আব্বাস কিয়ারোস্তামি : কাব্যিক সিনেমার রোডমাস্টার/ রুদ্র আরিফ

6
402
লিখেছেন । রুদ্র আরিফ

সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুর পর মুষড়ে পড়েছিলাম আমি। তবে কিয়ারোস্তামির সিনেমা দেখার পর স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তার [সত্যজিতের] জায়গায় একেবারেই সঠিক লোকটিকে পাঠিয়েছেন বলে।
আকিরা কুরোসাওয়া। ফিল্মমেকার, জাপান [১৯১০-১৯৯৮]

দৃশ্য । ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি
দৃশ্য । ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি

হাতে রুটি নিয়ে বাড়ির পথ ধরেছিল ছেলেটা। বয়স কত হবে? পাঁচ-ছয়; বা, সাত। কিন্তু পথ আগলে ধরল একটা নচ্ছাড় কুকুর। ক্ষুধার্ত খুব। আগুনমাখা রোদে কুকুরের ঘেউ-ঘেউ। ঘাম আর আতঙ্কে ছেলেটার দিশেহারা দশা। এ পথে এগোয় তো, পথ আগলে ধরে কুকুর; ও পথে এগোয় তো, কুকুরও পায়ে পায়ে। এ গলি, ও গলি– কোনো গলি ধরেই বাড়ি ফিরতে পারে না ছেলেটা। ফিরতে দেয় না কুকুর। অবশেষে, এক চিলতে রুটি ছিড়ে, ছুড়ে দেয় সে। খাবার গ্রহণে কুকুরকে ব্যস্ত রেখে, বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে তার। কাজ হয় কি? হোক বা না- হোক, এই যে অলিগলি ঘোরা, এই যে ঘুরতে ঘুরতে ‘বাড়ি’ ফেরার ইচ্ছে, আর চলতি পথ আগলে ধরা ক্ষুধার্ত প্রাণের আকুতি কিংবা হুঙ্কারের সঙ্গে খানিকটা বোঝাপড়া করে জীবনের শ্বাশত অর্থময়তা খুঁজে নেওয়া– এই জার্নির এ ছিল কেবলই শুরু। ১৯৭০ সালে নির্মিত দ্য ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি [Noon va Koucheh] নামের এই ১০ মিনিটের সাদাকালো শর্টফিল্ম থেকে শুরু করে, ২০১২ সালে নির্মিত লাইক সামওয়ান ইন লাভ নামের ১০৯ মিনিটের রঙিন ফিচার ফিল্মটি পর্যন্ত এ জার্নি অব্যাহত থাকে তার ফিল্মে; কিংবা বলা ভালো, ফিল্মের মুখোশে, ইমেজের ভাষায় লিখে রেখে যাওয়া অনবদ্য, পবিত্র, কাব্যিক জীবনবোধে। এমন আত্মিক, ধ্যানি, ঋদ্ধ অথচ স্বতন্ত্রধারার ফিল্মমেকার, সিনেমার শতাব্দি পেরোনো ইতিহাসে খুবই দুর্লভ। তিনি আব্বাস কিয়ারোস্তামি। ইরানি ফিল্মমেকার। আরও পরিচয়– কবি, ফটোগ্রাফার, পেইন্টার, ইলাস্ট্রেটর, গ্রাফিক ডিজাইনার, স্ক্রিনরাইটার, ফিল্ম এডিটর, আর্ট ডিরেক্টর ও প্রডিউসার। গত ৪ জুলাই ২০১৬, ফ্রান্সের প্যারিসে, ক্যান্সারে ভুগে প্রয়াত হয়েছেন এই ফিল্মমাস্টার। তার আগে, প্রথম ও শেষটির মাঝখানে নির্মাণ করে গেছেন– ব্রেকটাইম [Zang-e Tafrih; ১৯৭২], দ্য এক্সপেরিয়েন্স [Tajrobeh; ১৯৭৩], দ্য ট্রাভেলার[Mosafer]; সো ক্যান আই [Man ham Mitounam; ১৯৭৪], টু সলিউশনস ফর ওয়ান প্রবলেম [Do Rahehal Baraye yek Masaleh; ১৯৭৫], কালারস [Rang-ha]; অ্যা ওয়েডিং স্যুট [Lebasi Baraye Arossi; ১৯৭৬], হাউ টু মেক ইউজ অব লেইজার টাইম : পেইন্টিং [Az Oghat-e Faraghat-e Khod Chegouneh Estefadeh Konim: naghashi]; দ্য রিপোর্ট [Gozaresh]; ট্রিবিউট টু দ্য টিচার্স [Bozorgdasht-e Moalemha; ১৯৭৭], সলিউশন [Rah-e Hal; ১৯৭৮], ফার্স্ট কেস, সেকেন্ড কেস [Ghazieh-e Shekl-e Aval, Ghazieh-e Shekl-e Dovom; ১৯৭৯], টুথ্যাক [Dandan Dard; ১৯৮০], অর্ডারলি অর ডিসঅর্ডারলি [Be Tartib Ya Bedun-e Tartib; ১৯৮১], দ্য কোরাস [Hamsarayan; ১৯৮২], ফেলো সিটিজেন [Hamshahri; ১৯৮৩], ফার্স্ট গ্রেডারস [Avaliha; ১৯৮৪], হয়্যার ইজ দ্য ফ্রেন্ড’স হোম [Khane-ye doust kodjast?; ১৯৮৭], হোমওয়ার্ক [Mashgh-e Shab; ১৯৮৯], ক্লোজ-আপ [Nema-ye Nazdik; ১৯৯০], লাইফ, অ্যান্ড নাথিং মোর… ওরফে, অ্যান্ড লাইফ গৌজ বাই [endegi va digar hich; ১৯৯১], থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ [Zire darakhatan zeyton; ১৯৯৪], ডিনার ফর ওয়ান [১৯৯৬], দ্য বার্থ অব লাইট; টেস্ট অব চেরি [Ta’m-e gilass; ১৯৯৭], দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস [Bād mā rā khāhad bord; ১৯৯৯], এবিসি আফ্রিকা [২০০১], টেন [Dah; ২০০২], ফাইভ ওরফে ফাইভ ডেডিকেটেড টু ওজু; টেন মিনিটস ওল্ডার [Panj; ২০০৩], ১০ অন টেন [২০০৪], দ্য রোডস অব কিয়ারোস্তামি; টিকেটস [২০০৫], কোজাস্ত জায়ে রেসিদান; হয়্যার ইজ মাই রোমিও? [২০০৭], শিরিন [২০০৮] ও সার্টিফাইড কপি [Copie conforme; ২০১০] শিরোনামের শর্টফিল্ম, ফিচার ফিল্ম ও ডকুফিল্মগুলো।

শৈশবে কিয়ারোস্তামি
শৈশবে কিয়ারোস্তামি

আব্বাস কিয়ারোস্তামির জন্ম ১৯৪০ সালের ২২ জুন, ইরানের তেহরানের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা আহমাদ কিয়ারোস্তামি ছিলেন দেয়ালচিত্রী। শৈশবেই পেইন্টার ও ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন ডানা মেলে আব্বাসের মনে। কৈশোরের শেষভাগে, একটি আর্ট কম্পিটিশনে বিজয়ী হওয়ার পর, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন পেইন্টিং ও গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে। ১৯৭০ দশকে ক্যারিয়ার শুরু করেন কমার্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে। পোস্টার ডিজাইনের পাশাপাশি, সিনেমার ক্রেডিট লাইন ও শিশুতোষ গ্রন্থের অলংকরণের অভিজ্ঞতা হতে থাকে তার। এরমধ্যে বিজ্ঞাপন নির্মাণেও পাকিয়ে নেন হাত। এই ফাঁকে, নিজ দেশের তরুণ নির্মাতা দারিউস মেহরজুইয়ের দ্য কাউ [Gav;১৯৬৯] সিনেমাটি ভীষণ সাড়া ফেলে দিলে, ইরানিয়ান নিউ ওয়েভ নামের কিংবদন্তিতুল্য ফিল্ম মুভমেন্টের প্রকৃত সূচনা ঘটে যায়। বলা বাহুল্য, এই মুভমেন্টের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত-প্রশংসিত ও অধিকাংশের বিবেচনায় শ্রেষ্ঠতম প্রতিনিধি আব্বাস কিয়ারোস্তামি তখন নিয়োজিত হন তেহরানের ইন্টেলেকচুয়াল ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ং অ্যাডাল্টস-এ ফিল্মমেকিং ডিপার্টমেন্ট চালু করার কাজে। এখান থেকেই নিজের প্রথমদিকের শিশু-কেন্দ্রিক শর্টফিল্মগুলো নির্মাণ করেন তিনি।

ক্লোজ-আপ-এর দৃশ্যে আসল ও নকল মাখমালবাফ
ক্লোজ-আপ-এর দৃশ্যে আসল ও নকল মাখমালবাফ

ফিল্মমেকার হিসেবে কিয়ারোস্তামিকে প্রথম আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয় ক্লোজ-আপ। নিজেকে আরেক ইরানিয়ান নিউ ওয়েভ ফিল্মমেকার মোহসেন মাখমালবাফ পরিচয় দিয়ে, সিনেমার শুটিংয়ের কথা বলে, একটি সংস্কৃতিমনা সম্ভ্রান্ত পরিবারে ঢুকে পড়া এবং কিছুদিন পর ধরা পড়ে কারাবাসে যাওয়া হোসেইন সাবজিয়ান নামের এক তরুণকে ঘিরে, বাস্তব ঘটনাকেই নিজ নিজ চরিত্রে বাস্তব মানুষদের অভিনয়ে নিয়ে পুনঃসৃষ্টি করে নির্মিত হয় এই মাস্টারপিস ডকুফিকশন। ২০১২ সালে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের মাসিক সিনে-ম্যাগাজিন সাইট অ্যান্ড সাউন্ড পরিচালিত জরিপে, সমালোচকদের ভোটে সর্বকালের সেরা ৫০টি সিনেমার তালিকায় জায়গা পায় এটি। অন্যদিকে, পুরস্কার ও অনেক সমালোচকের বিবেচনায় তার সেরা ফিল্ম– টেস্ট অব চেরি। ১৯৯৭ সালের কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সর্বোচ্চ পদক পাম দি’অর জিতে নেওয়া এই ফিল্মটি আধ্যাত্মিকতা ও কাব্যিক সিনেমার ইতিহাসের একটি মাস্টারপিস। মরে যেতে চায়– এমন একজন মাঝবয়সী লোক তেহরানের নানা প্রান্তে গাড়ি চালিয়ে ঘুরে বেড়ায় এমন কাউকে খুঁজে পেতে, যে টাকার বিনিময়ে তার এই ‘আকাঙ্ক্ষা’কে ‘চরিতার্থ’ করে দেবে! শেষ পর্যন্ত সে সফল হয় কিনা– তা স্পষ্ট করা না হলেও, তার এই জার্নিতে, দক্ষ জাদুকরের মতো, জীবনের মরমী তাৎপর্যের নানা পরত দর্শকের সামনে একেকটি মৌলিক পাঠ্যবস্তু হিসেবে জাহির করেছেন কিয়ারোস্তামি। তুমুল আলোচিত ও একইসঙ্গে সমালোচিত এই দ্ব্যর্থক সিনেমার, আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়বস্তু সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে, এই জীবনদ্রষ্টা ফিল্মমেকারের ভাষ্য ছিল– মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষার চেয়ে জীবনের আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি সুতীব্র

দৃশ্য । টেস্ট অব চেরি
দৃশ্য । টেস্ট অব চেরি

বস্তুতপক্ষে, জীবন ও মৃত্যু হলো কিয়ারোস্তামির সিনেযাত্রার একটি পুনরাবৃত্ত ও বৈশিষ্ট্যমূলক থিম। ১৯৯০ সালে ইরানে প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারানোর পরপরই, নিজের হয়্যার ইজ দ্য ফ্রেন্ড’র হোম? ফিল্মটির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অবস্থা জানতে বেরিয়ে পরেন এই ফিল্মমেকার। বিধ্বস্ত দেশটির নানা প্রান্ত চষে বেড়িয়ে, জীবনের জয়গান গাইতেই যেন ডকুমেন্টারি স্টাইলে নির্মাণ করেন সেমি-ফিকশনাল ফিল্ম লাইফ, অ্যান্ড নাথিং মোর…। অন্যদিকে, দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস হলো জীবন ও মৃত্যু, আধুনিকতা ও প্রথা, স্থানীয় ও বৈশ্বিক– এমনতর ইস্যুগুলোর একটি কাব্যিক রূপায়ন।

যদিও সত্যজিৎ রায়, ভিত্তোরিও দে সিকা, এরিক রোমের, জাক তাতি প্রমুখ ফিল্মমেকারের ফিল্মি-স্টাইলের সঙ্গে কিয়ারোস্তামির তুলনা টানেন অনেকেই; তবে ঘটনা হলো, তিনি নিজের আবিষ্কৃত একটি স্বতন্ত্র স্টাইলেই নির্মাণ করে গেছেন সব সিনেমা। এটিকে আদর করে অনেকেই কিয়ারোস্তামিয়ান স্টাইল বলে ডাকে। আর তার নির্মাণ শৈলীতে আরও দেখা মেলে– ফিকশন ও নন-ফিকশনের দুর্দান্ত সংমিশ্রণ [ক্লোজ-আপ], কবিতা ও চিত্রকল্পের আলিঙ্গনে সিনেমার ল্যান্ডস্কেপে কাব্যিক চিত্রকল্পের সমাহার [হ্যয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ড’স হোম?] এবং আধ্যাত্মিকতার ধ্যানমগ্নতা [দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস] ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের।

দৃশ্য । থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ
দৃশ্য । থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ

অন্যদিকে, যন্ত্রপ্রধান এ সময়ে, কিয়ারোস্তামির মতো ভিজ্যুয়াল ও অডিও টেকনিকের ধ্যানী ব্যবহার তুখোড় মুন্সিয়ানার সঙ্গে আর খুব কম ফিল্মমেকারকেই করতে দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে লাইফ, অ্যান্ড নাথিং মোর… ও থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ ফিল্ম দুটির শেষদৃশ্যের কথা ধরা যেতে পারে। দুটি ক্ষেত্রেই এমন অবিশ্বাস্যরকমের দুর্দান্ত লং শটের ব্যবহার তিনি করেছেন, যার প্রভাবে চরিত্রগুলোর ভাগ্যে আসলে কী ঘটল– সেটি এতটা দূর থেকে দেখে, দর্শকদের পক্ষে ঠিকঠাক অনুধাবন করা মোটেও সম্ভব নয়; বরং দর্শক কেবল পারে, নিজের মতো করে ভেবে নিতে।

সিনেমার ইতিহাসে কিয়ারোস্তামি শুধু একজন ফিল্মমেকারই নন; কিয়ারোস্তামি একটা পবিত্র আবেগের নাম, একটা বিশ্বাস, একটা দর্শন, একটা আদর্শ, জীবনের নানা অলিগলি পেরিয়ে একটা সুবিস্তীর্ণ সড়ক– যার চারপাশে থরো থরো ফুটে রয়েছে অজস্র বুনোফুল, যে ফুলগুলো অবিরাম জীবনের শ্বাশত ঘ্রাণ ছড়িয়ে বেড়ায়।


প্রথম প্রকাশ : নন্দন। সমকাল। ২১ জুলাই ২০১৬
Print Friendly
শেয়ার
সম্পাদক : ফিল্মফ্রি । ঢাকা, বাংলাদেশ।। ফিল্মবুক [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [২ খণ্ড] ।। কাব্যগ্রন্থ : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ

6 মন্তব্যগুলো

  1. […] শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা আব্বাস কিয়ারোস্তামি ছিলেন চলচ্চিত্রে বিরাম ও লঘুকরণের […]

  2. […] এর মধ্যে ছিলেন রাউল রুইস, ক্যাথরিন ও আব্বাস কিয়ারোস্তামি। আর ব্রিটিশ ফিল্মমেকার জুলিয়েন […]

  3. […] হাজির রয়েছে, তাদের অন্যতম একজন আব্বাস কিয়ারোস্তামি। [সদ্য প্রয়াত] তিনি শুধু ইরানেরই […]

  4. […] প্রথম দিকে বেশি টানত! ধরো, অাব্বাস কিয়োরোস্তামির কর্কটে প্রস্থান অধ্যায় নতুন একটি […]

মন্তব্য লিখুন