সিনেমার বাংলাদেশ : সময়, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা/ প্রসূন রহমান

2
282

লিখেছেন । প্রসূন রহমান

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বিনোদনের উৎসের অভাব নেই। কিন্তু নানারকম উৎস থেকে পাওয়া এইসব বিনোদনের বেশির ভাগটাই ভিন্ন সংস্কৃতির। দেশীয় যৎসামান্য যা আছে তাতে নিজস্ব কৃষ্টির শৈল্পিক ও মননশীল প্রকাশ খুব সামান্যই। ফলে সামষ্টিক মানস যেমন বিক্ষিপ্ত, তেমনি বিক্ষিপ্ত আমাদের ব্যক্তিগত রুচি, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা।

বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে সৃজনশীল চলচ্চিত্র নিয়ে খুব বেশী কথা বলা যায়– এমন সুযোগ নেই। যে কারণে একটা ইন্ডাস্ট্রির বয়স ৫০ বছর হয়ে যাওয়ার পরও বিশ্ব মানচিত্রে তার জায়গাও নেই। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বলে আলাদা কোনো পরিচয় আজো তৈরি হয়নি। কিন্তু চেষ্টাটা অবশ্যই চলছে। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে

এই না হওয়ার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখলে অনেকগুলো বিষয় একসাথে সামনে চলে আসে। এর প্রধান কারণটি অবকাঠামোর ক্রমঅবনতি। ভঙ্গুর পরিবেশনা ও প্রদর্শন ব্যবস্থা। নির্মাণ প্রযুক্তির সাথে প্রদর্শন ব্যবস্থার একই সাথে পরিবর্তন ও আধুনিকিকরণ না হওয়ায় সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে একের পর এক। ঢাকা থেকে ৩৫ মিলিমিটারে নির্মিত সর্বশেষ চলচ্চিত্রটির নাম বোধহয়– বৃহন্নলা। গত ৩ বছরে আর কোনো চলচ্চিত্র সেলুলয়েডে নির্মিত হয়েছে বলে শোনা যায়নি। ডিজিটাল প্রক্রিয়াকে নির্মাতারা আয়ত্ত করবার চেষ্টা করলেও সে অনুযায়ী প্রেক্ষাগৃহ ডিজিটালাইজ না হওয়ায় সংখ্যাটা ক্রমশ কমছে।

চাপা ডাঙার বউ । ফিল্মমেকার : রাজ্জাক
চাপা ডাঙার বউ

এ বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যে ৪টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে, তার সবগুলোই অন্যান্য বছরের তুলনায় দর্শকের মাঝে বেশি আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছে। বিষয়টি আশাপ্রদ। তবে এর একটিও জীবন ঘনিষ্ট চলচ্চিত্র নয়। একটি দেশের প্রধান উৎসব উপলক্ষে একটিও বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র থাকবে না– এই সত্য আমাদের অনেকদিন থেকেই মেনে নিতে হয়েছে। এই আমরাই কোনো এক ঈদ উপলক্ষে দল বেঁধে সাহিত্যনির্ভর চাপা ডাঙ্গার বউ দেখছিলাম বলে মনে পড়ে। তারপর অবশ্য সময় গড়িয়েছে অনেক। অশ্লীলতার জোয়ারে রুচিবান মধ্যবিত্ত চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল বাংলা সিনেমা থেকে। প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশও ক্রমশ হতে থাকে নিম্নগামী। তখন পত্রিকার পাতায় বিদ্রুপ রচনা লেখা হতো সিনেমা নিয়ে, বলা হতো- ‘ছিঃনেমা’। কিন্তু এখন মধ্যবিত্ত আবার সিনেমা হলে আসছে। আসতে চাইছে। কিন্তু আমরা সবখানে সে পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারছি না।

দেশের ৬০০ থেকে ১০০০ আসনের বড় সিনেমা হলগুলো দর্শকের অভাবে একের পর এক বন্ধ হয়েছে; বাকিগুলোও ধুঁকতে ধুঁকতে বন্ধ হয়ে যাবে– এমনটা সহজেই ধারণা করা যায়। কারণ, সময়টা মাল্টিপ্লেক্সের।এটি সময়ের বাস্তবতা। ফলে এই তথ্যটি সকলের জানা থাকার পরেও যখন কোনো যথাযথ উদ্যোগ বা অগ্রগতি থাকে না, তখন বুঝতে হবে, পরিস্থিতি সংকটময়। বুঝতে হবে– দেশীয় চলচ্চিত্র সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা নিয়ে সামগ্রিক এবং সার্বজনীন কোনো ভাবনা আমাদের নেই।

হালকা বিনোদনে ঠাসা পাঁড় বাণিজ্যিক সিনেমা মুক্তি পেলেও ১০০০ আসনের সিঙ্গেল স্ক্রিন আর ভরবার কোনো কারণ নেই। ঈদ-পার্বনে ভাসা ভাসা খবর শোনা যাবে কেবল– চলছে, চলিতেছে, চলবে। তারপর আবার তথৈবচ। শেষ পর্যন্ত কটা ছবি লগ্নী তুলে আনতে পারছে– সে খবর সত্যি করে কেউ বলতে পারবে না।

এখন আবার যৌথ প্রযোজনার ছবি হচ্ছে। এর সম্ভাবনার দিকগুলো কাজে লাগাতে হবে। সারা পৃথিবীতেই যৌথ প্রযোজনায় ছবি হচ্ছে। তবে যৌথ প্রযোজনা শুধুমাত্র কোলকাতার ইন্ডাস্ট্রির সাথে নয়। পৃথিবীর সব ইন্ডাস্ট্রির সাথেই করার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে একসাথে একাধিক দেশের সাথে। যৌথ প্রযোজনার হাত ধরেই চলচ্চিত্রকে আর্ন্তজাতিক বাজারে নিয়ে যেতে হয়। তখন ছবির মান যেমন উন্নত হয়, তেমনি বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও প্রসারিত হয়। আর যৌথ প্রযোজনা মানেই এক দেশের নায়ক আর আরেক দেশের নায়িকাও নয়। এর বাইরে আরও অনেক বৈশিষ্ট্য আছে, নীতিমালা আছে, যার সম্ভাবনার দিকটিই বেশি। বাস্তবধর্মী গল্প নিয়ে আরো গঠনমূলক ভাবেই এই সম্ভাবনাটিকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

একাত্তরের যীশু । নাসির উদ্দিন ইউসুফ
একাত্তরের যীশুনাসির উদ্দিন ইউসুফ

এই আমরাই একসময় সিনেমা হলে গিয়ে নানারকমের সিনেমা দেখেছি, যার অনেক গল্প ছিল নিতান্তই পারিবারিক। যেগুলো বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র হিসেবে বাণিজ্যিক ভাবেই মুক্তি পেতো। আর এখন উদ্ভট গল্পের অস্থির চিত্রায়ন, উচ্চকিত অভিনয়, উৎকট নাচসমৃদ্ধ আইটেম গান আর পোস্টারে বন্দুক পিস্তল, হাতে হিংস্র ভঙ্গিতে নায়ক আর ভিলেন দাঁড়িয়ে থাকলেই সেটি ‘বাণিজ্যিক সিনেমা’ হবে– এমন একটি ধারনা প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। জীবনঘনিষ্ঠ কিছু নির্মিত হলেই অনেকে বিজ্ঞ সমালোচক হয়ে ওঠেন- সন্দেহ করেন, কাজটা ‘বড়-টেলিফিল্ম’ হয়ে গেলো কিনা! একই দর্শক যখন পার্শ্ববর্তী দেশের ‘সি’ গ্রেডের ‘অফ-ট্র্যাক’ সিনেমা পাইরেটেড ডিভিডিতে অথবা, অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে দেখেন, তখন অবশ্য তাদের সেটি মনে হয় না। ইউটিউবেও সেসব তারা সিনেমা মনে করেই দেখেন।

দেশ-বিদেশের এতো ছবি দেখার পরও আমাদের মূলধারার পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক, প্রদর্শক, দর্শক এবং শিল্পীদের একটা বিরাট অংশ তাই মনে করেন। দেশ-বিদেশের এতো ছবি দেখার পরও তারা কপি করার জন্যে বেছে নেন কেবল- দক্ষিণ ভারতের সিনেমা।

বলা প্রয়োজন, জীবনের খুব ছোট্ট অনুসঙ্গ নিয়েও চলচ্চিত্র হতে পারে।চলচ্চিত্র যে কোনো দৈর্ঘ্যের হতে পারে। দেশের বাইরের সেরকম অনেক চলচ্চিত্র আমরা সবাই দেখে থাকি। কিন্তু সেসব দেশে যেহেতু টেলিভিশনে নাটক, টেলিফিল্ম, টেলিম্যুভি বা টেলিছবি নামে নানা দৈর্ঘ্যের কাহিনীচিত্র নেই, তাই সেসব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না। রূপকথার গল্প কিংবা সায়েন্স ফিকশনেরও একটা মৌলিক আদল থাকে। আর এখানে বাস্তবতাবর্জিত, অদ্ভুত ও অর্থহীন এক ধরনের উদ্ভট ফ্যান্টাসির নাম বাণিজ্যিক সিনেমা। যেখানে গল্প বলে আসলে কিছু নেই। শিল্পীর পোশাক বা লোকেশন দেখে ঠাওর করবার কোনো উপায় থাকে না– চরিত্রগুলো কোন জনগোষ্ঠী, কোন সমাজ সংস্কৃতিতে বাস করে। এসবই এখানে নিয়মিত তৈরি হচ্ছে এবং এসবের খবর নানামাধ্যমে স্থান করে নিচ্ছে স্বাচ্ছন্দ্যে। অন্যদেশে ৩ ভাষায় নির্মিত হয়ে যাওয়া পুরনো সিনেমা এখানে রঙ-চঙে নতুন প্যাকেজে পরিবেশন করা হচ্ছে মহাসমারোহে।

নির্মাতা, পরিবেশক এবং প্রদর্শকগণ বলে থাকেন, এই ফর্মুলার মধ্যে না থাকলে দর্শক খায় না। সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন, দর্শক যদি বিষাক্ত জিনিস খেতে চায়, তাহলে তারা সেসবই বোতলে ভরে বছরের পর বছর পরিবেশন করে যাবেন। দর্শককে ভালো জিনিস দেয়ার দায়িত্ব তারা কখনোই নেবেন না। কিন্তু কথা হচ্ছে, বাণিজ্যিক ছবিরও একটা জাত থাকতে হয়, কোয়ালিটি থাকতে হয়। এই কোয়ালিটির সামান্য কিছুটা ডেলিভার করতে না পারলে এরকম নিম্নশ্রেনীর কপি উৎপাদন করেই বা লাভ কী! না পায় বাণিজ্যিক সফলতা, না পায় গ্রহণযোগ্যতার সম্মান। একটি দেশের চলচ্চিত্র শেষ পর্যন্ত একটি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। এই ধরনের চলচ্চিত্র দিয়ে কোনো ইন্ডাস্ট্রি যেমন কোনোদিক থেকেই লাভবান হয় না, তেমনি তৈরি করতে পারে না তার নিজস্ব পরিচয়।

এখানে ছবির পোস্টার আর ট্রেলার দেখেই আমাদের পরিবেশক ও প্রদর্শকগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, কোনটা চলবে আর কোনটা চলবে না; কোনটা চালাবেন আর কোনটা চালাবেন না। পোস্টারে যদি উদ্দীপক শরীর অথবা হিংস্রতার প্রকাশ না থাকে, তাহলে তারা নিজেরা উদ্দীপিত হন না। আর সেগুলোকে সিনেমা বলেও মনে করেন না।

রানওয়ে । তারেক মাসুদ
রানওয়ে তারেক মাসুদ

এখানে ফি বছর জীবন ঘনিষ্ট বা বাস্তবধর্মী যে কটা চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, তার অধিকাংশের যথেষ্ট প্রদর্শন হয় না ঠিক এই কারণে। কারণ, সুস্থধারার চলচ্চিত্র বিপণণ ও প্রদর্শনে আগ্রহী নয় পরিবেশক-প্রদর্শকগণ। সরকারি অনুদানের হলে তাদের আগ্রহ আরও কম। বাস্তবতা হচ্ছে– সিনেমা হলে যা রিলিজ হয়, তা মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত দর্শক দেখে না। আর মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত দর্শক যা দেখতে চায়, তা কখনো সিনেমা হলে পা্ওয়া যায় না। আর কে না জানে, চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বেশি দর্শক মধ্যবিত্তই। যারা আসলে সুস্থধারার জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র দেখতেই বেশি আগ্রহী। কিন্তু এই অংশ আসলে চূড়ান্ত অর্থে বিনোদন বঞ্চিত। তাদের অনেকের জীবনে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে শপিং আর রেস্টুরেন্টে খাওয়া ছাড়া আর কোনো বিনোদন নেই। তাদের উপর দেশীয় সংস্কৃতির কোনো প্রভাবও নেই। ভাবতে অবাক লাগে– এই নগরীর বিশাল জনবহুল অনেকগুলো এলাকায় সংস্কৃতি চর্চা এবং বিনোদনের জন্যে প্রায় কিচ্ছু নেই। জনজীবনে মননশীলতার চর্চা যেন একটি অপ্রয়োজনীয় ব্যাপার। সুশৃঙ্খল সমাজের সুনাগরিক হয়ে ওঠা বোধহয় এমনি এমনি হয়ে যায়!

একটি ইন্ডাস্ট্রি তার ৫০ বছর পার করেছে; কিন্তু এখনো সে ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যাংক লোন দেয় না। কোনো চলচ্চিত্র প্রযোজককে ব্যাংক লোন দেয় না। ব্যাংক হাজার কোটি টোকা লোন দেয় তাদেরকে, যারা কখনো ফেরত দেবে না। ইরানের মতো একটি দেশে ইসলামি বিপ্লব হয়ে যাওয়ার পরেও চলচ্চিত্রকে তারা পৃষ্টপোষকতা দিয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতিকে রক্ষা করবার প্রয়োজনেই। সেখানকার চলচ্চিত্র বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে এর পেছনে সরকারি-বেসরকারি সবরকমের পৃষ্টপোষকতা ছিল বলেই।

আমাদের সেন্সরবোর্ডকেও আধুনিকায়নের কথা ভাবতে হবে এখনি। সামাজিক, রাজনৈতিক– যে কোনো বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হতে পারে। পার্শ্ববর্তী সকল দেশের চলচ্চিত্রেই আমরা এমনটি দেখি। একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া বিপর্যয় নিয়ে যে কেউ একটি মানবিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাইতে পারেন। রাষ্ট্রের সেখানে সহযোগী হওয়া প্রয়োজন, উল্টো সেখানে যদি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সেটা সংস্কৃতির অগ্রযাত্রার জন্যে কখনোই অনুকূল নয়। আমরা দেখেছি– রানা প্লাজা চলচ্চিত্রটিকে কিভাবে সেন্সরে আটকে দেয়া হয়েছে। চাকমা ভাষার চলচ্চিত্র- মাই বাইসাইকেল চলচ্চিত্রটিকেও সেন্সর দেয়া হয়নি। ভবিষ্যতে কেউ যদি গুলশান ট্রাজেডি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, খুব সহজে সেটি সেন্সর পাবে বলে মনে হয় না।

সারা পৃথিবীতে এখন আর সেন্সর বলে তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। আছে সার্টিফিকেশন। আমরাও তাই চাই। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এমনিতেই অভিবাবকহীন অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে। মেধার সংকটে থমকে আছে একই তিমিরে। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে একটি চলচ্চিত্র এখন সেন্সর ছাড়াও অনলাইনে মুক্তি পেতে পারে। অনেক মানুষকে ভাবাতে পারে, ব্যবসাও করতে পারে। কোনো ভাবনা ও বক্তব্যকেই এখন আর আটকে রাখা যায় না। বাঁধা দিয়ে বরং মানুষের আগ্রহকে আরও উস্কে দেয়া হয়।

ঈদ-পার্বন ছাড়া ঢাকার বাইরে গেলে অদ্ভূত সব নামের বিদঘুটে সিনেমার পোষ্টার দেখা যায়। যেগুলো শহরে দেখা যায় না। ঐ ছবিগুলো কবে কখন রিলিজ হয়েছে কেউ বলতে পারে না। দেশব্যাপি যে সিনেমা হলগুলো এখনো টিকে আছে, সেসব যদি কেবল জ্যান্তকবর টাইপ সিনেমা দেখানোর জন্যেই অবশিষ্ট থাকে, তাহলে সেসবও আসলে নিজেদের কবর খোঁড়াতেই ব্যস্ত। বলা প্রয়োজন– সত্যিকার চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ঢাকা-সহ সারাদেশে সিনেপ্লেক্স/মাল্টিপ্লেক্সে গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। কেউ যখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেটা করছে না, তখন সরকারি উদ্যোগেই হওয়া জরুরি। সুস্থধারার চলচ্চিত্রের জন্যে সিনেমা হল না থাকলে, সুস্থধারার চলচ্চিত্র সিনেমা হলে রিলিজ দিতে না পারলে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেই বা লাভ কী! বছর বছর অনুদান দিয়েই বা লাভ কী? বিকল্প পন্থায় প্রদর্শনের পরিকল্পনা নিয়ে কতজন চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হবেন?

যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখবার জন্যে যেমন ফিটনেস ঠিক থাকা গাড়ীর আগে সড়ক ও সেতু সচল থাকা জরুরি, তেমনি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার জন্যেও আগে সংস্কৃতিচর্চার স্থান ও পরিবেশ ঠিক থাকা জরুরি। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে মাল্টিপ্লেক্স থাকা জরুরি। ব্যবসায়ীদের এখনো এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার কারণেই প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।

একই সাথে আমাদের নির্মাতাদের আর্ন্তজাতিক বাজারে নিয়মিত জায়গা করে নেয়ার চেষ্টাটাও চালিয়ে যেতে হবে। গত জানুয়ারিতে, ঢাকা আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলাকালীন সময়ে, উৎসবের অংশ হিসেবে কয়েকটি সেমিনার আয়োজিত হয়। এর মাঝে আলিয়ঁস ফ্রসেঁজ-এ যে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়- তার শিরোনাম ছিল: ফাইন্ডিং গ্লোবাল অডিয়েন্স ফর বাংলাদেশি সিনেমা

সুতপা'র ঠিকানা । প্রসূন রহমান
সুতপা’র ঠিকানাপ্রসূন রহমান

মাটির ময়না বোধহয় একমাত্র চলচ্চিত্র, যা আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি প্রদর্শিত হয়েছে। অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কারপ্রাপ্তি ছাড়াও ফ্রান্সের এমকে-টু এর সাথে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি পৃথিবীর ৩৬টি দেশে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পায়। এরপর আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র ১ দু সপ্তাহের জন্যে কোনো কোনো দেশে মুক্তির নজির রয়েছে। এখন কানাডায় প্রায়শই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এক-দুই সপ্তাহের জন্যে দুয়েকটি সিনেপ্লেক্সে রিলিজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়– যা নিশ্চয় অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। গত মার্চের ৩ তারিখে  মালয়েশিয়ার ‘গোল্ডেন স্ক্রিন সিনেমা’র ৪টি মাল্টিপ্লেক্সে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সুতপার ঠিকানা। চলেছে টানা ৭ সপ্তাহ। এরপর সেটি মালয়েশিয়া এবং ব্রুনাইয়ের দুটি টিভি চ্যানেলেও প্রচারিত হয়।

বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের শিল্পসম্মত চলচ্চিত্রের প্রায় নিয়মিত অংশগ্রহণ থাকলেও আর্ন্তজাতিক বাজারে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি ও প্রদর্শনের ব্যাপারটি বেশিরভাগ চলচ্চিত্রের ভাগ্যেই ঘটেনা। এমনকি বেশ কয়েকজন আর্ন্তজাতিক শিল্পী ও কলাকূশলীর অর্ন্তভূক্তির পরও অনেক ছবির আর্ন্তজাতিক বিপণন সম্ভব হতে দেখিনি। হয়তো সে পরিকল্পনাও তাদের থাকে না। আর অনুদানের চলচ্চিত্রের বেলায় হয়তো সে চেষ্টা অনেক দূরের বিষয় ভেবে কেউ চেষ্টাও করতে চান না।

বিশ্বায়নের কালে নিজেরা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ভোক্তা হয়ে বসে আছি, কিন্তু বিশ্ববাজারে আমরা এখনো আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যে জায়গা তৈরি করতে পারিনি। বাংলাদেশের মৌলিক চলচ্চিত্র নিযে বাইরের দেশে আগ্রহ একেবারে কম নয়। কিন্তু আমরাই ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারছি না। প্রদর্শকদের অনাগ্রহ আর প্রদর্শনীর অব্যবস্থার কারণে সৃজনশীল কাজ নিয়ে নিজের দেশের দর্শকদের কাছেই যখন পৌঁছাতে আমাদের কষ্ট হয়, তখন আর্ন্তজাতিক বাজারে যাওয়ার চিন্তা বা চেষ্টা হয়তো দুঃসাহস বলে মনে হয়।

বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও এখন ‘সিঙ্গেল স্ক্রিন’-এর চেয়ে ‘মাল্টিপ্লেক্স’ কালচারটিই বেশি সক্রিয়, জনপ্রিয় এবং কার্যকরি। প্রায় সবখানেই সব দেশের চলচ্চিত্র পাশাপাশি চলছে। অনেকেই মনে করেন বিভিন্ন দেশের ‘বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায়’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র রিলিজ দেয়া যেতে পারে। আসলে, বাণিজ্যিকভাবে রিলিজ দেয়ার জন্যে– ‘বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা’ বলে কিছু নেই। বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় কমিউনিটি হল ভাড়া করে দর্শনীর বিনিময়ে/কিংবা দর্শনী ছাড়া যে কোনো দেশেই একদিন বা দুদিন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। অনেকেই সেটি করছেনও। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে মুক্তির জন্যে অবশ্যই ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে যেতে হবে। তাদেরকে আগ্রহী করবার জন্যে প্রিভিউ কপি পাঠাতে হবে। প্রিভিউ করে তারা যদি মনে করেন এই চলচ্চিত্রটি আর্ন্তজাতিক দর্শকের কাছেও আবেদন তৈরি করতে পারে, তবেই তারা সেটি প্রদর্শনে আগ্রহী হবেন। প্রায় সব দেশের মাল্টিপ্লেক্সেই ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ক্রিন’ বলে একটি সেকশন আছে, যে সেকশনের আওতায় তারা বিভিন্ন দেশের জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শন করে থাকে। সেই চলচ্চিত্রের বেলায় বাণিজ্যিক সাফল্য আসবে কিনা– সেটা ভাবা হয় না।

মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সবখানেই আমাদের চলচ্চিত্রের বাজার সম্প্রসারিত হতে পারে। প্রয়োজন নকল থেকে দূরে থাকা, মৌলিক গল্পের সৃজনশীল নির্মাণ আর যোগাযোগ। তবে সবার আগে, ভাবনা ও মননশীলতায়ও হয়ে উঠতে হবে আর্ন্তজাতিক

স্বল্প-বাজেটে আর্ন্তজাতিক বাজারে পাল্লা দেয়ার মতো প্রযুক্তিমান সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা দুরূহ কাজ। তবে ইরারি চলচ্চিত্রের মতো নিজেদের মৌলিক গল্প নিয়ে নিশ্চয় বিশ্ববাজারে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

সৃজনশীলতার জায়গা থেকে এখানে যেটি মূল সংকট সেটি প্রধানত চিত্রনাট্যের। আমাদের এখানে ভালো গল্প বলিয়ে কমতে কমতে প্রায় তলানিতে। নিজেদের দুর্বল গল্প নিয়েই স্বাধীন ধারার নির্মাতারা এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সাহিত্যের দিকেও কারও তেমন আগ্রহ চোখে পড়ে না। আর বাণিজ্যিক ধারার নির্মাতারা মাঠেই নামছেন অন্য কোনো দেশের একটি অথবা কয়েকটি চলচ্চিত্রের ডিভিডি নিয়ে। কখনো একটি থেকে কপি করছেন, কখনো চারটি থেকে। কখনো কাছের দেশের ছবি কপি করছেন, কখনো দূরের দেশের, নয়তো নিজেদের পুরনোটাই সই। নতুন করে নতুন কিছু বলবার চেষ্টা নেই। আমাদের গল্পগুলো আসলে আমাদের মতো করেই বলতে হবে। নতুন গল্প বলতে হবে। অনুকরণ করে বা অন্যের গল্প বলে সাময়িক চমক দেয়া যেতে পারে, কিন্তু আখেরটা শূন্যই রয়ে যাবে। রুচি বদলানোর দায়িত্ব নির্মাতারও। ফর্মুলার মধ্যে থেকেও মৌলিক গল্প বলা যায়। কিন্তু একটি পোস্টারের মৌলিক থিম ভাবার সৃজনশীল মেধা যাদের নেই, অন্তত তাদের বোধহয় চলচ্চিত্র নির্মাণে আসবার প্রয়োজন নেই

জালালের গল্প । আবু শাহেদ ইমন
জালালের গল্প আবু শাহেদ ইমন

সবাইকে শিল্পসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে– এর যেমন কোনো মানে নেই; তেমনি সবাইকে বাণিজ্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে– এরকমও কোনো কারণ নেই। শিল্পসম্মত নির্মাতা শিল্পসৃষ্টির চেষ্টা করবেন। বাণিজ্যিক নিমার্তা প্রডাকশন হাউজের সূত্র অনুযায়ী বাজার ধরবার প্রয়োজনে মানসম্মত পণ্য উৎপাদের চেষ্টা করবেন।কিন্তু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং বিপণনের ব্যাপারটিকে শিল্পসম্মত নির্মাতাও উপেক্ষা করেন না। উপেক্ষা করবার উপায় নেই। কারণ, চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই তাকে বিপণনের কথাও ভাবতে হয়। সারা পৃথিবীতে যেমন করে হচ্ছে, আমাদের এখানেও তাই। মোটা চোখে এই পার্থক্যকে অনেকে বিভক্তি মনে করেন। কিন্তু আসলে এটাই স্বাভাবিক। সারা পৃথিবীতেই সিনেমা মূলত ২ ধরনেরই হয়। এরপর জঁনরা’র ভাগাভাগি।

কিন্তু আমরা যে যেখান থেকে যে ধরনের চলচ্চিত্রই নির্মাণ করি না কেন, আমাদের সামাজিক দায়িত্বের কথা যেন ভুলে না যাই। কারণ, একটি চলচ্চিত্র সিনেমা হল, টেলিভিশন আর অনলাইন হয়ে শেষ পর্যন্ত কোটি মানুষের কাছে পৌছে যায়। সেই কোটি মানুষের কাছে কী পৌছে দিচ্ছি –সেই বোধটুকু যেমন নির্মাতার থাকা দরকার, তেমনি এর দায়ভারটুকুও শেষ পর্যন্ত তারই। নিজের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিসর্জন দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেই হবে কিনা– এটি শেষ পর্যন্ত নির্মাতারই ভাবনার বিষয়।

পৃথিবীর যে পেশায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে, সবচেয়ে বেশি মেধাবী ও সমাজ সচেতন হওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তার নাম চলচ্চিত্র নির্মাণ। শিল্প ও প্রযুক্তির সবগুলো শাখায় যার দখল থাকে, সে হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা। আমাদের দেশে প্রডিউসার ম্যানেজ করতে পারলেই নির্মাতা হওয়া যায়। এই দেশে যে চলচ্চিত্র বানান জানে না, সেও রিভিউ লেখে, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নানান বিষয়ে জ্ঞান বিতরণ করতে পারে।

এখানে একজন সৃজনশীল নির্মাতার আসলে সংকটের কোনো শেষ নেই। নির্মাণের শুরু থেকে পরিবেশনা পর্যন্ত এখানে লড়াই করতে হয়। কোথাও কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায় না। উল্টো– সবখানেই সমালোচনার খড়গ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অনেককেই। তবু এই প্রতিকূলতার মাঝেই অনেকে প্রস্তুত করেছেন নিজেকে। প্রস্তুত হচ্ছেন আরও অনেকেই। এরই মধ্যে সম্ভাবনার ব্যাপারটিও জানান দিয়েছেন অনেকেই। পাইপলাইনে আছে আরও বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র। যার কয়েকটি হয়তো আর্ন্তজাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে পেছনের সব রেকর্ড ছাপিয়ে। আমাদের আশাবাদী চোখগুলো তাকিয়ে থাকবে সবখানেই।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে আমরা আশাবাদী হতে পারি, এমন কারণের সংখ্যাও অনেক। উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তনের হাওয়া লাগছে এখানেও, লাগবেই। কারন সময় কখনো পেছনের দিকে যেতে পারে না।

এখন বাস্তবানুগ ও বিশ্বাসযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা করছে সকলেই। যে চলচ্চিত্র কোনো সময়কে ধারণ করে না, যেখানে সে সময়ের কোনো নৃতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থাকে না, তা আপনাতেই সময়ের অতলে হারিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই চলচ্চিত্রই টিকে থাকবে এবং মানুষের মনে জায়গা করে নেবে– যে চলচ্চিত্রে মানুষ জীবনের ছায়া খুঁজে পাবে। নিজেকে খুঁজে পাবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল জীবনের প্রয়োজনে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার প্রয়োজনের পাশাপাশি মানুষ এই সত্যটিও বুঝতে শিখেছে ক্রমে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিও হয়তো একদিন অনুকরণের সাম্রাজ্য থেকে বেরিয়ে সত্যিকার সাবালক হয়ে উঠবে। সব আশা হয়তো দূরাশা নয়।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার
লেখক ও ফিল্মমেকার। ঢাকা, বাংলাদেশ। ডকু-ফিল্ম : রাইস অ্যান্ড প্রে [২০০৮]; দ্য ওয়াল [২০০৯]; বায়োস্কোপ [২০১০]; ফেরা [২০১২]। ফিচার-ফিল্ম : সুতপার ঠিকানা [২০১৫]। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান : ইমেশন ক্রিয়েটর। উপন্যাস : ধূলার অক্ষর [২০০৯]। কাব্যগল্প : ঈশ্বরের ইচ্ছে নেই বলে [২০০৯]। কলাম সংকলন : সৃজনশীলতার সংকটে স্যাটেলাইট চ্যানেল [২০১২]। ফিল্ম-বুক [সম্পাদনা] : চলচ্চিত্রযাত্রা [তারেক মাসুদের চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখার সংকলন]। নির্মিতব্য ফিচার ফিল্ম : ঢাকা ড্রিম

2 মন্তব্যগুলো

  1. ভাইয়ার কথাগুলোর সাথে একমত পোষণ করছি .. আরেকটি বিষয় লক্ষ রাখা জরুরি. তা হলো চলচ্চিত্রে বাণিজ্যিক আর বিকল্পধারা এভাবে আলাদা করা উচিত না ..
    আর এই দৃষ্টিভঙ্গিটা তৈরি করতে হবে নির্মাতাদেরই.কারণ সব চলচ্চিত্রই কম বেশি বাণিজ্যিক দিকটি মাথায় রাখতে হয় .. ভালো একটি লেখার জন্য প্রসূন ভাই কে ধন্যবাদ .. 🙂

মন্তব্য লিখুন