে আছে, আর শিশুটির পায়ের ও পায়ের আঙ্গুলের খুব তীক্ষ্ণ চিত্রায়ণ নতুন একটা জীবনের অসহায়ত্ব ও পিতৃত্বের কিংবা মাতৃত্বের বিস্ময়ের একটা রুপক বলা যেতে পারে। আর এই দৃশ্যটাকে অনেকটা মায়ের গর্ভে সন্তানের গুঁটিসুটি মেরে থাকার একটা বিকল্পও ভাবা যেতে পারে, একটু অন্যভাবে!

 ৬ 
প্রথম দেখা । দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড [২০০৫] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি
প্রথম দেখা । দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড
প্রথম দেখাদ্য নিউ ওয়ার্ল্ড

মালিকের প্রায় প্রত্যেকটা সিনেমাই তার পরের সিনেমার একটা বীজ বপন করে দিয়ে যায় দর্শকের মনে। কিন্তু সম্ভবত এই সিনেমাকে ভালোবাসার চেয়ে প্রশংসা করার একটা কারণ এই যে, [কলিন ফ্যারেলের জন স্মিথ রূপে নায়কসুলভ হম্বিতম্বির জায়গাটুকু ছাড়া] দ্য থিন রেড লাইন পরবর্তী ছবি হিসেবে এটা অনেকভাবেই অগ্রজকে মনে করিয়ে দিয়েছে; তবে তা কেবল নতুন সিনেমাটোগ্রাফারের সাথে– এই যা! আলোচ্য দৃশ্যটি অনেকটা দ্য থিন রেড লাইন-এর জিম ক্যাভিজেলের নিজের মাতৃভূমি থেকে যুদ্ধজাহাজের আগমন দেখতে পাওয়ার দৃশ্যটির কথা মনে করিয়ে দেয়; কিন্তু পার্থক্যটা আবার আমাদের ভিন্নভাবে আঘাত করে। পকাহন্তাসের [কোরিয়ানকা কিল্কার অভিনীত] দৃষ্টিভঙ্গিতে বেশ উত্তেজনা ছড়াতে দর্শকমনে মালিক প্রায়ই তার ছবির নারীদের ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন; এখানেও যেমন সপ্তদশ শতকের নেটিভ আমেরিকান নারীকে আবেদনময়ী আর দর্শকের খুব কাছাকাছি করে উপস্থাপন করেছেন।

 ৭ 
সিঁড়ি আর দরজা । টু দ্য ওয়ান্ডার [২০১২] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি
সিঁড়ি আর দরজা । টু দ্য ওয়ান্ডার
সিঁড়ি আর দরজাটু দ্য ওয়ান্ডার

মালিককে যদি তার অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্যধারণের আর প্রাকৃতিক দৃশ্যের অসাধারণ উপস্থাপনার জন্য প্রাপ্য প্রশংসা করা হয়, তাহলে এটা বলাই যায় যে, কোরিওগ্রাফার হিসেবে তাকে ততটাই অবহেলা করা হয়। এবং সেটা ঠিক যথার্থ না। এটা খুব ভালোভাবে পরিলক্ষিত হয় যে, মালিক তার সিনেমায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রপ্সের মতোই ব্যবহার করেন, আর তাদের অবস্থানকে, একে অন্যের বিপরীতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোকে খুব গুরূত্ব দেন  : তাদেরকে তিনি পুতুলের মতোই খুব নিয়ন্ত্রিত উপায়ে চলাচল করান। এই উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলির সবচেয়ে পারফেক্ট এক্সিকিউশন বোধহয় এই দৃশ্যেই হয়েছে। নীল চরিত্রে বেন এফ্লেক আর ম্যারিনা চরিত্রে ওলগা কুরিলেনকো খুব আভিজাত্য ও শৈল্পিকভাবে এই দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। আলাদা আলাদা ফ্লোরে, কিন্তু নিজেদের সম্বন্ধে সচেতন হয়ে তারা একইদিকে কিন্তু আলাদা আলাদা রুমে হেঁটেছেন। এতটাই অনন্যসাধারণ এই দৃশ্যটি– যা পুরো ছবির বাকিটা সম্বন্ধে জাগিয়ে তোলে তুমুল আগ্রহ।

 ৮ 
করুণাময় ডায়নোসর । দ্য ট্রি অব লাইফ [২০১১] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি
করুণাময় ডায়নোসর । দ্য ট্রি অব লাইফ
করুণাময় ডায়নোসরদ্য ট্রি অব লাইফ

কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাম’ দি-অর বিজয়ী টেরেন্স মালিকের দ্য ট্রি অব লাইফ নিয়ে সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যু এই যে, ডায়নোসরের কম্পিউটার গ্রাফিক্সের দৃশ্যটা সন্দেহবাতিকদের জন্য সমালোচনার হীরার টুকরা হয়ে এসেছে। প্রাগৈতিহাসিকেরা এই প্রজাতির ইনভলভমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর সমালোচনা করেছেন এর দৃশ্যায়নের। যারা সিজি নিয়ে মাতামাতি করেন, তারা গ্রাফিক্সের কাজের গুণগত মান নিয়ে শোরগোল তুলেছেন। আর জীববিদ ও মনোবিদেরা এই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, একটা ডায়নোসর কি আদৌ দয়ামায়া দেখাতে পারে? এক সেকেন্ডের এ রকম দৃশ্য, যা নিয়ে এত আলোচনা, তা লিস্টে এমনিতেই ঢুকে পড়ে; কিন্তু, তাছাড়াও এই দৃশ্যটি বিস্ময়কর, এবং এটি খুব যত্ন করে করা। আপনার নৃতত্ত্ববিদ হওয়ার দরকার নেই এই দৃশ্যের সাথে নিজের সম্পর্ক তৈরি করতে; শুধু আগ্রহ আর মমতা নিয়ে তাকালেই দেখা যাবে– একটি ডায়নোসর অসুস্থ আরেকটি ডায়নোসরের দিকে ফিরে তাকিয়েছিল, করুণ চোখে।

 ৯ 
আগুনের সামনে মানুষের অবয়ব । ডেজ অব হ্যাভেন [১৯৭৮] । সিনেমাটোগ্রাফার : নিস্তোর আলমেন্দ্রোস; হ্যাস্কেল ওয়েক্সলার
আগুনের সামনে মানুষের অবয়ব । ডেইজ অব হ্যাভেন
আগুনের সামনে মানুষের অবয়বডেজ অব হ্যাভেন

হ্যাঁ, এই লিস্টে বারবার কেবলমাত্র চোখকে মুগ্ধ করে এ রকম সুন্দর দৃশ্যের চেয়ে বরং যে দৃশ্যগুলোর মধ্যে গল্প অন্তর্নিহিত, সেসব দৃশ্যকেই তুলে ধরা হচ্ছে। যেমন এই দৃশ্যের দিকেই তাকানো যাক– এই আগুন অনেকটা বিল [গিয়ার অভিনীত] ও অ্যাবিরের [অ্যাডামস অভিনীত] ঐ সময়কার ধ্বংসাত্মক আবেগের বহিঃপ্রকাশ করছে– যেটা সিনেমার শুরুর দিককার দৃশ্যগুলো, যেমন ফায়ারপ্লেসের পাশে খুব কোমল ও নিয়ন্ত্রিত প্রেমের দৃশ্যগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু, এইসব ভাবাভাবি বাদ দিয়েও শুধু দৃশ্যটির দিকে তাকিয়ে দেখুন! এটা একদম বিশুদ্ধ ও মনোমুগ্ধকর– দুটো অবয়ব ঝড়ের মতোই স্পষ্ট, এবং আসন্ন আগুন ইঙ্গিত করছে সকল রকম সভ্যতা ও পরিচ্ছন্নতার ভাঙনকে। এই দৃশ্যটার দিকে কেবল তাকিয়েই থাকুন!

 ≡

 ১০ 
মার্চরত কলাম । দ্য থিন রেড লাইন [১৯৯
৮] । সিনেমাটোগ্রাফার : জন টোল
মার্চরত কলাম । দ্য থিন রেড লাইন
মার্চরত কলামদ্য থিন রেড লাইন

মালিকের এমন ট্রেডমার্ক শটের অভাব নেই, যেখানে পাখি কিংবা পশু, এমনকি বৃক্ষ বা লতাপাতাকে নৃতাত্ত্বিক আগ্রহের জায়গা থেকে দেখাবোর চেষ্টা করা হয়েছে। ডেজ অব হ্যাভেন-এ ঘাসফড়িংয়ের ক্লোজ-আপ শটের কথাই ভাবুন, কিংবা দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড-এর পাতার উর্বরতার দৃশ্যটি অথবা গুয়াদালক্যানালের পাখি অথবা পশুদের প্রভাবের কথা! কিন্তু, এগুলো ছাড়াও মালিক কিছু কিছু দৃশ্যে মানুষকে বাদবাকি আর আট-দশটা সৃষ্টি হিসেবে দেখেছেন– এমনও আছে [যত যাই হোক, মালিক তো আর জার্মান ফিল্মমেকার ভের্নার হার্জোগ না!]। এই যুদ্ধের মাস্টারপিস সিনেমায় এমন একটি দৃশ্য আছে, যেখানে পাহাড় বাইতে থাকা সৈন্যদলকে দেখলে মনে হয়– একদল পিঁপড়া যেন সারি বেঁধে, বেয়ে বেয়ে পাহাড়ে উঠছে। এটা আসলে সৈন্যদল দেখানোর খুব পরিচিত কোনো পন্থা না– যেখানে একই রকম দেখতে শত শত রণক্লান্ত মানুষ লম্বা ঘাসের আড়ালে ঘাপটি মেরে আছে; তবে এটাই মালিকের দেখনদারি!

 ১১ 
পর্দার অন্তরালে বালক । দ্য ট্রি অব লাইফ [২০১১] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি
পর্দার অন্তরালে বালক । দ্য ট্রি অব লাইফ
পর্দার অন্তরালে বালকদ্য ট্রি অব লাইফ

আমি ঠিক নিশ্চিত নই, কেন এ রকম হয়েছে, বা হওয়া উচিত; তবে দ্য ট্রি অব লাইফ সিনেমাটিতে অসংখ্য শ্বাসরুদ্ধকর ও হৃদস্পন্দন-হরণকারী দৃশ্য থাকলেও, এই দৃশ্যটি আমার মনে সবচেয়ে গভীর দাগ কেটেছে। সত্যি বলতে এতটাই যে, মাঝে মধ্যে আমি এই সিনেমাকে দ্য কার্টেইনি মুভি বলে উল্লেখ করি! এই সিনেমায় আসলেই অনেকগুলো পর্দার দৃশ্য ছিলো, যেখানে বাতাসে পর্দা উড়তে থাকে, কিংবা অস্থির আঙ্গুলের ছোঁয়ায় নাচতে থাকে একইসঙ্গে সুন্দর কিন্তু বিষাদময় পর্দা। যে সময়ে এই দৃশ্যের আবর্তন ঘটে, আমরা তখনো জানি না– এই ছোট ছেলেটিই সুইমিংপুলে ডুবতে বসবে; কিন্তু তার মা [জেসিকা চ্যাস্টেইন অভিনীত] যখন খুব নরম করে নিজের আবছা ও অস্পষ্ট অবয়বে, মসলিনরূপী ছোঁয়া দেয়– তখনই আমাদের মনে একটা দুশ্চিন্তার উদ্রেক ঘটে। এই ইঙ্গিত ছাড়াও, শুধুমাত্র টেক্সচারাল চিত্রায়ণের কথা ভাবলেও একটি মিনি মাস্টারপিস।

 ১২ 
মার্টিন শিন ভার্সেস দ্য হরাইজন । ব্যাডল্যান্ডস [১৯৭৩] । সিনেমাটোগ্রাফার : তাক ফুজিমোতো; স্টিভেন লার্নার; ব্রায়ান প্রবিন
মার্টিন শিন ভার্সেস দ্য হরাইজন । ব্যাডল্যান্ডস
মার্টিন শিন ভার্সেস দ্য হরাইজনব্যাডল্যান্ডস

এই দৃশ্যটির তর্কযোগ্যভাবেই আরেকটি বিখ্যাত ভার্সন আছে, যেটা একটু বিশদ ও প্রশস্ত; যেখানে কিটকে [শিন অভিনীত] ফ্রেমে একদম ছোটরূপে দেখা যায়, আর সূর্যও আকাশে দেদীপ্যমান থাকে। কিন্তু, আমি এটা বেছে নিয়েছি; কার : এটাতে কিটকে সেই পোজে দেখা যায়– যা অংশত মনে করিয়ে দেয় যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার দৃশ্য, আবার অংশত মনে করায় ফেলনা কাকতাড়ুয়াকে– যেখানে সে হাত ছড়িয়ে দেয় বন্দুকের উপর দিয়ে, আর হাত দুটি দিগন্তের সঙ্গে থাকে সমরৈখিকভাবে [দিগন্ত মালিকের ছবিতে অবশ্যম্ভাবী অনুষঙ্গ]। আর, এ দৃশ্যে কিট যদিও আমাদের থেকে বিপরীত দিকে তাকানো থাকে, তবুও ফ্রেম জুড়ে তার উপস্থিতি ঠিকই টের পাওয়া যায়। মালিকের এই প্রথম ছবির সবচেয়ে ধ্রুপদী প্রচেষ্টা ছিলো এখানে; আর প্রকৃতি ও পরিবেশ তো বরাবরই গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার সিনেমায়। তবে মারাত্মক ব্যাপার হলো, সিনেমাটির দুই কুশীলব, বিশেষ করে জেমস ডিন-ধর্মী পোশাকে কিট চরিত্রটিকে অনেকটা পৌরাণিক মর্যাদায় নিয়ে যেতে সক্ষম!

 ১৩ 
ছেঁড়া পাতার ফাঁকে সূর্যালোক । দ্য  থিন রেড লাইন [১৯৯৮] । সিনেমাটোগ্রাফার : জন টোল
ছেঁড়া পাতার ফাঁকে সূর্যালোক । দ্য থিন রেড লাইন
ছেঁড়া পাতার ফাঁকে সূর্যালোকদ্য থিন রেড লাইন

মালিককে নিয়ে লিখতে গেলে একটু পরপরই দেখবেন, আপনার লেখায় ভাববাদী সব বিষয় চলে আসছে, বিমূর্ততা যেখানে সর্বত্র বিরাজমান। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মালিকের কাজ এতটাই বিমূর্ত যে, একে আক্ষরিক উপায়ে বর্ণনাই করা সম্ভব না। এই দৃশ্যের জ্যামিতিক সৌষ্ঠবের কথা ভাবা যাক : যেখানে সূর্য খুব তীক্ষ্ণ ও সূক্ষ্ম রশ্মির মতো আলো বিকিরণ করছে, পোকায় খাওয়া পাতার ফাঁক দিয়ে– এটা কেবলই অনুভবের বিষয়। এই দৃশ্য ভাষায় অবর্ণনীয়। কিন্তু, বৃহৎ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে এর বিস্তৃত মানেও আছে অন্তত সিনেমার একজন সৈন্যের কাছে, যে অনুভব করে, হয়তো-বা পৃথিবীর সব দৃশ্যই সূর্যরশ্মির মতো প্রতিমুহূর্তে ধাবিত হয়ে, পরিণত হচ্ছে অতীতে। কেননা, এই স্মৃতিটাই আমরা পরে যখন জিম ক্যাভিয়েজেল মারা যায়, মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ স্মৃতি হিসেবে দেখি। এটা মালিকের নিষ্ঠুর প্যারাডক্সের একটি। এখানে সৌন্দর্য্য সর্বত্রই বিদ্যমান; অথচ, সেগুলো শুধু তখনই সুন্দর– যখন সেগুলো অবলোকন করার মতো বেঁচে থাকে কেউ।

 ১৪ 
ইংল্যান্ডে পকাহোন্তাস । দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড [২০০৫] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি
ইংল্যান্ডে পকাহোন্তাস । দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড
ইংল্যান্ডে পকাহোন্তাসদ্য নিউ ওয়ার্ল্ড

এই একটি দৃশ্যে এত গল্প বলা হয়েছে, যেখানে পকাহোন্তাসের চাচা তাকে ছেড়ে যায় মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য; অথচ পকাহোন্তা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটা বৈপরীত্যের একটি প্রকৃষ্ট পাঠ বলা যায়, এমনকি দৃশ্যের ভেতরেও। তার নতুন অবলম্বন করা পোশাক, চুলের ধাঁচ ও ব্যবহার– এ সব তার পশুত্ব লুকিয়ে রাখার আলখাল্লা বা পনিটেইলের সাথে একদমই বেমানান; একদম দুই মেরুর ব্যাপারস্যাপার। অনেকটা যেন সে আমাদের থেকে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে; অথচ আমাদের দেখছে ঠিকই। আমাদের কাছে আসছে; অথচ, আমাদের থেকে দূরে চলে যাচ্ছে ক্রমশঃ। দৃশ্যরেখা ও অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার জ্যামিতিক বিন্দুসমূহ খুবই তীক্ষ্ণ হয়ে আছে পুরো কম্পোজিশনেই, এমনকি সিনেমার শুরুর দিকেও : যখন সে শাপদসঙ্কুল একটা জঙ্গলের অভিবাসী ছিল, তখনকার হ্যান্ড-হেল্ড ক্যামেরা-ওয়ার্কের দৃশ্যের সাথে, পরবর্তী সময়ে সে যখন গ্রানাইট বিছানো পথে অভিজাত ভঙ্গিতে ছেঁটে রাখা গাছপালার নিচ দিয়ে হেঁটে যায়– দৃশ্যতই বৈপরীত্যটা বোঝা যায়।

 ≡

 ১৫ 
লবণের ফ্ল্যাট । দ্য ট্রি অব লাইফ [২০১১] । সিনেমাটোগ্রাফার : এমানুয়েল লুবেজকি
লবণের ফ্ল্যাট । দ্য ট্রি অব লাইফ
লবণের ফ্ল্যাটদ্য ট্রি অব লাইফ

সিনেমার চলমান গল্পকে শুধুমাত্র স্থিরচিত্র আর কতটুকুই বা ফুটিয়ে তুলতে পারে? যেভাবে আলোকরশ্মি ফ্রেমের মাঝে খেলা করে, কিংবা যেভাবে সময়, প্রত্যেকটা ন্যানোসেকেন্ড মিশে থাকে স্থির না হয়ে– তা তো স্থিরচিত্র প্রকাশে অক্ষম। তাই জেসিকা চ্যাস্টেইনের এই বিখ্যাত দৃশ্যটি সুন্দরভাবে প্রতিসমও, যেখানে উটাহতে অবস্থিত বনভিল সল্ট ফ্ল্যাটগুলোকে এক নজরেই কেবল দেখানো হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে আমাদের কাছে কিছুটা স্বপ্নপূরণ, কিছুটা হয়তো স্বপ্নও, অথবা কিছুটা জ্যাকের [শন পেন অভিনীত] দার্শনিক ভঙ্গুরতার প্রতিমূর্তি বলে মনে হয়। কালার টোনের বিচারে এটা নিখুঁতভাবে স্বর্গীয় যেন। [আর, এই দৃশ্যের ঠিক একটু আগেই জ্যাক তার মার পদতল স্পর্শ করে ঠিক বাইবেলের ইল্যুশনের মতোই]। কিন্তু, গতিশীল ক্যামেরা মাটির সঙ্গে সঙ্গে চলন্ত অবস্থায় একটা অন্তর্মুখী অনুভূতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়; প্রতীকী কিছুর চেয়ে যেন ক্যামেরাটি তার মায়ের স্মৃতির মতো হঠাৎ মুক্ত হয়ে অনুতাপ ও অনুশোচনায় ভুগে দিগন্তের দিকে ছুটছে হারিয়ে যেতে…।


জেসিকা কিয়াং । সিনে-সমালোচক
সূত্র : দ্য প্লেলিস্ট । অনলাইন সিনে-জার্নাল । ৩ আগস্ট ২০১৬
Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
সিনে-প্রেমী; শিক্ষার্থী। ঢাকা, বাংলাদেশ

১টি কমেন্ট

  1. দারুন লেখা হয়েছে।এরকম একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ।
    “মাসান” সিনেমার পরিচালক এর ব্লগ এ উনি “দি ট্রি অফ লাইফ” সিনেমার উপর দারুন একটা লেখা লিখেছেন।
    লেখাটিকে অনুবাদ করার জন্য অনুরোধ রইল।
    https://neerajghaywan.wordpress.com/2011/07/30/the-tree-of-life-movie-review-memory-is-fractured/#comment-95

মন্তব্য লিখুন